প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
প্রকাশিত:
14 MAR 2026 4:46PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৪ মার্চ, ২০২৬
রাজ্যপাল শ্রী আর.এন. রবি, কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীসভায় আমার সহকর্মী, শান্তনু ঠাকুর, সুকান্ত মজুমদার, পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী, সংসদে আমার সহকর্মী শমীক ভট্টাচার্য এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধি, ভদ্রমহোদয়া ও ভদ্রমহোদয়গণ,
আজ, কলকাতার মাটি থেকে পশ্চিমবঙ্গ এবং পূর্ব ভারতের উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায় লেখা হচ্ছে। ১৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সড়ক, রেলপথ এবং বন্দর পরিকাঠামো প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং উদ্বোধন করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলি পশ্চিমবঙ্গ এবং পূর্ব ভারতকে নতুন গতি দেবে, বাণিজ্য ও শিল্পকে উৎসাহিত করবে, লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে সহজ করবে এবং তাঁদের নতুন সুযোগ প্রদান করবে। খড়গপুর-মোরগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের সমাপ্তি পশ্চিমবঙ্গের অনেক অংশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করবে। দুবরাজপুর বাইপাস এবং কংসাবতী ও শিলাবতী নদীর উপর নির্মিত প্রধান সেতুগুলিও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবে। এই প্রকল্পগুলির জন্য আমি পশ্চিমবঙ্গ এবং পূর্ব ভারতের জনগণকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই।
বন্ধুগণ,
আজ, দেশে রেলপথ আধুনিকীকরণের জন্য একটি জোরালো অভিযান চলছে। আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যাতে পশ্চিমবঙ্গ যেন এই প্রচেষ্টায় পিছিয়ে না থাকে! তাই, কেন্দ্রীয় সরকারও পশ্চিমবঙ্গের রেলওয়ে পরিকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আজ, কলাইকুন্ডা এবং কানিমহুলি বিভাগের জন্য স্বয়ংক্রিয় ব্লক সিগন্যালিং সিস্টেম জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। এটি ব্যস্ত রেলপথের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে, নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করবে এবং যাত্রীদের জন্য গতি এবং সুবিধাও বৃদ্ধি করবে।
বন্ধুগণ,
আজ, ছয়টি স্টেশন: কামাখ্যা গুড়ি, আনাড়া, তমলুক, হলদিয়া, বরভূম এবং সিউড়ি - অমৃত স্টেশন হিসাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। আমাদের বাংলার মহান সংস্কৃতি এখন এই স্টেশনগুলিতে আরও প্রতিফলিত হচ্ছে। বর্তমানে আরও অনেক স্টেশন পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। পুরুলিয়া এবং আনন্দ বিহার টার্মিনালের মধ্যে একটি নতুন এক্সপ্রেস ট্রেন পরিষেবাও চালু করা হয়েছে। এই ট্রেন পরিষেবা কেবল পশ্চিমবঙ্গের জনগণই নয়, ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লির জনগণকেও উপকৃত করবে।
বন্ধুগণ,
সড়ক ও রেল যোগাযোগের মতো বন্দর এবং জল পরিবহনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কয়েক দশক ধরে, পূর্ব ভারতের এই সম্ভাবনাকে মূলত অবহেলিত রাখা হয়েছে। তবে, আজ জলপথ বাণিজ্য ও শিল্প অগ্রগতির জন্য নতুন পথ খুলে দিচ্ছে। এই দিকে, আজ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে এবং বন্দর পরি কাঠামো সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির উদ্বোধন করা হয়েছে। কলকাতা এবং হলদিয়ার মতো বন্দরগুলি দীর্ঘকাল ধরে পূর্ব ভারতে বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র ছিল। হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স যান্ত্রিকীকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটি কার্গো কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে, বন্দরের ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং বাণিজ্যের জন্য নতুন সুযোগ-সুবিধা তৈরি করবে। কলকাতা ডক ব্যবস্থার বেসকুল ব্রিজটিও সংস্কার করা হচ্ছে। আমরা খিদিরপুর ডকে কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বৃদ্ধির উপরও মনোনিবেশ করছি। এই সমস্ত প্রকল্প পূর্ব ভারতের সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
বন্ধুগণ,
নতুন সড়ক, রেল এবং বন্দর প্রকল্পগুলি পশ্চিমবঙ্গের আধুনিক ভবিষ্যতের জন্য নতুন পথ খুলে দিচ্ছে। কৃষক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী এবং সকলেই এর সুবিধা পাবেন। পর্যটনের মতো ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয় শিল্প এবং পরিষেবা গতি পাবে। আমরা আবারও "উন্নত বাংলা" হওয়ার গৌরব অর্জন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যেভাবে বাংলা সর্বদা ভারতকে পরিচালিত করেছে। আমি নিশ্চিত যে শক্তিশালী সংযোগ এবং আধুনিক পরিকাঠামো একটি উন্নত বাংলার ভিত্তি তৈরি করবে। এই আশা নিয়ে, আমি আবারও আপনাদের সকলকে এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলির জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। এখন, এই সরকারি কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি একটি খোলা মাঠে যাব যেখানে আজ সমগ্র বাংলা একত্রিত হয়েছে। আমি সমগ্র বাংলা দেখতে পাব এবং বাংলার মানুষের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করব। এই কর্মসূচিতে এটুকুই বললাম।
আপনাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ!
অনেক অনেক শুভেচ্ছা!
SC/SB/DM
(রিলিজ আইডি: 2240215)
ভিজিটরের কাউন্টার : 7