উপ-রাষ্ট্রপতিরসচিবালয়

জনসাধারণের কথপোকথনে ভাষার ভদ্রতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন উপ-রাষ্ট্রপতি

Posted On: 06 APR 2021 4:08PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ০৬ এপ্রিল, ২০২১

 

উপ-রাষ্ট্রপতি শ্রী এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু জনসাধারণের মধ্যে কথপোকথনের সময় ভাষা, শালীনতা ও ভদ্রতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একটি সুস্থ, শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য এটি অবশ্য প্রয়োজন।

গুজরাটের ঐতিহাসিক ডান্ডি গ্রামে ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’ – এর অঙ্গ হিসাবে ‘ডান্ডি অভিযান’ উদযাপন উপলক্ষে ২৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ভাষণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-রাষ্ট্রপতি সকলকে মহাত্মা গান্ধীর কাছ থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণের আর্জি জানান। তিনি বলেন, মহাত্মা গান্ধী বিরোধীদের জন্য সর্বদা বিনয়ী ও শ্রদ্ধাশীল ভাষা ব্যবহার করতেন। উপ-রাষ্ট্রপতি জানান, “গান্ধীজীর অহিংসা নীতি কেবল শারীরিক অহিংসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং অহিংসাকে শব্দ-বাক্য এবং চিন্তাধারার মধ্যেও অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন”। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলিকে একে-অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে দেখা উচিৎ, কখনই শত্রু হিসাবে নয়।

‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’ - ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৭৫ সপ্তাহব্যাপী উৎসব উদযাপনের জন্য গত ১২ মার্চ সবরমতী আশ্রম থেকে উৎসবের সূচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। এই উৎসব উদযাপনের মাধ্যমে বিগত ৭৫ বছরে ভারতের দ্রুত অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তূলে ধরা হয়েছে। উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, এটি হ’ল এমন একটি উৎসব, যা দেশের সুপ্ত শক্তিগুলিকে পুনরায় উদ্ভাবনে সকলকে উৎসাহ যোগায় এবং সচেতন হয়ে উঠতে উৎসাহ প্রদান করে।

দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মহাত্মা গান্ধীর ঐতিহ্যবাহী ডান্ডি লবণ অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসাবে উল্লেখ করে শ্রী নাইডু বলেন, এই অভিযান দেশের ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিল। তিনি বলেন, “যখন আমরা সমস্যার মুখোমুখী হয়েছি, তখন আজ ডান্ডি অভিযানকে প্রতীকী হিসাবে স্মরণ করছি। কারণ এই অভিযান সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার শিক্ষা দিয়েছে”। তিনি বলেন, উন্নয়নের পথে একসঙ্গে চলার এই ক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে এসেছে। আগামী দিনে এই পথ অনুসরণ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

উপ-রাষ্ট্রপতি আরও জানান যে, গান্ধীজী ও সর্দার প্যাটেলের মতো আদর্শবান নেতাদের বার্তা সকলকে যে ভারত গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে, তা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে একত্রে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, এ এমন এক ভারত, যা নিজের সমৃদ্ধি অন্য দেশের সঙ্গে ভাগ করে নেয়। উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, “ভারত এমন এক দেশ, যেখানে সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং সমৃদ্ধশালী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য লালিত-পালিত হয়। ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিসওয়াস’ – এর মূল মন্ত্রের সঙ্গে একযোগে জনগণের কল্যাণের প্রতি এই দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”।

‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’ বা বিশ্ব এক পরিবার – এই বিশ্বাসের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম টিকাকরণ অভিযান পরিচালনা করছে। এমনকি, বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে টিকা সরবরাহ করেছে। তিনি বলেন, “এটিই অমৃত, চিরন্তন সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গী, যা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি”। এই কঠিন সময়েও দেশ গান্ধীজীর নৈতিক দর্শন অনুসরণ করে চলছে, বলেও শ্রী নাইডু জানান।

এই অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, কোভিড-১৯ সহ লকডাউনের জেরে উদ্ভূত কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও দেশের কৃষক সম্প্রদায় রেকর্ড পরিমাণে খাদ্যশস্য উৎপাদন করেছেন, যা প্রশংসনীয়। তিনি কৃষকদের প্রথম সারির যোদ্ধা হিসাবেও অভিহিত করেন। উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, সঙ্কটময় সময়ে দেশের কৃষকরা সকলের খাদ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত করেছেন। 

‘অমৃত মহোৎসব’কে আত্মনির্ভর ভারতের সূচনা পর্ব বলে উল্লেখ করে উপ-রাষ্ট্রপতি জানান, এই মহোৎসবের উদ্দেশ্য হ’ল স্বাধীনতা সংগ্রামে বীর যোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানানো এবং তাঁদের আদর্শ ও মূল্যবোধ সম্পর্কে অন্যকে অনুপ্রাণিত করা। তিনি এই ডান্ডি অভিযানে অংশ নেওয়া ৮১ জন স্বেচ্ছাসেবককে অভিনন্দন জানান। এই স্বেচ্ছাসেবকরা ২৫ দিনে ৩৮৫ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করেছেন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে লবণ সত্যাগ্রহের ভূমিকার কথাও তূলে ধরেন উপ-রাষ্ট্রপতি।

গান্ধীজীর স্বাধীনতার ধারণা সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা দিতে গিয়ে উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, “তিনি বিশ্বাস করতেন যে, রাজনৈতিক দাসত্ব কেবলমাত্র অর্থনৈতিক শোষণের দিক থেকেই পরিচালিত করে না, সমাজ ও সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে। সুতরাং, গান্ধীজীর সত্যাগ্রহের উদ্দেশ্য ছিল কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতাই নয়, জাতির নৈতিক ও সাংস্কৃতিক উত্থান। গান্ধীজী সর্বদা অস্পৃশ্যতা বিলোপ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং স্বদেশী বিষয় তুলে ধরেছেন।

১৯৩১ সালে ইয়ং ইন্ডিয়ায় মহাত্মা গান্ধীর লেখা একটি নিবন্ধের উদ্বৃতি তুলে ধরে বলেন, ‘পূর্ণ স্বরাজ’ ততক্ষণ অর্জন করা যাবে না, যতক্ষণ না গরিব-ধনীর মধ্যে সমান সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার না পাওয়া যায়। এই কারণেই গান্ধীজী দৈনন্দিন জীবনে নিত্য প্রয়োজনীয় বিষয় ‘লবণ’কে সত্যাগ্রহে নিয়ে এসেছিলেন। 

বিগত ৭৫ বছর ধরে দেশের যে অগ্রগতি হয়েছে, সে সম্পর্কে বলতে গিয়ে শ্রী নাইডু জানান, “বিগত বছরগুলিতে আমরা জাতির ঐক্য ও অখন্ডতা জোরদার হয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সকল বিভাগে অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত হয়েছে, খাদ্যশস্য উৎপাদনে নিজেদেরকে আত্মনির্ভর হয়েছে, স্বাস্থ্য সূচকে উন্নতিসাধন হয়েছে এবং দেশে বৈদ্যুতিক পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে”। 

তিনি এই সাফল্য অর্জনের জন্য উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে উপ-রাষ্ট্রপতি প্রার্থনা মন্দিরে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন এবং ঐতিহ্যবাহী ডান্ডি অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি ঐতিহাসিক সাইফি ভিলা পরিদর্শন করেন। ১৯৩০ সালের ৪ঠা এপ্রিল একরাত্রি এই ভিলায় কাটিয়েছিলেন গান্ধীজী। এরপর, শ্রী নাইডু জাতীয় লবণ সত্যাগ্রহ স্মারক পরিদর্শন করেন। লবণ সত্যাগ্রহের কর্মী ও অংশগ্রহণকারীদের সম্মানে এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। দেশের তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করে তুলতে সকল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্য এ ধরনের স্মৃতিসৌধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি। উপ-রাষ্ট্রপতি দেশের যুবদের এই ডান্ডি স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করা এবং জাতির জনকের জীবন দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে উপ-রাষ্ট্রপতি গুজরাট রাজ্য হস্তশিল্প উন্নয়ন পর্ষদের জিআই ট্যাগ পণ্য সম্পর্কিত বিশেষ খাম প্রকাশ করেন। সিকিম, ছত্তিশগড় এবং গুজরাটের লোকশিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও প্রত্যক্ষ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে গুজরাটের রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 

 

CG/SS/SB



(Release ID: 1710111) Visitor Counter : 499