এমআইএফএফ (MIFF) ২০২৬-এ ভারতের আলোকচিত্র ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের গুণীজনদের প্রতি তথ্যচিত্রের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হল
মুম্বই, ১৯ জুন ২০২৬
আজ ১৯তম মুম্বই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (MIFF) হোমেজ (Homage) বা শ্রদ্ধা নিবেদন বিভাগে ‘রঘু রাই: হিয়ারিং থ্রু দ্য আইজ’ (Raghu Rai: Hearing Through the Eyes) এবং ‘তাল অ্যান্ড রিদম – মৃদঙ্গম প্লেড বাই পালঘাট রঘু’ (Tala and Rhythm – Mridangam Played by Palghat Raghu) নামক দুটি প্রশংসিত তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। এই প্রদর্শনীগুলির মাধ্যমে আলোকচিত্র, চলচ্চিত্র এবং ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত ‘রঘু রাই: হিয়ারিং থ্রু দ্য আইজ’ ভারতের বিখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাইয়ের জীবন ও কাজের ওপর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। আলোকচিত্র এবং ব্যক্তিগত ভাবনার মাধ্যমে তথ্যচিত্রটি তাঁর সৃজনশীল যাত্রা এবং তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে রূপ দেওয়া অভিজ্ঞতাগুলিকে তুলে ধরে। ১৯৭৭ সালে, কিংবদন্তি আলোকচিত্রী অঁরি কার্তিয়ে-ব্রেসোঁ দ্বারা রাই ম্যাগনাম ফটোজ (Magnum Photos)-এর জন্য মনোনীত হয়েছিলেন।
চলচ্চিত্রটি রাইয়ের "দর্শন" ভাবনার অন্বেষণ করে, যেটিকে তিনি বিষয়ের সঙ্গে একটি মানসিক ও আধ্যাত্মিক সংযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, আলোকচিত্রের কাজ কেবল ছবি তোলা নয়, বরং মানুষ এবং তাদের আবেগকে বোঝা।
তথ্যচিত্রটি রাইয়ের ক্যামেরায় বন্দি হওয়া প্রধান ঐতিহাসিক ঘটনাগুলিকে পুনর্বিবেচনা করে এবং মাদার টেরেসার মতো ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি গণেশ বিসর্জন, তাজমহল ও নাগা সাধুসহ দৈনন্দিন জীবনের তাঁর আইকনিক আলোকচিত্রগুলি প্রদর্শন করে, যা ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে।
চলচ্চিত্রটিতে তাঁর কন্যা, চলচ্চিত্র নির্মাতা অবনী রাইও রয়েছেন, যাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ক্যামেরার পেছনের মানুষটিকে জানার সুযোগ করে দেয় এবং ছবি-নির্মাতাদের দুটি প্রজন্মের মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি করে।
সৃজনশীলতার বিষয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করে রঘু রাই বলেন যে, ভালোবাসাই হলো সেই মূল সূত্র যা শৈল্পিক অভিব্যক্তিকে সংযুক্ত করে। তিনি বিশ্বাস করেন যে একটি আলোকচিত্রের নিজের কথা নিজেরই বলা উচিত এবং তিনি একটি ছবিকে একটি অর্থপূর্ণ মুহূর্তে মানুষের ভেতরের ও বাইরের জগতের মিলন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি তরুণ আলোকচিত্রীদের এই মাধ্যমের ক্ষেত্রে নিজেদের নিজস্ব কণ্ঠস্বর ও দৃষ্টিভঙ্গি খুঁজে নিতেও উৎসাহিত করেন।
আজ প্রদর্শিত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘তাল অ্যান্ড রিদম – মৃদঙ্গম প্লেড বাই পালঘাট রঘু’ ভারতের ফিল্মস ডিভিশন দ্বারা প্রযোজিত এবং খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। তথ্যচিত্রটি কর্ণাটকী সঙ্গীতের অন্যতম প্রাচীন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পারকাশন বা তালবাদ্য যন্ত্র ‘মৃদঙ্গম’ নিয়ে অন্বেষণ করে।
বিখ্যাত তালবাদ্য শিল্পী পালঘাট রঘুকে তুলে ধরে, চলচ্চিত্রটি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তাল (ছন্দময় চক্র) এবং রিদম বা লয়ের ধারণাগুলি ব্যাখ্যা করে। বিভিন্ন প্রদর্শনী এবং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এটি দর্শকদের বিট বা মাত্রা, চক্র এবং তাৎক্ষণিক সুর সৃষ্টির (improvisation) কাঠামোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়, যা এই সঙ্গীত ঐতিহ্যের ভিত্তি তৈরি করে।
তথ্যচিত্রটি মৃদঙ্গম বাজানোর সঙ্গে জড়িত কৌশলগুলিও প্রদর্শন করে, যার মধ্যে আঙুলের সঞ্চালন, টোনের তারতম্য এবং ছন্দের বিন্যাস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি এই বাদ্যযন্ত্রে পারদর্শী হওয়ার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, অনুশীলন এবং সৃজনশীলতার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করে।
সঙ্গীত তত্ত্বের অন্বেষণের পাশাপাশি, চলচ্চিত্রটি সেই সমৃদ্ধ মৌখিক ঐতিহ্যের ওপর জোর দেয় যার মাধ্যমে জ্ঞান শিক্ষকের কাছ থেকে ছাত্রের কাছে স্থানান্তরিত হয়। এটি গুরু ও শিষ্যের মধ্যকার সুদৃঢ় বন্ধনকে প্রতিফলিত করে যা বহু প্রজন্ম ধরে ভারতের শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
শ্রদ্ধা নিবেদন বিভাগে উভয় তথ্যচিত্রের এই প্রদর্শনী দর্শকদের খ্যাতনামা গুণীজনদের জীবন ও অবদান সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি লাভের সুযোগ করে দিয়েছে, এবং একই সঙ্গে ভারতের শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি তাদের প্রশংসা আরও গভীর করেছে।
*****
PS/Agt
रिलीज़ आईडी:
2275299
| Visitor Counter:
7