কৃষিমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

২০২৬ সালের রবি মরসুমে তথ্য-ভিত্তিক পরিকল্পনা, সময়মতো ক্রয় এবং বৈজ্ঞানিক নজরদারির কথা বললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী শিবরাজ চৌহান

প্রকাশিত: 28 SEP 2026 5:57PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান রাজ্যগুলিকে সমন্বিত পরিকল্পনা, বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রবি মরসুমের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত দু'দিনব্যাপী 'জাতীয় কৃষি সম্মেলন – রবি অভিযান ২০২৬'-এ আজ ভাষণে তিনি বলেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং জলের সীমাবদ্ধতার প্রেক্ষাপটে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষকদের আয় বাড়াতে প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তে তথ্য-ভিত্তিক পরিকল্পনা ও কেন্দ্র-রাজ্য শক্তিশালী সমন্বয় প্রয়োজন। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ বিভাগের আয়োজনে পুসার এনএএসসি (NASC) কমপ্লেক্সের ভারতরত্ন সি. সুব্রহ্মণ্যম অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শ্রী রাম নাথ ঠাকুর ও শ্রী ভাগীরথ চৌধুরী, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ বিভাগের সচিব শ্রী অতীশ চন্দ্র, আইসিএআর (ICAR)-এর মহাপরিচালক ড. এম.এল. জাট, কেন্দ্র ও রাজ্যের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, কৃষি বিভাগের প্রধান সচিব ও অধিকর্তারা, রাজ্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্য, আইসিএআর-এর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং কেভিকে (KVK), আত্মা (ATMA) ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পক্ষের প্রতিনিধিরা। উদ্বোধনী ভাষণে শ্রী চৌহান বলেন যে, 'আত্মনির্ভর ও উন্নত ভারত'-এর লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে 'রবি ২০২৬' একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। তিনি জানান, এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য হলো কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা, কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা, ধারাবাহিক কৃষিকে উৎসাহিত করা এবং কৃষকদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ও ফলাফল-কেন্দ্রিক কৌশল প্রস্তুত করা।

 

ফসল পরিকল্পনায় জলের হিসাবকে গুরুত্ব দিতে হবে

 

শ্রী চৌহান রবি মরশুমের জন্য পরিকল্পনার ক্ষেত্রে জলের হিসাব বা 'ওয়াটার বাজেট'-কে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি প্রতিটি রাজ্য ও জেলাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন ফসল সংক্রান্ত চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণের আগে সেচের জলের পরিমাণ যাচাই করে নেওয়া হয়। যেসব এলাকায় জলের জোগান সীমিত, সেখানে ডাল ও তৈলবীজের মতো যেসব ফসল ফলাতে জল কম লাগে, তাদের চাষকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত; অন্যদিকে, যেখানে সেচের সুনিশ্চিত ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানকার জন্য সেই অনুযায়ী অন্য ফসলের পরিকল্পনা করা যেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হলেও তা জাতীয় স্তরে জলের প্রাপ্যতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে, কিছু রাজ্যে জলের ঘাটতি এখনও উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে। সংকটপ্রবণ এলাকাগুলিতে জলের প্রাপ্যতা ও মাটির আর্দ্রতা যাচাই করে আগেভাগেই সেচের ব্যবস্থা করা দরকার। 

 

খরা-কবলিত এলাকা পরিদর্শনে কেন্দ্রীয় দল

 

মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকের খরা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শ্রী চৌহান জানান যে, মহারাষ্ট্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাজ্যটি খরা ঘোষণা করেছে; অন্যদিকে কর্ণাটকেও খরা-সদৃশ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তিনি জানান, ৩রা অক্টোবর একটি কেন্দ্রীয় দল কর্ণাটকে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে এবং মহারাষ্ট্রেও একটি কেন্দ্রীয় দল পাঠানো হবে। শ্রী চৌহান বলেন যে তিনি নিজে তাঁর দলের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলি পরিদর্শন করবেন। 

 

উন্নত মানের বীজের সময়মতো প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন

 

রবি মরশুমের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বীজকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করে, শ্রী চৌহান রাজ্যগুলোকে অবিলম্বে নির্দিষ্ট অঞ্চল ও কৃষি-জলবায়ু পরিস্থিতির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রজাতি চিহ্নিত করার আহ্বান জানান। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, কিছু রাজ্য সময়মতো বীজের চাহিদা জানায় না কিংবা প্রয়োজনীয় পরিমাণ বীজ সংগ্রহ করে না, যার ফলে বিতরণে বিলম্ব ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে, উন্নত জাতের বীজ কৃষকদের কাছে বীজ বপনের উপযুক্ত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে তা সাধারণ শস্যের দামে বিক্রি করতে হয়। তিনি বীজের চাহিদা, সংগ্রহ, উত্তোলন এবং বিতরণ সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানান। 

 

ডাল এবং তৈলবীজে অগ্রাধিকার, বাজারের বিষয়টি নিশ্চিত করা

 

শ্রী চৌহান রাজ্যগুলিকে ডাল এবং তৈলবীজ চাষের প্রসারে উদ্যোগী হতে বলেন। ধান চাষের পর জমিতে এই চাষ করা যেতে পারে বলে তাঁর মন্তব্য। এই ফসলগুলির জন্য অপেক্ষাকৃত কম জলের প্রয়োজন হয় এবং ডাল এবং ভোজ্য তেলে স্বনির্ভরতা অর্জনের জাতীয় লক্ষ্যের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি প্রতিটি রাজ্যকে ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তার রবি চাষ সংক্রান্ত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে বলেছেন। 

 

ক্রয় সংক্রান্ত পরিকল্পনা আগে থেকেই প্রস্তুত রাখতে হবে

 

শ্রী চৌহান বলেন, উৎপাদনের পাশাপাশি ফসল সংগ্রহের (বা ক্রয়ের) ব্যবস্থাও পরিকল্পিত হতে হবে, যাতে কৃষকদের বাজারের ওপর আস্থা থাকে। যদি রাজ্য সরকারগুলো সময়মতো ফসল সংগ্রহের কাজ শুরু করতে না পারে, তবে কেন্দ্রীয় নোডাল সংস্থা—যেমন নাফেড (NAFED) ও এনসিসিএফ (NCCF)—সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ফসল সংগ্রহ করবে। তবে, সংগ্রহের কাজে যাতে কোনো বিলম্ব না ঘটে, সেজন্য রাজ্যগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে হবে; এর মধ্যে রয়েছে ‘মান্ডি’ বা বাজার-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা ও অন্যান্য ব্যবস্থার দ্রুত সুরাহা করা। তিনি জানান, ‘প্রাইস সাপোর্ট স্কিম’ (PSS)-এর আওতায় ডাল ও তৈলবীজ সংগ্রহের জন্য কেন্দ্র বড় ধরনের পরিকল্পনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। 

 

সারের ভারসাম্যযুক্ত ব্যবহার এবং ‘খেত বাঁচাও অভিযান’

 

শ্রী চৌহান সারের ভারসাম্যযুক্ত ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন যে, কোনো ফসলের জন্য যদি এক বস্তা সারই যথেষ্ট হয়, তবে দুই বস্তা প্রয়োগের কোনো যৌক্তিকতা নেই। অতিরিক্ত সার প্রয়োগ চাষাবাদের খরচ বাড়ায় এবং মাটির স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি রাজ্যগুলোর প্রতি আহ্বান জানান যেন খরিফ মরশুমে শুরু হওয়া ‘খেত বাঁচাও অভিযান’ রবি মরশুমেও সম্প্রসারিত করা হয়। তিনি দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে উৎপাদন ব্যাহত না করেই সারের ব্যবহার কমানো সম্ভব হয়েছে। এই কাজে বৈজ্ঞানিক পন্থা অবলম্বনের কথা বলেন তিনি। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী বিতরণ ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং সার যাতে প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ফার্মার আইডি’ (কৃষক পরিচিতি)-ভিত্তিক পরীক্ষামূলক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন; এর মাধ্যমে সারের অপব্যবহার ও কালোবাজারি রোধ করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমানে সার ভর্তুকি বাবদ প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা ব্যয় করছে এবং কৃষকরা ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে সার পাচ্ছেন। 

 

প্রাকৃতিক কৃষি: ব্র্যান্ডিং, বিপণন ও সার্টিফিকেশনের ওপর গুরুত্ব

 

শ্রী চৌহান বলেন যে কৃষকরা প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতি গ্রহণে ক্রমশ আগ্রহী হয়ে উঠছেন এবং এ সংক্রান্ত নিবন্ধনের কাজও এগিয়েছে; তবে রাজ্যগুলিকে এখন প্রাকৃতিক কৃষি পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও বিপণনের ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে। 

 

কৃষক ক্রেডিট কার্ড ও কৃষক পরিচিতি (Farmer ID)-র আওতা বৃদ্ধি প্রয়োজন

 

শ্রী চৌহান জানান যে পিএম-কিষাণ (PM-KISAN) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯.৫৪ কোটি কৃষক পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের (KCC) আওতাভুক্তির হার এখনও অনেক এলাকায় অপর্যাপ্ত—বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ক্ষেত্রে। এই খামতি দূর করতে তিনি রাজ্যগুলিকে উদ্যোগী হতে বলেছেন।  

 

ফসল, রোগবালাই ও বাজারদরের সাপ্তাহিক পর্যবেক্ষণ

 

শ্রী চৌহান প্রতিটি রাজ্যে ফসলের অবস্থা, বপনের অগ্রগতি, অঙ্কুরোদগম, পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ এবং বাজারদরের ওপর সাপ্তাহিক নজরদারি চালানোর কথা বলেন। এ উপলক্ষে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ বিভাগের সচিব শ্রী অতীশ চন্দ্র জোর দিয়ে বলেন যে, আবহাওয়ার পরিবর্তনশীল ধরন, অসম বৃষ্টিপাত এবং বৃষ্টি-নির্ভর এলাকায় আর্দ্রতা-জনিত চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে কৃষি বৈচিত্র্যকরণ, পরিবেশবান্ধব কৃষি এবং গবেষণা-ভিত্তিক কৃষি পদ্ধতির প্রসার ঘটানো অত্যন্ত জরুরি।

 

 

SC/AC/NS


(রিলিজ আইডি: 2316410) ভিজিটরের কাউন্টার : 5
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: Odia , English , Urdu , Marathi , हिन्दी , Gujarati , Kannada