শিল্পওবাণিজ্যমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ২০ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে

প্রকাশিত: 21 SEP 2026 7:01PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 

 

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের জন্য একটি নির্ণায়ক পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, ২০ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলেছে৷ ২৭ এপ্রিল ২০২৬-এ নতুন দিল্লির ভারত মণ্ডপমে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েল এবং নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগ মন্ত্রী টড ম্যাকক্লে-র মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল৷ 


আজ কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েল এবং নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রী মাননীয় টড ম্যাকক্লে ভার্চুয়াল সম্মেলনের মাধ্যমে বক্তৃতা করেন এবং উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে চুক্তি কার্যকর করার তারিখ ঘোষণা করেন। 


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে, ভারত এবং নিউজিল্যান্ড তাদের একাত্মতা আরও গভীর ও প্রসারিত করে চলেছে। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নিউজিল্যান্ড সফর ছিল চার দশকের মধ্যে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম নিউজিল্যান্ড সফর।


 ভারত ও নিউজিল্যান্ড একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব ঘোষণা করে এবং এই সফর সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশকেও চিহ্নিত করেছে: আগামী চার বছরে সহযোগিতার পথ দেখানোর ক্ষেত্রে একটি পারস্পরিক কাঠামো হিসেবে রোডম্যাপ ২০৩০-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার একটি উচ্চাকাঙ্খী লক্ষ্য সহ 
২০৩০ সালের মধ্যে 
৭  বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলারের (৩৫,০০০ কোটি টাকা) দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য।  


এই মাইলফলকের তাৎপর্য তুলে ধরে মাননীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, "ভারত-নিউজিল্যান্ড এফটিএ দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বকে নতুন গতি দেবে, দুই অর্থনীতির মধ্যে আরও বেশি সমন্বয় তৈরি করবে, অর্থনীতিকে সক্ষম করবে এবং সামগ্রিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা নেবে।"  তিনি বলেন, "আমরা ভারত-নিউজিল্যান্ড এফটিএ-তে প্রবেশের জন্য শুভ দিন দশেরা – বিজয় দশমীকে বেছে নিয়েছি। আমি নিশ্চিত যে, আমাদের বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ সম্পর্কের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা সমস্ত বাধা অতিক্রম করবে এবং উভয় পক্ষের মানুষের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।"


নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রী মাননীয় টড ম্যাকক্লে বলেন যে, বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান শুল্কের সময়ে, ভারত- নিউজিল্যান্ড এফটিএ আস্থা বাড়াচ্ছে। কঠোর পরিশ্রমের সঙ্গে আমরা নয় মাসের মধ্যে শেষ হওয়া সর্বোচ্চ স্তরের চুক্তিগুলির মধ্যে একটি সম্পন্ন করেছি, যা উভয় পক্ষের ব্যবসা এবং সংশ্লিষ্টদের সুবিধা প্রদান করবে। তিনি বলেন যে, চুক্তিটি উভয় সরকারের জন্য বৃহত্তর ক্ষেত্রে সহযোগিতার একটি দুর্দান্ত ভিত্তি, তা মানুষের মধ্যে সহযোগিতা  সংস্কৃতি, খেলাধুলা, ব্যবসা বা বিনিয়োগ, যাই হোক না কেন, আমরা উভয় পক্ষের বৃহত্তর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে একসাথে কাজ করব।


চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিউজিল্যান্ডে ভারতের রপ্তানি পণ্যের সম্পূর্ণ পরিসর (১০০%) শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, যা ভারতীয় শিল্পকে নিউজিল্যান্ডের অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদারদের সমপর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ করে দেবে। দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবিকার উৎস – যেমন বস্ত্র ও পোশাক, চামড়া ও জুতা, রত্ন ও গয়না, প্রকৌশল পণ্য এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, এই চুক্তির ফলে তাৎক্ষণিক উপকৃত হবে; কারণ নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ ১০% পর্যন্ত শুল্ক হার এক্ষেত্রে তুলে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কাঠ, কোকিং কোল এবং ধাতব বর্জ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল শুল্কমুক্তভাবে আমদানির সুযোগ ভারতীয় উৎপাদকদের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।

একই সঙ্গে, সরকার দুগ্ধজাত পণ্য, পশুর মাংস (ভেড়া ছাড়া), প্রধান কৃষিপণ্য, চিনি এবং ভোজ্য তেলের মতো সংবেদনশীল পণ্যগুলিকে শুল্ক ছাড়ের আওতার বাইরে রেখে ভারতীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করেছে। নিউজিল্যান্ডের আপেল, কিউই ফল এবং মানুকা মধুর ক্ষেত্রে শুল্ক-হার কোটা, 'সর্বনিম্ন আমদানি মূল্য' এবং 'মরশুমি আমদানি সময়সীমা'র মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত বাজার প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে দেশীয় কৃষকদের সুরক্ষাও নিশ্চিত থাকে। এই চুক্তির আওতায় কৃষি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি 'কৃষি উৎপাদনশীলতা অংশীদারিত্ব' গঠন করা হয়েছে; এর অধীনে কিউই ফল, আপেল ও মধুর জন্য বিশেষ কর্ম পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য হল, ভারতে এগুলির উৎপাদনশীলতা ও গুণমান বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আয় বাড়ানো। এছাড়া বাগান ব্যবস্থাপনা, ফসল-পরবর্তী কার্যক্রম, সরবরাহ ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং টেকসই মৌমাছি পালনের জন্য 'সেন্টার অফ এক্সিলেন্স' বা উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যা জ্ঞান, প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বিনিময়ে সহায়তা করবে। একটি 'যৌথ কৃষি উৎপাদনশীলতা কাউন্সিল' বিষয়টি তদারকি করবে।


এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ভারতের জন্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বড় সুযোগ তৈরি করেছে, কারণ, নিউজিল্যান্ড ভারতে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পথ সুগম করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

 নিউজিল্যান্ডের এই বিনিয়োগ ভারতের কৃষি, উৎপাদন শিল্প, পরিকাঠামো এবং স্টার্ট-আপ ক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনবে। ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল পরিষেবা ক্ষেত্রের জন্য এই চুক্তিটি একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে ভারতীয় কোম্পানি ও পেশাজীবীরা নিউজিল্যান্ডের বাজারে প্রবেশ এবং নিজেদের আন্তর্জাতিক উপস্থিতি সম্প্রসারণের সুযোগ পাবেন। আইটি, পেশাগত পরিষেবা, অডিও-ভিস্যুয়াল, নির্মাণ ও পর্যটন সহ প্রায় ১১৮টি ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। এছাড়া, প্রায় ১৩৯টি উপ-ক্ষেত্রে 'মোস্ট-ফেভারড নেশন' বা 'সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ'-এর মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে।

 পাশাপাশি, দক্ষ ভারতীয়দের জন্য ৫,০০০ 'অস্থায়ী কর্মসংস্থান প্রবেশ ভিসা' এবং তরুণ ভারতীয়দের জন্য প্রতি বছর ১,০০০ 'ওয়ার্কিং হলি-ডে ভিসা'-র বিশেষ কোটার মাধ্যমে চলাচলের সুযোগ রাখা হয়েছে। চুক্তিটিতে শিক্ষার্থীদের অবাধ চলাচলের সুযোগ এবং পড়াশোনা শেষে কাজের অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে, যার আওতায় এসটিইএম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) বিভাগের স্নাতকরা তিন বছর এবং ডক্টরেট ডিগ্রিধারীরা চার বছর পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পাবেন।


ভারতের ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম রপ্তানিকারকরা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি সুবিধা পেতে চলেছেন। নিউজিল্যান্ড এখন ইউএস এফডিএ, ইএমএ, ইউকে এমএইচআরএ এবং হেলথ কানাডার মতো বিশ্বস্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিদর্শন ও অনুমোদন গ্রহণ করতে শুরু করেছে। এর ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার সময় কমে আসবে এবং বাজারে প্রবেশের প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে।
২০২৫-২৬ বর্ষে দ্বিপাক্ষিক পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ যখন প্রায় ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, তখন ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হওয়া আগামী বছরগুলিতে দ্বিমুখী বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এক বড় গতি সঞ্চার করবে। 'বিকশিত ভারত @২০৪৭'-এর লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই চুক্তিটি উন্নত অর্থনীতির দেশগুলির সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বের নেটওয়ার্কের আরেকটি নিদর্শন। এই চুক্তির সুফলগুলির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কৃষক, নারী, তরুণ সমাজ, কারুশিল্পী এবং এমএসএমই বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্রের উদ্যোক্তারা।


ভারত-নিউজিল্যান্ড ফ্যাক্টশিটের লিঙ্ক:
http:// https://www.commerce.gov.in/files/2026-04/final_0.pdf
সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলীর লিঙ্ক:


https://www.commerce.gov.in/files/2026-04/FAQs%20-%20India-New%20Zealand%20FTA.pdf
ভারত-নিউজিল্যান্ড এফটিএ স্বাক্ষর সংক্রান্ত লিঙ্ক: 

http:// https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2255914&reg=3&lang=1

 

 

 

SC/MP/SB


(রিলিজ আইডি: 2313540) ভিজিটরের কাউন্টার : 6
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: Telugu , English , Urdu , हिन्दी , Marathi , Punjabi , Malayalam