অর্থমন্ত্রক
জাতীয় পুষ্টি সুরক্ষা, আত্মনির্ভরতা এবং সুস্থিতিশীল কৃষির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডাল, তৈলবীজ এবং মিলেটের ফলন এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজ্যগুলিকে পরামর্শ কেন্দ্রের
প্রকাশিত:
12 APR 2026 6:10PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
সম্প্রতি, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তাঁর এক বক্তৃতায় রাজ্য সরকারগুলির দেওয়া বোনাস সংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রকের ব্যয় বিভাগ থেকে জারি করা একটি চিঠির উল্লেখ করেছেন।
এই প্রসঙ্গে জানানো হচ্ছে যে, অর্থ মন্ত্রকের ব্যয় বিভাগের সচিব গত ০৯.০১.২০২৬ তারিখে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্য সচিবদের উদ্দেশে একটি ডি.ও. চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে জাতীয় অগ্রাধিকার, যেমন পুষ্টি নিরাপত্তা, আত্মনির্ভরতা এবং সুস্থায়ী কৃষির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডালশস্য, তৈলবীজ এবং মিলেট জাতীয় শস্যের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়, এমনভাবে নিজেদের বোনাস নীতি পুনর্বিন্যাস করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ওই চিঠিটি ছিল রাজ্যগুলির প্রতি একটি পরামর্শমূলক বার্তা মাত্র এবং এটি কোনও নির্দেশ বা আদেশ ছিল না।
রাজ্যগুলির কাছে পাঠানো এই বার্তাটি ছিল একটি গঠনমূলক ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যার লক্ষ্য হ’ল - ভারতে দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য ও শস্য নিরাপত্তা মজবুত করা।
কৃষকদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ভারত সরকার বিভিন্ন ফসলের জন্য 'ন্যূনতম সহায়ক মূল্য' ঘোষণা করে থাকে। তবে, অনেক রাজ্যে, বিশেষ করে উত্তর ভারতে, শস্য উৎপাদন মূলত গম ও ধানের ওপরই মূলত নির্ভরশীল। যখন রাজ্য সরকারগুলি এইসব ফসলের জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের ওপর অতিরিক্ত 'বোনাস' ঘোষণা করে, তখন তা এই ফসলগুলির চাষাবাদে আরও বেশি উৎসাহ জোগায়। এর ফলে ডাল, তৈলবীজ এবং মিলেট জাতীয় শস্যের চাষের আওতাধীন জমির পরিমাণ কমে যায়; অধিক জল ও সারের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়; এবং ডাল ও ভোজ্য তৈলবীজের মতো অত্যাবশ্যকীয় ফসলগুলির আমদানির নির্ভরতা বৃদ্ধি পায়।
তাই, জাতীয় স্বার্থে শস্যের বহুমুখীকরণকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে ভারত সরকার একটি দায়িত্বশীল ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নীতি গ্রহণ করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল - উত্তর ভারতের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে গমের একমুখী চাষাবাদ এবং ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধানের একমুখী চাষাবাদকে নিরুৎসাহিত করা। এর মাধ্যমে রাজ্যগুলিকে এমন সুস্থিতিশীল কৃষি পদ্ধতির দিকে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যা একইসঙ্গে কৃষকদের স্বার্থ এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা - উভয়কেই সুরক্ষিত রাখে।
ডাল, ভোজ্য তেল এবং তৈলবীজের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি করা শুধুমাত্র কৌশলগত ও অর্থনৈতিক কারণেই অপরিহার্য নয়, বরং কৃষকদের কল্যাণের জন্যও তা অত্যন্ত জরুরি। ডাল, তৈলবীজ এবং ভোজ্য তেলের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে, যে আমদানি ব্যবস্থা প্রায়শই আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত এবং মূল্যের অস্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়।
এমন এক সময়ে, যখন প্রধান খাদ্যশস্যগুলির ক্ষেত্রে 'আত্মনির্ভরশীলতা' অর্জন ক্রমশ বেশি করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তখন রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভারতকে ডাল ও তৈলবীজের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলা একান্ত অপরিহার্য।
ডাল, তৈলবীজ এবং ভোজ্য তেলের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারত সরকার ইতিমধ্যেই বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল -'ডালের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা মিশন', 'ভোজ্য তেল ও তৈলবীজ বিষয়ক জাতীয় মিশন' এবং 'ভোজ্য তেল ও পাম অয়েল সংক্রান্ত জাতীয় মিশন'।
'আর্থিক সমীক্ষা ২০২৫-২৬'-এ আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমদানি করা ভোজ্য তেলের ওপর নির্ভরতা ২০১৫-১৬ সালের ৬৩.২ শতাংশ থেকে কমে ২০২৩-২৪ সালে ৫৬.২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে, তৈলবীজ চাষের আওতাধীন জমির পরিমাণ ১৮ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে; পাশাপাশি উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং হেক্টরপ্রতি ফলন বা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ।
ভারত সরকার কৃষকদের কল্যাণে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। 'পিএম-কিষাণ' প্রকল্পের আওতায়, ৯ কোটিরও বেশি কৃষককে ৬,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ১.৭৫ কোটিরও বেশি 'মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড' এবং ৮,২৭০টিরও বেশি পরীক্ষাগার বা ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে বিজ্ঞান-ভিত্তিক চাষাবাদ সুনিশ্চিত করা হচ্ছে। 'পিএম ফসল বিমা যোজনা' ৪ কোটি কৃষককে আবহাওয়াজনিত অনিশ্চয়তা থেকে সুরক্ষা প্রদান করছে। 'প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনা'র মাধ্যমে ১০০টি পিছিয়ে পড়া কৃষি-প্রধান জেলার রূপান্তর ঘটানো হচ্ছে, যেখানে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ফসলের বহুমুখীকরণ, ফলন-পরবর্তী সংরক্ষণের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি ঋণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের ফলে ১.৭ কোটি কৃষক সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। ২০১৪ সালে যেখানে মাত্র ২টি 'মেগা ফুড পার্ক' ছিল, সেখানে ২০২৫ সালে এর সংখ্যা বেড়ে ৪১-এ দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি বর্তমানে চালু রয়েছে এবং ১৭টির কাজ চলছে।
সুতরাং, ভারত সরকারের গৃহীত এই পদ্ধতিতে গবেষণা, উন্নত মানের বীজের প্রসার, ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের মাধ্যমে ফসল সংগ্রহে সহায়তা, প্রক্রিয়াকরণ পরিকাঠামো এবং 'মূল্য শৃঙ্খল' উন্নয়নকে সংহত করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করা।
এই চিঠিটির মূল উদ্দেশ্য ছিল - রাজ্য সরকারগুলি যাতে তাদের নিজস্ব কৃষি নীতিকে বৃহত্তর জাতীয় অগ্রাধিকারগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে এবং সেগুলিকে পরিপূরক হিসেবে গ্রহণ করে।
এই পদক্ষেপকে কোনও 'বলপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়' হিসেবে তুলে ধরা কিংবা এর প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার যে কোনও প্রয়াসই হল প্রকৃত তথ্যের বিকৃতি ঘটানোর সামিল।
SC/MP/SB
(রিলিজ আইডি: 2251530)
ভিজিটরের কাউন্টার : 3