Farmer's Welfare

প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনা (পিএমডিডিকেওয়াই)

प्रविष्टि तिथि: 10 OCT 2026 16:29 PM

“১০০টি জেলায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে কৃষি উন্নয়নের এক বছর” 

 

১০ অক্টোবর, ২০২৬ 

 

জেলাভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে রূপান্তর 
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল ও কৃষকসমাজের মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, এই সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, বহু অঞ্চলে কম উৎপাদনশীলতা, অপর্যাপ্ত সেচ ব্যবস্থা, ঋণ পাওয়ার সীমিত সুযোগ এবং ফসল কাটার পরবর্তী পরিকাঠামোর অভাবের মতো সমস্যা রয়েছে। ফলে, এই অঞ্চলগুলি কৃষিক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে পড়ছে।
প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনা (পিএমডিডিকেওয়াই) এই ঘাটতিগুলি দূর করার পাশাপাশি, সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে ১০০টি আকাঙ্ক্ষী কৃষি জেলার উন্নয়নের লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। জেলাভিত্তিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে এই প্রকল্প উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার উন্নতি, ঋণ পাওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং ফসল কাটার পরবর্তী পরিকাঠামো উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই ছয় বছরের জন্য পিএমডিডিকেওয়াই-কে অনুমোদন দেয় এবং ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির সূচনা করেন। চলতি বছরের ১১ অক্টোবর প্রকল্পটির প্রথম বর্ষপূর্তি পালিত হচ্ছে।
২০২৫-২৬ সাল থেকে শুরু হওয়া ছয় বছর মেয়াদী এই উদ্যোগের লক্ষ্য ১০০টি আকাঙ্ক্ষী কৃষি জেলায় কৃষি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের রূপান্তর ঘটানো। তিনটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে এই জেলাগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে: কম উৎপাদনশীলতা, কম শস্য নিবিড়তা এবং কৃষিক্ষেত্রে ঋণ বিতরণের নিম্ন হার। প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নিট শস্য আবাদি জমি এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত জমির মালিকানা বা পরিচালনাধীন জমির পরিমাণের অনুপাতও জেলা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতিটি রাজ্য থেকে অন্তত একটি জেলা এই তালিকায় স্থান পেয়েছে।
স্থানীয় কৃষিক্ষেত্রের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে ১১টি মন্ত্রক ও দপ্তরের অধীন ৩৬টি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সমন্বয়, রাজ্য সরকারের প্রকল্প এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কাঠামো
পিএমডিডিকেওয়াই প্রকল্পটি ত্রি-স্তরীয় বাস্তবায়ন কাঠামো অনুসরণ করে।
- জেলা স্তর: জেলাশাসক/ডিএম-এর নেতৃত্বে জেলা ধন-ধান্য কৃষি যোজনা সমিতি জেলা কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন করে।
- রাজ্য স্তর: রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে রাজ্য ধন-ধান্য কৃষি যোজনা সমিতি জেলাগুলির পরিকল্পনা পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ করে।
- জাতীয় স্তর: দুটি কমিটি এই প্রকল্পের তদারকি করে। কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রীর নেতৃত্বে রয়েছে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ বিভাগের (ডিএ অ্যান্ড এফডব্লিউ) সচিবের নেতৃত্বে রয়েছে জাতীয় পর্যবেক্ষণ কমিটি।
জেলা কর্মপরিকল্পনা
- জেলা কর্মপরিকল্পনা (ডিএপি) প্রাথমিক তথ্য ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়। এই পরিকল্পনাগুলিতে স্থানীয় কৃষিক্ষেত্রের চাহিদা চিহ্নিত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পের সমন্বয়ের মাধ্যমে সেগুলি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ডিএপি-তে ফলাফলভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা, বার্ষিক মাইলফলক এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হয়।
- ডিএপিগুলি সংশ্লিষ্ট রাজ্য দপ্তরগুলিতে পাঠানো হয়, যাতে সেগুলি সংশ্লিষ্ট বার্ষিক কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এর ফলে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং তহবিল ছাড়ের প্রক্রিয়া সহজ হয়।
- মোট ৩৬টি প্রকল্পের অধীনে ১২১টি সূচকের মাধ্যমে অগ্রগতি পরিমাপ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৭৪টি আউটপুট সূচক এবং ৪৭টি ফলাফল সূচক। পিএম-ডিডিকেওয়াই ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে আউটপুট সূচকের ভিত্তিতে জেলাগুলির কর্মদক্ষতার ক্রমতালিকা প্রতি মাসে প্রকাশ করা হয়-  https://pmddky.niti.gov.in/ 

বাস্তবায়ন ও অগ্রগতির এক বছর
পিএমডিডিকেওয়াই ড্যাশবোর্ডটি ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে চালু হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে আউটপুট সূচকের ভিত্তিতে মাসিক ক্রমতালিকা প্রকাশ শুরু হয়, যার মাধ্যমে ১০০টি জেলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
মোট - ১০০টি ধন-ধান্য কৃষি যোজনার অন্তর্গত জেলাই জেলা কর্মপরিকল্পনা (ডিএপি) প্রস্তুত করেছে এবং সেগুলি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
- পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণের জন্য রাজ্য, জেলা ও জাতীয় স্তরে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
- মোট ১০০টি জেলাই ২০২৬ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত আউটপুট সূচক সংক্রান্ত তথ্য জমা দিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের ফলাফল সূচক সংক্রান্ত তথ্যও ১০০টি জেলা জমা দিয়েছে। 
- কেন্দ্রীয় নোডাল আধিকারিকরা নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করছেন এবং জেলাগুলিকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
- জন উদ্যোগ দপ্তর ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির (সিপিএসই) কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমের আওতায় ডিডিকেওয়াই জেলাগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গ্রহণ করেছে।
- ছয়টি লক্ষ্যের নিরিখে ১০০টি জেলার গড় স্কোর ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ১৮.৮৫ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে ৪৬.৮৯ হয়েছে। অর্থাৎ, স্কোরের উন্নতি হয়েছে ২৮.০৪ পয়েন্ট। 
- একই সময়ে লক্ষ্যভিত্তিক গড় স্কোরেও উন্নতি নথিভুক্ত হয়েছে—
কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: ১.৫০ থেকে ৮.০৮
ফসলের বৈচিত্র্যকরণ ও সুস্থায়ী কৃষি পদ্ধতিতে উৎসাহদান: ৪.০৮ থেকে ১০.১৮
ফসল কাটার পরবর্তী সংরক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি: ২.১৪ থেকে ৫.১৯
সেচ পরিকাঠামোর উন্নয়ন: ১.৩৮ থেকে ৪.৯১ 

স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী কৃষিঋণ পাওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণ: ২.৪০ থেকে ৬.৫৩ 

উন্নত প্রশাসন ও পরিষেবা প্রদান: ৭.৪১ থেকে ১২.০৫
প্রথম বছরেই কৃষক এবং কৃষক উৎপাদক সংস্থাগুলির (এফপিও) অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নতুন সম্ভাবনা অন্বেষণের জন্য বিভিন্ন মঞ্চ তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে আয়োজিত পিএম-ডিডিকেওয়াই এফপিও সঙ্গমে ১৫টি রাজ্য এবং পিএম-ডিডিকেওয়াই-এর ৩৩টি জেলা থেকে ৭২টিরও বেশি এফপিও অংশগ্রহণ করে। এই অনুষ্ঠানে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বাজারে প্রবেশের সুযোগ এবং আয় বৃদ্ধির অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি, প্রাকৃতিক কৃষি, তৈলবীজ, মৌমাছি পালন, সুরক্ষিত চাষাবাদ, ক্ষুদ্র সেচ, প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন এবং ডিজিটাল কৃষির মতো বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
ধন-ধান্য জেলাগুলির অনুসরণযোগ্য উত্তম অনুশীলন 

স্থানীয় প্রক্রিয়াকরণে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্যপ্রাপ্তি

মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি, একটি পিএমডিডিকেওয়াই অন্তর্ভুক্ত জেলায়, দেশাইগঞ্জ ফার্মার্স প্রোডিউসার কোং লিমিটেড (এফপিও)-এর ৮০০ জন কৃষক সদস্য রয়েছেন। সংস্থাটি প্রতি ঘণ্টায় ৩ টন ধান প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইউনিট এবং ৯০০ মেট্রিক টন (এমটি) ধারণক্ষমতার একটি গুদাম গড়ে তুলেছে। তাদের উন্নতমানের ‘জয় শ্রী রাম’ চালের জাতের জন্য গড়ে তোলা ফসল কাটার পরবর্তী পরিকাঠামো স্থানীয় স্তরে মূল্য সংযোজন এবং পণ্যের আরও ভাল দাম পেতে সহায়তা করে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এফপিও-টির ১.২৪ কোটি টাকা ব্যবসায়িক লেনদেন হয়েছে।
উন্নত বাজার, অধিক মুনাফা
কর্ণাটকের তুমাকুরু, একটি পিএমডিডিকেওয়াই অন্তর্ভুক্ত জেলায়, টিপটুর ফার্মার প্রোডিউসার কোং লিমিটেড এফপিও-র ৭৫০ জন কৃষক সদস্য রয়েছেন। সংস্থাটি একটি ফরাসি বহুজাতিক সংস্থাকে বল কোপ্রা (শুকনো নারকেলের শাঁস) সরবরাহ করে। এর ফলে এফপিও-র কৃষকরা উন্নত মূল্য এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এফপিও-টির ১.৬০ কোটি টাকা ব্যবসায়িক লেনদেন হয়েছে। এবছর ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংস্থাটি ১৩৮ টনেরও বেশি কোপ্রা সংগ্রহ করেছে, যার মূল্য ১.৯ কোটি টাকারও বেশি।
স্মার্ট সেচ ব্যবস্থায় কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি
রাজস্থানের জয়সলমের, একটি পিএমডিডিকেওয়াই অন্তর্ভুক্ত জেলায়, জয়সলমের কৃষি ফেড প্রোডিউসার কোং লিমিটেডের ১,২৩৬ জন কৃষক সদস্য রয়েছেন। এফপিও-টি ২,০০০ একর জমিতে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম)-ভিত্তিক জিরা চাষ করে। পাশাপাশি, ৫০০ একর জমিতে সৌরশক্তিচালিত স্প্রিঙ্কলার সেচ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জলের দক্ষ ব্যবহার, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার এবং কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
জেলায় জেলায় কৃষি উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করা
এ বছর ১১ অক্টোবর পিএমডিডিকেওয়াই প্রকল্পের প্রথম বছর পূর্ণ হচ্ছে, যা জেলাভিত্তিক সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের এক বছরকে চিহ্নিত করছে। ১০০টি জেলায় জেলা কর্মপরিকল্পনা এবং সূচকভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। জেলাভিত্তিক পদক্ষেপগুলি বাস্তব ক্ষেত্রে কৃষি উন্নয়নে সহায়তা করছে। অর্জিত অগ্রগতি আগামী বছরগুলিতে বিভিন্ন প্রকল্পের আরও কার্যকর সমন্বয় এবং সুস্থায়ী কৃষি উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করেছে।

তথ্যবিবরণী

Prime Minister's Office

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2177454

 

Ministry of Agriculture and Farmers Welfare

https://pmddky.niti.gov.in/aboutTheScheme

https://pmddky.niti.gov.in/

https://agriwelfare.gov.in/Documents/Guidelines/Guidelines_PM_DDKY_19092025_Final[1]_0.pdf

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2244624

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2201150

 

PIB Backgrounders

https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?id=154909&NoteId=154909&ModuleId=3&reg=48&lang=2

Click here to see pdf 


*******

SSS/RP.......

(तथ्य सामग्री आईडी: 151118) आगंतुक पटल : 5


Provide suggestions / comments
इस विश्लेषक को इन भाषाओं में पढ़ें : English , हिन्दी , Malayalam