মৎস্য ও পশু পালন এবং দুগ্ধশিল্প মন্ত্রক

প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার(পি এম এম এস ওয়াই) লক্ষ্য হল আগামী পাঁচ বছরে এই ক্ষেত্রে ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ ২২০ লক্ষ মেট্রিক টনে পৌছে দেওয়া

কেন্দ্রীয় মৎস্যমন্ত্রী জানিয়েছেন "নীল বিপ্লবের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিপ্লব" করা হবে

শ্রী গিরিরাজ সিংহ জানান এই প্রথমবার মাছ ধরার নৌকা গুলিকে বীমার অধীনে আনা হচ্ছে

সরকার, উপকূলবর্তী অঞ্চলের মৎস্যজীবিদের গ্রামগুলিতে ৩,৪৭৭টি "সাগর মিত্র"র নাম নথীভুক্ত করেছে এবং এফ এফ পি ও গঠনের বিষয়ে উৎসাহ দিচ্ছে বলে শ্রী গিরিরাজ সিংহ জানিয়েছেন

Posted On: 26 MAY 2020 6:19PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লী,২৬ মে, ২০২০

 



প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার অধীনে ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে মৎস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২২০ লক্ষ মেট্রিক টন করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ সালে এই পরিমাণ ছিল ১৩৭.৫৮ লক্ষ মেট্রিক টন। কেন্দ্রীয় মৎস্য,পশু পালন এবং ডেয়ারী বিকাশ মন্ত্রী শ্রী গিরিরাজ সিংহ আজ জানিয়েছেন যে এই প্রকল্পের দরুন আগামী পাঁচ বছরে রপ্তানির পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে ১ লক্ষ কোটি টাকা হবে এবং পরোক্ষ এবং প্রতক্ষ ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে ৫৫ লক্ষেরও বেশী।পি এম এম এস ওয়াই এর অধীনে উপকৃত হবে মৎসজীবী,মাছ চাষী, চাষের সঙ্গে যুক্ত কর্মী,মাছ বিক্রেতা এবং মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ। শ্রী গিরিরাজ সিংহ বলেন,এই প্রথম মাছ ধরার নৌকাকে বা ট্রলার গুলিকে বিমার অধীনে নিয়ে আসা হচ্ছে।


এক সাংবাদিক সম্মেলনে শ্রী সিংহ বলেন,পি এম এম এস ওয়াই- ভারতের মৎস্য ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী এবং দায়িত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প যা নীল বিপ্লবের মাধ্যমে এই ক্ষেত্রের উন্নয়ন করবে। গত ২০ শে মে,প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার বৈঠকে এই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। এই প্রকল্পের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ২০,০৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্র দেবে ৯,৪০৭ কোটি,রাজ্যগুলি দেবে ৪,৮৮০ কোটি,স্বত্বভোগীরা দেবে ৫,৭৬৩ কোটি টাকা। তিনি বলেন, এই যোজনা ২০২০-২১ অর্থ বর্ষ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থ বর্ষ পর্যন্ত সব রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে চালু থাকবে।


স্রী গিরিরাজ সিংহ বলেন, পি এম এম এস ওয়াই এর অধীনে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, গুণগত মান, প্রযুক্তি, আধুনিকীকরণ করে ক্রেতাদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করা হবে। পরিকল্পনা গ্রহন করা হবে রপ্তানী বৃদ্ধির লক্ষ্যে। এই যোজনার অধীনে মৎস্য ক্ষেত্রে বেসরকারী অংশীদারিত্ব, বিপণন, উদ্ভাবন এবং স্টার্ট আপ সহ নানা প্রকল্পের সুযোগ তৈরী করার সম্ভাবনা রয়েছে। শ্রী গিরিরাজ সিংহ আরও বলেন,পি এম এম এস ওয়াই মৎস্য ক্ষেত্রে একটি ছাতার মতন যার তলায় থাকবেন মাছ চাষী, মৎস্যজীবী, মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত কর্মিবৃন্দ এবং মাছ বিক্রেতারা সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।


কেন্দ্রীয় মৎস্য মন্ত্রী বলেন,পি এম এম এস ওয়াই এর অধীনে ৪২% অর্থ বিনিয়োগ হবে মৎস্য ক্ষেত্রের পরিকাঠামো উন্নয়নে। যে সব ক্ষেত্র গুলিতে সব থেকে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হবে তার মধ্যে রয়েছে মৎস্য বন্দর, হিমঘর,মৎস্য বিপণন কেন্দ্র বা বাজার, উপকূলবর্তী মৎস্য গ্রাম গুলির আধুনিকীকরণ, এবং গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার প্রক্রিয়ার আধুনিকীকরণ প্রভৃতি। এছাড়াও মৎস্য ক্ষেত্রের পরিকাঠামো এমন ভাবে উন্নত করা হবে যাতে বেসরকারী বিনিয়োগ কারীদের আকর্ষণ করা যায়। মাছ ধরার পর যাতে নষ্ট কম হয় সে দিকেও নজর দেওয়া হবে।


মাছ স্বাস্থ্যকর খাবার হিসাবে গণ্য হওয়ায় গৃহস্থালি চাহিদা মেটাতে "সাগর মিত্র" প্রকল্প চালু করেছে।উপকূলবর্তী মৎস্য গ্রাম গুলিতে ৩৪৭৭টি সাগর মিত্র খোলা হয়েছে। এর ফলে কর্মসংস্থান হবে বলে তিনি জানান।


এই প্রকল্পের মাধ্যমে আর বহু ক্ষেত্রে কাজ করার দরজা খুলে যাবে। জল বিশ্লেসন, জেনেটিক উন্নয়ন কর্মসূচী এবং নিউক্লিয়াস ব্রীডিং কেন্দ্র, মৎস্য চাষে স্টার্ট আপ, ব্র‌্যান্ডিং, মাছের জি আই, পার্ক, সমন্বিত উপকূলবর্তী মৎস্য গ্রাম গুলির উন্নয়ন, পাইকারী মাছ বাজার গুলির উন্নয়ন, মাছ চাষের উন্নতিতে গবেষণাগার, বায়ফ্লক, মাছ ধরার নৌকা বা ট্রলার গুলির আধুনিকীকরণ, মাছের অসুখ এবং তার চিকিৎসার জন্য গবেষণাগার নির্মাণ ইত্যাদি।


শ্রী গিরিরাজ সিংহ জানান, মাছের খাদ্য ভালো মানের এবং কম দামে পেতে গেলেস্ব নির্ভর হতে হবে। বর্তমানে জাতীয় গড় উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ৩ টন,তা বাড়িয়ে ৫ টন প্রতি হেক্টর করা হবে।


২০১৮-১৯ সালে ভারত আন্তর্জাতিক মাছ উৎপাদনের মোট ৭.৭৩ % উৎপাদন ও সরবরাহ করত এবং আমদানির পরিমান ছিল ৪৬,৫৮৯ কোটি টাকা। ভারত এখন একুয়া কালচারে দ্বিতীয় সর্ব বৃহৎ এবং চতুর্থ বৃহৎ আন্তর্জাতিক মৎস্য রপ্তানিকারী দেশ। শ্রী সিংহ বলেন, আগামী বছর গুলিতে প্রথম স্থানে পৌঁছে যাওয়ার সব রকম যোগ্যতা ভারতের আছে। মৎস্য মন্ত্রক এই লক্ষ্যে পৌছঁতে বদ্ধ পরিকর বলে জানান।


২০১৪ সালে মৎস্য ক্ষেত্রের প্রভূত উন্নতির সম্ভাবনা লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মৎস্য ক্ষেত্র কে নীল বিপ্লব বলে চিহ্নিত করেন। এর সম্ভাবনার দিকে লক্ষ্য রেখে কেন্দ্র সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহন করে। যার মধ্যে অন্যতম হলো পৃথক একটি মন্ত্রক গঠন। নীল বিপ্লব খাতে, সমন্বিত উন্নয়নে ৩০০০ কোটি টাকা সরকার মঞ্জুর করে। ৭,৫২২.৪৮ কোটি টাকার এফ আই ডি এফ গঠন করা হয়।বর্তমানে পি এম এম এস ওয়াই খাতে ২০,০৫০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষনা করা হয়েছে।


মৎস্য, পশুপালন এবং ডেয়ারী বিকাশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী শ্রী সঞ্জীব কুমার বালিয়ান এবং শ্রী প্রতাপচন্দ্র সারেঙ্গি ও মৎস্য দপ্তরের সচিব ড:রাজিব রঞ্জন আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা বিষয়ক একটি বুকলেট প্রকাশ করেন।

 

 


CG/PPM



(Release ID: 1627225) Visitor Counter : 21