রেলমন্ত্রক
ভারতীয় রেল ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১.১৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যবহার করেছে, যা ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে বরাদ্দ ২.৯৩ লক্ষ কোটি টাকার বাজেটের প্রায় ৩৯ শতাংশ
प्रविष्टि तिथि:
05 AUG 2026 3:25PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ৫ অগাস্ট ২০২৬
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ২,৯৩,০৩০ কোটি টাকার মোট বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ১,১৪,৯৭৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৩৯ শতাংশ।
ভারতীয় রেলে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বিগত বছরগুলিতে গৃহীত নানাবিধ নিরাপত্তা-ব্যবস্থার ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
২০১৩-১৪তে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে ব্যয় হয়েছে ৩৯,২০০ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭-এ তা বেড়ে হয়েছে ১,২০,৩৮৯।
'কবচ'-এর বাস্তবায়ন
১. 'কবচ' হল দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা (এটিপি) ব্যবস্থা। এটি অত্যন্ত উচ্চ-প্রযুক্তি নির্ভর একটি ব্যবস্থা।
২. নির্দিষ্ট গতিসীমার মধ্যে ট্রেন পরিচালনায় 'কবচ' লোকো-পাইলটকে সহায়তা করে; লোকো-পাইলট নিজে ব্রেক প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হলে, এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক প্রয়োগ করে এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও ট্রেনকে নিরাপদে চলতে সাহায্য করে।
৩. যাত্রীবাহী ট্রেনে এর প্রথম ফিল্ড পর্যায়ের পরীক্ষা ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয়েছিল। ২০১৮-১৯ সালে 'কবচ সংস্করণ ৩.২' সরবরাহের জন্য তিনটি সংস্থাকে অনুমোদন দেওয়া হয়।
৪. ২০২০ সালের জুলাই মাসে 'কবচ'-কে জাতীয় এটিপি ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
৫. কবচ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত প্রধান কার্যক্রমগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
প্রতিটি স্টেশন ও ব্লক সেকশনে 'স্টেশন কবচ' স্থাপন।
পুরো রেললাইন জুড়ে আরএফআইডি ট্যাগ স্থাপন।
পুরো সেকশন জুড়ে টেলিকম টাওয়ার স্থাপন।
রেলপথের পাশ দিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল স্থাপন।
ভারতীয় রেলের প্রতিটি লোকোমোটিভে 'লোকো কবচ' -এর ব্যবস্থা করা।
৬. সাউথ সেন্ট্রাল রেলের ১,৪৬৫ কিলোমিটার এলাকায় ‘কবচ’ সংস্করণ ৩.২-এর প্রয়োগ ও তা থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আরও কিছু উন্নয়ন সাধন করা হয়। ১৬.০৭.২০২৪ তারিখে আরডিএসও ‘কবচ’ স্পেসিফিকেশন সংস্করণ ৪.০ অনুমোদন দেয়।
৭. ‘কবচ’ সংস্করণ ৪.০-এ রেলের বিশাল ও বৈচিত্র্যময় নেটওয়ার্কের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতীয় রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
৮. ব্যাপক ও বিস্তারিত পরীক্ষানিরীক্ষার পর, ৩১.০৭.২০২৪ তারিখ পর্যন্ত মোট ২,৬৩৩ রুট-কিলোমিটার এলাকায় ‘কবচ’ সংস্করণ ৪.০ সফলভাবে চালু করা হয়েছে। এর আওতায় উচ্চ ঘনত্বের দিল্লি-মুম্বাই এবং দিল্লি-হাওড়া রুটগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দিল্লি-হাওড়া রুটে ১,২১০ কিলোমিটার রেলপথ এর আওতায় আনা হয়েছে।
৯. পাশাপাশি, দিল্লি-হাওড়া রুটের চিপিয়ানা বুজুর্গ-টুন্ডলা সেকশনে বন্দে ভারত ট্রেনসেট ব্যবহার করে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতিতে 'কবচ'-এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
১০. জুন ২০২৬ পর্যন্ত 'কবচ' সংক্রান্ত কাজে এ পর্যন্ত ৩,৮৭৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এর জন্য ২,০৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। দেশজুড়ে 'কবচ'-এর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে এবং কাজের অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ করা হচ্ছে।
ভারতীয় রেলওয়েতে গতিসীমা বৃদ্ধির উদ্যোগ
ট্রেনের গতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১২ বছরে ভারতীয় রেলে ট্র্যাকের ব্যাপক উন্নয়ন ও সংস্কার সাধন করা হয়েছে।
উল্লিখিত পদক্ষেপগুলোর ফলে রেললাইনের গতি-ক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। ২০১৪ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে গতি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেখা যায় যে, ভারতীয় রেলওয়ের প্রায় ৮১ শতাংশ রেললাইন ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়েছে।
এছাড়া, 'মিশন রফতার'-এর আওতায় 'সোনালী চতুর্ভুজ’ প্রকল্পের অন্তর্গত দুটি প্রধান রুটে, অর্থাৎ নয়াদিল্লি-মুম্বই এবং নয়াদিল্লি-হাওড়া রুটে, ট্রেনের গতিসীমা ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিষেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন
০১.০৪.২০২৬ তারিখ অনুযায়ী, ভারতীয় রেলে প্রায় ৮.৩১ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৪০,০০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৫১৪টি রেল পরিকাঠামো প্রকল্প (১৬৯টি নতুন লাইন, ২৯টি গেজ রূপান্তর এবং ৩১৬টি ডবলিং বা ডবল লাইন নির্মাণ) অনুমোদিত হয়েছে।
প্রশিক্ষণ
ভারতীয় রেল সুসংবদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রেল কর্মীদের কর্মদক্ষতা, কাজের প্রতি আগ্রহ ও পেশাগত যোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়ন হলো একটি ধারাবাহিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, যা ভারতীয় রেলের সুপ্রতিষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
ভারতীয় রেল কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পুনঃদক্ষতা অর্জন এবং উচ্চতর দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করতে কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সামগ্রিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এই উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, বহু-বিভাগীয় আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, বহু-বিভাগীয় বিভাগীয় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মতো ব্যাপক পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
ভারতীয় রেলের লক্ষ্য হল, আধুনিক, দক্ষ ও সমন্বিত পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিকস ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সুসংবদ্ধ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, মাল্টি-মোডাল লজিস্টিকস এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রেল এই লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট, যা শেষ পর্যন্ত দক্ষ, নিরাপদ ও সুস্থায়ী পরিবহন পরিষেবা নিশ্চিত করে। এই কর্মসূচিগুলির আওতায় প্রতি বছর প্রায় ছয় লক্ষ রেলকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যা তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করে।
ভারতীয় রেল পরিবর্তনশীল পরিচালনগত প্রয়োজন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং সাংগঠনিক অগ্রাধিকারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিতভাবে তাদের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করে। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে, দক্ষ পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিকস কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা রেলকর্মীদের মধ্যে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ পাঠ্যক্রম ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিগুলি সংশোধন করা হয়।
আজ লোকসভায় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় রেল, তথ্য ও সম্প্রচার এবং বৈদ্যুতিন ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী শ্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই তথ্য প্রদান করেন।
SC/MP/NS
(रिलीज़ आईडी: 2295075)
आगंतुक पटल : 4