আবাসনএবংশহরাঞ্চলেরদারিদ্র্যদূরীকরণমন্ত্রক

চতুর্থবার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহরের মর্যাদা লাভ করে রেকর্ড করল ইন্দোর; সুরাট এবং নবি মুম্বাই যথাক্রমে দেশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পরিচ্ছন্ন শহর

Posted On: 20 AUG 2020 1:25PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২০ অগাস্ট, ২০২০

 



কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী শ্রী হরদীপ সিং পুরী বলেছেন, স্বচ্ছ ভারত মিশন – শহরাঞ্চলের আওতায় স্বচ্ছ সর্বেক্ষণ আমাদের দেশের শহরগুলির পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে একটি ধারণা তৈরি করতে সাহায্য করবে। এই সর্বেক্ষণ প্রতিযোগিতার সাফল্যের মাধ্যমে আমরা শুধুমাত্র স্বচ্ছ (পরিচ্ছন্ন) ভারত-ই গড়ছি না, একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, ক্ষমতায়ণ, সমৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরতার দিকেও এগিয়ে চলেছি। স্বচ্ছ সর্বেক্ষণ ২০২০’র পঞ্চম পর্বে শ্রী পুরী আজ বিজয়ী শহরগুলির  নাম ঘোষণা করেছেন। কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক অনলাইনের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচ্ছন্ন শহরের মর্যাদা পেয়েছে ইন্দোর। ১ লক্ষেরও বেশি জনসংখ্যা রয়েছে এরকম শহরের বিচারে সুরাট দ্বিতীয় এবং নবী মুম্বাই তৃতীয় স্থান দখল করেছে। যেসব রাজ্যে ১০০-রও কম পুরসভা রয়েছে, সেইসব রাজ্যের মধ্যে ছত্তিশগড় সবচেয়ে বেশি পরিচ্ছন্ন রাজ্যের মর্যাদা পেয়েছে। যেসব রাজ্যের ১০০টিরও বেশি পুরসভা রয়েছে, সেরকম রাজ্যের মধ্যে ঝাড়খন্ড সবচেয়ে বেশি পরিচ্ছন্ন রাজ্যের তকমা পেয়েছে। এছাড়াও, বিভিন্ন বিভাগে মোট ১১৭টি পুরস্কার এই অনুষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য www.swachhsurvekshan2020.org – এই ওয়েবসাইটে ক্লিক করুন।


মন্ত্রী,  স্বচ্ছ ভারত মিশন – নগর প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত কয়েকজন সুবিধাভোগী, স্বচ্ছাগ্রহী ও সাফাই কর্মীদের সঙ্গেও এই অনুষ্ঠানে মতবিনিময় করেছেন। পাঁচ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী স্বচ্ছ ভারত গড়ে তোলার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, দেশের শহরাঞ্চলের নাগরিকরা সেই স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে এসেছেন। শ্রী পুরী আরও জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে এই প্রকল্প শুরু হওয়ার সময় দেশকে সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত স্থানে শৌচকর্ম মুক্ত হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই সময় মাত্র ১৪ শতাংশ কঠিন বর্জ্য পদার্থের ব্যবস্থাপনার কাজ হ’ত, আজ তা বৃদ্ধি পেয়ে ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে।


দপ্তরের সচিব শ্রী দুর্গাশঙ্কর মিশ্র বলেছেন, ২০১৬ সালে জানুয়ারি মাসে মাত্র ৭৩টি শহরে এই সমীক্ষা চালানোর কাজ শুরু হয়েছিল।  ২০১৭র জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ৪৩৪টি শহরে স্বচ্ছ সর্বেক্ষণের সমীক্ষা চালানো হয়। ২০১৮তে ৪ হাজার ২০৩টি শহরে এবং ২০১৯এ ৪ হাজার ২৩৭টি শহরে সমীক্ষা চালানো  হয়েছে। ২০১৯এ এই প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে ২৮ দিনের মধ্যে করা হয়েছিল- যা একটি রেকর্ড।


                ২০২০র স্বচ্ছ সর্বেক্ষণ পরিচালনার সময় সরকার ত্রৈমাসিক পরিচ্ছন্নতার  মূল্যায়ণের জন্য স্বচ্ছ সর্বেক্ষণ লীগ চালু করে। বিভিন্ন শহর এবং নগরাঞ্চলে প্রতিনিয়ত  মূল্যায়ণ ও স্থিতিশীল কর্মতৎপরতা নিশ্চিত করাই ছিল এর  উদ্দেশ্য। প্রতি তিন মাস অন্তর  এই মূল্যায়ণের প্রাপ্ত ফলাফলের ২৫ শতাংশ এ বছরের চূড়ান্ত স্বচ্ছ সর্বেক্ষণ ফলাফলে যুক্ত হবে।   


                নাগরিক ও বিভিন্ন শহরের মধ্যে স্বচ্ছ সর্বেক্ষণে অংশ নেওয়ার প্রবণতা নাগরিক  সহ সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে সাধারণ নাগরিকদের  নিজের শহরে পরিচ্ছন্নতার দায়বদ্ধতা প্রতিফলিত হচ্ছে। স্বচ্ছ সর্বেক্ষণ আজ স্বচ্ছতাকে  উৎসাহ ও গর্বের  বিষয় হিসেবে তুলে  ধরেছে। মাইশুরু শহর প্রথম সমীক্ষায়  সবথেকে  পরিচ্ছন্ন শহরের মর্যাদা পায়। তার পরের ৩ বছর অর্থাৎ ২০১৭,২০১৮,২০১৯এ যথাক্রমে ইন্দোর শহর ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ স্থান অধিকার করে। এ বছর কোভিড মহামারীর কারণে ফল ঘোষণা করতে কিছুটা দেরি হল।


                ২০২০র স্বচ্ছ সবেক্ষণ ২৮ দিনে সম্পন্ন হয়েছে।  এই পুরো প্রক্রিয়ায় ১ কোটি ৮৭ লক্ষ নাগরিক অংশ নিয়েছেন।


এই সমীক্ষার জন্য উল্লেখযোগ্য দিকগুলি হল :


                স্বচ্ছতা অ্যাপে ১ কোটি ৭০ লক্ষ নাগরিক নিবন্ধীকরণ করেছেন
                সোশ্যাল মিডিয়ায় ১১ কোটির বেশি পোস্টে এর প্রভাব পড়েছে
                সাড়ে ৫ লক্ষের বেশি সাফাইকর্মী সমাজ কল্যাণমূলক নানা প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন এবং ৮৪ হাজারের বেশি অসংগঠিত আবর্জনা সংগ্রহকারীকে মূল স্রোতে যুক্ত করা সম্ভব  হয়েছে
                ২১ হাজারের বেশি জায়গাকে জঞ্জালের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সেগুলির সংস্কার করা হয়েছে
                কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের শহরাঞ্চলে স্বচ্ছ ভারত মিশন-নগর প্রকল্পে ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইভি) বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, গুগল সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে। 


                ২০১৪ সালের স্বচ্ছ ভারত মিশন-নগর শুরু হওয়ার পর পয়ঃপ্রণালী ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রভূত উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। দেশে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের নীতি অনুযায়ী ৪৩২৪টি পুরসভাকে খোলা স্থানে শৌচকর্ম মুক্ত অঞ্চল বা ওডিএফ, ১ হাজার ৩১৯টি পুরসভাকে ওডিএফ প্লাস এবং ৪৮৯টি পুরসভাকে ওডিএফ প্লাস প্লাসের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছ ভারত মিশনের লক্ষ্যমাত্রার থেকে বেশি  সংখ্যায় ৬৬ লক্ষের বেশী বাড়িতে শৌচাগার ও ৬ লক্ষের বেশী মানুষের জন্য শৌচাগার নির্মাণের ফলে এটি সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়াও গুগল ম্যাপে দেশের ২ হাজার ৯০০টির বেশি শহরে ৫৯,৯০০ টি শৌচাগারের অবস্থান দেখানো হচ্ছে। ৯৬ শতাংশ ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ৬৬ শতাংশ সংগৃহীত বর্জ্যকে বিশেষ উপায়ে প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে এর পরিমান ছিল মাত্র ১৮ শতাংশ। কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক জঞ্জালমুক্ত শহরের নিয়মানুসারে ৬টি শহর (ইন্দোর, অম্বিকাপুর, নবি মুম্বাই, সুরাট,  রাজকোট এবং মাইশুরু)৫ তারা শহর, ৮৬টি শহরে তারা শহর এবং ৬৪টি শহরকে ১ তারা শহরের মর্যাদা দিয়েছে।


২০২১ সালে স্বচ্ছ সর্বেক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ষষ্ঠ পর্বে এই প্রক্রিয়ায় প্রেরক দৌড় সম্মান পুরস্কার দেওয়া হবে। দিব্য (প্ল্যাটিনাম), অনুপম (সোনা), উজ্জ্বল (রূপা), উদিত (ব্রোঞ্জ) এবং আরোহী (উচ্চাকাঙ্খী) এই বিভাগগুলিতে সমীক্ষা চালানো হবে। এছাড়া, জনসংখ্যার-ভিত্তিতে বিভিন্ন শহরকে মূল্যায়ন করা হবে।


স্বচ্ছতার এই সমীক্ষায় কোন কোন শহর কোথায় রয়েছে তা জানার জন্য নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুনঃ-
https://swachhsurvekshan2020.org/Rankings 

 



CG/CB/SB



(Release ID: 1647320) Visitor Counter : 103