পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

ভারতে কম্প্রেসড বায়োগ্যাসের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ‘গোবর্ধন’ প্রকল্প চালু কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী শ্রী হরদীপ সিং পুরীর

প্রকাশিত: 01 OCT 2026 8:27PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ০১ অক্টোবর ২০২৬

 

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী শ্রী হরদীপ সিং পুরী আজ 'গোবর্ধন' প্রকল্পের সূচনা করেন; এটি কম্প্রেসড বায়োগ্যাস (সিবিজি) ক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয়  সরকারের একটি প্রকল্প।

৬ অগাস্ট ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ২৩,৭৩১ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি ভারতে সিবিজি-র উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩৫-৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত দশ বছরের একটি কাঠামো গড়ে তুলবে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল, একটি দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে সিবিজি -র উৎপাদন প্রায় ১০ গুণ (প্রায় ৫ MMSCMD) বৃদ্ধি করা, যা বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতাদের অধিকতর নিশ্চয়তা প্রদান করবে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিবিজি  পরিমণ্ডলের সাথে যুক্ত বিভিন্ন অংশীদার একত্রিত হয়েছিলেন; এর মধ্যে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, রাজ্য সরকার, সিবিজি ডেভেলপার, তেল ও গ্যাস কোম্পানি, সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সমবায় সমিতি, প্রযুক্তি প্রদানকারী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধিরা।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে 'গোবর্ধন হ্যান্ডবুক'-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এটি একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা যা সংশ্লিষ্ট অংশীজন, প্রকল্প উন্নয়নকারী, রাজ্য সরকার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে এই প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা পেতে ও এর আওতায় সিবিজি সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করবে। পাশাপাশি, 'ইউনিফায়েড গোবর্ধন পোর্টাল'-এরও সূচনা করা হয়; এটি একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা আবেদনের প্রক্রিয়া সহজতর করা, একাধিক ধাপের জটিলতা দূর করা এবং পুরো প্রক্রিয়াকরণ ও বাস্তবায়নের সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রী হরদীপ সিং পুরি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে হবে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী মূল্য এবং সুস্থায়ী ব্যবস্থার সমন্বিত লক্ষ্যের ভিত্তিতে এবং এর জন্য দেশের অভ্যন্তরেই জ্বালানি সম্পদের অধিকতর উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

তিনি বলেন যে, ভারতের জন্য সিবিজি-র বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, এটি ফসলের অবশিষ্টাংশ, গবাদি পশুর বিষ্ঠা এবং অন্যান্য জৈব সম্পদকে পরিচ্ছন্ন গৃহস্থালি জ্বালানিতে রূপান্তর করতে সক্ষম; একইসঙ্গে এটি জৈব সার উৎপাদন এবং গ্রামীণ এলাকায় নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির পথও প্রশস্ত করে। কাঁচামাল সংগ্রহ, একত্রীকরণ, পরিবহন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ – এই প্রতিটি পর্যায়ে কৃষক, সমবায় সমিতি, গোশালা এবং স্থানীয় উদ্যোগগুলি অংশগ্রহণ করতে পারে, যা কৃষি ও জ্বালানি ক্ষেত্রের মধ্যে একটি চক্রাকার সংযোগকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

তিনি শিল্পক্ষেত্র, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, রাজ্য সরকার, সমবায় সমিতি, প্রযুক্তি সরবরাহকারী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির প্রতি আহ্বান জানান,  এই কাঠামোটিকে যেন কার্যকর প্ল্যান্ট ও নিরবচ্ছিন্ন সিবিজি উৎপাদনে রূপান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও গ্রামীণ সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর ‘বর্জ্য থেকে সম্পদ’ ও ‘অন্নদাতা থেকে উর্জাদাতা’-র ভাবনা বাস্তবায়িত হবে।


‘গোবর্ধন’ কর্মসূচিতে ছয়টি মূল পদক্ষেপ বা উপাদান রয়েছে: সিবিজি বিক্রির নিশ্চয়তা, সিবিজি মূল্য নির্ধারণ কাঠামো, সিবিজি প্রকল্পের জন্য মূলধনী সহায়তা, পাইপলাইন পরিকাঠামো উন্নয়ন, ঋণ গ্যারান্টি সহায়তা এবং সিবিজি ইকোসিস্টেম চ্যালেঞ্জ ফান্ড।

বিক্রির নিশ্চয়তা বা ‘অফটেক’ কাঠামোর আওতায়, সিবিজি প্ল্যান্টগুলোকে নির্দিষ্ট ‘সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন’ এলাকা বা সিবিজি ক্লাস্টারের সাথে সংযুক্ত করা হবে, যা বাজারে গ্যাস সরবরাহের একটি নির্ভরযোগ্য পথ তৈরি করবে। ‘সিবিজি অবলিগেশন’-এর আওতায়, সিবিজি সংগ্রহের বাধ্যবাধকতাটি ‘সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন’ সংস্থাগুলির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। সিএনজি (পরিবহন) এবং পিএনজি (গার্হস্থ্য) ক্ষেত্রের জন্য সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়েছে: ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩%, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৪% এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে ৫%।

এই প্রকল্পের আওতায় সিবিজি-র জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ ২,১১০ টাকার একটি নির্ধারিত মূল্য প্রবর্তন করা হয়েছে, যা উৎপাদনকারীদের আয়ের ক্ষেত্রে অধিকতর নিশ্চয়তা প্রদান করবে। 


গ্যাস পরিবহনের সীমাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যে, সিবিজি ক্লাস্টারগুলিকে মূল পাইপলাইন নেটওয়ার্কের সাথে যুক্তকারী পাইপলাইনের ক্ষেত্রে যোগ্য মূলধনী ব্যয়ের ৮০% পর্যন্ত এবং সিজিডি নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত স্বতন্ত্র প্ল্যান্টের ক্ষেত্রে ৫০% পর্যন্ত সহায়তা প্রদান করা হবে।

যোগ্য এমএসএমই-ভিত্তিক সিবিজি প্রকল্পগুলির জন্য একটি বিশেষ ঋণ গ্যারান্টি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা ঋণ খেলাপি হওয়ার ক্ষেত্রে বকেয়া অর্থের ৮৫% পর্যন্ত সুরক্ষা প্রদান করবে (নির্ধারিত প্রকল্প-সীমা সাপেক্ষে)। সাধারণ এমএসএমই প্রকল্পের জন্য এই গ্যারান্টি-সীমা প্রতি প্রকল্পে ২০ কোটি টাকা এবং মহিলা-চালিত এমএসএমই প্রকল্পের জন্য ২৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সিবিজি ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহায়তা প্রদান করবে।

'সিবিজি ইকোসিস্টেম চ্যালেঞ্জ ফান্ড' প্রযুক্তি উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি, ফিডস্টক (কাঁচামাল) মূল্যায়ন ও সংগ্রহ, জেলা-স্তরে ইকোসিস্টেম বা পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং জৈব সারের মানোন্নয়ন বা ভ্যালু অ্যাডিশনের ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করবে। 

অগাস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ২১৭টিরও বেশি প্ল্যান্ট চালু হয়েছে, যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১,৭০০ টিপিডি-র বেশি। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো দশ বছরের বাস্তবায়নের সময়সীমা বেঁধে দেশের অভ্যন্তরীণ সিবিজি উৎপাদন প্রায় দশ গুণ বৃদ্ধি করা।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে; এর মধ্যে রয়েছে ৪০,০০০ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, জিডিপিতে ৭৫,০০০ কোটি টাকারও বেশি সংযোজন এবং ১.৫ লক্ষেরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এছাড়া, এটি ১০ মিলিয়ন টন জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে পরিচ্ছন্ন গ্যাস ব্যবহার, ৪০ মিলিয়ন টনেরও বেশি কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ  হ্রাস এবং ২৫০ মিলিয়ন টন জৈব সার উৎপাদনে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

SC/MP/NS


(রিলিজ আইডি: 2318200) ভিজিটরের কাউন্টার : 5
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , हिन्दी , Assamese , Gujarati , Tamil , Telugu