প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

কোরিয়া সাধারণতন্ত্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি

প্রকাশিত: 20 APR 2026 6:54PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি ২০ এপ্রিল ২০২৬


মাননীয় প্রেসিডেন্ট লি,

দু-দেশের প্রতিনিধিবর্গ,

সংবাদমাধ্যমের বন্ধুরা,

নমস্কার!

প্রথমবার ভারত সফরে আসা প্রেসিডেন্ট লি-কে স্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর জীবন সেবা এবং কর্তব্যপরায়ণতার এক অনন্য উদাহরণ। প্রতিটি বাধাকেই অতিক্রম করে মানুষের সেবায় নিজেকে আরও বেশি করে নিয়োজিত করার শপথ নিয়েছেন তিনি। ভারতে এটাই তাঁর প্রথম সফর হলেও, এদেশের মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা আমি উপলব্ধি করতে পেরেছি তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম বৈঠক থেকেই। 

বন্ধুরা,

৮ বছর পর কোরিয়ার কোনো প্রেসিডেন্টের ভারত সফর বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ অবশ্যই। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বাজার অর্থনীতি এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দু-দেশের ডিএনএ-তেই গভীরভাবে প্রোথিত। ভারত- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী অভিন্ন। এইসব কারণেই বিগত দশকে আমাদের সম্পর্ক আরও প্রসারিত এবং গতিশীল হয়ে উঠেছে। 

প্রেসিডেন্ট লি-র সফরকালে আমরা এই অংশীদারিত্বকে আরও ভবিষ্যৎমুখী করে তুলতে চলেছি। ছোট্ট চিপ থেকে বিশাল জাহাজ, বৌদ্ধিক ক্ষমতা থেকে প্রযুক্তি, পরিবেশ থেকে জ্বালানি- সমস্ত পরিসরেই সহযোগিতা জোরদার করে আমরা দু-দেশের সমৃদ্ধির যাত্রাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবো। 

বন্ধুরা,

ভারত ও কোরিয়ার বাণিজ্যের পরিমাণ ২৭ বিলিয়ান ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৩০ সাল নাগাদ অঙ্কটিকে ৫০ বিলিয়ান ডলারে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

দু-দেশের মধ্যে আর্থিক প্রবাহ বৃদ্ধি করতে আমরা ভারত- কোরিয়া ফিন্যানশিয়াল ফোরামের সূচনা করেছি। বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদার করতে গড়ে তুলেছি শিল্প সহযোগিতা কমিটি। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং সরবরাহশৃঙ্খল পরিসরে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে আমরা ইকনমিক সিকিউরিটি ডায়লগের শুরু করছি।

ভারতে কোরিয়ার বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির, বিশেষ করে ক্ষুদ্র মাঝারি সংস্থাগুলির, প্রবেশ সহজ করে তুলতে আমরা কোরিয়ান ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ গড়ে তুলবো। আগামী বছরের মধ্যেই ভারত- কেরিয়া বাণিজ্য চুক্তির পরিসর ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা হবে। 

বন্ধুরা,

আজ আমরা পরবর্তী দশকের সাফল্যের ভিত গড়ছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমি কন্ড্রাক্টর এবং তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব দৃঢ় করতে আমরা চালু করছি ইন্ডিয়া- কোরিয়া ডিজিটাল ব্রিজ। জাহাজ নির্মাণ, ইস্পাত, বন্দর ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের মতো বিষয়ে আমরা সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষর করছি। 

সাংস্কৃতিক এবং সৃষ্টিধর্মী শিল্পের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করবো আমরা। চলচ্চিত্র, অ্যানিমেশন বা গেমিং-এ গড়ে উঠবে নতুন মাইলফলক। আজকের বিজনেস ফোরাম এইসব সুযোগের বাস্তব প্রতিফলন সম্ভব করে তোলার মঞ্চ হয়ে উঠবে। 

বন্ধুরা,

ভারত ও কোরিয়ার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক হাজার হাজার বছরের পুরোনো। অযোধ্যার রাজকন্যা সুরীরত্না এবং কোরিয়ার রাজা কিম সুরো-র গল্প আমাদের অভিন্ন ঐতিহ্যের অঙ্গ।

আজ কে-পপ এবং কে-ড্রামা ভারতে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ভারতীয় সিনেমা এবং সংস্কৃতির বিষয়েও কোরিয়ায় আগ্রহ বাড়ছে। এটা জানতে পেরে আমরা খুশি হয়েছি যে, প্রেসিডেন্ট লি নিজেও ভারতীয় সিনেমার ভক্ত। এই সাংস্কৃতিক সংযোগকে আরও জোরদার করতে আমরা ২০২৮ সালে ভারত- কোরিয়া মৈত্রী উৎসবের আয়োজন করব। 

একইসঙ্গে, মানুষে মানুষে সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা শিক্ষা, গবেষণা এবং পর্যটন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করব। 

বন্ধুরা,

বিশ্বজোড়া এই অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারত ও কোরিয়া শান্তি ও সুস্থিতির বার্তা দেয়। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, আজ কোরিয়া আন্তর্জাতিক সৌরজোট এবং ভারত- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উদ্যোগে সামিল হয়েছে। সম্মিলিত প্রয়াসে আমরা এই অঞ্চলকে আরও সুস্থিত ও সমৃদ্ধ করে তুলবো।

আমরা মনে করি যে, সমকালীন বিশ্বের সমস্যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলির সংস্কার জরুরি। 

মাননীয়,
প্রায় ১০০ বছর আগে ভারতের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোরিয়াকে “পূর্বের আলোকবর্তিকা” বলে উল্লেখ করেছিলেন। আজ আমরা যখন ২০৪৭ সাল নাগাদ বিকশিত ভারতের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি, সেই যাত্রায় কোরিয়া এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। 

আমাদের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শুধু দুটি দেশ নয়, সারা বিশ্বের প্রগতি ও সমৃদ্ধির পথ সুগম হোক।

অনেক ধন্যবাদ।

 

SC/AC/CS


(রিলিজ আইডি: 2254101) ভিজিটরের কাউন্টার : 7