প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী রাজস্থানের বালোত্রায় প্রায় ১.০৬ লক্ষ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন

प्रविष्टि तिथि: 04 JUL 2026 4:50PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ৪ জুলাই ২০২৬

 

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী রাজস্থানের বালোত্রায় প্রায় ১.০৬ লক্ষ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের অগণিত বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন যে প্রকৃত জাতীয় গর্ব আত্মনির্ভরশীলতার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। তিনি ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং দেশের বৈদেশিক নির্ভরতা কমানোর কৌশলগত প্রয়োজনের মধ্যে একটি সরাসরি যোগসূত্র স্থাপন করেন। শ্রী মোদী বলেন "সম্পূর্ণভাবে আত্মনির্ভরশীল হলেই কোনো ব্যক্তি হোক বা দেশের, আত্মসম্মান তুঙ্গে থাকতে" ।

 

বিশাল রাজস্থান শোধনাগারটি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করে প্রধানমন্ত্রী ভারতের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বৃহত্তর লক্ষ্য পূরণে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। শ্রী মোদী বলেন "এই বিশাল শোধনাগারটি হাজার হাজার মানুষের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে এবং এই সাফল্যের জন্য আমি বিশেষ করে রাজস্থানের যুবকদের অভিনন্দন জানাই "।

 

প্রশাসনিক কর্মসংস্কৃতিতে একটি আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের নিরলস প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারগুলির পরিত্যক্ত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের তুলনা করেন। শ্রী মোদী মাত্র দুই মাস আগে এই স্থানে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করে। তিনি অভূতপূর্ব গতিতে এই বিশাল পরিকাঠামো প্রকল্পটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কর্মীদের অসাধারণ সহনশীলতার প্রশংসা করেন। শ্রী মোদী দৃঢ়ভাবে বলেন,"চ্যালেঞ্জ যতই বিশাল বা অপ্রত্যাশিত হোক না কেন নতুন ভারত তার কঠোর সংকল্প থেকে পিছু হটে না, কিংবা তার দ্রুত গতিও কমায় না"।

 

রাজ্য জুড়ে দ্রুত উন্নয়নমূলক মাইলফলকের একটি ধারাবাহিকতা তুলে ধরে, প্রধানমন্ত্রী গর্বের সঙ্গে যোধপুরে নতুন বিমানবন্দর টার্মিনালের উদ্বোধন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিমান সংযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে উড়ান প্রকল্পের একটি নতুন পর্বের সূচনা উদযাপন করেন। এই বিমান চলাচল সংক্রান্ত অগ্রগতির পাশাপাশি, তিনি শেখাওয়াটি অঞ্চলের জল সংকটের অবিলম্বে অবসানের প্রতিশ্রুতি দেন এবং জয়পুর মেট্রো নেটওয়ার্কের বড় সম্প্রসারণের ঘোষণা করেন। শ্রী মোদী বলেন, "এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্পগুলি সমগ্র মারওয়ার অঞ্চল জুড়ে পর্যটন, বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানে মৌলিকভাবে একটি নতুন গতি আনবে।"

 

যুব ক্ষমতায়ন এবং প্রশাসনিক দক্ষতার দিকে ব্যাপক অগ্রগতির উপর আলোকপাত করে, প্রধানমন্ত্রী রাজস্থান জুড়ে প্রায় ৫৪,০০০ তরুণ প্রার্থীর মধ্যে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র বিতরণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেন। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চাকরির কর্মজীবন শুরু করায় তিনি তাদের গভীর অভিনন্দন জানান। শ্রী মোদী বলেন, "আজ এই নিয়োগপত্র গ্রহণকারী সমস্ত যুবকদের জন্য আমি এক অত্যন্ত উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের কামনা করি।"

 

পশ্চিম এশিয়ার বিধ্বংসী সংঘাতের দিকে ভূ-রাজনৈতিক মনোযোগ ঘুরিয়ে দিয়ে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এর ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা কীভাবে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে তা বিশদভাবে বর্ণনা করেন। তিনি এই পরিস্থিতিকে একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুতর জ্বালানি সংকট হিসেবে আখ্যা দেন। শ্রী মোদী বলেন, "পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রধান দেশগুলো আজ জ্বালানি ঘাটতির সঙ্গে লড়াই করছে।"

 

এই আন্তর্জাতিক হতাশার বিপরীতে দেশের শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ স্থিতিস্থাপকতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতিকে সফলভাবে সুরক্ষিত রাখার জন্য দেশের সুনির্দিষ্ট কৌশলগত মূল্যায়ন, সম্পদের সুষম ব্যবহার এবং সক্রিয় কূটনীতিকে কৃতিত্ব দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আধুনিক ভারতীয় রাষ্ট্রের অটুট ইচ্ছাশক্তি বিশ্বব্যাপী এই ধাক্কাকে ব্যাপকভাবে ছাপিয়ে গেছে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "ভারত প্রতিটি স্তরে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সময়মতো সংকটটি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেছে এবং পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের কূটনৈতিক শক্তিকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করেছে।"

 

প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম এশিয়া সংকটের সময় যারা সক্রিয়ভাবে গুজব ও আতঙ্ক ছড়িয়েছিল তাদের নিন্দা করেছেন এবং একই সঙ্গে সাথে, দিনরাত নীরবে পরিচালিত অভূতপূর্ব প্রশাসনিক কৌশল ও সংবেদনশীল কূটনৈতিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। শ্রী মোদী বলেন, "যখন কিছু শক্তি গুজব ছড়াতে ব্যস্ত ছিল, তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য নীতি ও কূটনৈতিক স্তরে যে সংবেদনশীল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল তা ছিল একেবারেই অভূতপূর্ব।"

 

যে বিপর্যয় এড়ানো গেছে তার ব্যাপকতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, এই সংঘাতের আগে ভারত তার এলপিজির ৬০ শতাংশের জন্য আমদানির উপর নির্ভরশীল ছিল, যার ৯০ শতাংশই আসত বিশেষভাবে অত্যন্ত অস্থিতিশীল উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। যুদ্ধ হঠাৎ করে সেই গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথগুলো বন্ধ করে দিলে যে জাতীয় আতঙ্ক সৃষ্টি হতো, তার এক ভয়াবহ চিত্র তিনি তুলে ধরেন। শ্রী মোদী বলেন, "যখন যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই অত্যাবশ্যকীয় সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল, তখন আমাদের দেশে কী ধরনের ব্যাপক প্রতিবাদ হতে যাচ্ছিল, তা আপনারা সহজেই অনুমান করতে পারেন।"

 

পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে জরুরি ব্যবস্থাগুলি নেওয়া হয়েছিল তার বিশদ বিবরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কীভাবে দেশীয় শোধনাগারগুলিকে দ্রুত পুনর্গঠন করে শিল্পকারখানার জন্য নির্ধারিত গ্যাসকে সরাসরি রান্নার গ্যাস (এলপিজি) হিসাবে ব্যবহার করার উপযোগী করা হয়েছিল। তিনি গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, মাত্র সাত দিনের মধ্যে এই কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে দেশের এলপিজি উৎপাদন ৩৫,০০০ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৫৪,০০০ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। শ্রী মোদী নিশ্চিত করে বলেন, "আমাদের শোধনাগারগুলির উপর সক্রিয়ভাবে মনোযোগ দেওয়ার ফলে, যে কেন্দ্রগুলি আগে কখনও এলপিজি উৎপাদন করেনি, সেগুলিকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য দ্রুত প্রস্তুত করা হয়েছিল।"

 

উপভোক্তা সুরক্ষার ব্যাপক কৌশলের উপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী প্রচলিত সিলিন্ডার গ্যাসের বিপুল জাতীয় চাহিদা মেটাতে পিএনজি (পাইপযুক্ত প্রাকৃতিক গ্যাস) সংযোগের ব্যাপক সম্প্রসারণের কথা ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন যে, সরকার অবিশ্বাস্যভাবে অল্প সময়ের মধ্যে ১১ লক্ষেরও বেশি পরিবারকে সফলভাবে পাইপযুক্ত নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করেছে। শ্রী মোদী বলেন, "রান্নার গ্যাসের চাহিদার সম্পূর্ণ ভার যেন শুধুমাত্র এলপিজির উপর না পড়ে সরকার তা বিশেষভাবে নিশ্চিত করেছে।"

 

নাগরিকদের দেওয়া আর্থিক সুরক্ষার পরিমাণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, বাজার বিশেষজ্ঞরা গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের দাম ২,০০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিলেও, সরকার কঠোরভাবে দাম ৯৫০ টাকার নিচে বেঁধে দিয়েছে এবং ৬৫০ টাকার কমে উজ্জ্বলা সিলিন্ডার সরবরাহ করেছে। তিনি আরও বলেন যে, প্রশাসন মাত্র দুদিন আগেই বাণিজ্যিক গ্যাসের দামও কমিয়েছে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "এই সক্রিয় মূল্য নিয়ন্ত্রণ স্পষ্টভাবে দেখায় যে, গার্হস্থ্য গ্রাহকদের উপর যেন বড় বোঝা না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে আমাদের সরকার কতটা সংবেদনশীলভাবে কাজ করছে।"

 

বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, ভারতের অভ্যন্তরীণ তেলের বিশাল ভান্ডার নেই। তিনি স্মরণ করেন, কীভাবে বিশ্বজুড়ে দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় বহু দেশ কঠোর জ্বালানি রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে বাধ্য হয়েছিল। শ্রী মোদী বলেন, "আমদানি পথ বন্ধ থাকার কারণে বিশ্বের অনেক দেশে ডিজেল ও পেট্রোল কঠোরভাবে কোটা ভিত্তিতে বিতরণ করা হচ্ছিল।"

 

নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য দেশের আর্থিক ত্যাগের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, শুধুমাত্র এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যেই সরকার স্বেচ্ছায় ৭৫,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিপুল পরিমাণ লোকসান বহন করেছে। তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে লিটার প্রতি ১০ টাকা আবগারি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের বিস্তারিত বিবরণ দেন। শ্রী মোদী নিশ্চিত করে বলেন, "ভারতে এমন ভয়াবহ ঘাটতির পরিস্থিতি একদিনের জন্যও তৈরি হয়নি এবং আমরা জনগণের ওপর খুব বেশি বোঝা পড়তে দিইনি।"

 

তীব্র সরবরাহ সংকট মোকাবেলায় ভারতের বলিষ্ঠ ও সক্রিয় বিদেশনীতির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে ভারত কৌশলগতভাবে তার কূটনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানি আমদানির ভিত্তি মাত্র ২৫-২৬টি দেশ থেকে ৪০টিরও বেশি দেশে প্রসারিত করেছে সে বিষয়ে জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই সুনিশ্চিত পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি শক্তিশালী, আপসহীন বার্তা পাঠিয়েছে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "ভারত সমগ্র বিশ্বকে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে আমাদের কাছে জাতীয় স্বার্থ এবং নাগরিকদের কল্যাণই সর্বাগ্রে।"

 

এই জাতীয় সহনশীলতার মূল কারণ হিসেবে এক দশকের অত্যন্ত দূরদর্শী নীতি প্রণয়নকে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের অধীনে রাজস্থান শোধনাগারের দ্রুত সমাপ্তির সঙ্গে পূর্ববর্তী প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এর সম্পূর্ণ স্থবিরতার তুলনা করেন। তিনি বলেন মূল সমঝোতা স্মারকটি ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। শ্রী মোদী বলেন, "বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই কাজটি দ্রুতগতিতে এগিয়েছে এবং আজ আমরা এটি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করছি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের শিল্পোন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, যেখানে আমেরিকা ৫০ বছরে একটিও নতুন শোধনাগার নির্মাণ করেনি এবং ইউরোপের সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, সেখানে ভারত গর্বের সঙ্গে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম শোধনাগার সক্ষমতার অধিকারী হয়েছে। এই কৌশলগত সক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন । শ্রী মোদী বলেন, "এই নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই ভারত শতাব্দীর বৃহত্তম জ্বালানি সংকট সফলভাবে মোকাবেলা করে তা থেকে সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধার লাভ করেছে।"

 

কৃষি ক্ষেত্রেরর দুর্বলতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট তীব্র সার ঘাটতির কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এর ফলে বিশ্বব্যাপী ইউরিয়ার দাম প্রতি বস্তা ৩,০০০ টাকার উপরে উঠে যায়। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার ভর্তুকির মাধ্যমে মাত্র ৩০০ টাকায় ইউরিয়া সরবরাহ, বিকল্প আন্তর্জাতিক পথ সুরক্ষিত করার জন্য দূতাবাসগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া এবং প্রাকৃতিক চাষকে জোরালোভাবে উৎসাহিত করা সহ একটি ব্যাপক ও বহুমুখী প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের রূপরেখা দিয়ে তিনি মজুতদারি ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন। শ্রী মোদী নিশ্চিত করে বলেন, “ব্যাপক ভর্তুকি এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা সক্রিয়ভাবে নিশ্চিত করেছি যে আমাদের কৃষকরা একেবারে ন্যূনতম খরচে অত্যাবশ্যকীয় ইউরিয়া পাচ্ছেন।”

 

শিল্প ক্ষেত্রের মেরুদণ্ড রক্ষার অপরিহার্য গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগগুলোকে (এমএসএমই) আকাশছোঁয়া পরিচালন ব্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য জরুরি ক্রেডিট লাইন গ্যারান্টি স্কিমের পরবর্তী পর্যায়ের কৌশলগত প্রয়োগের কথা ব্যাখ্যা করেন। শতভাগ সরকারি গ্যারান্টিতে ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ঋণ সহজলভ্য করার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে অর্থনৈতিক পতন থেকে কার্যকরভাবে রক্ষা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “এই ধরনের বহু গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক হস্তক্ষেপের ফলেই আমাদের ছোট ও বড় শিল্পগুলো বর্তমানে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত বোধ করছে।”

 

ভারতের ১৪০ কোটি নাগরিকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী দেশের সম্মিলিত স্থিতিশীলতার কৃতিত্ব সরকার ও জনগণের মধ্যে গভীর পারস্পরিক বিশ্বাসকে দেন। তিনি কঠিন সময়ে অসাধারণ দৃঢ়তার সঙ্গে পাশে থাকার জন্য, ভয় ছড়ানোর উদ্দেশ্যে সৃষ্ট বিদ্বেষপূর্ণ ষড়যন্ত্রকে সক্রিয়ভাবে পরাজিত করার জন্য এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের ব্যর্থতার ভবিষ্যদ্বাণী করা গোষ্ঠীগুলোকে হতাশ করার জন্য জনগণের প্রশংসা করেন।শ্রী মোদী বলেন “আমাদের সহনশীল নাগরিকদের অটুট বিশ্বাস এবং গভীর সক্ষমতার জোরেই দেশ সফলভাবে এগিয়ে গেছে”।

 

প্রধান পরিকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশগত দায়িত্বকে সংযুক্ত করে, প্রধানমন্ত্রী মরুকরণ প্রতিরোধে এর গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদতাত্ত্বিক ভূমিকার প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি পবিত্র খেজরি চারা রোপণ করেন। নবীকরনযোগ্য শক্তিতে দ্রুত রূপান্তরের বিষয়ে বিশদভাবে বলতে গিয়ে তিনি বিশ্বমানের সোলার পার্ক স্থাপন, পিএম সূর্য ঘর প্রকল্পের আওতায় দেড় লক্ষেরও বেশি বাড়িকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং পিএম কুসুম যোজনার মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ৬৫,০০০-এর বেশি সোলার পাম্প বিতরণের কথা তুলে ধরেন।শ্রী মোদী বলেন, “এই বৃক্ষরোপণ আমাদের মূল কর্মসংস্কৃতির এক নিখুঁত উদাহরণ, যা প্রমাণ করে যে আমাদের পরিবেশকে কঠোরভাবে রক্ষা করার পাশাপাশি একই সঙ্গে অগ্রগতির নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে হবে,”।

 

দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক জলবিরোধের ঐতিহাসিক সমাধানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী রাজস্থানের তীব্র জলসংকটকে উপেক্ষা করার জন্য পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং এর সঙ্গে বর্তমান সরকারের সহযোগিতামূলক ‘দেশ প্রথম’নীতির তুলনা করেছেন। তিনি গুজরাটের স্বেচ্ছায় মা নর্মদার জল রাজস্থানের গ্রামগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। শ্রী মোদী বলেন, "মূল উদ্দেশ্যগুলি যথাযথ থাকলে সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোও সফলভাবে লাভ করা যায়। 

 

রাজস্থান ও হরিয়ানা সরকারের মধ্যে ৩৪,০০০ কোটি টাকার একটি যুগান্তকারী চুক্তির কথা গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী হাথনিকুন্ড ব্যারেজ থেকে একটি ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই অভূতপূর্ব পারস্পরিক সম্মতি সিকার, চুরু, ঝুনঝুনু এবং সমগ্র শেখাবতী অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ বাসিন্দার কাছে কার্যকরভাবে জীবন রক্ষাকারী জল পৌঁছে দেবে।শ্রী মোদী বলেন "এখন যেহেতু উভয় রাজ্যে বিজেপি সরকার রয়েছে, তাই এই প্রথমবার পারস্পরিক সম্মতির মাধ্যমে সফলভাবে সমাধান খুঁজে পাওয়া গেছে"।

 

আসন্ন জল-পরিকাঠামো উদ্যোগগুলোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উচ্চ যমুনা অববাহিকায় রেণুকা, লাখওয়ার এবং কিশৌ বাঁধের কাজ শেষ করার ভবিষ্যৎ যুগান্তকারী সুবিধাগুলোর রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি গ্রামীণ এলাকায় ট্যাপের জলের জন্য রামজল সেতু প্রকল্পের কথাও বলেন। তিনি 'জল সঞ্চয়, জন ভাগিদারি' অভিযানের ব্যাপক সাফল্যও উদযাপন করেন। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “এই ব্যাপক সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মূল্যবান জল পদ্ধতিগতভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং আঞ্চলিক ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে।”

 

দেশের আধুনিক পরিকাঠামো উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রাজস্থান রয়েছে, এই কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতের অগ্রগতির প্রধান অনুঘটক হিসেবে নতুন যোধপুর বিমানবন্দর টার্মিনাল এবং জয়পুর মেট্রো ফেজ-২-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বিশেষভাবে বলেন যে ফেজ-২ জয়পুরের মোট নেটওয়ার্ককে ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি প্রসারিত করবে। এটি পূর্ব-পশ্চিম এবং উত্তর-দক্ষিণ করিডোরকে নির্বিঘ্নে সংযুক্ত করে স্থানীয় এবং পর্যটক উভয়ের জন্যই সুবিধা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করবে। শ্রী মোদী বলেন, “বর্তমানে রাজস্থানে এত দ্রুত গতিতে আধুনিক পরিকাঠামো নির্মিত হচ্ছে যে সম্পূর্ণ নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে।”

 

বক্তব্যের শেষে, প্রধানমন্ত্রী জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন যে ব্যাপকভাবে প্রসারিত গণপরিবহন নেটওয়ার্ক এবং শক্তি প্রকল্পগুলি রাজ্যের রূপান্তর যাত্রার কেবল শুরু। তিনি যৌথভাবে এই কাজে জনগণের অবিরাম সমর্থনের উপর সম্পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন। বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে রাজ্যের জন্য একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ নতুন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা হবে। শ্রী মোদী দৃঢ়ভাবে বলেন যে “আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে যে আমাদের সরকারের প্রতি আপনাদের অব্যাহত আশীর্বাদে আমরা একসঙ্গে রাজস্থানের জন্য একটি গৌরবময় নতুন ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব”। 

 

 

 

SC/PM/AS


(रिलीज़ आईडी: 2281116) आगंतुक पटल : 10
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: Assamese , English , Urdu , हिन्दी , Marathi , Manipuri , Gujarati , Tamil