স্বাস্থ্যওপরিবারকল্যাণমন্ত্রক
রাষ্ট্রসংঘের উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সাড়াদানের সক্ষমতা জোরদারে ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব পুণ্য সলিল শ্রীবাস্তব
প্রকাশিত:
26 SEP 2026 9:16AM by PIB Kolkata
নয়া দিল্লি, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৫ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে ‘মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও সাড়া দেওয়া’ বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সময়, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব পুণ্য সলিল শ্রীবাস্তব আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদার করার ক্ষেত্রে ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি কোভিড-১৯ মহামারি থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এই বৈঠকে বক্তব্য রাখার সময়, শ্রীমতী শ্রীবাস্তব মহামারি প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় ভারত সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের রূপরেখা তুলে ধরেন; এই উদ্যোগের আওতায় সম্ভাব্য বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য-সংকট মোকাবিলার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। স্বাস্থ্য-সংকটের সময় কার্যকরভাবে সাড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভারত যে ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, জরুরি সমন্বয়, স্বাস্থ্যকর্মী বাহিনী গঠন, জরুরি সামগ্রীর মজুত বৃদ্ধি এবং ক্লিনিক্যাল সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তিনি সে বিষয়ে আলোকপাত করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, এই প্রচেষ্টাগুলোকে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে আন্তর্জাতিক সহায়তা জাতীয় দায়িত্ববোধের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
কোভিড-১৯ চলাকালীন ভারতের অভিজ্ঞতার আলোকে, শ্রীমতী শ্রীবাস্তব ‘ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ বা ডিজিটাল গণ-পরিকাঠামোকে ‘আন্তর্জাতিক গণ-সম্পদ’(গ্লোবাল পাব্লিক গুড) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, মহামারির সময় নজরদারি, টিকাদান, ঝুঁকি বিষয়ক যোগাযোগ, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ডিজিটাল সমাধানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
তিনি পারস্পরিক সংহতি এবং অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্য-সামগ্রীতে সবার ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভারত প্রায় ১০০টি দেশ ও রাষ্ট্রসংঘের দুটি সংস্থাকে ৩০ কোটি (৩০০ মিলিয়ন) টিকার ডোজ সরবরাহ করেছিল এবং ১৫০টিরও বেশি দেশকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছিল। তিনি বলেন, এটি ‘এক পৃথিবী, এক স্বাস্থ্য’ (ওয়ান আর্থ, ওয়ান হেলথ) নীতি এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর প্রতি ভারতের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
২০২৫ সালের মে মাসে গৃহীত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার(হু) মহামারি চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, এই চুক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করবে ‘প্যাথোজেন অ্যাক্সেস অ্যান্ড বেনিফিট শেয়ারিং’(পিএবিএস) বা প্যাথোজেন বা রোগজীবাণু সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্তের প্রবেশাধিকার ও সুফল বণ্টনের একটি ন্যায্য ব্যবস্থার ওপর। তিনি উল্লেখ করেন যে, যেসব দেশ রোগজীবাণু ও জৈব সম্পদ সরবরাহ করে, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তাদের অবশ্যই টিকা, রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি, চিকিৎসা-সামগ্রী, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সুবিধাসমূহ সময়মতো পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
শ্রীমতি শ্রীবাস্তব আরও বলেন যে, রাজনৈতিক ঘোষণার মাধ্যমে প্যাথোজেন অ্যাক্সেস অ্যান্ড বেনিফিট-শেয়ারিং(পিএবিএস) সংক্রান্ত চলমান আলোচনার ফলাফল আগেভাগে নির্ধারণ করা উচিত নয় এবং এটি জাতীয় পরিস্থিতি ও সক্ষমতা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। ‘ওয়ান হেলথ’ বা ‘এক স্বাস্থ্য’ পদ্ধতির বিষয়ে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ আইন, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যথাযথভাবে এর বাস্তবায়ন করা উচিত।
তিনি মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও মোকাবিলার বিভিন্ন কৌশল, মূল্যায়ন এবং তথ্য পর্যালোচনা ও সুসংহত করার ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এগুলোর নীতিগত প্রভাব থাকায় সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করেই এই প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করা উচিত।
বক্তব্যের শেষে শ্রীমতি শ্রীবাস্তব বলেন যে, প্রস্তুতি গ্রহণ একটি যৌথ দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ মহামারি ও প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার প্রচেষ্টায় সমতা বা ন্যায্যতার বিষয়টি অবশ্যই কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে। তিনি বলেন, “কাজের মাধ্যমে বৈশ্বিক সংহতির প্রমাণ দিতে হবে।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) মহাপরিচালক ড. টেডরস আধানম গেব্রেইয়েসুস কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন; যার মধ্যে রয়েছে হু-এর মহামারি চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালার (ইন্টারন্যাশনাল হেলথ রেগুলেশনস) সংশোধনীসমূহ। তিনি পিএবিএস ব্যবস্থা সংক্রান্ত আলোচনা দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, এতে বিলম্ব হলে ভবিষ্যৎ মহামারিতে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রাষ্ট্রসংঘের উপ-মহাসচিব আমিনা মোহাম্মদ কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে আত্মতুষ্টির বিষয়ে সতর্ক করেন এবং এ বিষয়ে রাজনৈতিক মনোযোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি রোগ শনাক্তকরণ, নজরদারি এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে কমিউনিটি-ভিত্তিক বা স্থানীয় জনগোষ্ঠী-কেন্দ্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন, যাতে নতুন কোনো প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে তা প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
এই উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকটি সদস্য দেশ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জন্য অগ্রগতির পর্যালোচনা, চ্যালেঞ্জ চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতির জন্য একটি শক্তিশালী, সমতাভিত্তিক ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে নতুন করে বেগবান করার সুযোগ করে দিয়েছে।
*****
SC/SB/DM
(রিলিজ আইডি: 2315258)
ভিজিটরের কাউন্টার : 3