কৃষি ও গ্রামীন শিল্প মন্ত্রক
অরুণাচল প্রদেশে পৌঁছলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান; খারাপ আবহাওয়ার কারণে আকাশপথে পরিদর্শন স্থগিত রাখা হয়েছে। আকাশপথে পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর মঙ্গলবার তিনি বন্যাদুর্গত পরিবারগুলোর সঙ্গে সময় কাটাবেন
प्रविष्टि तिथि:
01 JUL 2026 9:29AM by PIB Agartala
নয়াদিল্লি, ০১ জুলাই, ২০২৬: কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান সোমবার অরুণাচল প্রদেশে পৌঁছালেন৷ তবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত আকাশপথে পরিদর্শন কর্মসূচি সম্পন্ন করতে পারেননি। তিনি আজ ১লা জুলাই অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে আকাশপথ ও স্থলপথে পরিদর্শন করবেন। দিনভর তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও অন্যান্য পরিবারের পরিস্থিতির খোঁজখবর নেবেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরেজমিনে খতিয়ে দেখবেন এবং জরুরি ত্রাণ ও দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো চিহ্নিত করবেন। এই সফরের সময় কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী শ্রী কিরেন রিজিজু এবং অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী পেমা খান্ডু তাঁর সঙ্গে থাকছেন।

সোমবার বিকেলে অরুণাচল প্রদেশে পৌঁছে শ্রী চৌহান স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা শোনেন। তিনি বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার উড্ডয়ন সম্ভব না হলেও সরকারের সংকল্প বিন্দুমাত্র শিথিল হয়নি। তিনি বলেন, “আবহাওয়া হয়তো আজ হেলিকপ্টারটিকে আটকে দিয়েছে, কিন্তু তা আমাদের দৃঢ় সংকল্পকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। আগামীকাল আমরা অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে সারাদিন কাটাব এবং আকাশ ও স্থল—উভয় পথেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করব, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি কৃষক ও প্রতিটি পরিবার প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়।”

শ্রী চৌহান দিল্লি থেকে ইটানগর সফর করেন এবং সেখানে বন্যা-কবলিত এলাকার বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করেন। স্থানীয় মানুষ তাঁকে জানান কীভাবে বন্যার জল তাঁদের কৃষিজমি প্লাবিত করেছে, ক্ষেতের ফসল নষ্ট করেছে, ঘরবাড়ির ক্ষতি করেছে এবং তাঁদের জীবিকা ব্যাহত করেছে। অনেকেই তাঁদের পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং অব্যাহত নানাবিধ কষ্টের কথা তুলে ধরেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সকলের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাঁদের আশ্বস্ত করেন যে, ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকেই বাদ দেওয়া হবে না। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত সকলের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে।
ইটানগর সচিবালয়ে অরুণাচল প্রদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত একটি পর্যালোচনা বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী চৌহান বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ সামগ্রীর প্রাপ্যতা ও বিতরণ ব্যবস্থা, চলমান পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বন্যার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি, ত্রাণ কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো পর্যালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৃষক ও গ্রামীণ বাসিন্দাদের উদ্বেগের বিষয়টি নয়াদিল্লিতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় সরকার ত্রাণ, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।
শ্রী চৌহান জানিয়েছেন, ১লা জুলাই অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে নিবিড় পরিদর্শন চালানো হবে। মঙ্গলবার সকাল থেকে তিনি অরুণাচল প্রদেশ জুড়ে বন্যাবিধ্বস্ত গ্রাম ও ত্রাণ শিবিরগুলো পরিদর্শন করবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সাথে সরাসরি কথা বলবেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতি ও গবাদি পশুর অবস্থা খতিয়ে দেখবেন এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকার ওপর বন্যার সামগ্রিক প্রভাব পর্যালোচনা করবেন। এছাড়া, নদী, বাঁধ, রাস্তাঘাট, সেতু ও কৃষিজমির অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে তিনি অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোর ওপর দিয়ে আকাশপথে পরিদর্শন (এরিয়াল সার্ভে) করবেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় গুয়াহাটিতে আসাম সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তিনি একটি পর্যালোচনা বৈঠক করবেন; সেখানে বন্যা ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ বিতরণ, বাঁধ ও রাস্তা মেরামত, ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামোর পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক ত্রাণ প্রদান সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেলেও, ভবিষ্যতে বন্যার প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী কৌশল প্রণয়নের ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতের বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য উন্নত নিষ্কাশন ব্যবস্থা, শক্তিশালী বাঁধ, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, বন্যা ব্যবস্থাপনার উন্নত পরিকাঠামো এবং আরও কার্যকর শস্য বিমা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।
শ্রী চৌহান অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের বন্যাদুর্গত মানুষদের এই কঠিন সময়ে মনোবল অটুট রাখার আহ্বান জানান। তিনি তাঁদের আশ্বস্ত করেন যে, এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলো নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে সময়মতো ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হবে।
সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে শ্রী শিবরাজ চৌহান বলেন, অরুণাচল প্রদেশ একটি "প্রিয় রাজ্য", তবে বর্তমানে এই রাজ্যটি একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অত্যন্ত গুরুতর সংকটের সম্মুখীন। ভারী বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের ফলে রাস্তাঘাট, সেতু এবং অসংখ্য বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে জনগণের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরাও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন৷ কমলালেবু, কলা ও ধানসহ বিভিন্ন ফসল সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শনের জন্য আমি ও শ্রী কিরেন রিজিজু মুখ্যমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এখানে এসেছি। আমরা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত পর্যালোচনা করব এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করব।" শ্রী চৌহান আরও বলেন, এই কঠিন সময়ে মানুষকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে কোনো প্রচেষ্টাই বাদ রাখা হবে না। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার পূর্ণ শক্তি দিয়ে রাজ্যটিকে দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে ও দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবার যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করবে।
*****
PS/DM/KMD
(रिलीज़ आईडी: 2280205)
आगंतुक पटल : 3