নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রক
বারাণসীতে ৯ সেপ্টেম্বর নবম রাষ্ট্রীয় পোষণ মাসের সূচনা করবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী
পোস্ট করার দিনক্ষণ:
07 SEP 2026 10:46AM by PIB Agartala
নয়াদিল্লি, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর রুদ্রাক্ষ ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে নবম রাষ্ট্রীয় পোষণ মাস ২০২৬ চালু করা হচ্ছে। ৯ সেপ্টেম্বর এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শ্রীমতী অন্নপূর্ণা দেবী। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, নারী ও শিশু কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতী সাবিত্রী ঠাকুর, উত্তরপ্রদেশের নারী কল্যাণ, শিশু বিকাশ এবং পুষ্টি বিষয়ক মন্ত্রী শ্রীমতী বেবি রানী মৌর্য প্রমুখ উপস্থিত থাকবেন। বিভিন্ন রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে বরিষ্ঠ আধিকারিক, এই প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপক, বিভিন্ন অংশীদার এবং প্রথম সারির কর্মীরা এই সূচনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিশা দর্শে সুপোষিত ভারত চালু করা হয় ২০১৮ সালে। এর পর থেকে নারী, শিশু এবং কিশোর বয়সীদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে এই উদ্যোগকে এক জন-আন্দোলনের রূপ দেওয়া হয়। নবম পর্বের এই যাত্রার নামকরণ করা হয়েছে ‘হামারি অঙ্গনওয়াড়ি, হামারি জিম্মেদারি’। স্বাস্থ্য, পরিষেবা, প্রাথমিক শিক্ষা এবং শিশুদের পরিচর্যায় অঙ্গনওয়াড়িগুলিকে প্রথম সারির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রত্যেক নাগরিককে অংশীদারিত্বের আহ্বান জানানো হয়।
এবারের এই উদ্যোগে গতি সঞ্চার করেছে মিশন সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি এবং পোষণ ২.০-এর আওতায় সংশোধিত পরিপূরক পুষ্টি কর্মসূচি নির্দেশিকা। এই নির্দেশিকাগুলিতে প্রথমবারের মতো গরম রান্না করা খাবারের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এসএনপি মেনু বোর্ড ও অঙ্গনওয়াড়ি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলোর ওপর ভিত্তি করে পোষণ মাস ২০২৬ পাঁচটি পারস্পরিক পরিপূরক বিষয়ের ওপর কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে।
প্রথম বিষয়—খাদ্যের বৈচিত্র্য ও পর্যাপ্ত প্রোটিন-এর আওতায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে বিভিন্ন খাদ্যগোষ্ঠী থেকে প্রাপ্ত সাশ্রয়ী ও স্থানীয় উপাদান ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরির সরাসরি প্রদর্শনী করা হবে। পাশাপাশি, পোষণ মেলা এবং প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং দৈনন্দিন আহারে উদ্ভিদ ও প্রাণীজ উৎস থেকে প্রোটিন যুক্ত করার ব্যবহারিক উপায়গুলো তুলে ধরা হবে।
এর সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত দ্বিতীয় বিষয়টি হলো অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে সদ্য প্রস্তুত গরম খাবার। এটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে মিলেট, ডাল ও মরসুমি শাকসবজি ব্যবহার করে সাপ্তাহিক মেনু বা খাদ্যতালিকা পর্যায়ক্রমে পরিবর্তনের ব্যবস্থা চালু করতে উৎসাহিত করবে। এর পাশাপাশি সরাসরি রান্নার প্রদর্শনী এবং অভিভাবক, পঞ্চায়েত, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও অঙ্গনওয়াড়ি ব্যবস্থাপনা কমিটি-র অংশগ্রহণে খাবার চেখে দেখার আয়োজন করা হবে।
পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অধিক স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পোষণ মাস-এর তৃতীয় মূল বিষয় হিসেবে সম্প্রদায়গত মালিকানা ও দায়বদ্ধতা-কে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২৫ জুন মন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে দ্রুত অঙ্গনওয়াড়ি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন ও তাদের কার্যক্রম চালুর বিষয়টিকে ত্বরান্বিত করবে। পোষণ মাস-এর অংশ হিসেবে, পরিষেবা প্রদানের বিষয়ে পর্যালোচনা ও সম্প্রদায়ভিত্তিক অংশগ্রহণ জোরদার করার লক্ষ্যে প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে অন্তত একটি এএমসি সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে পরিপূরক পুষ্টি কর্মসূচি-র মেনু বোর্ড প্রদর্শন করা হবে যাতে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা ও প্রাপ্য সুবিধার বিষয় সবাই দেখতে পান। এছাড়া এএমসি এবং মায়েদের কমিটি খাবারের গুণমান ও নির্ধারিত মেনু মেনে চলার বিষয়টি তদারকি করবে।
পোষণ মাস-এর চতুর্থ বিষয়—শিশুর বিকাশের জন্য পুষ্টি, প্রারম্ভিক উদ্দীপনা ও শিক্ষা।জীবনের প্রারম্ভিক বছরগুলিতে শিশুদের স্বাস্থ্য, বিকাশ ও শিক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে লালন করার ওপর আলোকপাত করে। ০ থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা নবচেতনা-র নির্দেশিকা ও সংশোধিত হোম ভিজিট শিডিউলার-এর সহায়তায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন। এর মাধ্যমে তাঁরা সংবেদনশীল পরিচর্যা ও বয়স-উপযুক্ত কার্যকলাপের মাধ্যমে শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশে উদ্দীপনা জোগানোর বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন এবং শিশুদের বিকাশের ৩৪টি পর্যায় বা ডেভেলপমেন্টাল মাইলস্টোন পর্যবেক্ষণ করেন। পোষণ মাস চলাকালীন, সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র তালিকাভুক্ত ০-৩ বছর বয়সী শিশুদের বিকাশের পর্যায়গুলো নথিভুক্ত করার জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনা করবে। স্বাস্থ্য বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রমের সহযোগিতায় ভিলেজ হেলথ স্যানিটেশন অ্যান্ড নিউট্রিশন ডে-র সময় যেসব শিশুর বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন হবে, তাদের দ্রুত রেফার করার ব্যবস্থাও করা হবে। ৩ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলো আধারশিলা এবং খেলাধুলার মাধ্যমে প্রারম্ভিক শিক্ষায় সহায়তা প্রদান করে। পোষণ মাস-এর অংশ হিসেবে, প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র অভিভাবক ও শিশুদের যৌথ কার্যকলাপের মাধ্যমে আর্লি চাইল্ডহুড কেয়ার অ্যান্ড এডুকেশন দিবস উদযাপন করবে। যেখানে ৩-৬ বছর বয়সী শিশুদের প্রারম্ভিক শিক্ষার বিষয়টি তুলে ধরা হবে। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্র ৫-৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য নিকটবর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শনের আয়োজন করবে এবং খেলনা ও খেলাধুলার শিক্ষা-উপকরণ সংগ্রহের জন্য সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে সম্পদ সংগ্রহের কর্মসূচি পরিচালনা করবে। কেন্দ্রগুলো পুষ্টি ও শিশু-পরিচর্যা বিষয়ক বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। পাশাপাশি, প্রথাগত শিশু-পরিচর্যা পদ্ধতি, নবজাতকের যত্ন এবং অভিভাবক ও শিশুর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া বিষয়ক তথ্যমূলক ভিডিওগুলো সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করা হবে।
পরিশেষে, পোষণ মাস ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনার দশ বছর পূর্তি উদযাপন করা হবে। এটি একটি প্রধান মাতৃত্বকালীন সুবিধা প্রদানকারী কর্মসূচি যা গত এক দশক ধরে মায়েদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে আসছে। এই কর্মসূচির আওতায় শতকরা একশো ভাগ কভারেজ বা সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে সকল যোগ্য গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীকে তালিকাভুক্ত করা হবে। ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার -এর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে এবং বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্থানীয় পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবহারের জন্য একটি পিএমএমভিওয়াই টুলকিট চালু করা হবে।
https://x.com/MinistryWCD/status/2096457607318008039?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E2096457607318008039%7Ctwgr%5E2083e8c75f93231aa25b9601a7adf7e0d5ac29a5%7Ctwcon%5Es1_&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.pib.gov.in%2FPressReleasePage.aspx%3FPRID%3D2307291reg%3D48lang%3D2
(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2307533)
ভিজিটরদের কাউন্টার : 2