উপ-রাষ্ট্রপতিরসচিবালয়
অভূতপূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থাপনার মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে
প্রকাশিত:
14 SEP 2020 6:02PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
কোভিড-১৯ মহামারীর প্রেক্ষাপটে অভূতপূর্ব সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত সংসদের বাদল অধিবেশন আজ থেকে শুরু হয়েছে। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান শ্রী এম. ভেঙ্কাইয়া নাইডু এই সময়ের গুরুত্ব বিবেচনা করে তা যথাথথভাবে ব্যবহার করার জন্য সাংসদ সদস্যদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতীয় সংসদের ইতিহাসে এই প্রথমবার রাজ্যসভা এবং লোকসভা একটি কক্ষে বসছে। সেখানে সংসদ সদস্যদের সামাজিক দূরত্বের নিয়মগুলি মেনে চলতে হচ্ছে। রাজ্যসভার কাজ এখন কেবল তার নিজস্ব চেম্বার ও গ্যালারিতে নয়, লোকসভার চেম্বারেও কাজ করা হচ্ছে।
এদিন রাজ্যসভার শুরুতে শ্রী নাইডু সভার কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সকলের কাছে আবেদন রাখেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে মহামারীজনিত রোগ মোকাবিলা, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এবং সাধারণ সামাজিক জীবন সচল করার ক্ষেত্রে জনগণ তাদের কাছ থেকে মূল্যবান দিক নির্দেশনা প্রত্যাশা করে।
১৮টি সংক্ষিপ্ত অধিবেশনের কথা উল্লেখ করে শ্রী নাইডু কোভিড-১৯ মহামারী সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ আইন ও বিষয়গুলির উপর অর্থবহ আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর বিশেষ জোর দেন।
শ্রী নাইডু বলেন, ১৭৫ দিনের ব্যবধানের পর সাংসদ সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে পেরে যথেষ্টই আনন্দিত। ১০০ বছর আগে স্প্যানিশ ফ্লু যেভাবে মানব সভ্যতার উপর আঘাত হেনেছিল তার চেয়েও বড় বিপর্যয় এই কোভিড-১৯ মহামারী। তিনি বলেন, ভারত দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও মহামারীজনিত ক্ষয়ক্ষতি এবং সংক্রমণের মাত্রা ও মৃত্যুর হার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকই কম।
কোভিড-১৯ মহামারী স্বাভাবিকভাবেই দেশের অর্থনীতির উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। তিনি চিকিৎসক, নার্স, পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী, সাফাই কর্মী, সংবাদ মাধ্যমের কর্মী এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সামনের সারির করোনা যোদ্ধাদের অসাধারণ সেবা ও কর্ম দক্ষতার প্রশংসা করেন। লকডাউনের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দেশে কৃষি সামগ্রিক রেকর্ড উৎপাদনের জন্য কৃষকদের ধন্যবাদ জানান। অদূর ভবিষ্যতে সংক্রমণ মোকাবিলায় বিজ্ঞানীরা প্রতিষেধক তৈরিতে সাফল্য অর্জন করবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
যাতায়াতের উপর বিধি নিষেধ প্রত্যাহারের পরেই বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কিত সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলি পুনরায় কাজ শুরু করেছে। এই প্রসঙ্গ তুলে ধরে শ্রী নাইডু বলেন, তারা অতিমারীর বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখবে এবং এর প্রভাব সম্পর্কে পর্যালোচনা করা হবে। চলতি বছরের গত জুলাই থেকে এবিষয়ে রাজ্যসভার সাতটি কমিটি ২৬ বার আলোচনায় বসেছে। মোট ৫৬ ঘন্টা ৪০ মিনিট ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ৫০ ঘন্টা ধরে আলোচনার চলে মহামারীর বিভিন্ন দিক, তার প্রভাব এবং মোকাবিলা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে।
শ্রী নাইডু এবছরের আগস্টে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে তিন বছরের কার্যকালের মেয়াদ পূর্ণ করেছে। এপ্রসঙ্গে রাজ্যসভার কাজকর্মের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিষদে গবেষণা করার জন্য সচিবালয়কে নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। ১৯৭৮ সাল থেকে সমস্ত তথ্যই উপলব্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, গত ২৫ বছর ধরে সভায় কার্যক্ষেত্রে গুণমান ক্রমশই হ্রায় পাচ্ছে। এখানে অতীত দিনের এক রূপলী অধ্যায় রয়েছে। তবে যাই হোক না কেন, এই কক্ষে শেষ দিন অধিবেশনে সামগ্রিকভাবে ৯৪.৬০ শতাংশ কাজ হয়েছে। যা গত ৫ বছরে টানা তিন অধিবেশনের মধ্যে সেরা। চেয়ারম্যান আরও বলেন, “আমি আন্তরিকভাবে আশাবাদী এই নতুন ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে”।
শ্রী নাইডু রাজ্যসভার স্থায়ী কমিটি সম্পর্কিত ৮টি বিভাগের উপস্থিতি এই প্রথম ৫০ শতাংশ ছাড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অসাধারণ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি এই কঠিন পরীক্ষার সময়ে সকলকে সহনশীলতা, শৃঙ্খলা পরায়ণ ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিন রাজ্যসভার অধিবেশন দুপুর তিনটের সময় শুরু হয়। ১৫ জন নবনির্বাচিত/পুনর্নির্বাচিত সদস্য শপথ নেন।
আনলক ফোর পর্বে গত ২৯শে আগস্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকা তুলে ধরে বেশ কয়েকজন সাংসদ সদস্য সোচ্চার হন। তাঁদেরকে পুরো বাদল অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
হিন্দী দিবস উপলক্ষে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, সমস্ত ভারতীয় ভাষারই সমান গুরুত্ব রয়েছে। তিনি বলেছেন, হিন্দি সহ সমস্ত ভারতীয় ভাষা শেখা এবং প্রচার করা উচিত।
এদিন রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন শ্রী হরিবংশ। এই নব নির্বাচিত ডেপুটি চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাও জানান রাজ্যসভার চেয়ারম্যান।
CG/SS/SKD
(রিলিজ আইডি: 1654277)
ভিজিটরের কাউন্টার : 236