স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সেবা’ ও ‘সমর্পণ’ উদ্যোগের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে চলতি ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর আওতায় নকশালী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত সহ দিব্যাঙ্গদের মধ্যে সহায়ক সরঞ্জাম বিতরণের এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে ভাষণ দিলেন

প্রকাশিত: 15 OCT 2026 4:23PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

 


প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সেবা’ ও ‘সমর্পণ’-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত চলতি ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অধীনে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ আজ ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে নকশালী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত সহ দিব্যাঙ্গজনদের জন্য সহায়ক সরঞ্জাম বিতরণ অনুষ্ঠানে ভাষণ দিলেন।

সমাবেশে ভাষণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেন, ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অংশ হিসেবে আজ দিব্যাঙ্গ সেবা শিবিরের দ্বিতীয় পর্বের সূচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রথমে একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ‘সেবা’ ও ‘সমর্পণ’-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই অভিযানের অধীনে দেশজুড়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এই অভিযানের অধীনে, নকশালী হিংসার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবন্ধী আদিবাসী ব্যক্তিদের জীবন সহজ করার জন্য ছত্তিশগড়ে সহায়ক কৃত্রিম অঙ্গ সরবরাহ করা হচ্ছে।

শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, ২০২৬ সালের ৫ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জগদলপুরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মাধ্যমে ৩,৬০০ জনেরও বেশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উপকৃত হয়েছেন। এর মধ্যে ১,৫৭০ জনেরও বেশি সুবিধাভোগী শুধুমাত্র বস্তার থেকেই এসেছেন, যা এই অঞ্চলের দুর্ভোগের মাত্রা তুলে ধরে। তিনি বলেন যে, পাঁচ দশকের নকশালবাদ বস্তারের দরিদ্র আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর অপরিসীম দুর্ভোগ চাপিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের পঙ্গু করতে আইইডি ব্যবহার করা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। শ্রী শাহ বলেন যে, মোদী সরকার ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের আগে সমগ্র দেশ থেকে নকশালবাদ নির্মূল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল এবং নকশালবাদ এখন নির্মূল হয়েছে। তবে, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে শুধুমাত্র নকশালবাদের অবসান পাঁচ দশকের দুর্ভোগ মুছে দেবে না। আমাদের অবশ্যই এই দুর্ভোগের দ্বারা সৃষ্ট ক্ষত নিরাময় করতে হবে, ক্ষতিগ্রস্তদের আবার নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করতে হবে এবং তারা যেন মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে ছত্তিশগড় সরকার, জেলা প্রশাসন, রাজ্য সমাজকল্যাণ বিভাগ, ভগবান মহাবীর বিকলাঙ্গ সহায়তা সমিতি, জয়পুর, ভারতীয় জৈন সংগঠন এবং আরও অনেকে এই মহৎ উদ্যোগে অবদান রাখছে। তিনি বলেন, মোদী সরকার প্রত্যেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং প্রত্যেক ভুক্তভোগীকে পুনর্বাসনের সুযোগ প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, ভারত সরকার এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে ছত্তিশগড় সরকারের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। শ্রী অমিত শাহ বলেন যে নকশালবাদের প্রতিটি চিহ্ন অবশ্যই নির্মূল করতে হবে এবং বস্তারকে আবারও একটি প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করতে হবে। তিনি বলেন, এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য কাজ করা হয়েছে এবং বস্তার অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী নেতৃত্ব এক্ষেত্রে একটি বড় অবদান রেখেছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হুইলচেয়ার, ট্রাইসাইকেল, ক্রাচ, হিয়ারিং এইড, স্মার্ট ওয়াকিং স্টিক, কৃত্রিম অঙ্গ এবং অন্যান্য সহায়ক সরঞ্জাম প্রদানের মাধ্যমে সরকার বস্তারে আশা ও সুখের এক নতুন যুগের সূচনা করতে সাহায্য করতে পারে।

শ্রী অমিত শাহ বলেছেন, হিংসায় জর্জরিত বস্তারকে আবারও একটি প্রাণবন্ত ও আনন্দময় অঞ্চলে রূপান্তরিত করার জন্য ছত্তিশগড় সরকার বস্তার অলিম্পিক, বস্তার পান্ডুম, নিয়াদ নেল্লানার এবং মুখ্যমন্ত্রীর সামূহিক বাস যোজনা-সহ বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বস্তার, যেখানে একসময় গোলাগুলির ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ ভয়ের পরিবেশ তৈরি করত, সেখানে এখন হাজার হাজার তরুণ-তরুণী খেলাধুলায় অংশ নিচ্ছে এবং তাদের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখছে। তিনি বলেন, যে অঞ্চলে একসময় গোলাগুলির ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ বিরাজ করত এবং ভয় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেখানে এখন হাজার হাজার তরুণ-তরুণী খেলাধুলায় অংশ নিচ্ছে এবং তাদের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখছে। তিনি বলেন, আদিবাসী শিল্প ও সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বস্তার পান্ডুম একটি বড় উদ্যোগ ছিল। নিয়াদ নেল্লানার প্রকল্পের অধীনে, বস্তারে মৌলিক পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা করা হয়েছে, যা বিরোধী সরকারের অধীনে পাঁচ দশক ধরে এই ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সমবায় মন্ত্রী বলেছেন যে, প্রায় ৮,৫২৬ জন নকশাল আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ৭,৩২৮ জনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যাঁদের আগে কোনো অ্যাকাউন্ট ছিল না। মোট ১,৬২০ জন পুরস্কারের অর্থ, ৭,৮৮২ জন প্রণোদনা, ৪৫৫ জনকে চাকরি এবং ১২৯ জনকে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অধীনে ৪,০১৪ জন সুবিধাভোগী বাড়ি পেয়েছেন এবং ২,৩০৮ জনেরও বেশি আদিবাসী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তিনি আরও জানান যে, ৬,৭৬৩টি নতুন রেশন কার্ড ইস্যু করা হয়েছে, ২,৮০৮টি পরিবারকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ৩৭২টি নতুন সড়ক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ৬৭০টি ছোট সেতুর নির্মাণকাজ চলছে, ৪৮,৫২৬ জনকে আধার কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং ৪৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতকে ‘ইলওয়াদ পঞ্চায়েত পুরস্কার’-এর অধীনে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

শ্রী অমিত শাহ বলেছেন, ৫০০ টিরও বেশি নিরাপত্তা শিবির স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০০টিরও বেশি শিবিরকে শহীদ বীর গুণ্ডাধুর সেবা ডেরায় রূপান্তরিত করা হবে। ভারত সরকার এবং ছত্তিশগড় সরকারের কর্মকর্তারা এখন সেইসব শিবির থেকেই কাজ করবেন যেখানে একসময় নিরাপত্তা কর্মীরা জনগণকে রক্ষা করার জন্য বসতেন, যা একটি উন্নত বস্তারের ভিত্তি স্থাপন করবে। তিনি বলেন যে এই জনসেবা কেন্দ্রগুলি একটি উন্নত বস্তারের ব্যাপারে সরকারের স্বপ্ন রূপায়ণে সহায়তা করবে।

 


SC/AP/SKD


(রিলিজ আইডি: 2323915) ভিজিটরের কাউন্টার : 11
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , Marathi , Bengali-TR , Gujarati , Kannada