রেলমন্ত্রক

২০২১-এ কলকাতা মেট্রো রেলে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও সার্বিক ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অভাবনীয় অগ্রগতি


নোয়াপাড়া থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত উত্তর - দক্ষিণ মেট্রো শাখার সূচনা

পূর্ব - পশ্চিম মেট্রোর ফুলবাগান থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত প্রথম ট্রায়াল রান

Posted On: 03 JAN 2022 1:48PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি,  ৩ জানুয়ারি, ২০২২
 
২০২১-এ কলকাতা মেট্রো রেলে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও সার্বিক ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি হয়েছে। কোভিড চ্যালেঞ্জ সত্বেও কলকাতা মেট্রো ভবিষ্যৎ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস অব্যাহত রেখেছে এবং মেট্রো ব্যবহারকারীদের যাতায়াতে কিছু অনন্য সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। 
 
উল্লেখ করা যেতে পারে, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি নোয়াপাড়া থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত ৪.১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট উত্তর - দক্ষিণ মেট্রো পরিষেবার সম্প্রসারিত অংশের সূচনা করেন এবং এই অংশে প্রথম মেট্রো পরিষেবার যাত্রার সূচনা করেন। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কলকাতা মেট্রোর নোয়াপাড়া থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত অংশ চালু হওয়ার ফলে না কেবল কলকাতা, সেই সঙ্গে হুগলী, হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগণার মানুষ লাভবান হবেন। 
 
সদ্য সমাপ্ত বছরে নোয়াপাড়ায় নন-ইন্টারলকিঙের কাজ সাফল্যের সঙ্গে শেষ হয়েছে। ইলেক্ট্রনিক ইন্টারলকিং ব্যবস্থা চালু হওয়ায় কলকাতা মেট্রোর সব রুটের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপিত হয়েছে। এর ফলে, উত্তর - দক্ষিণ অংশের মেট্রো সহজেই পূর্ব - পশ্চিম অংশেও যাতায়াত করতে পারবে। 
 
পূর্ব - পশ্চিম মেট্রোর ফুলবাগান থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত অংশে প্রথম ট্রায়াল রানের সূচনা হয়েছে। খুব শীঘ্রই শিয়ালদহ মেট্রো স্টেশন চালু হতে চলেছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ২৭ আগস্ট কলকাতা মেট্রো রেল ১.২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছে। পূর্ব - পশ্চিম মেট্রোর সেন্ট্রাল পার্ক ডিপোর মূল ভবনের ছাদে এই সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলগুলি বসানো হয়েছে। ১৯ হাজার বর্গমিটারের বেশি অংশ জুড়ে এই সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসানো হয়। এর ফলে, মেট্রো রেল বার্ষিক প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ খরচ খাতে সাশ্রয় করতে পারবে। 
 
গান্ধী জয়ন্তী উদযাপনের দিন গত দোসরা অক্টোবর কলকাতা মেট্রোর মহানায়ক উত্তম কুমার স্টেশনে দুটি চলমান সিঁড়ি উদ্বোধন করা হয়। এর ফলে, মেট্রো যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। সেই সঙ্গে এই স্টেশনে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যও বেড়েছে। কলকাতা মেট্রো রেলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মহানায়ক উত্তম কুমার স্টেশনে গত ২৪ অক্টোবর একটি ননএসি মেট্রো কামরায় চলমান প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। দেশে মেট্রো পরিষেবায় এধরণের প্রদর্শনী এই প্রথম। এই প্রদর্শনীতে কলকাতা মেট্রোর গৌরবময় অতীত, বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নমূলক কর্মসূচিগুলি জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পর দেশের প্রথম মেট্রো কলকাতা মেট্রো রেলের পক্ষ থেকে ননএসি যাত্রীবাহি কামরাগুলিকে শেষ বিদায় সম্ভাষণ জানানো হয়। উল্লেখ করা যেতে পারে, ননএসি কামরা দিয়ে কলকাতা মেট্রোর প্রথম পরিষেবার সূচনা হয়েছিল। কলকাতা মেট্রো রেল এখন সম্পূর্ণ এসি কামরা যুক্ত পরিষেবা হয়ে উঠেছে। 
 
যাত্রীদের সুবিধার্থে কলকাতা মেট্রো রেল গত ২৫ নভেম্বর থেকে পুনরায় টোকেন পরিষেবা শুরু করেছে। মহামারীজনিত পরিস্থিতির দরুণ গত বছরের ২৩ মার্চ শেষবার যাত্রীদের টোকেন দেওয়া হয়েছিল। যাত্রীদের দেওয়া টোকেনগুলি স্যানিটাইজ করার জন্য কলকাতা মেট্রোর উত্তর - দক্ষিণ ও পূর্ব - পশ্চিম অংশে ৪০টি স্যানিটাইজার যন্ত্র বসানো হয়েছে। এই যন্ত্রগুলি থেকে একধরণের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি নির্গত হয়, যা ৪ মিনিটে ব্যবহৃত সমস্ত টোকেন স্যানিটাইজ করতে পারে। 
 
কলকাতা মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী মনোজ যোশী গত পয়লা ডিসেম্বর তপন সিনহা মেমোরিয়াল হাসপাতালে একটি প্রেসার স্যুইং অ্যবজর্পশন অক্সিজেন জেনারেটর প্ল্যান্টের সূচনা করেন। এই প্ল্যান্টটি থেকে প্রতি মিনিটে ২৫০ লিটার অক্সিজেন উৎপাদন করা সম্ভব।  
 
আজাদি কা অমৃত মহোৎসবের অঙ্গ হিসেবে মেট্রো যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে গত চৌঠা ডিসেম্বর পূর্ব - পশ্চিম মেট্রো শাখায় কিউআর কোড ভিত্তিক টিকিটিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার ফলে যাত্রীরা ফিঙ্গার টিপস ব্যবহার করে মেট্রোর টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন। উত্তর - দক্ষিণ মেট্রো করিডরেও এই ধরণের টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করার কাজ চলছে। এজন্য উত্তর - দক্ষিণ করিডরের সমস্ত স্টেশনে কিউআর কোড স্ক্যানার এবং টোকেন গেটগুলিতে হার্ডওয়্যারের মানোন্নয়ন করা হচ্ছে। 
 
কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য মেট্রো রেলের তপন সিনহা মেমোরিয়াল হাসপাতালে গত বছর ৭৫ শয্যার একটি পৃথক কোভিড ইউনিট চালু করা হয়। এই ইউনিটে গত ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬০৪ জন কোভিড রোগীর চিকিৎসা হয়েছে। মেট্রো রেলে গত বছরের দোসরা ফেব্রুয়ারি থেকে কোভিড টিকাকরণের সূচনা হয়। এই অভিযানে মেট্রো রেলের স্বাস্থ্যকর্মী, সাধারণ কর্মী, চুক্তি ভিত্তিক কর্মী ও সাধারণ মানুষকে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে মোট ২১ হাজার ৪২৩টি ডোজ দেওয়া হয়েছে। 
 
কলকাতা মেট্রো রেল টিকিট ছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে রাজস্ব বাড়াতে সাতটি মেট্রো স্টেশন বেসরকারি সংস্থাগুলিকে ব্র্যান্ডিং-এর জন্য হস্তান্তর করেছে। উত্তর - দক্ষিণ মেট্রো শাখার পাঁচটি স্টেশন এবং পূর্ব - পশ্চিম মেট্রো শাখার দুটি স্টেশন ব্র্যান্ডিং-এর জন্য বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে। মেট্রো স্টেশনগুলির ব্র্যান্ডিং-এর ফলে প্রথম বছরেই ৩ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা আয় হয়েছে। কলকাতা মেট্রোর স্মার্টকার্ডগুলিকেও ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুটি বেসরকারি সংস্থা এই ব্র্যান্ডিং-এর দায়িত্ব নেওয়ায় এখনও পর্যন্ত মেট্রোর ২০ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা আয় হয়েছে। এছাড়াও কলকাতা মেট্রোর আরও ১১টি স্টেশন যৌথ ভাবে ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে। 
 
উত্তর - দক্ষিণ মেট্রো করিডরের টিকিটের গেটগুলি দুই বছরের জন্য ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩৫০টি মেট্রো টিকিটের গেট ব্র্যান্ডিং-এর ফলে ৭৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আয় হয়েছে। মেট্রো যাত্রীরা যে স্মার্টকার্ড ব্যবহার করেন, সেই স্মার্টকার্ডের ব্যালেন্স চেক করার জন্য উত্তর - দক্ষিণ মেট্রোর ২৬টি স্টেশনে যে যন্ত্র রয়েছে সেগুলি ব্র্যান্ডিং-এর ফলে ১২ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা আয় হয়েছে। 
 
একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী নোয়াপাড়া থেকে কবি সুভাষ পর্যন্ত ২৪টি মেট্রো স্টেশনে পাওয়ার ব্যাঙ্ক রেন্টাল টাওয়ার বসানো হয়েছে। এরফলে মেট্রো রেল বছরে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবে। 
 
CG/BD/AS/


(Release ID: 1787222) Visitor Counter : 191