স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর মুম্বাইতে ‘হিন্দি দিবস ২০২৬’ এবং ষষ্ঠ ‘সর্বভারতীয় সরকারি ভাষা সম্মেলন’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণ দেবেন

প্রকাশিত: 13 SEP 2026 2:48PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর মুম্বাইতে ‘হিন্দি দিবস ২০২৬’ এবং ষষ্ঠ ‘সর্বভারতীয় সরকারি ভাষা সম্মেলন’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এই অনুষ্ঠানে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী, উভয় উপ-মুখ্যমন্ত্রী, বেশ কয়েকজন সাংসদ, বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট অতিথি, পণ্ডিত, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এই অনুষ্ঠানটি মহারাষ্ট্রের সমৃদ্ধ ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে হিন্দির প্রাণবন্ত সম্পর্ককেও তুলে ধরবে।

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুপ্রেরণায় এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহের দক্ষ নির্দেশনায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ‘সরকারি ভাষা বিভাগ’ ২০২১ সাল থেকে প্রতি বছর ‘সর্বভারতীয় সরকারি ভাষা সম্মেলন’-এর আয়োজন করে আসছে। বারাণসী থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা সুরাট, পুনে, নতুন দিল্লি এবং গান্ধীনগর হয়ে এ বছর মহারাষ্ট্রের নভি মুম্বাইতে এসে পৌঁছেছে।

দু’দিনব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধনী অধিবেশনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ ২০২৫-২৬ সালের জন্য ‘রাজভাষা গৌরব’ এবং ‘রাজভাষা কীর্তি’ পুরস্কার প্রদান করবেন। সরকারি ভাষার ক্ষেত্রে অসামান্য কাজ এবং উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের এই পুরস্কারের মাধ্যমে সম্মানিত করা হবে।

উদ্বোধনী অধিবেশন এবং অন্যান্য অধিবেশনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই ও প্রকাশনাও উন্মোচন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-কে কেন্দ্র করে সরকারি ভাষা বিভাগের পত্রিকা ‘রাজভাষা ভারতী’-র একটি বিশেষ স্মারক সংখ্যা; ‘ভারতীয় জ্ঞান তন্ত্র: স্রোত ঔর স্বরূপ’; ‘শিব অনাদি হ্যায়, অনন্ত হ্যায়’; এবং কারাবন্দিদের লেখার সংকলন ‘অন্ধেরোঁ সে উজালোঁ তক’। এই প্রকাশনাগুলো ভারতীয় সংস্কৃতি, জ্ঞান-ঐতিহ্য, সাহিত্য এবং সৃজনশীল অভিব্যক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। অন্যান্য বেশ কিছু সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের বই ও পত্রিকাও এই অনুষ্ঠানে উন্মোচন করা হবে।

এবারের সম্মেলনের একটি বিশেষ আকর্ষণ হবে জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-কে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি বিশেষ আলোচনা পর্ব। ‘বন্দে মাতরম্’ কেবল একটি গানই নয়, বরং এটি ভারতের স্বাধীনতা-চেতনা, জাতীয় আত্মসম্মানবোধ এবং মাতৃভূমির প্রতি গভীর নিষ্ঠার এক শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ। এই বিশেষ অধিবেশনে আলোচনায় অংশ নেবেন প্রখ্যাত নেপথ্য গায়ক শ্রী হরিহরণ, প্রবীণ সাংবাদিক ও লেখক শ্রী নীলেশ মিশ্র এবং ‘বন্দে মাতরম্’ নিয়ে গবেষণারত শ্রী অখিলেশ মিশ্র। এছাড়া, ‘বন্দে মাতরম্’-এর গবেষক শ্রী মিলিন্দ প্রভাকর সাবনিস অপর একটি অধিবেশনে এই জাতীয় সঙ্গীতের ঐতিহাসিক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক দিকগুলোর ওপর আলোকপাত করবেন। এই অনুষ্ঠানে শ্রী জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়ের বিশেষ উপস্থিতি থাকবে। তিনি ‘বন্দে মাতরম্’-এর রচয়িতা শ্রী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পঞ্চম প্রজন্মের উত্তরসূরি। তাঁর উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানকে বিশেষ ঐতিহাসিক ও আবেগঘন তাৎপর্যমণ্ডিত করে তুলবে। এই অধিবেশনগুলোর মাধ্যমে আলোচনা করা হবে কীভাবে ‘বন্দে মাতরম্’ ভারতীয় জনমানসে জাতীয় চেতনাকে ভাষা দিয়েছিল এবং স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত এর প্রাসঙ্গিকতা কীভাবে অটুট রয়েছে।

সম্মেলনে 'টাউন অফিশিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি'-র ভূমিকার ওপর একটি বিশেষ অধিবেশনও আয়োজন করা হবে। 'নারাকাস' হলো একটি শক্তিশালী ও ক্ষমতায়িত সংস্থা যা তৃণমূল স্তরে সরকারি ভাষা হিসেবে হিন্দির প্রচলন ও বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যায়। এই অধিবেশনে নারাকাস-এর কাজকর্ম, সাফল্য এবং সরকারি ভাষা বাস্তবায়নে তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হবে; পাশাপাশি, যে সব নারাকাস ইউনিট অসাধারণ কাজ করেছে, তাদের সম্মানিতও করা হবে।

১৫ সেপ্টেম্বর মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর আয়োজিত একটি বিশেষ অধিবেশনে বিশিষ্ট গীতিকার ও লেখক শ্রী মনোজ মুনতাশির উপস্থিত থাকবেন। দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধক গানের জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয় শ্রী মুনতাশির এই অনুষ্ঠানে তাঁর চিন্তাভাবনা তুলে ধরবেন। এই অধিবেশন সম্মেলনের সাংস্কৃতিক ও আবেগঘন মর্যাদাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এরপর মহারাষ্ট্র সরকারের উদ্যোগে একটি জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, যেখানে মহারাষ্ট্রের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক ঐতিহ্যের নানা রূপ ফুটে উঠবে।

সম্মেলনস্থলে একটি বিশেষ প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, ব্যাংক এবং মন্ত্রকের পক্ষ থেকে স্টল দেওয়া হবে। প্রদর্শনীস্থলে মোট ৩২টি স্টল স্থাপন করা হবে, যার মধ্যে মহারাষ্ট্র সরকারের দুটি বিশেষ স্টল এবং 'সরকারি ভাষা বিভাগ' ও 'প্রকাশনা বিভাগ'-এর স্টলও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই স্টলগুলোর মাধ্যমে হিন্দি ও অন্যান্য ভারতীয় ভাষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম, প্রকাশনা, গৃহীত উদ্যোগ এবং অর্জিত সাফল্য তুলে ধরা হবে।

দু-দিনব্যাপী এই সম্মেলনে সরকারি ভাষা, গণভাষা ও সংযোগকারী ভাষা হিসেবে হিন্দির বিকাশ; ভারতীয় ভাষাগুলোর সঙ্গে এর সমন্বয়; প্রযুক্তি ও ভাষা; অনুবাদ; সাহিত্য; এবং হিন্দির ব্যাপক প্রসার - এই বিষয়গুলোর ওপর আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হবে।

সংবিধানের ৩৪৩ নম্বর ধারায় দেবনাগরী লিপিতে লিখিত হিন্দিকে ভারতের (কেন্দ্রের) সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং ৩৫১ নম্বর ধারায় হিন্দির প্রচার, বিকাশ ও সমৃদ্ধির দায়িত্ব কেন্দ্রের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। 'সরকারি ভাষা বিভাগ' এই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আয়োজিত ষষ্ঠ 'সর্বভারতীয় সরকারি ভাষা সম্মেলন' হিন্দি সহ ভারতের সমস্ত ভাষার মধ্যে সমন্বয়, পারস্পরিক আলোচনা ও অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার সুযোগ করে দেবে।

 

 

SC/SB/AS


(রিলিজ আইডি: 2309820) ভিজিটরের কাউন্টার : 6
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , Marathi , हिन्दी , Assamese , Punjabi , Gujarati , Tamil , Malayalam