প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

প্রধানমন্ত্রী “মন কি বাত”-এর ১৩২তম পর্বের কিছু উল্লেখযোগ্য অংশ সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন

প্রকাশিত: 29 MAR 2026 11:54AM by PIB Kolkata

আমার প্রিয় দেশবাসী, নমস্কার। ‘মন কি বাত’-এ আবারও স্বাগত জানাই আপনাদের সকলকে। আন্তর্জাতিক স্তরে খুবই ঘটনাবহুল ছিল এই মার্চ মাস। আমাদের সবার মনে আছে যে, অতীতে কোভিডের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল গোটা বিশ্ব। আমাদের সবার প্রত্যাশা ছিল যে, করোনার সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পর বিশ্ব নতুন করে প্রগতির পথে এগিয়ে যাবে। কিন্তু, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রমাগত যুদ্ধ এবং সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হতে থাকল। বর্তমানে আমাদের কাছাকাছি অঞ্চলে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলছে। আমাদের লক্ষ-লক্ষ পরিবারের আত্মীয়-স্বজন এই দেশগুলিতে বসবাস করেন, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলিতে কাজ করেন। এইসব দেশের কাছে আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, তারা সেখানে এক কোটিরও বেশি ভারতীয়কে সম্ভাব্য সবরকম সহায়তা দিয়ে চলেছেন । 

বন্ধুরা, যেসব অঞ্চলে এখন যুদ্ধ চলছে, সেসব অঞ্চল আমাদের জ্বালানি সরবরাহের বড় কেন্দ্র। এর কারণে বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেল নিয়ে সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া সহযোগিতা এবং গত এক দশকে দেশের যে সামর্থ্য গড়ে উঠেছে, এগুলোর কারণে ভারত এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে দৃঢ়তার সঙ্গে। 

বন্ধুরা, নিশ্চিতভাবে এটি একটি চ্যালেঞ্জিং সময়। আমি আজ ‘মন কি বাত’-এর মাধ্যমে সকল দেশবাসীর কাছে আবার এই আবেদন জানাই যে একজোট হয়ে এই সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আমাদের। যাঁরা এই বিষয়েও রাজনীতি করছেন, তাঁদের রাজনীতি করা উচিত নয়। এটি দেশের ১৪০ কোটি দেশবাসীর স্বার্থের সঙ্গে জড়িত বিষয়, এতে স্বার্থসিদ্ধির রাজনীতির কোনো স্থান নেই। এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাঁরা গুজব ছড়াচ্ছেন, তাঁরা দেশের খুব বড় ক্ষতি করছেন। আমি সকল দেশবাসীর কাছে এই আবেদন জানাবো যে, তাঁরা সজাগ থাকুন, গুজবে প্রভাবিত হবেন না। সরকারের পক্ষ থেকে নিরন্তর নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া হচ্ছে আপনাদের, তার ওপর আস্থা রাখুন এবং সেই তথ্যের ওপর ভরসা করে পদক্ষেপ নিন। প্রতিবারের মতো এবারও আমার আস্থা আছে যে, যেমন আমরা দেশের ১৪০ কোটি দেশবাসীর সামর্থে ভর করে পুরনো সংকটগুলো কাটিয়ে উঠেছি, এবারও আমরা সবাই মিলে এই কঠিন অবস্থা থেকে খুব ভালোভাবে বেরিয়ে আসব। 

আমার প্রিয় দেশবাসী, ভারতের শক্তি এখানকার কোটি কোটি মানুষের মধ্যে নিহিত। আজ ‘মন কি বাত’-এ এমন একটা প্রয়াসের কথা বলতে চাই, যা দেশবাসীর অংশগ্রহণের মনোভাবকে প্রতিফলিত করে। এই প্রয়াসটি হল — জ্ঞান ভারতম সরভে, যা আমাদের মহান সংস্কৃতি ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর উদ্দেশ্য দেশজুড়ে বিদ্যমান ম্যানুস্ক্রিপ্ট অর্থাৎ পাণ্ডুলিপিগুলির সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা। এই সমীক্ষার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি মাধ্যম হল জ্ঞান ভারতম অ্যাপ। আপনার কাছে যদি কোনো ম্যানুস্ক্রিপ্ট থাকে, পাণ্ডুলিপি থাকে, অথবা তার সম্পর্কে তথ্য থাকে, তাহলে সেটার ছবি ‘জ্ঞান ভারতম অ্যাপ’-এ অবশ্যই শেয়ার করুন। প্রতিটি এন্ট্রির সঙ্গে যুক্ত তথ্য নথিভুক্ত করার আগে তার সত্যতাও যাচাই করা হচ্ছে। আমি আনন্দিত যে, এখনও পর্যন্ত অগণিত মানুষ পাণ্ডুলিপি শেয়ার করেছেন।

উদাহরণস্বরূপ অরুণাচল প্রদেশের নামসাইয়ের চাও নন্তিসিন্ধ লোকাঙ্গজী "তাই" লিপিতে লেখা পান্ডুলিপি ভাগ করে নিয়েছেন। অমৃতসরের ভাই অমিত সিং রানা ‘গুরুমুখী’ লিপিতে পান্ডুলিপি শেয়ার করেছেন। এটি আমাদের মহান শিখ পরম্পরা ও পাঞ্জাবি ভাষার সঙ্গে সংযুক্ত লিপি। কিছু সংস্থা পাম লিফ অর্থাৎ তালপাতার ওপর লেখা ম্যানুস্ক্রিপ্ট দিয়েছে।রাজস্থানের অভয় জৈন গ্রন্থগার কপার প্লেটে লেখা বহুপুরনো পান্ডুলিপি শেয়ার করেছে। লাদাখের হামিস মনাস্ট্রি তিব্বতি ভাষার বহুমূল্য পান্ডুলিপির সম্বন্ধে জানিয়েছে। এখানে আমি কয়েকটি মাত্র উদাহরণ দিলাম। এই সার্ভে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে। আপনাদের সবার কাছে আমার অনুরোধ, নিজেদের সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত দিকগুলিকে সামনে আনুন ও শেয়ার করুন।     

আমার প্রিয় দেশবাসী, ভারত পৃথিবীর তরুণতম দেশ। দেশের যুবাদের শক্তি যখন রাষ্ট্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত হয় তখন তা প্রভূত সহায়ক হয়। রাষ্ট্র নির্মাণের এই দায়িত্ব পালনে বড় অবদান রাখছেন আমার যুবা ভারত অর্থাৎ "মাই ভারত" (My Bharat) সংগঠন। এই সংগঠন দেশের যুবশক্তিকে পৃথক পৃথক ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করছেন। সম্প্রতি "মাই ভারত" বাজেট কোয়েস্টের আয়োজন করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল সারা দেশজুড়ে যুবশক্তিকে বাজেট প্রক্রিয়া ও নীতি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত করা। এর অন্তর্গত কুইজে সারা দেশের প্রায় বারো লক্ষ যুবক-যুবতী অংশগ্রহণ করেছিলেন। কুইজের পরে প্রায় এক লক্ষ ষাট হাজার প্রতিযোগী নিবন্ধ প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়। এর মধ্যে কিছু নিবন্ধ আমার পড়ারও সুযোগ হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় আমার যুবা সাথীরা দেশের বিকাশে অংশগ্রহণ করতে কতটা তৎপর। তেলেঙ্গানার সূর্যাপেটের কোটলা রঘুবীর রেড্ডি, উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকির সৌরভ ব্যসওয়ার এবং বিহারের গোপালগঞ্জের সুমিত কুমার কৃষক কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত বিষয় নিয়ে লিখেছেন। পাঞ্জাবের মোহালির আঁচল এবং ওড়িশার কেন্দ্রপাড়ার ওমপ্রকাশ রথ ওমেন-লেড ডেভেলপমেন্টকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপায় প্রসঙ্গে নিজেদের ভাবনা ব্যক্ত করেছেন। হরিয়ানার যমুনানগরের প্রথম বরার লিখেছে গ্রীন ও ক্লিন, অর্থাৎ সবুজ ও পরিচ্ছন্ন ভারতই সমৃদ্ধ ভারতের পথ। এ থেকে ওর গভীর চিন্তাভাবনার পরিচয় পাওয়া যায়। দিল্লির শঙ্খ গুপ্তার পরামর্শ, গ্রামীণ ক্ষেত্রে ক্রীড়া প্রতিভাদের পরিচিতির জন্য আরও উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। আমাদের যুবা সাথীরা স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও ইজ অফ ডুইং বিজনেস প্রসঙ্গেও নিজেদের ভাবনা ভাগ করে নিয়েছেন। আমি সেই সকল যুবাদের প্রশংসা ও অভিনন্দন জানাই যারা নিজেদের আইডিয়া শেয়ার করছেন। এই ভাবনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমার প্রিয় দেশবাসী, সারাদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য এই মাসটি উদ্দীপনা ও উৎসাহে ভরপুর ছিল। যখন ভারত T20 World Cup এ ঐতিহাসিক জয়লাভ করে তখন দেশে প্রতিটি প্রান্তে খুশির ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। নিজেদের দলের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে আমরা প্রত্যেকেই অত্যন্ত গর্বিত। গত মাসের শেষে কর্নাটকের হুবলী তে একটি অত্যন্ত আনন্দদায়ক প্রতিযোগিতা দেখা গেছে।এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জম্মু কাশ্মীরের Cricket team রণজি ট্রফি জয় করেন। সবথেকে আনন্দের কথা হল প্রায় সাত দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই দল টি নিজেদের জন্য প্রথম রণজি খেতাব জয় করল। এই অভূতপূর্ব সাফল্য খেলোয়াড়দের অনেক বছরের নিরন্তর প্রচেষ্টার ফল। দলের ক্যাপ্টেন পারস ডোগরা চমৎকার পারদর্শিতা দেখিয়েছে। তাঁর নেতৃত্ব এই জয়লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আজ দেশে রঞ্জির সিজনে ৬০ টি উইকেট নেওয়া কাশ্মীরী তরুণ বোলার আকিব নবী কে নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। এই জয়ে টিমের খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফের সঙ্গে জম্মু কাশ্মীরের লোকেরাও অত্যন্ত আনন্দিত।   

Cricket এর ময়দানে এই দুর্দান্ত প্রদর্শনের পর সেখানকার যুবাদের মধ্যে খেলাধূলার প্রতি উৎসাহ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দিনে এতে অনেক তরুণদের sports এর প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পাবে। জম্মু কাশ্মীরের লোকেদের মধ্যে খেলাধূলা নিয়ে দারুণ উৎসাহ আছে। আমি খুশি এই কারণে, যে এখন এটা বড় ধরনের ক্রীড়া আয়োজনের হাব ও হয়ে উঠছে। Khelo India Winter Games এর জন্য Gulmarg তো আগেই নিজের পরিচিতি বানিয়ে নিয়েছে। Football এর মত Sports ও এখানকার যুবাদের মধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয়। আমি আশা করি আগামী দিনে জম্মু কাশ্মীরের খেলোয়াড়দের জয়ের এই ধারাবাহিকতা এইরকম ভাবেই বজায় থাকবে।

আমার প্রিয় দেশবাসী, আমি প্রায়শই বলে থাকি, যে খেলবে, সেই প্রস্ফুটিত হবে । আমার এটা দেখে ভালো লাগছে যে, আমাদের দেশের যুবারা এখন সেই সমস্ত খেলাগুলিও খেলছেন যা আগে ততটা জনপ্রিয় ছিলনা। উত্তর প্রদেশের প্রতিভাবান athlete গুলবীর সিংহ্ এইরকমই এক খেলায় দুর্দান্ত প্রদর্শন করে দেখিয়েছেন। তিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে New York City Half Marathan এ তৃতীয় স্থান লাভ করে ইতিহাস তৈরী করেছেন। তিনি একঘন্টার কম সময়ে Half Marathan সম্পূর্ণ করতে পারা প্রথম ভারতীয় athlete হয়েছেন। Squash খেলোয়াড় আমাদের মেয়ে অনাহত সিং squash on Fire Open এর মত বড় আন্তর্জাতিক খেতাব নিজের নামে করেছেন। মাত্র সতের বছর বয়সে তিনি এই সাফল্য লাভ করেন। এর সাথেই তিনি PSA World Ranking এ Top 20 তে জায়গা করে নেওয়া সবচেয়ে কম বয়সী এশিয়ান মহিলা ক্রীড়াবিদ হয়েছেন। আমি অস্মিতা athletics League এর খবরও পেয়েছি । এখানে 8th March, নারী দিবস উপলক্ষে বেশ কিছু Sporting events এর চমৎকার আয়োজন করা হয়। League এ প্রায় ২ লক্ষ মেয়েরা অংশ নিয়েছিলেন।

এটা দেখে ভালো লাগে যে, ভারতের নারীশক্তি দেশে হওয়া এই Sporting transformation এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। 

বন্ধুরা, আমার সবসময়ই এই ইচ্ছে যে আপনারা আপনাদের ফিটনেসের ওপর মনোযোগ দিন। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস আসতে আর একশো দিনেরও কম সময় রয়েছে, গোটা বিশ্বে যোগের প্রতি আকর্ষণ ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। আফ্রিকার জিবুতিতে অলমিসজি নিজের অরবিন্দ যোগ সেন্টারের মাধ্যমে যোগের প্রতি উৎসাহ যোগাচ্ছেন। তিনি সেখানে আরও কয়েকজায়গায় লোকজনদের যোগ শেখাচ্ছেন। আপনাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন instagram content creater যুবরাজ দুয়ার পোস্টে আমার reply দেখে কমেণ্ট করেছেন। উনি আমাকে অনুরোধ করেছেন তাঁর বাবাকে sugar intake কম করার কথা বলতে। আমার আনন্দ হচ্ছে যে আমার অনুরোধ তাঁর বাবার ওপর সঠিক প্রভাব ফেলেছে। আমি আপনাদের সবাইকেও অনুরোধ করছি যে আপনারাও sugar intake কম করুন, আর যেমন আমি প্রথমেই বলেছি আমাদের খাবার তেলের ব্যবহারও দশ শতাংশ কম করা উচিত। এইসব ছোট ছোট চেষ্টার মাধ্যমে আপনারা স্থূলতা এবং lifestyle এর সঙ্গে যুক্ত অসুখ থেকে দূরে থাকবেন।   

          আমার প্রিয় দেশবাসী, এক পুরোনো প্রবাদ আছে, ‘করত করত অভ্যাস কে, জড়মত হৌত সুজান’ অর্থাৎ আমরা যদি নিরন্তর অভ্যাস করি তাহলে আমরাও আরও বুদ্ধিমান হতে পারবো। লোকজনও সবথেকে ভালো তখনই শিখতে পারে যখন সে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। আমি বেঙ্গালুরুতে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত এক unique প্রচেষ্টার কথা জানতে পেরেছি। এখানে একটি টিম prayog institute of education research চালান। এই টিমের বিশেষ মনোযোগ রিসার্চ প্রোজেক্টের ওপরে। এই টিম স্কুল লেভেলে সায়েন্স এডুকেশন জনপ্রিয় করার কাজে যুক্ত।

অন্বেষণ নামে এক প্রচেষ্টার মাধ্যমে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা কেমিস্ট্রি, আর্থ সায়েন্স এবং ওয়েলনেস এর মত ক্ষেত্রে innovation করার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে স্টুডেন্টদের রিসার্চের ব্যাপারে অভিজ্ঞতা বাড়ে, সঙ্গে সঙ্গে নিজের প্রোজেক্ট পাবলিশ করার একটা প্ল্যাটফর্ম ও পাচ্ছেন।   

বন্ধুরা, পরীক্ষা পে চর্চার সময় কিছু স্টুডেন্টস আমাকে বলেছে যে তারা সায়েন্স পড়তে চায় কিন্তু তাতে তারা ভয়ও পায়। এই ব্যাপারে প্রয়োগ টিমের প্রচেষ্টা খুবই প্রশংসনীয়। এই প্রচেষ্টা স্টুডেন্টদের সায়েন্সের সঙ্গে জুড়তে এবং হাতেকলমে কিছু করতে সুযোগ দেয়।যখন আমরা কোন কাজ নিজেরা করে দেখি-কৌতুহল এবং ইচ্ছে জাগ্রত হয়। কে জানে যে আমার এই যুব বন্ধুদের মধ্যে কেউ আগামীদিনের বিখ্যাত সায়েন্টিস্ট হবে।  

বন্ধুরা, শিক্ষার মাধ্যমে অতীতের সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যত গড়ে তোলার প্রচেষ্টা নাগা সম্প্রদায়ও করে চলেছেন। এই সম্প্রদায়ের মানুষজন নিজেদের আদিবাসী পরম্পরা কে খুবই সম্মান করেন। তাঁরা এটা নিয়ে গর্ব তো করেনই, সঙ্গে তাঁদের approach কে আধুনিক রাখেন। Naga tribes দের মধ্যে মোরুঙ্গ লার্নিং নামে এক পারম্পরিক ব্যবস্হা ছিল যার মাধ্যমে প্রবীণরা নবীনদের নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে যুব প্রজন্মকে পরম্পরাগত জ্ঞান, ইতিহাস আর life skills সম্পর্কে বলতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই system এখন মোরুঙ্গ concept of education এ পরিবর্তিত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাচ্চাদের গণিত এবং বিজ্ঞানের মত বিষয়ে আগ্রহ জাগিয়ে তোলা হয়। এর সাহায্যে প্রবীণরা তাদের গল্প, লোকসংগীত এবং পারম্পরিক খেলার সঙ্গে সঙ্গে life skills-ও শেখান। এইভাবে আমাদের নাগাল্যান্ড নিজস্ব সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার কে সুরক্ষিত রেখে বাচ্চাদের শিক্ষাকে

এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আপনাদেরও নিজের নিজের জায়গায় এইরকম প্রচেষ্টার খবর পেলে আমার সঙ্গে অবশ্যই শেয়ার করবেন।

আমার প্রিয় দেশবাসীগণ, দেশের বেশ কিছু জায়গায় এখন গ্রীষ্মকাল শুরু হয়ে গেছে। অর্থাৎ আমাদের জল সংরক্ষণের সঙ্কল্পটির পুনরাবৃত্তির সময় এসে গেছে। গত ১১ বছরে 'জল সঞ্চয় অভিযান' জনসাধারণকে অনেক সচেতন করে তুলেছে। এই অভিযানের জন্যে সারা দেশে প্রায় ৫০ লক্ষ Artificial Water Hervesting Structure তৈরী হয়েছে। আমার এটা দেখে খুব ভালো লাগে যে এখন জল সংকটের মোকাবিলা করার জন্যে গ্রামে গ্রামে সমষ্টিগতভাবে প্রয়াস শুরু হয়ে গেছে। কোথাও পুরানো পুকুরের সংস্কার করা হচ্ছে, আবার কোথাও বর্ষার জল সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে। অমৃত সরোবর অভিযানের মাধ্যমে দেশে প্রায় ৭০ হাজার অমৃত সরোবর তৈরি হয়েছে। বর্ষা আসার আগেই এইসব জলাশয়গুলিকে পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়ে গেছে। আজ আমি আপনাদের সঙ্গে এমন কিছু প্রেরণামূলক উদাহরণ ভাগ করে নিতে চাই, যা থেকে বোঝা যায়, জনসাধারণ মিলেমিশে কাজ করলে এই জল সংরক্ষণের কাজ কতটা ব্যাপক আকার লাভ করতে পারে। 

বন্ধুরা, ত্রিপুরার ওয়াংমুন গ্রামটি জম্পুই পাহাড়ে ৩০০০ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত। এই গ্রামটিতে জলের ঘোরতর সংকট ছিল। গরমের সময়ে গ্রামের মানুষকে জলের জন্য দীর্ঘ পথ পারি দিতে হত। অবশেষে গ্রামবাসীরা বর্ষার বারিধারার প্রতিটি কণাকে সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেন। আজ ওয়াংমুন গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে Rooftop Rainwater Harvesting System চালু করা গেছে। যে গ্রামকে একসময়ে জলাভাবের সঙ্গে লড়াই করতে হত, তারাই আজ জল সংরক্ষণের এক প্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। 

বন্ধুরা, ছত্তিসগড়ের কোরিয়া জেলাতেও এমনই এক অনন্য প্রচেষ্টা আমাদের চোখে পড়েছে। এখানকার কৃষকেরা যে পন্থাটি নিয়েছিলেন, সেটি একাধারে সরল এবং কার্যকরী। এই এলাকার কৃষকেরা নিজেদের ক্ষেতে ছোট ছোট recharge পুকুর এবং জল শোষণ করে নেবার মতো গর্ত বানিয়েছিলেন। যার ফলে বর্ষার জল ক্ষেতেই থেকে গেল আর আস্তে আস্তে জমির মাটির গভীরে চলে যেতে শুরু করল। আজ এই অঞ্চলের ১২০০রও বেশি কৃষক এই মডেল ব্যবহার করছেন এবং এই গ্রামের জলস্তরেরও যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এইভাবে তেলেঙ্গানার মঞ্চেরিয়াল জেলার মুধিগুনটা গ্রামেও সাধারণ মানুষ একজোট হয়ে জলের সমস্যা দূর করেছেন। গ্রামের চারশো পরিবার নিজেদের বাড়িতে soak pit তৈরি করে জল সংরক্ষণের জনআন্দোলন গড়ে তুলেছেন। এর ফলে গ্রামের জলস্তর ভালো হয়েছে তো বটেই, সেইসঙ্গে দূষিত জল থেকে যেসব রোগ হত, তাও অনেক কমে গেছে। 

 

আমার প্রিয় দেশবাসী, আমাদের মৎস্যজীবী ভাইবোনেরা শুধু যে সমুদ্রের যোদ্ধা, তা-ই নয়, তাঁরা আত্মনির্ভর ভারতের এক মজবুত ভিতও বটে। ভোর হবার আগে থেকেই তাঁরা সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে নিজেদের পরিবারের সঙ্গে সঙ্গে গোটা দেশের অর্থব্যবস্থাকেও মজবুত করতে উঠে পড়ে লাগেন। এইসব পরিশ্রমী মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রাকেও, বর্তমানে অনেকভাবে সহজ করে তোলার চেষ্টা চলছে। সেটা বন্দরের উন্নতিই হোক বা মৎস্যজীবীদের জন্য বীমা, এমন অনেক পদক্ষেপ তাঁদের উপকারে লাগছে। আমরা জানি তাঁদের সমুদ্র যাত্রা মূলত আবহাওয়ার গতিবিধির ওপর নির্ভরশীল। সেইকারণে technologyর সাহায্য নিয়ে তাঁদের পূর্ণ সহায়তা দেবার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এই প্রচেষ্টার ফলে আমাদের fisheries sector শুধু যে সমৃদ্ধ হচ্ছে, তা-ই নয়, তারা নতুন কিছু করে দেখাতেও উৎসাহী হয়ে উঠছে। আজ fisheries এবং seaweed এর ক্ষেত্রে নতুন নতুন innovation হচ্ছে আর আমাদের মৎস্যজীবী ভাইবোনেরা স্ব-নির্ভর হয়ে উঠছেন। ওড়িশার সম্বলপুরের সুজাতা ভুয়ানজী ছিলেন এক গৃহবধূ, কিন্তু তিনি নতুন কিছু করে নিজের পরিবারকে আরো বেশি সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। সেই কারণে কয়েকবছর আগে তিনি হীরাকুঁদ reservoir এ মাছ চাষ শুরু করেন। শুরুর সময়টা তাঁর জন্যে খুব সুখকর ছিলনা। আবহাওয়ার পরিবর্তন, মাছেদের খাবারের ব্যবস্থা করা, আর সেইসঙ্গে পরিবারের দায়দায়িত্ব, এই সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলা খুব সহজ ছিলনা, কিন্তু তাঁর মনোবল দৃঢ় ছিল। মাত্র দু'তিন বছরের মধ্যেই তিনি নিজের এই প্রচেষ্টাকে এক সমৃদ্ধ ব্যবসায় পরিণত করলেন। আজ তাঁর এই সাফল্য বাকি সব মহিলাদের কাছে প্রত্যাশার এক নতুন আলো, নতুন দিশা হয়ে উঠেছে।

বন্ধুরা, লাক্ষাদ্বীপের মিনিকয়ের হাব্বা গুলজার জির গল্প আমাদের মা-বোনেদের অদ্ভুত সংকল্প শক্তির পরিচয় দেয়। আসলে উনি একটি ফিস প্রসেসিং ইউনিট চালান। কিন্তু উনি ভাবলেন ওনার একটি ভালো কোল্ড স্টোরেজ হলে উনি আরো ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন। এই কারণে উনি একটি কোল্ড স্টোরেজ ইউনিট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে এটাই ওনার শক্তির উৎস হয়ে উঠেছে। উনি এখন আরো ভালো পরিকল্পনা মাফিক ব্যবসা করতে পারছেন। 

বন্ধুরা, এখন দেশের সর্বত্র এ ধরনের প্রচেষ্টা হচ্ছে যেগুলি প্রেরণা দেয়। বেলগবীর শিবলিঙ্গ সতপ্পা হুদ্দার পারম্পরিক কৃষির বদলে অন্য রাস্তা খুঁজে নিয়েছেন। এইজন্য উনি একটি পন্ড ফার্ম বানিয়েছেন। এই ব্যবসার জন্য উনি ট্রেনিংও পেয়েছেন। এখন নিজের পুকুর থেকে মাছ বিক্রি করে উনি বেশ ভালই আয় করছেন। অন্য দিকে সি উইড এর চাহিদার দিকে নজর রেখে অনেকে সি উইড কালটিভেশনও শুরু করেছেন। এতে ওনারা বেশ ভালোই লাভ করছেন। আমি পুনরায় ফিশারিজ সেকটারের সঙ্গে যুক্ত সকলের প্রশংসা করছি। আমাদের অর্থ ব্যবস্থার উন্নতিতে ওঁদের যোগদান সত্যিই প্রশংসনীয়।  

আমার প্রিয় দেশবাসী, যখন সমাজ নিজেই এগিয়ে আসে তখন ছোট ছোট প্রয়াসও বড় পরিবর্তনের ভিত্তি হয়ে ওঠে। আমাদের দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে এরকম অনেক উদাহরণ দেখা যাচ্ছে যা আমাদের এই শিক্ষা দেয়। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের বারাণসী তে একটি অনুপ্রেরণামূলক প্রয়াস দেখা গেছে। ওখানে এক ঘন্টায় ২ লক্ষ ৫১ হাজারের থেকেও বেশি বৃক্ষরোপন করা হয়েছে আর এক নতুন গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড তৈরি হয়েছে। এই প্রচেষ্টায় সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো যে, এই কাজে হাজার হাজার লোক একসাথে যুক্ত হয়েছে। ছাত্র, জোয়ান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বিভিন্ন সংস্থা সকলে একসাথে এই কাজকে সম্ভব করেছেন। জনগণের অংশগ্রহণের এইরকম উদাহরণ ‘এক পেড় মা কে’ নাম অভিযানেও দেখা গেছে। এই অভিযানে সারাদেশে কয়েক কোটি গাছ লাগানো হয়েছে।  

বন্ধুরা, নাগাল্যান্ডের চিজামী গ্রাম থেকেও একটি প্রশংসনীয় প্রয়াস উঠে এসেছে। চিজামী গ্রামের মহিলারা সকলে মিলে ১৫০ এর বেশি ভ্যারাইটির পারম্পরিক বীজ সংরক্ষণ করছেন। এই বীজগুলিকে একটি কমিউনিটি সিড ব্যাংকে সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে যেটি গ্রামের মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত। এতে চাল, বাজরা, মকাই, ডাল, সবজি এবং বিভিন্ন ধরনের ভেষজ সামিল করা হয়েছে। এটি এমন একটি প্রয়াস যেখানে জ্ঞান সুরক্ষিত থাকছে, পরম্পরা বজায় আছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মজবুত ভীত তৈরি হচ্ছে। 

বন্ধুরা, আজকের পৃথিবী যখন জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তখন এই ধরনের প্রয়াস আমাদের এটাই বলে যে সমাধান কখনোই দূর নয়। অনেক সময় আমাদের প্রথাগত জ্ঞান এবং সম্মিলিত প্রয়াস আমাদের সবথেকে মজবুত রাস্তা দেখায়। 

আমার প্রিয় দেশবাসী, আজ আপনারা দেশের যে কোনো ছোট-বড় শহরে গেলে একটা পরিবর্তন অবশ্যই লক্ষ্য করবেন। বহু সংখ্যক বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল লাগানো দেখতে পাবেন। কয়েক বছর আগেও এটা এক-আধটা বাড়িতেই দেখা যেত। কিন্তু এখন প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনার সুফল দেশের প্রতিটি প্রান্তেই দেখা যাচ্ছে। এই প্রকল্পের ফলে গুজরাটের সুরেন্দ্রনগর জেলার পায়েল মুঁজপারার জীবনে বিরাট পরিবর্তন এসেছে। উনি এই সৌর প্রকল্পের মাধ্যমে সোলার পাওয়ার টেকনোলজির প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং চার মাসের সোলার পিভি টেকনিশিয়ানের কোর্স পূর্ণ করেছেন। এখন উনি একজন দক্ষ সোলার টেকনিশিয়ান হয়ে উঠেছেন। পায়েল একজন সোলার প্যানেল উদ্যোগী হিসেবে নিজের পরিচিতি তৈরি করছেন। উনি আশেপাশের জেলাগুলিতে সোলার রুফটপ ইনস্টলেশন এর কাজও করছেন এবং এর ফলে প্রতিমাসে ওঁর কয়েক হাজার টাকা উপার্জনও হচ্ছে।

বন্ধুরা, মীরাটের অরুণ কুমারও নিজের অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী হয়ে উঠেছেন। কিছুদিন আগে দিল্লিতে হওয়া একটি অনুষ্ঠানে অরুণ কুমার অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেছেন। উনি বলেছিলেন যে উনি শুধু বিদ্যুতের খরচেই সাশ্রয় করেননি বরং নিজের অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রিও করছেন।

বন্ধুরা, জয়পুরের মুরলীধরজির সাফল্যের কাহিনীও কিছুটা এইরকমই। আগে ওঁর জমি ডিজেল পাম্পের উপর নির্ভরশীল ছিল যেখানে প্রতিবছর হাজার হাজার টাকা খরচ হতো। যখন উনি সোলার পাম্প ব্যবহার করা শুরু করলেন তখন ওঁর চাষের পদ্ধতিটাই বদলে গেল। এখন ওঁকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চিন্তা করতে হয় না সেচের কাজও সময়মত হয় এবং ওঁর বার্ষিক আয় ও বেড়ে গেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে এখন ওঁর পরিবার পরিবেশবান্ধব শক্তি প্রয়োগের সঙ্গে সুস্থ জীবন কাটাচ্ছেন।

বন্ধুরা, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিজলী যোজনার সুফল উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের এলাকাগুলোতেও পাওয়া যাচ্ছে। ত্রিপুরায় রিয়াং জনজাতি বসবাসকারী এমন অনেক গ্রামে যেখানে বিদ্যুতের প্রভূত সমস্যা ছিল। এখন সোলার মিনিগ্রেডের মাধ্যমে ওখানে সব বাড়িতেই বিদ্যুৎ থাকে। ওইসব গ্রামে বাচ্চারা এখন সন্ধ্যের পরেও পড়াশোনা করতে পারছে। লোকে মোবাইল ফোন চার্জ করতে পারেন এবং গ্রামের সামাজিক জীবনও পাল্টাচ্ছে।

বন্ধুরা, দেশে সৌরশক্তির এমন বিপ্লবের আরো অনেক উদাহরণ রয়েছে। আপনারাও এমন বৈপ্লবিক পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত হন এবং অন্যদের যুক্ত করুন।

আমার প্রিয় দেশবাসী, মন কি বাত অনুষ্ঠানের জন্য প্রতি মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমার কাছে অনেক বার্তা আসে। এই বার্তাগুলির মাধ্যমে এটাও জানতে পারা যায় যে দূর-দূরান্তে বসে থাকা মানুষ কতটা আগ্রহের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানটি শোনেন। যখন আমি আপনাদের পরামর্শগুলি পড়ি আমার মনে হয় এটা শুধুমাত্র একটা অনুষ্ঠান নয় এটা আমাদের সকলের সম্মিলিত পারস্পরিক যোগাযোগের সূত্র হয়ে উঠেছে। আপনাদের মতামত, আপনাদের অভিজ্ঞতা এই অনুষ্ঠানটিকে ক্রমাগত আরো ভালো করে তোলার অনুপ্রেরণা যোগায়। আপনারা আপনাদের আশেপাশের এমন অনুপ্রেরণামূলক কাহিনী এভাবেই আমার সঙ্গে ভাগ করতে থাকুন। হতে পারে আপনার একটা ছোট্ট প্রচেষ্টা অন্য কারোর জীবনে বড় পরিবর্তন নিয়ে এলো, কাউকে এগিয়ে দেওয়ার নতুন শক্তি যোগালো, এটাই তো রেডিওর আসল শক্তি। দেশের ভিন্ন ভিন্ন প্রান্তে থাকা মানুষের কথা একমত, এক অনুভূতি এবং একই উদ্দেশ্যের সঙ্গে সেতু বেঁধে দেয়। পরের মাসে আবার কথা হবে কিছু নতুন অনুপ্রেরণামূলক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে, কিছু এমন প্রচেষ্টা নিয়ে যা আমাদের এগিয়ে চলার সাহস যোগাবে। ততদিন পর্যন্ত আপনারা নিজেদের এবং পরিবারের খেয়াল রাখবেন, সুস্থ থাকুন, আনন্দে থাকুন। অনেক অনেক ধন্যবাদ।


(রিলিজ আইডি: 2246620) ভিজিটরের কাউন্টার : 22