PIB Backgrounder
মানাস (MANAS): মাদকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল ঢাল, নেশামুক্ত ভারতের লক্ষ্যে নাগরিকদের ক্ষমতায়নকারী জাতীয় মাদকবিরোধী হেল্পলাইন
प्रविष्टि तिथि:
02 JUL 2026 11:22AM by PIB Kolkata
২ জুলাই, ২০২৬
মানাস: এমন এক কাঠামো, যা নাগরিকদের ক্ষমতায়নে সাহায্য করে।
ভারত সরকার মাদকাসক্তি ও মাদক পাচারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এই সমস্যাগুলি শুধু ব্যক্তিকেই নয়, পরিবার, সমাজ এবং জননিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করে। নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং সহায়তা পরিষেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, মাদক-সংক্রান্ত কার্যকলাপের অভিযোগ জানানো এবং সহায়তা পাওয়ার জন্য একটি সহজলভ্য ও গোপনীয় প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা সরকার উপলব্ধি করে।
এই প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অন্তর্গত নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB) এবং ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্পোরেশন (DIC)-এর যৌথ উদ্যোগে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই জাতীয় মাদক হেল্পলাইন মানাস (Madak Padarth Nishedh Asoochna Kendra) চালু করা হয়। নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকরা যেকোনো সময় মাদক-সংক্রান্ত কার্যকলাপের তথ্য জানাতে, কাউন্সেলিং বা পরামর্শ নিতে এবং পুনর্বাসন সংক্রান্ত সহায়তা পেতে পারেন।
মানাস ডিজিটাল ইন্ডিয়ার লক্ষ্য এবং নেশামুক্ত ভারতের অঙ্গীকারকে একসূত্রে বেঁধেছে। জাতীয় হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩৩, সরকারি পোর্টাল, ই-মেল এবং উমঙ্গ অ্যাপের মাধ্যমে এই পরিষেবা গ্রহণ করা যায়। এই বিভিন্ন মাধ্যমে সহায়তা সহজলভ্য হওয়ায়, নাগরিকরা নীরব দর্শক হয়ে না থেকে মাদকবিরোধী লড়াইয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
আপনি কি জানেন?
ভারতে মাদকাসক্তির ব্যাপকতা নিয়ে দেশের প্রথম বিস্তৃত সমীক্ষা প্রতিবেদন ‘Magnitude of Substance Abuse in India (২০১৯)’ মাদক সমস্যার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছে।
প্রায় ১৬ কোটি মানুষ মদ্যপান করেন, যার মধ্যে ৫.৭ কোটিরও বেশি মানুষ গুরুতরভাবে এর প্রভাবে আক্রান্ত।
৩.১ কোটি মানুষ গাঁজা ব্যবহার করেন, ২.২৬ কোটি মানুষ ওপিওয়েড গ্রহণ করেন এবং প্রায় ১.১৮ কোটি মানুষ সেডেটিভ ব্যবহার করেন।
শুধুমাত্র ওপিওয়েডের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা প্রায় ২.৮ কোটি, যার মধ্যে প্রায় ২৮ লক্ষ মানুষের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।
মানাস কি কি সুবিধা প্রদান করে
নাগরিকদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে মানাস গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে অভিযোগ জানানো, কাউন্সেলিং এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা একটি একক কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নাগরিকরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে মাদক পাচার, মাদক বিক্রি, অবৈধ চাষ এবং সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপ সম্পর্কে গোপনীয়ভাবে তথ্য জানাতে পারেন।
মাদকাসক্তিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কাউন্সেলিং বা উপযুক্ত পরামর্শ ও সহায়তা পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কলগুলি সমাজকল্যাণ ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের ১৪৪৪৬ হেল্পলাইনে স্থানান্তর করা হয়।
১৯৩৩ হেল্পলাইন, ওয়েব পোর্টাল এবং উমঙ্গ অ্যাপের মাধ্যমে যেকোনো সময় এই পরিষেবা গ্রহণ করা যায়, ফলে দেশের সর্বত্র এর সুবিধা পৌঁছে যাচ্ছে।
ডিজিটাল টিকিট তৈরি এবং কর্মপ্রবাহ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হচ্ছে, যার ফলে সমন্বয় ও প্রতিক্রিয়ার সময় আরও উন্নত হচ্ছে।
বহুভাষিক কল সহায়তা, স্মার্ট IVRS, চ্যাটবট সংযুক্তি এবং আঞ্চলিক ভাষার সহায়তার মতো অন্তর্ভুক্তিমূলক সুবিধাগুলিও আরও বেশি মানুষের কাছে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে গড়ে তোলা হচ্ছে।
আমি কিভাবে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করতে পারি?
মাদকাসক্ত ব্যক্তি মাদক সরবরাহ ও চাহিদার দুষ্টচক্রের শিকার। তাঁর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা উচিত এবং তাঁকে নিকটবর্তী সরকারি নেশামুক্তি কেন্দ্রে পেশাদার ও চিকিৎসাগত সহায়তা নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা উচিত। তাঁকে কাউন্সেলিং ও থেরাপি গ্রহণের জন্যও উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
প্রভাব: ক্রমাগত ক্রমবর্ধমান জনবিশ্বাস
চালু হওয়ার পর থেকে ম্যানাস নাগরিকদের কাছে পৌঁছানোর পরিধি বাড়িয়েছে, জনসেবা প্রদানকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং মাদকবিরোধী আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় উন্নত করেছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকরা নিরাপদ উপায়ে আরও সহজে মাদক-সংক্রান্ত কার্যকলাপের তথ্য জানাতে পারছেন। পাশাপাশি, নাগরিক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান আরও জোরদার হয়েছে, যার ফলে মাদক পাচার ও মাদকাসক্তি মোকাবিলার ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে।
এটি সারা দেশে কাউন্সেলিং, পুনর্বাসন এবং সচেতনতামূলক পরিষেবার সুযোগও বৃদ্ধি করেছে। পেশাদার কাউন্সেলিং পরিষেবার ব্যবহার বাড়ার ফলে বোঝা যায় যে, মাদকাসক্তি সংক্রান্ত সমস্যায় সাহায্য নেওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকদের আগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম মাদকবিরোধী প্রচারে সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজের অংশগ্রহণ আরও বাড়িয়েছে। প্ল্যাটফর্মটির সম্পূর্ণ ডিজিটাল কর্মপদ্ধতি সমন্বয় ও পরিষেবা প্রদানকে আরও উন্নত করেছে। প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি নেশামুক্ত ভারতের (Nasha Mukt Bharat) বৃহত্তর লক্ষ্য বাস্তবায়নেও সহায়তা করছে।
কীভাবে মানাস (MANAS) ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রতিশ্রুতিকে শক্তিশালী করে
মানাস প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিক সুরক্ষা এবং জনসেবা প্রদানের একটি কার্যকর উদাহরণ। এটি বাস্তব ও সুস্পষ্ট উপায়ে এই উদ্যোগের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
মানাস (MANAS) ২৪ ঘণ্টা কাজ করে এবং ভারতের যেকোনো স্থান থেকে এখানে যোগাযোগ করা যায়।
এটি জনসাধারণের সতর্কতা ও সচেতনতাকে কার্যকরী ও নথিভুক্ত তথ্যে রূপান্তরিত করে, যা মানুষকে সেবার নিষ্ক্রিয় গ্রহীতার পরিবর্তে শাসনের সক্রিয় অংশীদার করে তোলে।
প্রতিটি প্রতিবেদন ডিজিটাল কর্মপ্রবাহের মাধ্যমে নথিভুক্ত, নিবন্ধিত, ট্র্যাক এবং সমাধান করা যায়, যা গতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে আসে।
এটি জনগণকে সরাসরি ৩০টি এনসিবি (NCB) জোনাল ইউনিট এবং ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অ্যান্টি-নারকোটিক্স টাস্ক ফোর্সের (ANTFs) সাথে যুক্ত করে।
পোর্টালটি একটি সমন্বিত, সুরক্ষিত এবং দ্বিবাষিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
দেশজুড়ে কিশোর ও যুবকদের সম্পৃক্ত করতে এটি মাইগভ (MyGov) পোর্টালে কুইজ, পোস্টার প্রতিযোগিতা এবং রিল তৈরির প্রতিযোগিতার মতো সচেতনতামূলক প্রচারণা চালায়।
তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হওয়ায়, সেগুলির ধারা ও প্রবণতা বিশ্লেষণ করা যায়, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি কোথায় সমস্যা বাড়ছে তা বুঝতে পারে এবং সেই অনুযায়ী তাদের পদক্ষেপ পরিকল্পনা করতে পারে।
নেশামুক্ত ভারতের পথে
ম্যানাস দেখিয়েছে, কিভাবে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) বা ডিজিটাল জন পরিকাঠামো-কে নাগরিকদের সুরক্ষা এবং সামাজিক কল্যাণের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রযুক্তি, নাগরিকদের অংশগ্রহণ, কাউন্সেলিং, তথ্য বিশ্লেষণ এবং নিরাপদ রিপোর্টিং ব্যবস্থাকে একত্রিত করে এই প্ল্যাটফর্মটি ধীরে ধীরে একটি আরও নিরাপদ, সুস্থ এবং মাদকমুক্ত ভারত গড়ে তুলতে সাহায্য করছে—একটি রিপোর্ট ও একটি ফোন কলের মাধ্যমে।
এর পরিধি যত বাড়ছে এবং এর পরিষেবাগুলি যত উন্নত হচ্ছে, মানাস ততই এমন এক শাসনব্যবস্থার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠছে, যা যেমন ডিজিটাল, তেমনি মানবিকও।
তথ্যবিবরণী
Ministry of Home Affairs
Click here to see pdf
SSS/RP......
(रिलीज़ आईडी: 2280319)
आगंतुक पटल : 7