স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

মোদী সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে মারাত্মক ধাক্কা, এন. সি. বি'র 'অপারেশন ট্রাইডেন্ট' এর মাধ্যমে ৩৮টি দল আসাম, মিজোরাম এবং মণিপুর জুড়ে একযোগে ৩৮ টি স্থানে অভিযান চালিয়েছে

এই অভিযান ২০২৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিটি ড্রাগ নেটওয়ার্ক নির্মূল করার মিশন বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ় সংকল্পের অঙ্গ

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তিনটি রাজ্যের কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত মাদকবিরোধী দলগুলিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন 

এই অভিযানে ১০০ কোটি টাকার হাওয়ালা লেনদেন, ১,৪২৪টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ১৭.৮২ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

৫০০টি ডেটোনেটর এবং নগদ ১২ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে

পোস্ট করার দিনক্ষণ: 25 OCT 2026 3:22PM by PIB Agartala

নয়াদিল্লি, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে মারাত্মক আঘাতের লক্ষ্যে এন.সি.বি 'অপারেশন ট্রাইডেন্ট' এর মাধ্যমে ৩৮টি দল আসাম, মিজোরাম এবং মণিপুর জুড়ে একযোগে ৩৮ টি স্থানে অভিযান চালায়। মোদী সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এবং বাজেয়াপ্ত-কেন্দ্রিক থেকে নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক পদ্ধতির কৌশলগত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই অভিযান চালানো হয়েছে। আসাম, মিজোরাম এবং মণিপুর জুড়ে বহুজাতিক মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আর্থিক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তিন-রাজ্যে সাঁড়াশি অভিযান চালু করা হয়েছিল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের (২০২৬-২০২৯) অপারেশন সম্পর্কিত ভিশন ডকুমেন্টের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সিন্ডিকেটগুলিকে উপড়ে ফেলার জন্য একটি বাজেয়াপ্ত-কেন্দ্রিক থেকে নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে।

এক্স প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এবং শ্রী অমিত শাহ বলেছেন, "মাদকের বিরুদ্ধে মোদী সরকারের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমাদের সংস্থাগুলি গত ২৩শে অক্টোবর আসাম, মিজোরাম এবং মণিপুরে ৩৮টি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে একটি আন্তর্জাতিক মাদকচক্র ধ্বংস করে দিয়েছে। এই অভিযানে ১০০ কোটি টাকার হাওয়ালা লেনদেন, ১,৪২৪ টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ, ১৭.৮২ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, ৫০৯ টি ডেটোনেটর এবং নগদ ১২ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই নেটওয়ার্কটি ডেথ ট্রায়াঙ্গেল করিডোরের মাধ্যমে ভারত, মায়ানমার এবং বাংলাদেশের সীমান্ত জুড়ে মাদক পাচার করত। এই অভিযান ২০২৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিটি মাদক নেটওয়ার্ক নির্মূল করার মিশন বাস্তবায়নের জন্য ভারতের সংকল্পকে সুদৃঢ় করেছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং তিনটি রাজ্যের পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত মাদকবিরোধী দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (এন.সি.বি) গত ২৩শে অক্টোবর ভোরে "অপারেশন ট্রাইডেন্ট"-এর নেতৃত্ব দেয়। এন. সি. বি, মিজোরাম পুলিশ এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ই.ডি) সাথে নিবিড় সমন্বয় সাধন করে একটি বড় আন্তঃদেশীয় মাদক পাচারকারী চক্রের কার্যকরী এবং আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলার জন্য একযোগে একটি বিশাল সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। সূক্ষ্ম মাল্টি-এজেন্সি প্ল্যানিং এবং সিঙ্ক্রোনাইজড এক্সিকিউশন অপারেশন ট্রাইডেন্ট মিজোরামে ড্রাগ কিংপিন এবং তাদের সহযোগীদের লক্ষ্যবস্তু করার জন্য গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করে নেওয়ার এবং অপারেশনাল পরিকল্পনায় প্রাতিষ্ঠানিক সংহতির একটি মানদণ্ডের প্রতিনিধিত্ব করে। গোপন গোয়েন্দা ফিউশন, যৌথ টার্গেট-ম্যাপিং এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির মধ্যে উচ্চ-স্তরের কৌশলগত ব্রিফিংয়ের আগে, অপারেশনটি একযোগে লজিস্টিক নোড এবং সিন্ডিকেটের অবৈধ আর্থিক ধমনী উভয়কেই আঘাত করার জন্য নিখুঁতভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল।

একটি সমন্বিত কমান্ড কাঠামোর অধীনে নির্ভুলতার সঙ্গে উত্তর-পূর্বের তিনটি রাজ্য আসাম, মিজোরাম এবং মণিপুরে ৩৮ টি পূর্ব-চিহ্নিত স্থানে একযোগে ৩৮ টি বহু-সংস্থা সমন্বিত দল একত্রিত করা হয়েছিল। সমন্বিত দলগুলি আইজল, চম্পাই এবং মিজোরামের ভারত-মায়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য শহর জোখাওথার সহ মণিপুরের চুরাচাঁদপুর এবং আসামের কাছাড় ট্রানজিট করিডোরের সংযুক্ত অপারেটিভ ঘাঁটিগুলি সহ প্রধান শহুরে কেন্দ্র এবং সংবেদনশীল সীমান্ত করিডোরগুলিকে ব্যাপকভাবে অভিযান চালিয়েছিল। চ্যালেঞ্জিং ভূখণ্ড এবং বিশাল ভৌগলিক বিস্তার সত্ত্বেও, ব্যতিক্রমী আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় নিশ্চিত করেছে যে এই অভিযান সার্বিকভাবে সফল হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের পলায়ন বা অবৈধ সম্পদ গোপন করা রোধ সম্ভব হয়েছে।

আন্তঃদেশীয় মাদক পাচার চক্রের পর্দাফাঁস: বিস্তারিত পটভূমি

মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক গোয়েন্দা-তথ্যভিত্তিক তদন্তের সূত্র ধরেই একাধিক রাজ্যে সমন্বিত অভিযান ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’ পরিচালিত হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (এনসিবি), মিজোরাম পুলিশ এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) যৌথভাবে এই তদন্ত চালায়। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখতে ৩৬০ ডিগ্রি পদ্ধতিতে তদন্ত শুরু করা হয়। এর ফলে একটি সক্রিয় আন্তঃদেশীয় মাদক পাচার চক্রের সন্ধান মেলে।

তদন্তে জানা যায়, মায়ানমারে থাকা এই চক্রের মূলচক্রী থাংচিনতুয়াং ওরফে চিনতুয়াং ওরফে ত্লুয়াঙ্গা। এনসিবি, চাম্ফাই পুলিশ এবং মিজোরাম আবগারি দপ্তরের অধীনে থাকা ১০টিরও বেশি মাদকদ্রব্য ও মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ (এনডিপিএস) সংক্রান্ত মামলায় সে ওয়ান্টেড ছিল। তার নেতৃত্বেই মায়ানমার থেকে মিজোরাম, মণিপুর, অসম ও ত্রিপুরা হয়ে ভারতের মূল ভূখণ্ড এবং বাংলাদেশে মেথামফেটামিন ও হেরোইন পাচারের নেটওয়ার্ক পরিচালিত হতো।

তদন্তের আগের পর্যায়গুলিতে এই মাদক চক্রের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে তাদের কার্যকলাপ নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে।

থাংচিনতুয়াং ওরফে চিনতুয়াং ওরফে ত্লুয়াঙ্গা (মূলচক্রী): আন্তঃরাজ্য নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে তাকে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ভুংখানথাওনা (গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী): মায়ানমার থেকে আসা মাদকের চালান পরিবহণ ও সরবরাহের সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিল সে। তাকে গ্রেপ্তারের পর মাদক পাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত কঠোর পিআইটিএনডিপিএস আইনের অধীনে আটক করা হয়।

লালরামপারি (হাওয়ালা লেনদেনের প্রধান পরিচালনাকারী): ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট এনসিবি তাকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১০০ কোটি টাকার অবৈধ হাওয়ালা লেনদেনের তথ্য সামনে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের সঙ্গে যৌথ পদক্ষেপ করা হয় এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার উদ্দেশ্যে সেগুলি ফ্রিজ করা হয়।

আবু সালেহ ওরফে সাইফুদ্দিন (অসম করিডরের পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রধান): ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর আসামের কাছাড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতীয় ভূখণ্ডে মাদক পরিবহণের ক্ষেত্রে অসম করিডরের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য একাধিক এনডিপিএস মামলার সঙ্গেও যুক্ত ছিল।

তদন্তের এই পর্যায়গুলিতে সংগৃহীত আর্থিক লেনদেনের বিশদ তথ্য এবং ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত একটি নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া যায়। এই নেটওয়ার্কে একাধিক সহযোগী, ভুয়ো সংস্থা এবং অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন পরিচালনাকারী ব্যক্তিরা যুক্ত ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এই আন্তঃদেশীয় মাদক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক ও একই সময়ে সমন্বিত অভিযান ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’ পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

*****

PS/PKS/KMD


(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2328433) ভিজিটরদের কাউন্টার : 5