স্বাস্থ্যওপরিবারকল্যাণমন্ত্রক
রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা, হেপাটাইটিস নির্মূল এবং সিকল সেল রোগের চিকিৎসায় ভারতের অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে
প্রকাশিত:
24 SEP 2026 12:36PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত ৮১তম রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন আয়োজিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠানে ভারত সকলের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্য পরিষেবা সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করার বিষয়ে তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একইসঙ্গে, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলায় নিজেদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব শ্রীমতি পুণ্য সলিলা শ্রীবাস্তব 'গ্রুপ অফ ফ্রেন্ডস অফ ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ অ্যান্ড গ্লোবাল হেলথ'-এর সপ্তম বার্ষিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তিনি ব্যাপক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু টারশিয়ারি স্তর পর্যন্ত চিকিৎসা পুরো স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানুষকে আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে ভারতের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।
তিনি ভারতের ১.৮ লক্ষেরও বেশি 'আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির'-এর নেটওয়ার্কের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করে। এটি বিভিন্ন স্বাস্থ্যপরিসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রজনন ও শিশু স্বাস্থ্য, অসংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং ও ব্যবস্থাপনা, মানসিক স্বাস্থ্য, প্রবীণ ও উপশমকারী (প্যালিয়েটিভ) সেবা এবং রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাময়মূলক সেবা। এছাড়া, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে গুণগত মানের ওপর যে ধারাবাহিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
শ্রীমতি শ্রীবাস্তব সমাজের দুর্বল ও সুবিধাবঞ্চিত অংশের জন্য আর্থিক সুরক্ষা জোরদার করার ক্ষেত্রে সরকারি অর্থ সাহায্যে পরিচালিত স্বাস্থ্য নিশ্চয়তা প্রকল্প 'আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা' - এর ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন। এছাড়াও তিনি রোগীদের ওপর আর্থিক বোঝা কমানো এবং অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যপরিসেবা পাওয়ার বিষয়টি সহজতর করার ক্ষেত্রে 'বিনামূল্যে ওষুধ ও রোগ নির্ণয় পরিষেবা উদ্যোগ' এবং 'প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ডায়ালিসিস কর্মসূচি'-র গুরুত্ব তুলে ধরেন।
পরিষেবা প্রদানের একটি সমন্বিত ও নিরবচ্ছিন্ন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন যে, ভারতের এই কর্মপদ্ধতি 'আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির'-এর মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরিসেবাকে রেফারেল সংযোগের সহায়তায় মাধ্যমিক ও উচ্চতর (সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি) স্তরের স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করে। এই পদ্ধতির লক্ষ্য হলো রোগ প্রতিরোধমূলক, স্বাস্থ্য উন্নয়নমূলক এবং নিরাময়মূলক পরিষেবাগুলিকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা এবং প্রয়োজনে বিশেষায়িত চিকিৎসা পরিষেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।
ভারতের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব জানান যে, ৯০ কোটিরও বেশি নাগরিকের নিজস্ব 'ইউনিক হেলথ আইডেন্টিটি' (স্বতন্ত্র স্বাস্থ্য পরিচিতি) রয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের আন্তঃ-পরিচালনযোগ্য ডিজিটাল রেজিস্ট্রি এবং ABHA-ভিত্তিক স্বাস্থ্য নথিপত্র সেবা প্রদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি সহজতর করতে সহায়তা করছে।
তিনি স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে ভৌগোলিক দূরত্বজনিত বাধা দূর করতে প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের ওপরও আলোকপাত করেন। 'ই-সঞ্জীবনী'র মাধ্যমে ৪৯ কোটি ৭০ লক্ষেরও বেশি টেলি-কনসালটেশন বা দূর-পরামর্শ পরিষেবা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি টেলি-রেডিওলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত এক্স-রে এবং মোবাইল মেডিকেল ইউনিটের মতো পরিষেবা ও উদ্ভাবনমূলক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলি দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সহায়তা করছে।
"হেপাটাইটিস নির্মূলে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপকে এগিয়ে নেওয়া" বিষয়ক UNGA81-এর একটি অনুষ্ঠানে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার সময় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ঝুঁকি হিসেবে হেপাটাইটিস বি এবং সি নির্মূলের জন্য ২০৩০ সালের লক্ষ্যের প্রতি দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এই লক্ষ্যের পথে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে তিনি রোগ নির্ণয়, সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ ও পরিষেবার ক্ষেত্রে সমন্বিত পদ্ধতির গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
'জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন' - এর কাঠামোর আওতায়, 'স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্র' থেকে শুরু করে উচ্চতর স্তরের (টারশিয়ারি) চিকিৎসা কেন্দ্র - সর্বমোট প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে ভাইরাল হেপাটাইটিস স্ক্রিনিং বা রোগ শনাক্তকরণ পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে। এই কর্মসূচিটি ১,০৩৯টি চিকিৎসা কেন্দ্র পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। ২০১৮ সালে 'জাতীয় ভাইরাল হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি' শুরুর পর থেকে প্রায় ২২ কোটি ৫০ লক্ষ সুবিধাভোগীর স্ক্রিনিং সম্পন্ন হয়েছে।
শ্রীমতী শ্রীবাস্তব ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধের কর্মসূচিগুলিকে বিভিন্ন জাতীয় স্বাস্থ্য কর্মসূচির সঙ্গে একীভূত করার মাধ্যমে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার প্রচেষ্টার ওপর আলোকপাত করেন। এর মধ্যে প্রজনন, মা, নবজাতক, শিশু ও কিশোর স্বাস্থ্য কাঠামোর আওতায় মা থেকে সন্তানের মধ্যে সংক্রমণ প্রতিরোধের পদক্ষেপগুলিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
হেপাটাইটিস নির্মূলের পথে ধারাবাহিক অগ্রগতি অর্জনের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করায় জোর দেন তিনি। বর্তমান জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির সঙ্গে প্রতিরোধমূলক কর্মসূচিগুলিকে একীভূত করার পাশাপাশি পরিষেবা প্রাপ্তির সুযোগ সম্প্রসারণ, দ্রুত রোগ নির্ণয় ও সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
রাষ্ট্রসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলাকালীন বিশ্ব স্বাস্থ্য বিষয়ক আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে ভারত ‘OneSCD: A Global Partnership to Advance Equity and Transform Sickle Cell Care’ (সিকল সেল সেবায় সমতা ও রূপান্তর সাধনে একটি আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব)-এর সূচনা অনুষ্ঠানে সহ-আয়োজকের ভূমিকা পালন করে। এই উদ্যোগটি সিকল সেল ডিজিজ বা সিকল সেল রোগের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপকে জোরদার করার লক্ষ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারকে একত্রিত করেছে।
সিকল সেল সেবার ক্ষেত্রে অধিকতর সমতাভিত্তিক ও সহজলভ্য পদ্ধতি গড়ে তোলার অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে এই উদ্যোগে নাইজেরিয়া সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, আফ্রিকা সিডিসি, ওয়ার্ল্ড কোয়ালিশন অন সিকল সেল ডিজিজ এবং সেন্ট জুড চিলড্রেনস রিসার্চ হসপিটাল-এর মতো অংশীদাররা একত্রিত হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণে মিসেস পুণ্য সলিলা শ্রীবাস্তব সিকল সেল ডিজিজ মোকাবিলায় ভারতের সামগ্রিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ২০২৩ সালে ‘জাতীয় সিকল সেল অ্যানিমিয়া নির্মূল মিশন’ চালু করা হয়। ২০৪৭ সালের মধ্যে জনস্বাস্থ্যের সমস্যা হিসেবে সিকল সেল অ্যানিমিয়াকে নির্মূল করাই এর লক্ষ্য।
তিনি ভারতের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জনসংখ্যা-ভিত্তিক স্ক্রিনিং, দ্রুত রোগ নির্ণয়, পরামর্শদান, চিকিৎসা, ফলো-আপ এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার কৌশলটি তুলে ধরেন। এই মিশনের লক্ষ্য হলো রোগের উপস্থিতি ও বাহক হওয়ার বিষয়টি দ্রুত শনাক্ত করা, উপযুক্ত পরামর্শদানের ব্যবস্থা করা এবং সিকল সেল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার আওতার মধ্যে রাখা।
এই মিশনের আওতায় ৭.২৯ কোটিরও বেশি মানুষের স্ক্রিনিং করা হয়েছে, ২০ লক্ষেরও বেশি বাহক শনাক্ত করা হয়েছে এবং ২.৫ লক্ষ মানুষের রোগ নির্ণয় করা হয়েছ। পাশাপাশি ৪.৯৩ কোটিরও বেশি 'সিকল সেল কার্ড' বিতরণ করা হয়েছে। এই প্রচেষ্টাগুলি চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সম্প্রদায়ের মধ্যে এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব সাশ্রয়ী 'পয়েন্ট-অফ-কেয়ার' ডায়াগনস্টিকস (রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা) ও হাইড্রক্সিউরিয়া থেরাপির সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিতে জিন-এডিটিং থেরাপি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে চলমান গবেষণার বিষয়গুলিও তুলে ধরেন। তিনি সিকল সেল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সময়মতো রোগ নির্ণয়, উপযুক্ত চিকিৎসা এবং নিয়মিত ফলো-আপের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
দুটি আয়োজনে ভারতের অংশগ্রহণ এমন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশটির অব্যাহত প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করে। এটি ভৌগোলিক ও আর্থ-সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছে সহজলভ্য। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ক আলোচনায় একটি সামগ্রিক, সাশ্রয়ী ও ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 'ওয়ান-এসসিডি' উদ্যোগে সিকল সেল রোগ মোকাবিলায় দীর্ঘস্থায়ী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
ন্যায্য, সাশ্রয়ী ও জন-কেন্দ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার এবং বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও উন্নত স্বাস্থ্য ফলাফল অর্জনে সহায়ক অভিজ্ঞতা ও কৌশল বিনিময়ের বিষয়ে ভারত তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
SC/PM/SB
(রিলিজ আইডি: 2314327)
ভিজিটরের কাউন্টার : 8