প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
ওড়িশা সরকারের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ময়ূরভঞ্জ জেলার রাইরংপুরে ৪৭,৬০০ কোটি টাকারও বেশি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর
प्रविष्टि तिथि:
20 JUN 2026 4:31PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ২০ জুন ২০২৬
রাষ্ট্রপতি শ্রীমতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ময়ূরভঞ্জ জেলার পাহাড়পুর গ্রাম পরিদর্শন করেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাঁওতালি জহের ও হো জহের নামক পবিত্র উপাসনাস্থল, একটি দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র এবং পাহাড়পুর স্কুলে প্রার্থনা ও পরিদর্শন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এছাড়া, তাঁরা ময়ূরভঞ্জ জেলার রাইরংপুরে ওড়িশা সরকারের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এই অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু ছিল "বিকাশ-এর ধারা, ওড়িশা সারা"। শ্রী মোদী ৪৭,৬০০ কোটিরও বেশি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
ওড়িশার মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন যে, এই রাজ্য বর্তমানে উৎসবের আমেজে রয়েছে; সম্প্রতি 'রজ উৎসব' সমাপ্ত হয়েছে এবং ভগবান জগন্নাথের পবিত্র রথযাত্রা – যার মধ্যে ময়ূরভঞ্জের বিখ্যাত বারিপদা রথযাত্রাও অন্তর্ভুক্ত – তার প্রস্তুতি চলছে। রাজ্যে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ওড়িশার মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "ডবল-ইঞ্জিন সরকার রাজ্যের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করছে এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটাচ্ছে।"
প্রধানমন্ত্রী ওড়িশার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন, সাঁওতালি ভাষার 'অল চিকি' লিপির স্রষ্টা পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু, ডঃ দময়ন্তী বেসরা এবং শ্রী চরণ হেমব্রম। তিনি সাঁওতালি ভাষা ও সংস্কৃতির প্রচার ও সংরক্ষণে ভারত সরকারের বিভিন্ন প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে ওয়ালা সাঁওতালি ভাষায় ভারতের সংবিধানের সংস্করণ প্রকাশও।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে শ্রী মোদী বলেন, ময়ূরভঞ্জের মাটি থেকে উঠে এসে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তাঁর আসীন হওয়া ওড়িশা তথা গোটা দেশের কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি রাষ্ট্রপতির জনসেবার প্রতি নিষ্ঠা, বিনম্রতা এবং জাতি গঠনে তাঁর অঙ্গীকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পাহাড়পুর সফরের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "রাষ্ট্রপতি মুর্মুর প্রেরণাদায়ক উপস্থিতি শিশুদের - বিশেষ করে উপজাতি, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের - মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলছে।" এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান যে, পাহাড়পুর গ্রামটিকে একটি 'সোলার ভিলেজ' বা সৌর-গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে প্রতিটি বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সুনিশ্চিত করা যায়। ওড়িশার কোনার্কের বিখ্যাত সূর্য মন্দিরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পাহাড়পুর সমগ্র দেশের জন্য সৌরশক্তি চালিত একটি আদর্শ গ্রাম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির নেতৃত্বে ওড়িশা সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, এই রাজ্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে। তিনি "ভারতের উন্নয়নের জন্য পূর্ব ভারতের উন্নয়ন" - কেন্দ্রীয় সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, "পূর্বোদয়" নীতি পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সহায়তা করছে। শ্রী মোদী উল্লেখ করেন, "রেল পরিকাঠামো, মহাসড়ক, অর্থনৈতিক করিডোর, বন্দর, শক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, সবুজ শক্তি এবং আধুনিক শিল্পক্ষেত্রে রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগের মাধ্যমে এই শক্তিগুলিকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, "প্রায় ৪৭,০০০ কোটি টাকার প্রকল্পগুলি ওড়িশার মানুষের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা, জনসেবা, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং জীবনযাত্রার মানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাবে। ওড়িশা পূর্ব ভারতে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির প্রবেশদ্বার হিসেবে উঠে আসছে এবং ভারতের একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার যাত্রাপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন যে, সরকার ওড়িশার প্রচুর সম্পদকে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির সুযোগে রূপান্তরিত করছে। তিনি উৎকর্ষ ওড়িশার মতো উদ্যোগগুলিকে তুলে ধরেন, যার লক্ষ্য ছিল, বড় আকারের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং রাজ্য জুড়ে শিল্প বিকাশকে উৎসাহিত করা। "উদ্যোগের অধীনে, ওড়িশা ইতিমধ্যেই প্রায় ₹20 লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে, ৩.৫ লক্ষ কোটির বেশি কিছু মেগা প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে", বলেন শ্রী মোদী।
প্রধানমন্ত্রী জানান যে, বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে ৬,০০০ কোটিরও বেশি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে, অন্যদিকে সমৃদ্ধ শহর প্রকল্পের মাধ্যমে নগর উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। তিনি আস্থা প্রকাশ করে বলেন যে, এই উদ্যোগগুলি সামনের বছরগুলিতে উল্লেখযোগ্য ফলাফল দেবে।
শ্রী মোদী ওড়িশা সরকারের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কল্যাণমূলক উদ্যোগ তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে কৃষকদের জন্য প্রতি কুইন্টাল ৩.১০০ হারে ধান সংগ্রহ, সুভদ্রা যোজনার অধীনে এক কোটিরও বেশি মহিলাকে আর্থিক সহায়তা, স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণে আয়ুষ্মান ভারত বাস্তবায়ন প্রভৃতি। তিনি "পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে স্বাগত"-র উদ্যোগকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে বর্ণনা করে সাম্প্রতিক পরিচ্ছন্নতা অভিযানের প্রশংসা করেন।
আদিবাসী কল্যাণের কথা বলতে গিয়ে, প্রধানমন্ত্রী মোদি উপজাতীয় অঞ্চলের সঙ্গে তার দীর্ঘ যোগাযোগের কথা স্মরণ করেন এবং উপজাতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বছরের সেবার কথা স্বীকার করেন। "উপজাতীয় এলাকাগুলি ঐতিহাসিকভাবে মৌলিক পরিষেবা এবং পরিকাঠামো থেকে বঞ্চিত ছিল, আদিবাসী উন্নয়নকে তাঁর সরকার সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ধরতী আবা জনজাতীয় গ্রাম উৎকর্ষ অভিযান, যার অধীনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, রাস্তা এবং আবাসন সংক্রান্ত বিভাগগুলি আদিবাসী গ্রামগুলিতে জীবনযাত্রার অবস্থার উন্নতির জন্য সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করছে", বলেন শ্রী মোদী।
আদিবাসী যুবকদের জন্য শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন যে, ইতিমধ্যে সারা দেশে প্রায় ৫০০টি একলব্য মডেল আবাসিক স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, প্রায় ৭৫০টি স্কুল অনুমোদিত হয়েছে। প্রাক-ম্যাট্রিক এবং পোস্ট-ম্যাট্রিক স্তরে ১.৫ কোটিরও বেশি আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রী কয়েকশো কোটি টাকার বৃত্তি পেয়েছে। শ্রী মোদী আরও ঘোষণা করেন যে, ময়ূরভঞ্জ জেলায় একটি অতিরিক্ত জহর নবোদয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি সিকল সেল অ্যানিমিয়ার মতো রোগের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, "সরকার রোগের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রচার শুরু করেছে, চার কোটিরও বেশি স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ করেছে, এবং বিনামূল্যে চিকিৎসার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে লক্ষ লক্ষ আদিবাসী সুবিধাপ্রাপককে আয়ুষ্মান কার্ড প্রদান করেছে। এছাড়াও জল জীবন মিশন আদিবাসী অঞ্চল সহ সারা দেশে পরিবারগুলিতে নিরাপদ পানীয় জল নিয়ে আসছে।"
প্রধানমন্ত্রী আগামী দিনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উল্লেখ করেছেন: ২০৩৬ সালে ওড়িশার গঠনের ১০০ তম বার্ষিকী এবং ২০৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার ১০০ তম বার্ষিকী৷ "ওড়িশার আকাঙ্খা এবং ভারতের আকাঙ্ক্ষাগুলি একত্রিত হয়েছে", বলেন তিনি।
শ্রী মোদী মনে করিয়ে দেন যে, ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করা হবে। ওড়িশাকে তিনি জ্ঞান এবং যোগ ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি রাজ্য হিসাবে আখ্যা দেন। তিনি ভারত এবং সারা বিশ্বের মানুষের কাছে যোগ দিবসে বিপুল সংখ্যায় অংশগ্রহণ করার জন্য এবং যোগব্যায়ামকে জীবনের একটি পথ হিসেবে গ্রহণ করার জন্য আবেদন করেন।
SC/MP/AS
(रिलीज़ आईडी: 2275813)
आगंतुक पटल : 7
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें:
English
,
Urdu
,
हिन्दी
,
Marathi
,
Manipuri
,
Gujarati
,
Odia
,
Odia
,
Telugu
,
Kannada
,
Malayalam