প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

“সুস্থিত ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক বিকাশ” শীর্ষক বাজেট-পরবর্তী ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী

প্রকাশিত: 03 MAR 2026 1:02PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ০৩ মার্চ, ২০২৬

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ “সুস্থিত ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক বিকাশ” শীর্ষক বাজেট-পরবর্তী ওয়েবিনার সিরিজের দ্বিতীয় পর্বে বক্তব্য রাখেন। গত সপ্তাহের পর্বের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথম ওয়েবিনার চমৎকার সাফল্য পেয়েছে, সেখান থেকে বাজেটের বিভিন্ন সংস্থান রূপায়ণের বিষয়ে বহু গঠনমূলক পরামর্শ পাওয়া গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ওয়েবিনার দেশের অর্থনৈতিক বিকাশে ধারাবাহিক শক্তি সঞ্চারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে ভারতের শক্তিশালী অর্থনীতি সারা বিশ্বে আশার আলো দেখাচ্ছে। অর্থনীতির দ্রুত অগ্রগতি বিকশিত ভারত-এর এক সুদৃঢ় স্তম্ভ বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

সরকারের স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ও সুদৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আরও নির্মাণ করুন, আরও উৎপাদন করুন, আরও সংযোগসাধন করুন, আরও রপ্তানি করুন"। আজকের আলোচনা এবং এথেকে উঠে আসা পরামর্শগুলি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

বিভিন্ন ক্ষেত্রের পারস্পরিক সমন্বয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন, সরবরাহ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং শহুরে কেন্দ্রগুলি বিচ্ছিন্ন ধারনা নয়, একটি একক অর্থনৈতিক কাঠামোর পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত স্তম্ভ। উৎপাদন কীভাবে রপ্তানির পরিমাণ বাড়ায় এবং প্রতিযোগিতাসক্ষম ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কীভাবে নমনীয়তা ও উদ্ভাবনের পথ সুগম করে তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই বছরের বাজেট অর্থনীতির এই সমস্ত স্তম্ভেই ব্যাপক শক্তির সঞ্চার করেছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্প মহল, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও রাজ্য সরকারগুলির সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কেবল নীতি নির্দেশিকায় কোনো ফল হয় না। তিনি উৎপাদন বৃদ্ধি ও ব্যয় কাঠামো প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার বিষয়ে আলোচনার উপর জোর দেন। ওয়েবিনারে অংশগ্রহণকারীদের এসম্পর্কিত সুপারিশ ও পরামর্শ উন্নয়নের সুফলকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী উৎপাদন ক্ষেত্রের বর্তমান প্রতিবন্ধকতাগুলি দূর করে এর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন প্রয়াস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিল্প-বাণিজ্য পরিমণ্ডলকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ডেডিকেটেড রেয়ার আর্থ করিডর এবং কন্টেনার উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রগুলির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী বাজেটে ঘোষিত 'বায়োফার্মা শক্তি মিশন'-এর উল্লেখ করে বলেন, এর লক্ষ্য হলো ভারতকে জৈব ওষুধ এবং পরবর্তী প্রজন্মের থেরাপির এক বিশ্বজনীন কেন্দ্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা। অত্যাধুনিক জৈব ওষুধ গবেষণা ও উৎপাদনে ভারত নেতৃত্ব দিতে চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ক্রমপরিবর্তনশীল বিশ্ব চালচিত্রের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্ব এখন নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল উৎপাদন সহযোগী খুঁজছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ, গবেষণায় জোর এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার আহ্বান জানান। ভারতের এই ভূমিকা পালন করার সক্ষমতা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চুক্তিগুলি সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দিয়েছে, সেই সঙ্গে ভারতীয় শিল্পমহলের উপর গুণমানের বিষয়ে জোর দেওয়ার দায়িত্বও অর্পণ করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা যাতে নিজেদের মনের মতো পণ্য পেতে পারেন সেজন্য তাঁদের চাহিদা ও পছন্দ নিয়ে গবেষণার উপর জোর দেন তিনি। একমাত্র তাহলেই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে উদ্ভূত সম্ভাবনার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা যাবে বলে শ্রী মোদী মন্তব্য করেন।

এমএসএমই ক্ষেত্র সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক স্তরবিন্যাসগত সংস্কার ছোট সংস্থাগুলির ভয় দূর করেছে। সরকার অর্থের যোগান ও প্রযুক্তির বিষয়ে সহায়তা করলেও এমএসএমই-গুলির বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম হয়ে ওঠার উপরেই প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, গুণগত মানোন্নয়ন, ডিজিটাল পদ্ধতির সঙ্গে সংযোগ এবং শক্তিশালী মূল্য শৃঙ্খল গড়ে তোলার উপর জোর দেন তিনি। 

জাতীয় বিকাশ কৌশলের মূল স্তম্ভ হিসেবে পরিকাঠামো ও লজিস্টিকসকে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী উচ্চগতির রেল, বহুমুখী সংযোগ এবং জাহাজ মেরামত সুবিধার সম্প্রসারণের উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এবছরের বাজেটে রেকর্ড পরিমাণ মূলধনী ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। এই পরিকাঠামো সম্প্রসারণের প্রকৃত সুফল পেতে হলে শিল্পমহল ও বিনিয়োগকারীদেরও এর সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

নগরায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের ভবিষ্যৎ বিকাশ শহরগুলির কার্যকর পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরগুলি কীভাবে বিকাশের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে সেই বিষয়ে তিনি সকলের পরামর্শ চান। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজার এখন শুধু খরচের দিকেই নয়, পরিবেশগত প্রভাবের উপরেও মনোযোগ দেয়। কার্বন ক্যাপচার, ইউটিলাইজেশন অ্যান্ড স্টোরেজ মিশনের উল্লেখ করে তিনি শিল্পমহলকে পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি গ্রহণের আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব শিল্প সময়োপযোগী পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির উপর বিনিয়োগ করছে, আগামীদিনে তারাই বাজারে এগিয়ে থাকবে।

বিকশিত ভারত-এর সংকল্প অর্জনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী সম্মিলিত দায়িত্ববোধের উপর জোর দিয়ে বলেন, শুধু আলাপ-আলোচনায় আবদ্ধ না থেকে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিল্পে গতি সঞ্চার করতে হবে। শিল্পমহলের প্রতিটি অভিজ্ঞতা ও পরামর্শই মূল্যবান বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন।

 

SC/SD/SKD


(রিলিজ আইডি: 2235142) ভিজিটরের কাউন্টার : 51