উত্তর-পূর্বাঞ্চলেরউন্নয়নসংক্রান্তমন্ত্রক

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বিতীয় দফায় উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রকের আওতায় এক বছরের সাফল্যকে নিয়ে পুস্তিকা এবং তার ই-সংস্করণ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং

Posted On: 06 JUN 2020 5:08PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ৬ জুন, ২০২০

 



কেন্দ্রীয় উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, কর্মীবর্গ, গণ-অভিযোগ, পেনশন, পারমাণবিক শক্তি এবং মহাকাশ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং আজ উত্তর-পূর্বাঞ্চল মন্ত্রকের এক বছরের সাফল্যের ওপর একটি পুস্তিকা এবং এর ই-সংস্করণ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। অনুষ্ঠানে, মন্ত্রকের সচিব এবং অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী ভাষণে ডঃ জিতেন্দ্র সিং বলেন, গত এক বছরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পরিকাঠামো, শক্তি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই উন্নতি দেশের অন্যান্য রাজ্যের কাছে আদর্শ হয়ে উঠতে পারে। বিগত ছয় বছর ধরে এই অঞ্চলের উন্নয়নে সরকার বিশেষ জোর দিয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে করোনা প্রতিরোধ পরিচালন ব্যবস্থাপনা এবং যেভাবে এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠে স্বাভাবিক কর্মতৎপরতা ফিরে এসেছে তা উল্লেখযোগ্য। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী বিগত ছয় বছর ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সম্ভাব্য উন্নয়নের জন্য সবরকম প্রয়াস চালিয়েছেন।

২০১৯-২০ অর্থবর্ষে উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তর এই অঞ্চলের উন্নয়ন খাতে ১০০ শতাংশই ব্যয় করেছে। এই সাফল্যের জন্য মন্ত্রকের সমস্ত কর্মীদের ধন্যবাদ জানান তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, সড়ক, রেল এবং বিমান যোগাযোগ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এর সুফল পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এমনকি, পণ্য পরিবহণেরও সুবিধা মিলেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে এই অঞ্চলের যোগাযোগ গড়ে উঠেছে। এ পর্যন্ত পার্সেল সুবিধা ছাড়াও ৪০০টনের-রও বেশি পণ্য বিমানের মাধ্যমে  সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে বাঁশ ক্ষেত্রে বিশেষ উন্নতির সুযোগ রয়েছে এবং এই অঞ্চলের যুব উদ্যোগপতিরা এক্ষেত্রে বিশেষ সাফল্য পেতে পারেন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য ৫৩,৩৭৪ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। রেলপথের উন্নয়নে ৪,৭৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কিছু কিছু বড় প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে বিগত এক বছরে। এর মধ্যে অনেকগুলি প্রকল্পের কাজ শেষও হয়েছে অথবা শুরু হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রকের এক বছরের সাফল্যগুলি হল -

(১) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যকে যুক্ত করে ৯,২৬৫ কোটি টাকা মূল্যের ইন্দ্রধনুষ গ্যাস গ্রিড প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এটি ১,৬৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ উত্তর-পূর্ব গ্যাস পাইপলাইন গ্রিড প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে স্বচ্ছ জ্বালানি ও দূষণ ছাড়া শিল্পক্ষেত্রের বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করবে। এই প্রকল্পটি পরিবেশ সংরক্ষণেও সহায়ক হবে।

(২) অরুণাচল প্রদেশের রাজধানীর সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলতে গ্রিনফিল্ড হোলোঙ্গি বিমানবন্দরের কাজ শুরু হয়েছে। এতে আনুমানিক প্রায় ৯৫৫.৬৭ কোটি টাকা মূলধন বিনিয়োগ করা হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এর কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার কথা।

(৩) দক্ষিণ ত্রিপুরা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে যাতায়াত সহজ করে তুলতে ৩৯.১২ কিলোমিটার দীর্ঘ বেলোনিয়া-সাব্রুম রেলপথের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হাওয়াইপুর-লামডিং-এর মধ্যে ২৫.০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ডবল লাইনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জলপাইগুড়ি-লামডিং প্রকল্পের কাজটিও সম্পূর্ণ হয়েছে।

যে নতুন নতুন কাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সেগুলি হল – রঙ্গিয়া হয়ে নিউ বঙ্গাইগাঁও থেকে আঘরি পর্যন্ত ১৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণের জন্য ২,০৪২.৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে; ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর তেজপুরিসিলঘাট ব্রিজ তৈরি করার জন্য প্রথম পর্যায়ে  ৮৮৮ কোটি এবং পরবর্তী পর্যায়ে ৩,৫১২ কোটি টাকা অনুমোদিত হয়েছে; ২,৩৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ বিজি রেল নেটওয়ার্কের বৈদ্যুতিকরণের জন্য ২,২৯৯ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে।

(৪) ৩৫ নম্বর জাতীয় সড়ক প্রকল্পে ৫৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের আধুনিকীকরণের জন্য ৭,৭০৭.১৭ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশে তিনটি সড়ক প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

(৫) কলকাতা ও হলদিয়া বন্দর থেকে গুয়াহাটি টার্মিনাল পর্যন্ত ইন্দো-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুট এবং ২ নম্বর জাতীয় জলপথ হয়ে একসঙ্গে একাধিক পণ্য পরিবহণের কাজ  শুরু হয়েছে। এতে পণ্য পরিবহণের খরচ অনেক কমেছে। বাংলাদেশের দিকে  ইন্দো-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুটটির আধুনিকীকরণের জন্য ৩০৫.৮৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

(৬) ২০২০-২১ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে চালু করা হয়েছে কৃষি উড়ান প্রকল্প। বাগডোগরা, গুয়াহাটি ও আগরতলা বিমানবন্দর থেকে আনারস, আদা ও জৈব কৃষিপণ্য পরিবহণ শুরু হয়েছে।

(৭) অরুণাচল প্রদেশে সুবানসিরি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠে ২,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৩ সাল নাগাদ এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছেন, গত এক বছরে মন্ত্রক ২,৮০৩ কোটি টাকা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য ব্যয় করেছে যা বিগত আর্থিক বছরের তুলনায় বেশি। এই অঞ্চলের উন্নয়নে যে উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলি এসেছিল সেগুলি হল -

(ক) ২,৮০০ কোটি টাকা মূল্যের ৯১৫টি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রকের আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পে ২,২৮৬ কোটি টাকা মূল্যের ১৫২টি নতুন প্রকল্পের কাজ অনুমোদিত হয়েছে।

(খ) কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অর্থ মন্ত্রক ২৩৫.৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রক ২৫ কোটি টাকা উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রককে দিয়েছে। মিজোরাম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ ও মণিপুরে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য এনইএসআইডিএস প্রকল্পের আওতায় ১৫২.১৮ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। অসমের বার্নিহাট ও গুয়াহাটি এবং নতুন দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্ষদের ঘরগুলিতে দুটি করে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরি করা হয়েছে।

(গ) এলইআরএলপি এবং এলইআরসিওআরএমপি জীবন-জীবিকা প্রকল্প চালু করেছে উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রক। এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হয়েছে উত্তর-পূর্বের ছয়টি রাজ্যের ১৫টি জেলা। এই প্রকল্পের আওতায় এসেছেন ৪ লক্ষ ১২ হাজার ৬৪৪টি পরিবার। এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে  ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার ৬১টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী, ১,৫০৬টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ফেডারেশন, ১,৫৯৯টি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ এবং ২,৮৯৯টি প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ গোষ্ঠী।

(ঘ) অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগকে উৎসাহদানে এবং ক্ষুদ্র ঋণদানকারী সংস্থার উন্নতিতে ৪৭.০২ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। ২০১৯-এর জুন থেকে ২০২০-র মে মাস পর্যন্ত মন্ত্রক বিভিন্ন সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করে উওর পূর্বের রাজ্য গুলির জন্য ৩০ কোটি টাকা প্রদানে সহায়তা করেছে।

(ঙ) মন্ত্রক উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে একাধিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত করেছে। এনইসি, এনইএইচএইচবিসি, সিবিটিসি-এর মতো বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। এমনকি, গুয়াহাটিতে এনইসি সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পর্যটনের উন্নয়নেও একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, হস্তশিল্পের প্রদর্শনী এবং বাঁশ ও বেতের কাজের ওপর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের এই সাফল্যের জন্য মন্ত্রকের কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াই করেও পরিকাঠামোগত উন্নতিতে এবং বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয়সাধনের জন্য উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রক যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তার জন্য কর্মীদের প্রশংসা করেন শ্রী সিং। আগামীদিনে এই উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার জন্য কর্মীদের আরও ভালো করে কাজ চালিয়ে যেতে বলেন।

 

 


CG/SS/DM



(Release ID: 1629990) Visitor Counter : 14