প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
নতুন দিল্লিতে ‘রিপাবলিক সামিট ২০২৬’-এ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ
प्रविष्टि तिथि:
22 JUN 2026 10:24PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২২ জুন ২০২৬
স্বর সাধনা, মনকামনা, আরাধনা – এমন এক শুভ সূচনার পর আপনাদের এই কার্যক্রম যদি অব্যাহত থাকত, তবে তা সত্যিই চমৎকার হত। আপনাদের সবাইকে আমার শুভেচ্ছা।
রিপাবলিক টিভি নেটওয়ার্কের সকল দর্শককে আমি আমার অভিবাদন জানাই; এই নেটওয়ার্ক এখন বহু ভাষায় সম্প্রচারিত হচ্ছে। ২৪-ঘণ্টা সংবাদ প্রচারকারী চ্যানেলগুলির ক্ষেত্রে 'ব্রেকিং নিউজ' বা তাৎক্ষণিক সংবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর আজকাল বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের দিকে তাকালেই মনে হয়, যেন পুরো পৃথিবীটাই এক 'ব্রেকিং নিউজ'-এর আবহে রয়েছে। এমন কর্মব্যস্ততা ও কোলাহলের মাঝেও আপনারা এই সম্মেলনের আয়োজন ও এতে অংশগ্রহণ করছেন – তাই আপনারা বিশেষ অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য। এবারের আলোচনার বিষয়বস্তুও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ: 'গ্রেট পাওয়ার ইন্ডিয়া: নেশন ফার্স্ট' বা 'মহাশক্তি ভারত: দেশ সর্বাগ্রে'।
বন্ধুরা,
ভারতের আরেকটি অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা আজ বিশ্ব স্বীকার করে নিয়েছে। আমরা এমন কোনও দেশ নই, যারা ক্ষণস্থায়ী কোনও ঘটনার হুট করে কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাই। আমরা এমন এক দেশ, যারা উন্নয়ন ও ধ্বংস—উভয়ই প্রত্যক্ষ করেছি এবং তা সহ্যও করেছি। আমাদের চেতনায় যুগ-যুগান্তরের স্মৃতি গেঁথে আছে – আমরা হাজার বছরের স্মৃতি ধারণকারী এক জাতি। আর তাই, ভারত আজ যা করছে এবং আমি পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েই একথা বলছি, তা আগামী এক হাজার বছরের ভবিষ্যৎ রচনা করবে। বিশ্বের কাছে এটিই ভারতের সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা। ভারত কেবল দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিই নয়, এটি একটি আস্থাশীল অর্থনীতিও বটে। উদীয়মান শক্তি হওয়ার পাশাপাশি, আপনারা তো অভিধানের গণ্ডি ছাড়িয়ে একে 'মহাশক্তি' বা 'সুপারপাওয়ার'-এর আখ্যাও দিয়েছেন। আমি নিশ্চিতভাবেই বলব যে, ভারত একটি নির্ভরযোগ্য শক্তি। কিছুদিন আগে আমি জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন থেকে ফিরেছি; সেখানে প্রতিটি দেশের নেতারা খুব ভালোভাবেই অনুধাবন করেছেন যে, আজকের ভারতের কাছে 'দেশই সর্বাগ্রে' – এটাই সর্বশ্রেষ্ঠ মন্ত্র ও সর্বোচ্চ নীতি।
বন্ধুরা,
মাত্র কয়েক দিন আগেই আমাদের সরকারের ১২ বছর পূর্ণ হয়েছে। অর্ণব তো আপনাদের দিয়ে এর জন্য হাততালিও দেওয়ালেন। গত বারো বছরের সাফল্যগুলির দিকে তাকালে আপনারা দেখবেন যে, প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি পদক্ষেপ এবং প্রতিটি প্রচেষ্টার মূলে রয়েছে ‘দেশকে সবার আগে’ রাখার ভাবনা। ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ থেকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, কিংবা খাদি পণ্যের ওপর জোর দেওয়া থেকে শুরু করে স্থানীয় পণ্যকে উৎসাহিত করা – এই সব উদ্যোগই সফল হয়েছে, কারণ দেশের মানুষ দেশকে সবার ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন এবং নিজেদের কর্তব্য পালন করেছেন।
বন্ধুরা,
আমাদের মাঝে উপস্থিত আছেন আমাদের সহযাত্রী শ্রী শ্রীধর ভেম্বু জি। যখন আমাদের উদ্যোক্তারা ‘দেশকে অগ্রাধিকার’-এর মন্ত্র নিয়ে এগিয়ে যান এবং দেশের প্রয়োজন বুঝে নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ করেন, তখন বড় বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে এবং দেশের সমৃদ্ধি ঘটে। শ্রী ভেম্বু জির কাজ নিয়ে এখানে কতটা আলোচনা হয়েছে তা আমি জানি না, তবে সম্প্রতি আমি ফ্রান্সের ‘ভিভাটেক’-এ গিয়েছিলাম। সেখানে প্রায় দেড় থেকে দুই লক্ষ তরুণ-তরুণী উপস্থিত ছিলেন। তরুণদের উদ্ভাবনী কাজ দেখার জন্য আমি ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট যখন বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখছিলাম, তখন আমরা ‘জোহো’-র স্টলে পৌঁছয়। সেখানে ইউরোপীয় তরুণ-তরুণীদের ভিড় দেখে আমি বিস্মিত ও গর্বিত হয়েছিলাম; তাঁরা সবাই এই নতুন উদ্ভাবনটি সম্পর্কে জানার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। হয়তো ভারতে এ নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয় না, কিন্তু ফ্রান্সে আমি যা দেখেছি তা ছিল সত্যিই অসাধারণ। আপনাকে অভিনন্দন।
বন্ধুরা,
আমি এখানে কোনও তত্ত্ব বা দর্শন শোনাতে আসিনি; বরং কিছু সাধারণ উদাহরণের মাধ্যমে আপনাদের বোঝাতে চাই যে, সেখানে কীভাবে কাজ হচ্ছে। আমি আদিবাসী প্রভাবিত অঞ্চলগুলির কথা বলছি, যেখানে ১০ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। আমরা সবাই জানি যে, দশকের পর দশক ধরে সেখানে মাওবাদী সন্ত্রাস জাঁকিয়ে বসেছিল। একবিংশ শতাব্দীতেও এই সন্ত্রাসীরা ওইসব এলাকায় কোনও নাগরিক সুবিধা পৌঁছতে দেয়নি। সরকারি কোনও গাড়ি সেখানে যেতে পারত না; গেলেই তা গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হত। অনেক সরকার এল আর গেল, প্রজন্মের পর প্রজন্ম পার হয়ে গেল; মনে হচ্ছিল যেন সহিংসতার এই অভিশাপ চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। আপনারা কল্পনা করতে পারেন – ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে, অর্থাৎ ওই দশ বছরে, মাওবাদী সন্ত্রাসের কারণে ১৭ হাজারেরও বেশি হিংসার ঘটনা ঘটেছিল এবং প্রায় ৭ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল।
বন্ধুরা,
আপনাদের কাছে হয়তো আজকের খবরের শিরোনাম বা আধ ঘণ্টার কোনো টিভি বিতর্ক দেখে মনে হতে পারে যে, মাওবাদী সন্ত্রাস শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি অতটা সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন হয় বিপুল প্রচেষ্টার, আর ঠিক সে কারণেই আমি বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে চাই। আজকাল অনেকেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে থাকেন; কিন্তু যখন তাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন, তখন নকশাল-উপদ্রুত এলাকায় ‘সংবিধান’ শব্দটি উচ্চারণ করলেই হয়তো গুলি খেতে হতো। সেই সময় তাঁরা নীরব থাকতেন, ভয়ে তাঁদের হাত কাঁপত এবং সংবিধান তুলে ধরার মতো সাহসও তাঁরা দেখাতে পারতেন না।
বন্ধুরা,
২০১৪ সালের পর, পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে আমরা 'দেশ সর্বাগ্রে'-র মন্ত্র নিয়ে এগিয়ে গিয়েছি। আমরা কেবল কথাই বলিনি বা শুধুই ঘোষণা দিইনি, বরং আমরা কাজেও তা করে দেখিয়েছি। নকশালবাদ ও মাওবাদকে সমূলে উৎপাটন করার সংকল্প আমরা নিয়েছিলাম এবং আজ গোটা দেশ তার ফলাফল দেখতে পাচ্ছে।
বন্ধুরা,
নকশাল-উপদ্রুত যেসব এলাকায় অপহরণ, চাঁদাবাজি বা লুটের ভয়ে সাধারণ মানুষ দিনের আলোতেও বাইরে বের হতে আতঙ্কিত বোধ করত, যেখানে উন্নয়ন নিয়ে কথা বলাও ছিল অসম্ভব, সেখানে আমরা অগ্রগতির অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে গিয়েছি। গত ১২ বছরে আমাদের সরকার এসব অঞ্চলে ১২ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা নির্মাণ করেছে। বহুবার আমাদের নির্মাণকাজের যন্ত্রপাতি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ঠিকাদারদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও রাস্তায় যদি ২৫ জন শ্রমিক কাজ করতেন, তবে সেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ২০০ পুলিশ সদস্যকে তাঁদের নিরাপত্তা দিতে হতো। আমরা এসব কিছুই করেছি, কারণ আমরা তা সম্পন্ন করার দৃঢ় সংকল্প নিয়েছিলাম।
বন্ধুরা,
আমরা ৯,৫০০-এরও বেশি মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করেছি। আগে তো একটা টাওয়ারও বসানো যেত না; আর যদি বসানোও হতো, তবে তা ধ্বংস করে দেওয়া হতো। কারণ, তারা সবসময়ই ক্ষোভের আগুন উসকে দিতে চাইত। আমরা প্রায় ৪৫,০০০ গ্রামে মোবাইল সংযোগ পৌঁছে দিয়েছি। নকশাল-উপদ্রুত জেলাগুলিতে ১,৮০০-এরও বেশি ব্যাঙ্ক শাখা খোলা হয়েছে। প্রায় ৭৫,০০০ ব্যাঙ্কিং প্রতিনিধি এবং ৬,০০০-এরও বেশি নতুন ডাকঘর স্থাপন করা হয়েছে। বন্ধুরা, আমরা কেবল বোমা, বন্দুক আর গুলির ওপর নির্ভর করিনি, মানুষের মন জয় করতে ঈশ্বরের দেওয়া সমস্ত শক্তি আমরা কাজে লাগিয়েছি।
বন্ধুরা,
সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে আমরা দৃঢ় সংকল্প নিয়ে নকশাল-উপদ্রুত এলাকাগুলিতে গিয়েছিলাম। আপনারা শুনলে অবাক হবেন, একজন কুখ্যাত নকশালপন্থী, যার মাথার দাম ছিল কোটি টাকা, তার মা আমাদের কাছ থেকে প্রথমবারের মতো একটি রেশন কার্ড পেয়েছিলেন। তার ছেলে তাকে কখনই রেশন কার্ড নিতে দেয়নি, কারণ সে তার ত্রাসের রাজত্ব বজায় রাখতে চেয়েছিল। এমন অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। আমি সত্যিই স্তম্ভিত হয়েছিলাম। অথচ তৎকালীন সরকার সংবিধানের প্রতি চোখ বন্ধ করে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু আমাদের এসব প্রচেষ্টার ফলে জনগণের মধ্যে আস্থার এক নতুন জোয়ার সৃষ্টি হয়। আজ বস্তারের দিকে তাকান – সেখানে এখন বোমা ও বন্দুকের বদলে অত্যন্ত উদ্দীপনার সাথে ‘বস্তার অলিম্পিক’ আয়োজিত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এর দুটি আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমটিতে দেড় লক্ষেরও বেশি এবং দ্বিতীয়টিতে প্রায় ৪ লক্ষ তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেছিলেন। একসময় যেখানে ছিল শুধুই আতঙ্ক, আজ সেখানে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং খেলাধুলার প্রসার ঘটছে।
বন্ধুরা,
গত ১২ বছরের সেবাকার্যের অন্যতম বড় সাফল্য হল, হতাশা কাটিয়ে আশা ও আকাঙ্ক্ষায় পূর্ণ এক ভারত গড়ে তোলা।
বন্ধুরা,
নকশালবাদ হয়তো নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু এর যন্ত্রণা ভারতের প্রতিটি প্রান্তে অনুভূত হতো। আর যখন এই খবর ছড়িয়ে পড়ল যে, নকশালবাদের অবসান ঘটছে, তখন সেই আস্থার অনুভূতি কেবল ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০১৪ সালের আগের দশ বছরে কংগ্রেস সরকারের আমলে অসন্তোষের কারণ কেবল শাসনব্যবস্থা সংক্রান্ত ছিল না; হতাশা ছিল অনেক গভীর। জাতি তার আশা হারিয়ে ফেলেছিল। মানুষের মনে হয়েছিল যে কোনও কিছুই বদলাবে না, কোনো কিছুরই উন্নতি হবে না।
বন্ধুরা,
গত ১২ বছরে ভারত হতাশা থেকে আশার পথে যাত্রা করেছে এবং এটি আমাকে গভীর তৃপ্তি দেয়। আজ সবার মনে এই বিশ্বাস জেগেছে যে, সামান্য বাড়তি প্রচেষ্টাতেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। সেই দিন আর নেই যখন কেবল একটাই কথা শোনা যেত—"এটা হবে না, এটা সম্ভব নয়।" সেই যুগ পেরিয়ে গেছে। আজ আমাদের মূল মন্ত্র হলো—"এটা হবেই।" এই নতুন আত্মবিশ্বাসই ভারতের প্রকৃত অর্জন এবং এটাই আমাদের আসল শক্তি। চ্যালেঞ্জ আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। চ্যালেঞ্জ নানা রূপ ধারণ করে; নতুন নতুন রূপে তা আমাদের সামনে আসে। কিন্তু সে যে রূপই ধারণ করুক না কেন, আমরা তার মোকাবিলা করব এবং জয়ী হব। যখন দেশ এই বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলে যে, "এটা করা সম্ভব এবং আমরা তা করবই," তখনই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়।
বন্ধুরা,
আমি আজ ভারতের ১০০টিরও বেশি জেলা এবং ৫০০টিরও বেশি ব্লকের বিষয়ে কথা বলতে চাই। উন্নয়নের প্রতিটি মাপকাঠিতেই এই অঞ্চলগুলি পিছিয়ে পড়েছিল এবং পূর্ববর্তী সরকারগুলি এদের ‘অনগ্রসর জেলা’ ও ‘অনগ্রসর এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। আমরা এই অঞ্চলগুলিকে অনগ্রসরতার হতাশা থেকে মুক্ত করেছি এবং উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলেছি। প্রথমেই আমরা এদের পরিচিতি বদলে দিয়েছি। আমরা বলেছি—এগুলো ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী জেলা’ এবং ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্লক’। আমরা এই সব জেলা ও ব্লকগুলির জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি এবং সরকার উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করেছে। প্রতিটি জেলায় আমরা এমন কিছু নির্দিষ্ট বিষয় চিহ্নিত করেছি, যার সমাধান প্রয়োজন—কোথাও তিনটি, আবার কোথাও ছয়টি বিষয় এবং সেগুলির ওপর বিশেষ মনোযোগ দিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আজ এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী জেলা ও ব্লকগুলিই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির সামগ্রিক অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে; অথচ আগে এরাই প্রবৃদ্ধির গতিকে মন্থর করে রাখত। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যকে জয় করেছেন।
বন্ধুরা,
কেউ যখন দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে আসে, তখন পুরো সমাজ ও জাতি উপকৃত হয়। যখন ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসে নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন এর সুফল কেবল সেই পরিবারগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। মধ্যবিত্ত শ্রেণিও এর ফলে লাভবান হয়; কারণ এরা এমন নতুন ভোক্তা, যারা অর্থনীতিকে সচল রাখে এবং শেষ পর্যন্ত মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে।
বন্ধুরা,
গত ১২ বছরে দেশে যে বিশাল মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উত্থান হয়েছে, সরকার তাদের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রাকে সহজ ও আরামদায়ক করে তুলতে সরকার প্রতিটি স্তরে কাজ করেছে। নিজের বাড়ির স্বপ্নের কথাই ধরা যাক। প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবারই নিজের একটি বাড়ির আকাঙ্ক্ষা করে। ২০১৪ সালে কোনও পরিবার যদি বাড়ি কিনতে চাইত, তবে গৃহঋণের সুদের হার ছিল দুই অঙ্কের (১০ শতাংশ বা তার বেশি)। আজ ব্যাংক থেকে ৭-৮ শতাংশ সুদের হারে ঋণ পাওয়া যাচ্ছে। আগে ঋণ পাওয়াটা ছিল যেন কোনও যুদ্ধ জয়ের মতো কঠিন কাজ। আর আজ, ঘরে বসেই তা পাওয়া সম্ভব। দিল্লির মানুষ জানেন, কীভাবে হাজার হাজার শহুরে মধ্যবিত্তের বাড়ি নির্মাণের কাজ মাঝপথে আটকে গিয়েছিল। পরিবারগুলি তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় বিল্ডারদের হাতে তুলে দিয়েছিল, যারা চকচকে প্রচারপত্র আর নানা স্বপ্নের কথা শুনিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাড়িগুলি আর হস্তান্তর করা হয়নি। নিজেদের বাড়ির অপেক্ষায় থাকার পাশাপাশি পরিবারগুলিকে ভাড়াও গুনতে হতো। পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। এই আটকে থাকা প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার জন্য আমরা ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করি। আপনারা জেনে খুশি হবেন যে, সারা দেশে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকা প্রায় ৬০ হাজার বাড়ি এখন হস্তান্তর করা হয়েছে।
বন্ধুরা,
দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে এমন আরেকটি বিষয় হল, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিবহন। আজ সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে তাকালে দেখা যায়, সারা বিশ্বের পর্যটকরা আমাদের মেট্রো ব্যবস্থা দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন।
বন্ধুরা,
২০১৪ সালে প্রতিদিন প্রায় ২৮ লক্ষ মানুষ মেট্রোয় যাতায়াত করতেন। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২৮ লক্ষ মানুষ মেট্রো ব্যবহার করছেন। এখন বন্দে ভারত, নমো ভারত এবং অমৃত ভারতের মতো দ্রুতগতির ট্রেনগুলি সারা দেশকে সংযুক্ত করছে। উন্নত সড়ক ও মহাসড়কের ফলে কেবল সময়-ই সাশ্রয় হচ্ছে না, বরং যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণের খরচও কমেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিমানবন্দরের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে অনেক ছোট শহরের মধ্যবিত্ত মানুষ প্রথমবারের মতো আকাশপথে ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছেন।
বন্ধুরা,
গত ১২ বছরে ভারত কেবল মধ্যবিত্তের আয়ই বাড়ায়নি, বরং তাদের সঞ্চয়ের পরিমাণও বৃদ্ধি করেছে। ২০১৩-১৪ সালে প্রায় ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর কর দিতে হতো এবং মধ্যবিত্তকে সেই বোঝা বহন করতে হতো। বর্তমানে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত। অর্থাৎ, করমুক্ত আয়ের সীমা কয়েক গুণ বেড়েছে।
বন্ধুরা,
জিএসটি সংস্কারও মধ্যবিত্তের জন্য অনেক সুবিধা বয়ে এনেছে। কর জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে, যার ফলে সময় ও অর্থ – উভয়ই সাশ্রয় হচ্ছে। এখন ঘরে বসেই আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যায়।
বন্ধুরা,
মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির জন্য ডায়াবেটিস এবং জীবনযাত্রাজনিত অন্যান্য রোগের চিকিৎসা একটি বড় খরচের বিষয়। ‘জন ঔষধি কেন্দ্র’-গুলিতে এই ধরনের ওষুধ ৮০ শতাংশ ছাড়ে পাওয়া যায়। আগে যেখানে আপনার ১,০০০ টাকা খরচ হত, সেখানে আজ খরচ হয় মাত্র ২০০ টাকা, অর্থাৎ ৮০০ টাকা সাশ্রয় হয়। গত কয়েক বছরে এর ফলে অসংখ্য পরিবারের প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেটের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় হয় বয়স্কদের চিকিৎসার পিছনে। বর্তমানে ৭০ বছরের বেশি বয়সী প্রত্যেক নাগরিক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।
বন্ধুরা,
সুবিধা যখন অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন অতীতের অসুবিধাগুলি ভুলে যাওয়া মানুষের স্বভাব। আগে ২ লক্ষ টাকা আয়ের ওপর কর দিতে হতো; এখন ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত।
বন্ধুরা,
যেমনটা আমি বলেছি, মানুষ পুরনো ভোগান্তি ভুলে যায়। ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্ট পেতে একসময় যে সব ঝক্কি পোহাতে হতো, তা হয়তো আপনাদের আর মনেও নেই। আগে এটা ছিল এক কঠিন লড়াই। আজ ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া অনেক সহজ এবং সাধারণত তিন দিনের মধ্যেই পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়।
বন্ধুরা,
আমি জানি, আমাদের সরকারের কাজের ধরন মানুষের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনও চাহিদা পূরণ হওয়ার সাথে সাথেই মানুষ আরও ভালো বা উন্নত কিছুর প্রত্যাশা করতে শুরু করে। আগে হয়তো নতুন রাস্তার দাবি থাকত; কিন্তু রাস্তা তৈরি হয়ে গেলে তখন প্রশ্ন ওঠে, মেট্রো পরিষেবা কবে আসবে? একসময় প্রত্যাশা ছিল ট্রেন যেন সময়মতো আসে এবং বসার জায়গা যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। আর আজ দাবি ওঠে, আমাদের রুটে কেন ‘বন্দে ভারত’ ট্রেন চলছে না?
বন্ধুরা,
কেউ কেউ বিষয়টিকে অসন্তোষ হিসেবে দেখেন, কিন্তু আসলে এটি হলো আকাঙ্ক্ষা। এমনকি কংগ্রেস দলও প্রতিনিয়ত বলে, “মোদীজি, এটা হওয়া উচিত, ওটা হওয়া উচিত।” তাদের বিশ্বাস, যদি কেউ কোনও কাজ করে দেখাতে পারে, তবে তা এই সরকারই পারবে।
বন্ধুরা,
আকাঙ্ক্ষা কেবল সেখানেই জেগে ওঠে, যেখানে মানুষ বিশ্বাস করে যে, স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। ভারতের যুবসমাজ, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আকাঙ্ক্ষা এটাই। আজ, বিজেপি-এনডিএ সরকারের চালিকাশক্তি হলো এই আকাঙ্ক্ষাই।
বন্ধুরা,
একদিকে দেশের একটি বিশাল অংশ উচ্চাকাঙ্ক্ষী। অন্যদিকে এমন একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী রয়েছে, যাদের জীবনের মূলমন্ত্রই হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘সর্বদা বিরোধিতা’। এই গোষ্ঠীটি সর্বদা এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী অসন্তোষে ভোগে। আমি আপনাদের সামনে এমন কিছু লক্ষণ তুলে ধরছি, যার মাধ্যমে ‘রিপাবলিক টিভি’-র দর্শকরা এদের চিনতে পারবেন। তারা বলবে, “এখানে কেন ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই?” কিন্তু পরদিন তাঁরাই আবার বাঁধ, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বা পারমাণবিক প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবেন। একদিন তাঁরা প্রশ্ন তোলে, কেন বিদ্যুৎ নেই, আবার পরদিন তাঁরাই বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিরোধিতা করেন। এঁরা সেই একই লোক, যাঁরা একসময় খনিজ উত্তোলনের বিরোধিতা করেছিলেন, কিন্তু আজ তাঁরাই জানতে চান, ভারতের ‘রেয়ার আর্থ’ খনিজ ভাণ্ডার ও সরবরাহ ব্যবস্থা কোথায় এবং কেন ভারতের অন্যান্য দেশের মতো ‘ইভি’ বা বৈদ্যুতিক গাড়ির ইকোসিস্টেম নেই। একসময় তাঁরা ‘ডেটা বনাম আটা’ (তথ্যপ্রযুক্তি বনাম খাদ্য) নিয়ে বিতর্ক করতেন, অথচ এখন তাঁরা জানতে চান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্ষেত্রে ভারত কী করেছে। এক নিঃশ্বাসে তাঁরা বলেন যে, এআই-এর আরও উন্নতি হওয়া উচিত ছিল, আবার পরক্ষণেই তাঁরা ডেটা সেন্টার ও সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্টের বিরোধিতা করেন; সোশ্যাল মিডিয়া, টিভি বিতর্ক ও সংবাদপত্রে তাঁরা এর নানাবিধ অসুবিধার ফিরিস্তি তুলে ধরেন।
বন্ধুরা,
দেশের জন্য তাঁদের আসল চরিত্রটি বোঝা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে আমাদের তরুণ সমাজ এবং 'জেনারেশন জেড'-এর উচিত দ্রুত তাঁদের চিনে ফেলা। অন্যথায়, আমি যেমনটা বলি—"সূর্যবংশী এসে গেছে," এবং তিনি দ্রুতই সব বুঝিয়ে দেন।
বন্ধুরা,
এই লোকেরা দাবি করেন যে, সশস্ত্র বাহিনীর স্বাধীনতা এবং অস্ত্রের অভাব রয়েছে। কিন্তু সরকার যখন প্রতিরক্ষা চুক্তি করে বা আধুনিক অস্ত্র কেনে, তাঁরাই প্রথম প্রশ্ন করেন কেন? তাঁরা বিশ্বব্যাপী ভারতের কূটনীতিকে চ্যালেঞ্জ করেন, কিন্তু ভারত যখন কূটনীতি এবং নিরাপত্তার জন্য অবকাঠামো প্রকল্প তৈরি করে, তখন তাঁরা জোরদার প্রতিবাদ করেন।
বন্ধুরা,
এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে, ভারতকে অবশ্যই এই জাতীয় লোকদের চিহ্নিত করতে হবে, তাদের ত্রুটিযুক্ত যুক্তিগুলি বুঝতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে।
বন্ধুরা,
বিশ্ব আজ পুরনো দৃষ্টান্তকে চ্যালেঞ্জ করছে। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জগুলি নতুন সুযোগও নিয়ে আসে। ভারতের প্রতিটি যুবক, উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক এবং স্টার্টআপকে অবশ্যই এই সুযোগগুলিতে জোর করতে হবে। 'নেশন ফার্স্ট' চেতনা নিয়ে সরকার মানুষের পাশে সম্পূর্ণভাবে দাঁড়িয়েছে। ভারত এখন রিফর্ম এক্সপ্রেসে চড়ে। এই গতিবেগ কেবল ত্বরান্বিত হবে। এই রিপাবলিক টিভি প্ল্যাটফর্ম থেকে, আমি আবার বলছি: আমাদের স্বপ্নগুলি বিশাল, এবং আমাদের প্রচেষ্টাও সমানভাবে অপরিসীম হবে। ১৪০ কোটি ভারতীয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টা একটি উন্নত ভারত গড়ে তুলবে। এবং আমি আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি, আপনারা এই উন্নত ভারতকে নিজের চোখে দেখবেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না. এই আত্মবিশ্বাসের সাথে, আমি আবারও রিপাবলিক টিভি, এর দর্শক এবং আপনাদের সকলকে আমার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ!
প্রধানমন্ত্রী মূল ভাষণটি দিয়েছেন হিন্দিতে।
SC/MP/NS….
(रिलीज़ आईडी: 2277029)
आगंतुक पटल : 3