PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

জনগণনা ২০২৭: ভারতের প্রথম ডিজিটাল গণনা প্রক্রিয়া

প্রকাশিত: 25 APR 2026 10:33AM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

 

মূল বিষয়বস্তু

জনগণনা ২০২৭ হবে ভারতের প্রথম ডিজিটাল গণনা, যেখানে মোবাইল-ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে দ্রুত এবং অধিক কার্যকরভাবে দেশব্যাপী তথ্য উপলব্ধ করা হবে।

রাজনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি ৩০ এপ্রিল ২০২৫-এর বৈঠকে জনগণনা ২০২৭-এ জাতিগত গণনা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

মোট ₹১১,৭১৮.২৪ কোটি টাকার বরাদ্দ এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ, প্রি-টেস্ট বা পূর্ব পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি-সহ বিস্তৃত পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে দেশজুড়ে নির্বিঘ্ন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়।

ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন স্ট্রাকচার (CII) বা সংবেদনশীল তথ্যের বিন্যাস স্বীকৃত ডেটা সেন্টার এবং বৃহৎ কর্মীবাহিনীর সহায়তায় জনগণনা ২০২৭ নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদান করবে, যা লক্ষ্যভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি প্রণয়নে সহায়ক হবে।

ভূমিকা

জনগণনা দেশের সকল মানুষের জনসংখ্যা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহ, সংকলন, বিশ্লেষণ এবং প্রচারের একটি প্রক্রিয়া। জনগণনা থেকে প্রাপ্ত তথ্য পরিকল্পনাকারী, প্রশাসক, গবেষক এবং অন্যান্য তথ্য ব্যবহারকারীদের জন্য অন্যতম সমৃদ্ধ তথ্যভান্ডার।

এটি শাসন ব্যবস্থার একটি মৌলিক ভিত্তি হিসাবে কাজ করে এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সম্ভব করে তোলে। জনগণনার তথ্য এমন নীতি প্রণয়নে সহায়তা করে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক, লক্ষ্যভিত্তিক এবং জনগণের বৈচিত্র্যময় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

২০২৭-এর জনগণনা ভারতের ১৬-তম জনগণনা এবং স্বাধীনতার পর অষ্টম। এটি বিশ্বের বৃহত্তম জনগণনা কার্যক্রম হিসাবে পরিচালিত হতে চলেছে এবং ডিজিটাল একীকরণ, শক্তিশালী তথ্য সুরক্ষা এবং প্রক্রিয়ার সরলীকরণের মাধ্যমে তথ্যভিত্তিক নীতি প্রণয়নকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা যায়।

এই জনগণনায় মোবাইল-ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ, জনগণনা ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (CMMS) পোর্টালের মাধ্যমে প্রায় তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, স্ব-গণনার বিকল্প ব্যবস্থা এবং ভূ-তথ্যভিত্তিক প্রশাসনিক সীমারেখার ব্যবহার-সহ একাধিক নতুন বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জনসংখ্যা গণনার পর্যায়ে জাতিগত গণনাও সম্পন্ন করা হবে।

ভারতের জনগণনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ভারতের জনগণনা বিশ্বের বৃহত্তম প্রশাসনিক এবং পরিসংখ্যানগত কার্যক্রম হিসাবে বিকশিত হয়েছে। প্রথম জনসংখ্যা গণনা পরিচালিত হয় ১৮৬৫–১৮৭২ সময়কালে এবং ১৮৮১ সালে প্রথম সারা দেশে সমন্বিত জনগণনা অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর থেকে প্রতি ১০ বছর অন্তর জনগণনা পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে, ২০২১ সালে নির্ধারিত জনগণনা কোভিড-১৯ অতিমারীর কারণে নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

২০২৭-এর জনগণনা এই ধারাবাহিকতার পরবর্তী অধ্যায় এবং এটি হবে ভারতের মোট ১৬-তম এবং স্বাধীনতার পর অষ্টম জনগণনা।

জনগণনা ২০২৭-এর প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত কাঠামো

জনগণনা ২০২৭ একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে, যা তথ্য সংগ্রহে সামঞ্জস্য, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সর্বজনীন একরূপতা নিশ্চিত করে।

সংবিধানের সপ্তম তফসিলের (ক্রমিক সংখ্যা ৬৯) অধীনে জনগণনা একটি কেন্দ্রীয় বিষয়। ফলে, এটি কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত হলেও রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হয়, যা বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে নির্বিঘ্ন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে।

এই কাঠামো ব্যক্তিগত তথ্যের কঠোর গোপনীয়তাও নিশ্চিত করে। জনগণনা আইনের ধারা ১৫ অনুযায়ী, নাগরিকদের প্রদত্ত ব্যক্তিগত তথ্য সম্পূর্ণ গোপনীয়, এটি RTI আইনের আওতায় প্রকাশ করা যায় না, আদালতে প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করা যায় না এবং কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগ করা যায় না।

দ্বি-পর্যায়ভিত্তিক গণনা পদ্ধতি ও সময়সূচি

জনগণনা ২০২৭ সারা দেশে সুসংগঠিত এবং বিস্তৃত তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করতে দুইটি পর্যায়ে পরিচালিত হবে।

প্রথম পর্যায়: গৃহতালিকা ও আবাসন গণনা (HLO)
এটি এপ্রিল থেকে ২০২৬-এর সেপ্টেম্বর-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রশাসনিক সুবিধা অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে এই কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এর আগে ১৫ দিনের একটি স্ব-গণনার সুযোগ থাকবে।

এই পর্যায়ে আবাসনের অবস্থা, মৌলিক সুবিধা এবং পরিবারের সম্পদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং পরবর্তী পর্যায়ের জন্য ভিত্তি তৈরি করা হবে।

দ্বিতীয় পর্যায়: জনসংখ্যা গণনা (PE)

এটি ২০২৭-এর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে ব্যক্তির জনমিতি, সামাজিক-অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অভিবাসন এবং প্রজনন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

রাজনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি-র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই পর্যায়ে জাতিগত গণনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের তুষারাবৃত এলাকাগুলিতে এই পর্যায় ২০২৬-এর  সেপ্টেম্বরে সম্পন্ন হবে।

জনসংখ্যা গণনার নির্দিষ্ট তারিখ এবং প্রশ্নাবলী যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।

গৃহতালিকা ও আবাসন গণনা সংক্রান্ত প্রশ্নাবলী

সরকার ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রথম পর্যায় তথা গৃহতালিকা ও আবাসন গণনা পর্যায়ের জন্য একটি বিস্তৃত প্রশ্নমালা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেছে।

জনগণনা ২০২৭-এর জন্য নির্ধারিত রেফারেন্স সময় হল-২০২৭-এর  ১ মার্চ, রাত ০০:০০টা। লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত এলাকাগুলির ক্ষেত্রে এই রেফারেন্স সময় হবে এ বছরের ১ অক্টোবর, রাত ০০:০০টা। এই নির্দিষ্ট সময়কে “সেন্সাস মোমেন্ট” বলা হয়।

জনগণনা ২০২৭-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য

জনগণনা ২০২৭-এ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা গণনা প্রক্রিয়ার নির্ভুলতা, দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং গতি বৃদ্ধি করবে। এই উদ্যোগগুলি জনগণনা কার্যক্রমকে আধুনিকীকরণ করবে এবং তথ্যভিত্তিক নীতি প্রণয়নের জন্য আরও বিস্তৃত ও সময়োপযোগী জনমিতিক তথ্য প্রদান করবে।

জাতিগত গণনা

জাতিগত গণনা জনগণনা ২০২৭-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ২০১১ সালের জনগণনা পর্যন্ত শুধুমাত্র তফসিলি জাতি (SC) এবং তফসিলি উপজাতি (ST)-এর গণনাই নিয়মিতভাবে করা হতো। তবে, রাজনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি-র ৩০ এপ্রিল ২০২৫-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জনগণনা ২০২৭-এ পূর্ণাঙ্গ জাতিগত গণনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রথমবার ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা

জনগণনা ২০২৭ হবে ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল জনগণনা। এর সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকার ইতিমধ্যেই বিস্তৃত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

জনগণনা ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (CMMS) পোর্টাল

এই উদ্যোগের অংশ হিসাবে জনগণনা ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (CMMS) নামে একটি বিশেষ পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে, যা প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ জনগণনা প্রক্রিয়া পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবে।

উপ-জেলা, জেলা, রাজ্য এবং জাতীয় স্তরের আধিকারিকরা একটি সমন্বিত ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে গণনার অগ্রগতি, ক্ষেত্রস্তরের কর্মদক্ষতা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

গৃহতালিকা ও আবাসন গণনা (HLO) মোবাইল অ্যাপ

এটি একটি নিরাপদ অফলাইন অ্যাপ, যার মাধ্যমে গণনাকারীরা গৃহতালিকা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং আপলোড করতে পারবেন। এই অ্যাপটি শুধুমাত্র CMMS পোর্টালে নিবন্ধিত ব্যবহারকারীদের জন্য প্রযোজ্য।

এটি ক্ষেত্র থেকে সরাসরি সার্ভারে তথ্য প্রেরণের সুবিধা প্রদান করে, ফলে, কাগজপত্রের প্রয়োজনীয়তা দূর হয়। অ্যাপটি Android এবং iOS প্ল্যাটফর্মে ১৬টি আঞ্চলিক ভাষায় কার্যকর হবে।

হাউসলিস্টিং ব্লক ক্রিয়েটার (HLBC) ওয়েব ম্যাপিং অ্যাপ

জনগণনা ২০২৭-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন - HLB ক্রিয়েটার ওয়েব ম্যাপিং অ্যাপ্লিকেশন, যেটি চার্জ অফিসাররা ব্যবহার করবেন।

এই অ্যাপ স্যাটেলাইট চিত্রের সাহায্যে ডিজিটালভাবে গৃহতালিকা ব্লক তৈরি করতে সহায়তা করবে, যার মাধ্যমে দেশজুড়ে ভৌগোলিক আওতা নিশ্চিত হবে এবং কোনো এলাকা বাদ পড়া বা পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা কমবে।

স্ব-গণনা পোর্টাল

গৃহভিত্তিক গণনার আগে ১৫ দিনের একটি স্ব-গণনা সময়সীমা রাখা হয়েছে।

স্ব-গণনা পোর্টাল একটি নিরাপদ ওয়েব-ভিত্তিক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে পরিবারের উপযুক্ত সদস্যরা নিজে থেকেই অনলাইনে তথ্য জমা দিতে পারবেন।

সফলভাবে তথ্য জমা দেওয়ার পর একটি স্বতন্ত্র
 Self-Enumeration ID (SE ID) তৈরি হবে। এই SE ID গণনাকারীকে প্রদান করলে তিনি সেই তথ্য যাচাই করতে পারবেন।

স্বল্পতম সময়ে জনগণনা সম্পন্ন করার লক্ষ্য

তথ্য সংগ্রহ থেকে প্রক্রিয়াকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে প্রযুক্তির ব্যবহার করে জনগণনার তথ্য দ্রুততম সময়ে উপলব্ধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি, জনগণনার ফলাফল আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপনের জন্য উন্নত ভিজ্যুয়ালাইজেশন টুল ব্যবহারের-ও পরিকল্পনাও রয়েছে।

নির্বিঘ্ন বাস্তবায়নের জন্য সমন্বিত প্রস্তুতি কাঠামো

গণনা কার্যক্রমের জন্য একটি স্থিতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করতে ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রশাসনিক এককগুলি স্থির করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের জন্য প্রায় ৫,০০০টি জনগণনা ব্লক জুড়ে একটি দেশব্যাপী প্রি-টেস্ট নভেম্বর ২০২৫-এ পরিচালিত হয়, যার মাধ্যমে পদ্ধতি, ডিজিটাল টুল এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে।

সমন্বয় ও তদারকি জোরদার করতে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মুখ্য সচিব, রাজ্য নোডাল আধিকারিক এবং জনগণনা আধিকারিকদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা ও চার্জ স্তরে জনগণনা কর্মীদের নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়াও, দেশজুড়ে একরূপ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ১৯টি ভাষায় বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা বিস্তৃত গাইডলাইন ও সার্কুলার দ্বারা সমর্থিত।

পাশাপাশি, একটি সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে, যা ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ এবং নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। এর ফলে, জনগণনা কার্যক্রমের সামগ্রিক প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক দক্ষতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

শক্তিশালী তথ্য সুরক্ষা ও গোপনীয়তা কাঠামো

জনগণনা ২০২৭-এর জন্য একটি বহুস্তরীয় এবং সমন্বিত তথ্য সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে প্রতিটি পর্যায়ে তথ্যের অখণ্ডতা এবং গোপনীয়তা নিশ্চিত থাকে।

তথ্য সংগ্রহ, প্রেরণ এবং সংরক্ষণের প্রতিটি ধাপে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ব্যবহৃত হচ্ছে, সঙ্গে রয়েছে নিরাপদ ডেটা ট্রান্সমিশন প্রোটোকল, যা অননুমোদিত প্রবেশ রোধ করে।

তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে স্বীকৃত এবং নিরাপদ ডেটা সেন্টারে, যেগুলিকে সমালোচনামূলক তথ্য পরিকাঠামো (CII) হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, ফলে, উচ্চমানের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই ব্যবস্থাগুলি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ISO/IEC 27001:2022 মানদণ্ড অনুসরণ করে এবং নিয়মিতভাবে স্বনামধন্য সংস্থার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিরীক্ষার আওতায় থাকে।

এই সমস্ত ব্যবস্থার সম্মিলিত প্রয়োগ জনগণনা কার্যক্রমের জন্য একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল তথ্য পরিবেশ নিশ্চিত করে।

সক্ষমতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ প্রস্তুতি

মানবসম্পদ প্রস্তুতি জনগণনা ২০২৭-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি, এবং এই লক্ষ্যে বিস্তৃত প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রায় ৩১ লক্ষ গণনাকারী ও তদারককারী, এবং ১ লক্ষেরও বেশি জনগণনা কর্মীকে এই কার্যক্রমে নিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের দক্ষ করে তুলতে প্রতিটি পর্যায়ে ৮০,০০০-এর বেশি প্রশিক্ষণ ব্যাচ পরিচালনা করা হচ্ছে, যা পর্যায়-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ মডিউল দ্বারা সমর্থিত।

এই সংগঠিত পদ্ধতির মাধ্যমে জনগণনা প্রক্রিয়ায় তথ্যের মান, নির্ভুলতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হবে।

জনগণনা ২০২৭ সফলভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় স্তরে প্রায় ১৮,৬০০ জন প্রযুক্তিগত কর্মী প্রায় ৫৫০ দিন ধরে কাজ করবেন। এর ফলে, প্রায় ১.০২ কোটি মানব-দিবস কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

উপসংহার: ভবিষ্যৎ শাসনের ভিত্তি হিসাবে জনগণনা

জনগণনা শাসন ব্যবস্থার একটি মৌলিক ভিত্তি হিসাবে কাজ করে, যা তথ্যভিত্তিক নীতি প্রণয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য ও বিস্তৃত তথ্য সরবরাহ করে।

এটি জনসংখ্যার প্রবণতার সঠিক মূল্যায়ন করতে সহায়তা করে এবং খাদ্য, জল, শক্তি ও পরিকাঠামোর মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর পরিকল্পনা নিশ্চিত করে। স্থানীয় স্তরে সূক্ষ্ম তথ্য প্রদান করে এটি সরকারি প্রকল্পগুলির লক্ষ্যভিত্তিক বাস্তবায়ন এবং সম্পদের যথাযথ বণ্টন নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

আসন্ন জনগণনা ২০২৭ এই কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে, কারণ, এটি হালনাগাদ এবং বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করবে। এর ফলে, দ্রুত পরিবর্তনশীল সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও নির্ভুল ও তথ্যনির্ভর পরিকল্পনা গ্রহণ সম্ভব হবে।

তথ্যসূত্র

Click here to see pdf 


***

SSS/SS....


(রিলিজ আইডি: 2255958) ভিজিটরের কাউন্টার : 139
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Nepali , Punjabi , Gujarati , Kannada , Malayalam