প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

২৮-২৯ এপ্রিল উত্তর প্রদেশ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: 26 APR 2026 3:46PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আগামী ২৮ ও ২৯ এপ্রিল উত্তরপ্রদেশ সফর করবেন। ২৮ এপ্রিল বিকেল ৫টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী একটি 'মহিমা সম্মেলনে' অংশগ্রহণ করবেন; সেখানে তিনি বারাণসীতে প্রায় ৬,৩৫০ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এই উপলক্ষে তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশে ভাষণও দেবেন।
২৯ এপ্রিল সকাল ৮:৩০টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী বারাণসীর শ্রী কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে দর্শন ও পূজা-অর্চনা করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী হরদোইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং সকাল ১১:৩০টা নাগাদ 'গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে'-এর উদ্বোধন করবেন। এই অনুষ্ঠানেও তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।

বারাণসীতে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী 'মহিমা সম্মেলনে' অংশগ্রহণ করবেন, যেখানে সমগ্র অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক মহিলার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী ১,০৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ৪৮টিরও বেশি সম্পন্ন প্রকল্প জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। উল্লেখযোগ্য পরিকাঠামো প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে - বারাণসী-আজমগড় সড়কের সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন হওয়া; কাজ্জাকপুরা ও কাদিপুরে গুরুত্বপূর্ণ 'রেল ওভার ব্রিজ' চালু করা এবং ভগবানপুরে ৫৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন একটি 'সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট' (এসটিপি)-এর উদ্বোধন, সহ আরও বেশ কিছু প্রকল্প।
প্রধানমন্ত্রী জনকল্যাণমুখী ও সম্প্রদায়-কেন্দ্রিক বিচিত্র সব প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে - 'জল জীবন মিশন'-এর অধীনে ৩০টি গ্রামীণ পানীয় জল প্রকল্প; চন্দ্রাবতী ঘাটের পুনরুন্নয়ন; সারনাথের নিকটবর্তী সারঙ্গনাথ মন্দিরের পর্যটন উন্নয়ন এবং নাগওয়ার সন্ত রবিদাস পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন ও সংস্কার কাজ। জনসেবা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রের উন্নয়নমূলক কাজগুলোও এখানে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে -ইউপি কলেজে একটি সিন্থেটিক হকি টার্ফ স্থাপন; রামনগরে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ এবং ভেলুপুর জল শোধন কেন্দ্রে ১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন। প্রধানমন্ত্রী 'সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অফ তিব্বতিয়ান স্টাডিজ'-এ 'সোওয়া রিগপা ভবন ও হাসপাতাল'-এর উদ্বোধন করবেন; যা আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতিকে একীভূত করার প্রতি তাঁর অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৫,৩০০ কোটি টাকা মূল্যের ১১২টিরও বেশি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এএমআরইউটি ২.০-এর অধীনে ১৩টি পয়ঃনিষ্কাশন ও জল সরবরাহ প্রকল্প; শ্রী শিব প্রসাদ গুপ্ত বিভাগীয় জেলা হাসপাতালে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি মাল্টি-সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল নির্মাণ; ভোজুভীর ও সিগরায় বাজার কমপ্লেক্স ও অফিস চত্বর নির্মাণ; পুকুরগুলির সংস্কার ও পুনরুজ্জীবন; ১৯৯ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতালের পুনরুন্নয়ন; ১০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লক নির্মাণ এবং অসি ঘাট, দশাশ্বমেধ ঘাট ও নমো ঘাট-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়ন। সুশাসন ও সমাজকল্যাণমূলক পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে, প্রধানমন্ত্রী রামনগরে 'ইন্টিগ্রেটেড ডিভিশনাল অফিস', নগর নিগম কার্যালয় ভবন এবং একটি সরকারি শিশু আশ্রয় কেন্দ্র ও কিশোর বিচার বোর্ডের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করবেন। এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী 'বনাস ডেয়ারি'-র সঙ্গে যুক্ত উত্তর প্রদেশের দুধ সরবরাহকারীদের বোনাস হিসেবে ১০৫ কোটি টাকারও বেশি অর্থ প্রদান করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বারাণসী জংশন–পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন-এর তৃতীয় ও চতুর্থ রেললাইন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন; যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে গঙ্গা নদীর ওপর একটি রেল-কাম-রোড (রেল ও সড়কপথের সমন্বয়ে গঠিত) সেতু নির্মাণ। এই প্রকল্পটি রেলপথে যানজট হ্রাস, পণ্য পরিবহনের দক্ষতা বৃদ্ধি, বহুমুখী সংযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং যান চলাচলকে আরও মসৃণ করার মাধ্যমে বারাণসী ও চান্দৌলি জেলাকে বিশেষভাবে উপকৃত করবে। এটি কাশী বিশ্বনাথ ধাম, রামনগর এলাকা এবং জাতীয় সড়ক-১৯-এ যাতায়াত ব্যবস্থাকে উন্নত করার পাশাপাশি পূর্ব উত্তর প্রদেশ ও বিহারের সঙ্গে রেল সংযোগকেও আরও সুদৃঢ় করবে।
প্রধানমন্ত্রী দুটি নতুন 'অমৃত ভারত এক্সপ্রেস' ট্রেনের যাত্রারও সূচনা করবেন: বারাণসী–পুণে (হাদাপসার) এবং অযোধ্যা–মুম্বই (লোকমান্য তিলক টার্মিনাস)। এই ট্রেনগুলি সাশ্রয়ী ও আধুনিক ভ্রমণ সুবিধা প্রদান করবে এবং উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে। বারাণসী–পুনে পরিষেবাটি কাশী বিশ্বনাথ ধামে যাতায়াতকে আরও সহজতর করে তুলবে; অন্যদিকে অযোধ্যা–মুম্বাই পরিষেবাটি 'শ্রী রাম মন্দির তীর্থক্ষেত্র'-এর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় তীর্থস্থানগুলির পারস্পরিক সংযোগকেও আরও শক্তিশালী করবে।

হরদোইয়ে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী হরদোই জেলায় 'গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে'-এর উদ্বোধন করবেন; এটি দেশে বিশ্বমানের পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে হলো ৫৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ, ৬-লেন বিশিষ্ট (যা ভবিষ্যতে ৮-লেনে সম্প্রসারণযোগ্য), প্রবেশাধিকার-নিয়ন্ত্রিত একটি 'গ্রিনফিল্ড' বা সম্পূর্ণ নতুন উচ্চ-গতির করিডোর; এটি নির্মাণে মোট প্রায় ৩৬,২৩০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এই এক্সপ্রেসওয়েটি ১২টি জেলার ওপর দিয়ে বিস্তৃত – যথা : মিরাট, বুলন্দশহর, হাপুর, আমরোহা, সম্ভল, বদায়ুঁ, শাহজাহানপুর, হরদোই, উন্নাও, রায়বেরেলি, প্রতাপগড় এবং প্রয়াগরাজ। এর ফলে উত্তরপ্রদেশের পশ্চিমাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চল একটি একক ও নিরবচ্ছিন্ন উচ্চ-গতির করিডোরের মাধ্যমে সংযুক্ত হবে।
প্রকল্পটির ফলে মিরাট ও প্রয়াগরাজের মধ্যকার ভ্রমণের সময় বর্তমানের ১০-১২ ঘণ্টা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে প্রায় ৬ ঘণ্টায় নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে; যা যাতায়াতের স্বাচ্ছন্দ্য ও পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।
এই প্রকল্পের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো শাহজাহানপুর জেলায় ৩.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি 'জরুরি অবতরণ সুবিধা' (বিমান-অবতরণ ক্ষেত্র বা রানওয়ে)-এর সংস্থান রাখা। এই দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পরিকাঠামোটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রস্তুতিকে জোরদার করে এবং অর্থনৈতিক সুফলের পাশাপাশি কৌশলগত গুরুত্বও যোগ করে।
গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েকে একটি প্রধান অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে এক্সপ্রেসওয়ের গতিপথ বরাবর অবস্থিত ১২টি জেলায় প্রায় ২,৬৩৫ হেক্টর জমিতে 'সমন্বিত উৎপাদন ও লজিস্টিক করিডোর' গড়ে তোলা হবে। এই এক্সপ্রেসওয়েটি লজিস্টিক বা পণ্য পরিবহনের খরচ কমাবে, সরবরাহ শৃঙ্খলের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং উৎপাদন খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে জোরদার করবে।
উন্নত সংযোগ ব্যবস্থার ফলে কৃষকরা সরাসরি শহুরে ও রপ্তানি বাজারের নাগাল পাবেন; যা তাঁদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি সহজতর করবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষকদের আয়কে শক্তিশালী করবে। এছাড়া এই প্রকল্পটি পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটাবে, নতুন নতুন অর্থনৈতিক সুযোগের দ্বার উন্মোচন করবে এবং সমগ্র অঞ্চল জুড়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে রাজ্যের বৃহত্তর এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্কের মেরুদণ্ড হিসেবেও কাজ করবে। এই নেটওয়ার্কের আওতায় আগ্রা-লখনউ এক্সপ্রেসওয়ে, জেওয়ার লিঙ্ক এক্সপ্রেসওয়ে, ফারুকাবাদ লিঙ্ক এক্সপ্রেসওয়ে এবং মিরাট থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত প্রস্তাবিত সম্প্রসারণ অংশসহ বেশ কিছু সংযোগকারী করিডোর ইতিমধ্যেই চালু রয়েছে কিংবা পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। এই নবগঠিত এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিডটি উত্তরপ্রদেশের পূর্ব থেকে পশ্চিম এবং উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত উচ্চ-গতির সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে প্রসারিত করবে, যার ফলে সমগ্র রাজ্যে সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে কেবল একটি পরিবহন প্রকল্পই নয়, বরং এটি একটি রূপান্তরমূলক উদ্যোগ - যা লজিস্টিক ব্যয় হ্রাস করবে, শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে, কৃষি ও গ্রামীণ আয় বৃদ্ধি করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং সমগ্র রাজ্য জুড়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। 

 

SC/SB/AS


(রিলিজ আইডি: 2255773) ভিজিটরের কাউন্টার : 5
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: Assamese , English , Urdu , Marathi , हिन्दी , Manipuri , Gujarati , Telugu