প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের সুরাটে ১৮,৮০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেছেন
प्रविष्टि तिथि:
05 JUN 2026 8:25PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ০৫ জুন ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ গুজরাটের সুরাটে বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেছেন। এক জনসভায় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী গুজরাটের জনগণের অবিরাম সমর্থনের জন্য তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শ্রী মোদী বলেন, "স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনের পর এই প্রথম আমি সুরাট সফরে এলাম। সুরাট থেকেই আমি সমগ্র গুজরাটের জনগণকে অভিবাদন ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।"
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুরাট ও নবসারির বহু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, গুজরাটের জনগণ সেবার মনোভাবকেই অনুমোদন দিয়েছে। এই বিশাল জয় যে সেবার ব্রতকে আরও প্রসারিত করার এক ম্যান্ডেট বা জনগণের রায়, সে বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি সকল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে আরও কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানান। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর তিনি জোর দেন। শ্রী মোদী বলেন, "আমাদের সংকল্প হলো একটি 'বিকশিত গুজরাট' ও 'বিকশিত ভারত' গড়ে তোলা। দেশের প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি জেলা ও প্রতিটি শহরের উন্নয়নের মাধ্যমেই কেবল এই সংকল্প পূরণ করা সম্ভব।"
পরিবেশ দিবসে এই অনুষ্ঠানের আয়োজনের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ই জুন দেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন শহর সুরাটে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি গর্ববোধ করছেন। একসময়ে প্লেগ মহামারীতে আক্রান্ত সুরাট শহরটি বর্তমানে পরিচ্ছন্নতার জন্য স্বীকৃতি পাওয়ার রূপান্তরের কথা স্মরণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জনগন, আধিকারিক, কর্মী ও জনপ্রতিনিধি সহ সংশ্লিষ্ট সকলের গত আড়াই দশকের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। শ্রী মোদী বলেন, "এটি অত্যন্ত গর্বের বিষয় যে, যে সুরাট একসময় প্লেগ মহামারীতে আক্রান্ত হয়েছিল, আজ তা পরিচ্ছন্নতার জন্য স্বীকৃতি পাচ্ছে।"
সবুজ ভবিষ্যতের দিকে বিশ্বব্যাপী রূপান্তরের ক্ষেত্রে গুজরাটের অগ্রণী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালে ভারতের প্রথম 'জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগ' এবং ঐতিহাসিক 'চারণকা সোলার পার্ক' স্থাপনের ক্ষেত্রে রাজ্যটির দূরদর্শিতার কথা স্মরণ করেন। কীভাবে সুরাট 'প্রকৃতি ও অগ্রগতির মধ্যে ভারসাম্য' বজায় রাখার জাতীয় মন্ত্রকে সার্থকভাবে বাস্তবায়িত করছে সেই কথা উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে উদ্ভাবনী 'সার্কুলার ওয়াটার ইকোনমি', শিল্পকারখানায় ব্যবহারের জন্য বর্জ্য জল শোধন এবং গত বারো বছর ধরে চলা দেশব্যাপী 'বর্জ্য থেকে সম্পদ' তৈরির আন্দোলন। ভবিষ্যতের পানীয় জল ও নিকাশি ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে 'তাপী ব্যারেজ প্রকল্প'-এর অনুমোদনের বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন। তিনি সুরাটে বৈদ্যুতিক পরিবহনের দ্রুত প্রসার, ক্রমবর্ধমান মেট্রো নেটওয়ার্ক এবং সম্পূর্ণ নবীকরনযোগ্য শক্তিতে চালিত হাজিরা শিল্পাঞ্চলের আসন্ন 'গ্রিন স্টিল' উৎপাদনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। শ্রী মোদী বলেন, "বাসগুলোকে বৈদ্যুতিক করা থেকে শুরু করে সবুজ শক্তি ব্যবহার করে ইস্পাত উৎপাদন - এই সমস্ত পদক্ষেপ সুরাটকে 'সত্যিকারের সবুজ শহর' হিসেবে গড়ে ওঠার স্বতন্ত্র পরিচিতিকে আরও শক্তিশালী করবে।"
অতিমারী, বিশ্বব্যাপী সংঘাত এবং অস্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলোকে 'বিপর্যয়ের দশক' হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী এই বিশাল আন্তর্জাতিক ধাক্কাগুলো দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করার জন্য ১৪০ কোটি ভারতবাসীর প্রশংসা করেন। ভারতের জ্বালানি স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে গুজরাটের বিশাল অবদানের কথা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে, দেশের মোট ২৫০ গিগাওয়াট নবীকরনযোগ্য শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতার এক-পঞ্চমাংশ (৫০ গিগাওয়াট) এই রাজ্যেই উৎপাদিত হয় এবং 'গ্রিন হাইড্রোজেন' ও 'গ্রিন অ্যামোনিয়া'-র মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য রাজ্যটি প্রস্তুত। গত বারো বছরে গড়ে ওঠা জ্বালানি সক্ষমতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে তিনি সৌরশক্তি, ইথানল মিশ্রণ, রেলপথের বৈদ্যুতিকীকরণ, পারমাণবিক শক্তি, আধুনিক বিদ্যুৎ সঞ্চালন নেটওয়ার্ক এবং গ্যাস পাইপলাইন ও বন্দর-ভিত্তিক সংরক্ষণ ক্ষমতার ব্যাপক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক বিনিয়োগের কথা তুলে ধরেন। শ্রী মোদী বলেন, "চলমান এই আন্তর্জাতিক সংকট প্রমাণ করে যে জ্বালানির ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা কতটা অপরিহার্য; আর গত বারো বছরে দেশ যে বিশাল সক্ষমতা গড়ে তুলেছে, তা আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।"
এই অনুষ্ঠানের আগে হাজিরা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এই অঞ্চলটিকে কেবল একটি শিল্প এলাকা হিসেবে নয়, বরং শক্তি, ইস্পাত, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং বিশ্ব সামুদ্রিক বাণিজ্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি সামগ্রিক ও সমৃদ্ধ ‘ইকোসিস্টেম’বা পরিমণ্ডল হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি এই সামুদ্রিক-শিল্প কেন্দ্রটিকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের এক জীবন্ত নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি দেশের যে হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠীর আত্মনির্ভরতার এই প্রচেষ্টাকে উপহাস করে এবং ঐতিহাসিকভাবে দেশকে বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরশীল করে রেখেছিল তাদের সমালোচনা করেন। শ্রী মোদী বলেন, “যারা ক্রমাগত দেশের সংকল্পকে ছোটো করে দেখে, তারা ভুলে যায় যে অন্যের ওপর নির্ভরশীল কোনো দেশ কখনোই তাদের দাবি মত উন্নয়নের উচ্চ শিখরে পৌঁছাতে পারে না।”
আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর সরকারের বিশেষ গুরুত্বের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারে ‘ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর’, বুলেট ট্রেন এবং ভাদোদরা-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ের নতুন উদ্বোধন করা অংশের মতো মেগা-প্রকল্পগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে, এই পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রচেষ্টা মূলত সর্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। ‘দাহোদ-বোদেলি-ভাপি’ করিডোরের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে এটি অতীতে সুবিধা থেকে বঞ্চিত আদিবাসী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে। ছোট উদয়পুর, নর্মদা, ভারুচ এবং তাপীর মতো আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণের ফলে একদিকে যেমন যাতায়াতের সময় ও পণ্য পরিবহনের খরচ কমছে, তেমনি ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ ও ‘সাপুতারা’-র মতো গন্তব্যগুলোতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যটনের অভূতপূর্ব সুযোগও তৈরি হচ্ছে। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমাদের আদিবাসী ও গ্রামীণ এলাকায় আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করছি যে তারা যেন শিক্ষা, চিকিৎসা এবং উন্নত আয়ের সুযোগ-সুবিধার মতো চমৎকার সব সুবিধা পায়।”
অন্য রাজ্য থেকে আসা শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে সুরাটে একটি আধুনিক ইএসআইসি হাসপাতালের উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের এই মাইলফলকগুলোকে সরকারের প্রতি দেশের জনগণের অব্যাহত বিপুল আস্থার সঙ্গে যুক্ত করেন। সবশেষে তিনি ভারতীয় জনগনের অসীম আশাবাদী মনোভাবের প্রশংসা করেন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নত দেশ গঠনে জনগণের সম্মিলিত শক্তির ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন। শ্রী মোদী বলেন, “ভারত এমন একটি দেশ যা অবিশ্বাস্য আকাঙ্ক্ষা ও অসীম আশায় পরিপূর্ণ। আর দেশের জনশক্তি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হলে আমরা অর্জন করতে পারি না এমন কোনো লক্ষ্য থাকে না।”
SC/PM/AS
(रिलीज़ आईडी: 2269821)
आगंतुक पटल : 2