प्रविष्टि तिथि:
24 JUL 2026 11:50AM by PIB Agartala
নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই, ২০২৬
জাতীয় সম্পদ হিসাবে মাটির গুরুত্ব
মাটি ভারতের কৃষির মূল ভিত্তি। খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশের ভারসাম্য এবং কোটি কোটি মানুষের জীবিকা মাটির উপর নির্ভরশীল। দেশে কর্মরত মানুষের ৪৬ শতাংশেরও বেশি কৃষি ও সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাই মাটির স্বাস্থ্য সরাসরি গ্রামীণ আয়, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে।
ভূমি ব্যবহার পরিসংখ্যান ২০২২-২৩ অনুযায়ী, ভারতের মোট নথিভুক্ত জমির পরিমাণ ৩০৬.৬৫ মিলিয়ন হেক্টর। এর প্রায় ৫৯ শতাংশ কৃষিজমি। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা পূরণে সুস্থ মাটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ মাটি উৎপাদন বাড়ায় এবং রাসায়নিক উপকরণের উপর নির্ভরতা কমায়।
এই কারণে, সুস্থায়ী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ২০৩০, বিশেষ করে ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব (এসডিজি-২) এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা (এসডিজি-১৩) অর্জনে মাটির সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই লক্ষ্য সামনে রেখে ভারত সুস্থ মাটি ও জমি সংরক্ষণে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। জলবায়ু সহনশীল কৃষি, প্রাকৃতিক চাষ, মাটির মানচিত্র তৈরি এবং ডিজিটাল কৃষিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সুস্থায়ী কৃষি মিশন (NMSA) এবং জাতীয় প্রাকৃতিক চাষ মিশন (NMNF) পরিবেশবান্ধব ও সম্পদ সাশ্রয়ী কৃষিকে উৎসাহ দিচ্ছে। মাটি স্বাস্থ্য কার্ড প্রকল্প-র মাধ্যমে মাটি পরীক্ষা করে কৃষকদের সারের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি, 'ক্ষেত বাঁচাও অভিযান'-এর মতো কর্মসূচি মাটি সংরক্ষণ, সারের সুষম ব্যবহার এবং সুস্থায়ী কৃষি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াচ্ছে।
কৃষির শক্তি বাড়ায় মাটির বৈচিত্র্য
ভারতের জলবায়ু, ভূপ্রকৃতি ও ভূতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যের কারণে দেশে নানা ধরনের মাটি রয়েছে। এই বৈচিত্র্য অঞ্চলভিত্তিক ফসল উৎপাদনে সহায়তা করে।
- পলিমাটি : পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, অসম, পশ্চিমবঙ্গ, ওডিশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের নদী অববাহিকায় বিস্তৃত। অত্যন্ত উর্বর।
- কালো মাটি : মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটে বেশি দেখা যায়। আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা বেশি।
- লাল মাটি : তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও রাজস্থানের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে।
- ল্যাটেরাইট মাটি : অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, কেরল, ওডিশা, অসম ও মহারাষ্ট্রের কিছু অংশে পাওয়া যায়।
- মরুভূমির মাটি : রাজস্থান, গুজরাট এবং লাদাখ অঞ্চলে বিস্তৃত।
- বন ও পাহাড়ি মাটি : হিমালয় ও উত্তর-পূর্ব ভারতে দেখা যায়।
- লবণাক্ত ও ক্ষারযুক্ত মাটি : উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, বিহার, রাজস্থান, ওডিশার উপকূল, পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন এবং গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চলে রয়েছে।
- জলাভূমির মাটি : তামিলনাড়ু, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের কিছু এলাকায় পাওয়া যায়।
এই বৈচিত্র্য ভারতের কৃষিকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় মাটির ভূমিকা
মাটি প্রাকৃতিকভাবে বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন শোষণ করে দীর্ঘ সময় ধরে জমিতে ধরে রাখতে পারে। এর ফলে, গ্রীনহাউস গ্যাসের পরিমাণ কমে।
মাটিতে জৈব কার্বনের পরিমাণ বাড়লে -
- মাটির গঠন উন্নত হয়।
- জল ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ে।
- পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পায়।
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়ে।
এই লক্ষ্য পূরণে সরকার জাতীয় হরিৎ ভারত মিশন, জাতীয় সুস্থায়ী কৃষি মিশন, জাতীয় প্রাকৃতিক চাষ মিশন এবং কার্বন ক্রেডিট ট্রেডিং স্কিম চালু করেছে। এই কর্মসূচিগুলি মাটিতে কার্বন সঞ্চয় বাড়াতে এবং সুস্থায়ী কৃষিকে উৎসাহিত করছে।
জাতীয় হরিৎ ভারত মিশন
জাতীয় হরিৎ ভারত মিশন (Green India Mission-GIM) জাতীয় জলবায়ু পরিবর্তন কর্মপরিকল্পনার (NAPCC) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। বন ও গাছের সংখ্যা বাড়িয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কার্বন সঞ্চয় বৃদ্ধি এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য।
বন বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কারণে বনভূমি ও অবক্ষয়গ্রস্ত জমিতে গাছ লাগানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভারতের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDC) অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ২.৫ থেকে ৩ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য কার্বন সঞ্চয়ের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ইন্ডিয়া স্টেট অফ ফরেস্ট রিপোর্ট (ISFR) ২০২৩ অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দেশে অতিরিক্ত ২.২৯ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য কার্বন সঞ্চয় হয়েছে। এই অগ্রগতি দেশের জলবায়ু লক্ষ্যের পথে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
জাতীয় সুস্থায়ী কৃষি মিশন
সুস্থায়ী কৃষি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, জল ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই লক্ষ্য সামনে রেখে ২০১৪-১৫ সালে জাতীয় সুস্থায়ী কৃষি মিশন (NMSA) শুরু হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করা, জল সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি পদ্ধতি গ্রহণে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
সরকার আর্থিক সহায়তা ও প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকদের সুস্থায়ী কৃষি পদ্ধতি গ্রহণে সহায়তা করছে।
২০১৪-১৫ সাল থেকে বৃষ্টিনির্ভর এলাকা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২,১১৯.৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ৮.৫০ লক্ষ হেক্টর জমিতে কাজ হয়েছে এবং ১৪.৩৫ লক্ষ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
এই উদ্যোগ মাটিতে জৈব কার্বনের পরিমাণ বাড়াতে এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে।
জাতীয় প্রাকৃতিক চাষ মিশন
২০২৪ সালে জাতীয় প্রাকৃতিক চাষ মিশন (NMNF) শুরু হয়। এর লক্ষ্য পরিবেশবান্ধব কৃষিকে উৎসাহ দেওয়া, মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
এ পর্যন্ত দেশের ১৮,৭৮৬টি ক্লাস্টারে প্রায় ৮.৮০ লক্ষ হেক্টর জমিতে এই কর্মসূচি চালু হয়েছে। এতে ১৮.১৯ লক্ষেরও বেশি কৃষক যুক্ত হয়েছেন।
প্রাকৃতিক চাষের প্রসারে ৩৩,৬৭৬ জন কমিউনিটি রিসোর্স পার্সন প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। তাঁরা গ্রাম পর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছেন।
এই কর্মসূচির অংশ হিসাবে বায়ো-ইনপুট রিসোর্স সেন্টার (BRC) গড়ে তোলা হয়েছে। এখান থেকে কৃষকরা বীজামৃত, জীবামৃত-সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান সংগ্রহ করতে পারেন। পাশাপাশি প্রাকৃতিক চাষের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।
এর ফলে, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমছে এবং সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
কার্বন ক্রেডিট ট্রেডিং স্কিম
কার্বন বাজার এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমাতে সফল ব্যক্তি বা সংস্থা আর্থিক সুবিধা পেতে পারে।
২০২৩ সালে চালু হওয়া কার্বন ক্রেডিট ট্রেডিং স্কিম কৃষক ও বিভিন্ন সংস্থাকে পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহ দিচ্ছে। এর মাধ্যমে নির্গমন কমাতে পারলে কার্বন ক্রেডিট অর্জন করা যায়। পরে সেই কার্বন ক্রেডিট বিক্রি করেও আয় করা সম্ভব।
একটি কার্বন ক্রেডিট মানে এক মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য নির্গমন কমানো বা শোষণ করা।
এই উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার পাশাপাশি, কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি করছে।
মাটির স্বাস্থ্য ও সারের সুষম ব্যবহার
মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড প্রকল্প
২০১৫ সালে শুরু হওয়া মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড প্রকল্প-এর লক্ষ্য মাটির গুণগত মান পরীক্ষা করে কৃষকদের সারের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া।
মাটি পরীক্ষা করে কৃষকদের হাতে মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড তুলে দেওয়া হয়। এতে জমির পুষ্টিগুণ অনুযায়ী কোন ফসলে কত সার ব্যবহার করা উচিত, তার পরামর্শ থাকে।
কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী এবং সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে জৈব সার, অণু-পুষ্টি ও সারের সুষম ব্যবহারেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
স্কুল সয়েল হেলথ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদেরও মাটি পরীক্ষা ও মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড তৈরির কাজে যুক্ত করা হয়েছে।
১৩ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশে ২৫.৮৯ কোটি মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া -
- ৭.১৭ লক্ষ প্রদর্শনী হয়েছে।
- ৭০,০০২ জন কৃষি সখী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
- ২০২৫-২৬ সালে ৪,৪৩০টি স্কুল এবং ১,২৯,১৬৭ জন ছাত্রছাত্রী এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
সারের সুষম ব্যবহার
সারের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
নিউট্রিয়েন্ট বেসড সাবসিডি (NBS)-র মাধ্যমে সারের পুষ্টিগুণ অনুযায়ী ভর্তুকি দেওয়া হয়। বর্তমানে ডিএপি-সহ ২৮ ধরনের ফসফেট ও পটাশ সারে এই সুবিধা রয়েছে।
আধার-ভিত্তিক পয়েন্ট অফ সেল (PoS) ব্যবস্থার মাধ্যমে সার বিক্রি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রকৃত বিক্রির ভিত্তিতেই ভর্তুকির অর্থ দেওয়া হয়।
২০২২-২৩ থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত সার ভর্তুকি বাবদ ৬.৭৭ লক্ষ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
সব ইউরিয়ায় ১০০ শতাংশ নিমের প্রলেপ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে সারের অপচয় কমছে এবং কৃষিতে সারের ব্যবহার আরও কার্যকর হচ্ছে।
ইন্টিগ্রেটেড ফার্টিলাইজার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা সুসংহত সার পরিচালন ব্যবস্থা সার সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ক্ষেত বাঁচাও অভিযান
সারের সুষম ব্যবহার বাড়াতে সরকার ক্ষেত বাঁচাও অভিযান শুরু করেছে।
১ জুন থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (ICAR) এবং কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের নেতৃত্বে এই অভিযান চলে।
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল -
- মাটি পরীক্ষা অনুযায়ী সারের ব্যবহার।
- রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরতা কমানো।
- জৈব সার ও হরিৎ সার ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া।
- কম বৃষ্টিপাতের এলাকায় বিকল্প কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো।
অভিযানের আওতায় -
- ৯৯,৪৮৯টি বৈঠক ও কর্মসূচি
- ২৫,১৭৮টি সচেতনতা শিবির
- ৬,৭২১টি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি
- ৯৬,২২৭টি মাঠ প্রদর্শনী
- ৪,৯১৬টি জনপ্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১.০৭ কোটির বেশি কৃষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে পৌঁছেছে প্রায় ৪.৫ কোটি মানুষের কাছে।
এই উদ্যোগ সারের সুষম ব্যবহার, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং সুস্থায়ী কৃষিকে আরও শক্তিশালী করছে।
মাটির ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা
মাটির সঠিক মূল্যায়ন ও বৈজ্ঞানিক ব্যবহারে এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। জিও-স্পেশিয়াল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিজিটাল তথ্যভান্ডারের মাধ্যমে কৃষকদের আরও নির্ভুল পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জিও-স্পেশিয়াল প্রযুক্তি ব্যবহারে মাটি মানচিত্রায়ন
সয়েল অ্যান্ড ল্যান্ড ইউজ সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (SLUSI) দেশের কৃষিজমির উচ্চমানের মাটির মানচিত্র তৈরি করছে। উপগ্রহচিত্র ও মাঠপর্যায়ের তথ্য একত্র করে গ্রামভিত্তিক মাটির তথ্যভান্ডার তৈরি করা হচ্ছে।
সেপ্টেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ২৯ মিলিয়ন হেক্টর জমির মানচিত্র তৈরি হয়েছে। লক্ষ্য ১৪২ মিলিয়ন হেক্টর কৃষিজমির তথ্য সংগ্রহ করা।
এই কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশকে ১,০৭৬ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
মাটি, জমি ও কৃষকের তথ্য একত্র করা
ডিজিটাল কৃষি মিশন-এর মাধ্যমে মাটি, জমি ও ফসলের তথ্য একত্র করা হচ্ছে।
এগ্রিস্ট্যাক-এর মতো ডিজিটাল ব্যবস্থায় কৃষক, জমি ও মাটির তথ্য যুক্ত করে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
২০২৫-এর ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ৭.৬৩ কোটির বেশি কৃষক পরিচয়পত্র (Farmer ID) তৈরি হয়েছে।
রবি ২০২৪-২৫ মরশুমে ২৩.৫ কোটি ফসলের প্লট সমীক্ষা করা হয়েছে। এর ফলে, জমিভিত্তিক মাটির তথ্য সংগ্রহ এবং আরও নির্ভুল কৃষি পরামর্শ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নির্ভুল কৃষি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন মাটির স্বাস্থ্য মূল্যায়ন এবং কৃষি পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কৃষি সিদ্ধান্ত সহায়ক ব্যবস্থা (KDSS)-এর মতো প্ল্যাটফর্ম মাটি, আবহাওয়া ও ফসলের তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষকদের এলাকাভিত্তিক পরামর্শ দিচ্ছে।
এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে -
- মাটিতে পুষ্টির ঘাটতি দ্রুত চিহ্নিত করা যায়।
- সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
- মাটির অবস্থা অনুযায়ী জল ও সার ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
- উৎপাদন খরচ কমে এবং সম্পদের অপচয় কম হয়।
- ফসল নির্বাচন, বপনের সময় এবং সারের ব্যবহার সম্পর্কে আরও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
এ ছাড়া, স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাক্টর, রোবট এবং আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করে মাটি পরীক্ষা, ফসল পর্যবেক্ষণ ও কৃষিকাজ আরও কার্যকর করা হচ্ছে।
মাটির শক্তিই দেশের শক্তি
মাটি ভারতের অন্যতম মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং কোটি কোটি মানুষের জীবিকা সুস্থ মাটির উপর নির্ভরশীল।
মাটি সংক্রান্ত স্বাস্থ্য কার্ড প্রকল্প, জাতীয় সুস্থায়ী কৃষি মিশন, জাতীয় প্রাকৃতিক চাষ মিশন এবং জাতীয় হরিৎ ভারত মিশন-এর মতো উদ্যোগ মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং সুস্থায়ী কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
সারের সুষম ব্যবহার, জৈব কার্বন বৃদ্ধি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, জিও-স্পেশিয়াল মানচিত্র এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার কৃষিকে আরও বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশবান্ধব করে তুলছে।
ক্ষেত বাঁচাও অভিযান-এর মতো উদ্যোগ কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়ে মাটি সুরক্ষাকে গণ-আন্দোলনের রূপ দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে 'ক্যাচ দ্য রেন', জল সঞ্চয় জন ভাগীদারি এবং অন্যান্য কর্মসূচির পাশাপাশি, মাটি সংরক্ষণ ও সুস্থায়ী কৃষির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সুস্থ মাটি অর্থাৎ শক্তিশালী কৃষি, নিরাপদ খাদ্য এবং সমৃদ্ধ ভারত।
*****
তথ্যসূত্র
Cabinet
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2250032
Ministry of Agriculture & Farmers Welfare
https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2007523®=3&lang=2
https://soilhealth.dac.gov.in/files/Manual/Updated_140723FinalDraftManualClasses6_8.pdf
https://www.pib.gov.in/PressReleseDetailm.aspx?PRID=2074728®=3&lang=2
https://www.agriwelfare.gov.in/Documents/AR_Eng_2024_25.pdf
ICAR-Indian Agricultural Research Institute, Indian Farming 75 (12): 49-52; December 2025
https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/1710/AU964.pdf?source=pqals
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2244625
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2037660®=3&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2239789®=3&lang=2
https://soilhealth.dac.gov.in/school
https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2222808®=3&lang=2
https://soilhealth.dac.gov.in/files/Five%20Success%20Stories%20of%20Farmers.pdf
https://icar-nbsslup.org.in/
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2264122®=3&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2262471®=3&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleaseDetail.aspx?PRID=2267236®=3&lang=1
Ministry of Chemicals and Fertilizers
https://www.pib.gov.in/PressReleseDetailm.aspx?PRID=2148437
Ministry of Finance
https://www.indiabudget.gov.in/economicsurvey/doc/eschapter/echap06.pdf
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2219915®=1&lang=1
https://dbtbharat.gov.in/success-story/view?id=NA==
Ministry of Environment and Forests
https://moef.gov.in/uploads/2017/08/GIM_Mission-Document-1.pdf
https://moef.gov.in/uploads/2017/08/Revised%20Mission%20Document.pdf#:~:text=The%20Mission%20started%20with%20the%20objective%20to,State%20governments%20including%20the%20Green%20India%20Mission.
https://moef.gov.in/uploads/2018/04/NAP_E.pdf
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2086742®=48&lang=2
PIB Backgrounders
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2245639®=3&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?NoteId=155036&ModuleId=3®=3&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?NoteId=157351&ModuleId=3®=20&lang=1#:~:text=Soil%20Profile%20Maps:,of%20%E2%82%B915%2C000%20per%20camp
https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?NoteId=158761&ModuleId=3®=48&lang=1
United Nations
https://sdgs.un.org/goals
Click here to see pdf
*****
PS/Agt