PIB Headquarters
পরীক্ষা পে চর্চা
প্রকাশিত:
06 FEB 2026 3:47PM by PIB Kolkata
৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মূল বিষয়সমূহ
২০১৮ সালে শুরু হওয়া ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ (PPC) একটি বার্ষিক সর্বভারতীয় উদ্যোগ, যেখানে প্রধানমন্ত্রী পরীক্ষা, জীবনদক্ষতা ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
PPC চাপমুক্তভাবে পরীক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি, মানসিক দৃঢ়তা এবং সামগ্রিক বিকাশে উৎসাহিত করে, যা জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-র সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
‘চিন্তিত হয়ো না, যুদ্ধে এগিয়ে যাও’ (Be a Warrior, Not a Worrier), এই দর্শনের সাহায্যে PPC শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকে ইতিবাচকভাবে দেখার মানসিকতা গড়ে তোলে এবং আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা পরায়ণতা ও সহনশীলতা বিকাশে সহায়তা করে।
২০২৫ সালের সাফল্য: PPC ২০২৫-এ ৫ কোটিরও বেশি অংশগ্রহণকারী অংশগ্রহণ করেন এবং ৩.৫৩ কোটি নিবন্ধনের মাধ্যমে এটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড সৃষ্টি করে।
২০২৬ সালে সর্বভারতীয় সম্প্রসারণ: PPC ২০২৬ দেশের পাঁচটি অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয়েছে—দেবমোগরা, কোয়েম্বাটুর, রায়পুর, গুয়াহাটি এবং দিল্লির ৭ লোক কল্যাণ মার্গ। এর ফলে, অন্তর্ভুক্তি ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
ভূমিকা: ‘এক্সাম ওয়ারিয়র’-এর সূচনা
২০১৮ সালে সূচিত পরীক্ষা পে চর্চা একটি জাতীয় উদ্যোগ, যার লক্ষ্য পরীক্ষা সংক্রান্ত চাপ কমানো এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বার্তালাপের এই কর্মসূচি আত্মবিশ্বাস, মানসিক সুস্থতা, সময় ব্যবস্থাপনা ও ধারণাভিত্তিক শিক্ষাকে উৎসাহিত করে। জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে PPC বর্তমানে একটি সর্বজনীন শিক্ষামূলক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
পরীক্ষা পে চর্চা ২০২৬: নবম সংস্করণ
২০২৬ সালের PPC-তে ৪.৫ কোটিরও বেশি নাম নথিভুক্ত হয়েছে, যা পরীক্ষা সংক্রান্ত চাপ মোকাবিলায় এই উদ্যোগের প্রাসঙ্গিকতাকে আরও জোরদার করেছে। মূল অনুষ্ঠানের আগে ১২–২৩ জানুয়ারি ২০২৬ সারা দেশে নানা শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয় (দৌড়, ক্যুইজ ও লেখালিখি প্রতিযোগিতা) যার মাধ্যমে অংশগ্রহণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরীক্ষা পে চর্চা ২০২৬-এর উল্লেখযোগ্য দিক
২০২৬ সংস্করণে ৭ লোক কল্যাণ মার্গে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা ও ‘Exam Warriors’ বই থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির মাধ্যমে পরীক্ষাভীতি ও মানসিক চাপ মোকাবিলার বাস্তব দিকগুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
PPC-এর সর্বভারতীয় সম্প্রসারণ
প্রথমবারের মতো PPC একটি প্রকৃত সর্বভারতীয় কর্মসূচিতে রূপ নিয়েছে। তামিলনাড়ু, ছত্তিশগড়, গুজরাট, অসম ও দিল্লিতে আয়োজিত সেশনগুলির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। ব্রহ্মপুত্র নদীতে জলযানের ওপর অনুষ্ঠিত আলোচনাসভা আঞ্চলিক অন্তর্ভুক্তি ও উদ্ভাবনী আয়োজনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
উদ্যোগ থেকে জন-আন্দোলন
২০১৮ সালে একটি ছোট অনুষ্ঠান হিসাবে শুরু হওয়া PPC আজ একটি সর্বভারতীয় জন-আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টেলিভিশন, ডিজিটাল ও অনলাইন মাধ্যমে এর বিস্তার ঘটেছে। কোভিড-১৯ পর্বে অনলাইনে সফলভাবে আয়োজনের মাধ্যমে এই কর্মসূচি আর-ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক আয়োজন
MyGov পোর্টালে অনলাইন নির্বাচনের মাধ্যমে PPC-এর যাত্রা শুরু হয়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পান। পরীক্ষার পাশাপাশি, জীবনদক্ষতা ও ব্যক্তিগত বিকাশ নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা এই অনুষ্ঠানের মূল বৈশিষ্ট্য।
পরীক্ষার চাপ দূর করে আত্মবিশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে ওঠা
PPC পরীক্ষাকে ভয়ের বিষয় না বানিয়ে আত্মবিশ্বাসে পরিণত করার উপর জোর দেয়। সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক চিন্তাভাবনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। জাতীয় দিবস ও সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গগুলি সংযুক্ত হওয়ায় PPC একটি শিক্ষামূলক কর্মসূচির পাশাপাশি, সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে।
শিক্ষার পরিসর বিস্তারে PPC
সময়ের সঙ্গে PPC শুধুমাত্র পরীক্ষাবিষয়ক আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে জীবনদক্ষতা, সামাজিক দায়িত্ব ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের একটি পরিসর তৈরি করেছে। পরিবেশ সচেতনতা, সুস্থ জীবনযাপন, প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার ও নেতৃত্ব গঠনের মতো বিষয়গুলি শিক্ষার্থীদের ভারসাম্যপূর্ণ ও ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত করে তোলে।
জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য
PPC জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-এর আনন্দময়, অভিজ্ঞতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার উদ্দেশ্যকে সফল করে তুলেছে। সর্বশিক্ষা অভিযান ও PM-SHRI স্কুলের মতো উদ্যোগের সঙ্গে মিল রেখে এটি সমতা, সৃজনশীলতা ও ধারণাভিত্তিক শিক্ষাকে উৎসাহিত করে।
অন্তর্ভুক্তি ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব
বিভিন্ন সামাজিক ও ভৌগোলিক পটভূমির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ PPC-কে ভারতের শিক্ষাবৈচিত্র্যের প্রতিচ্ছবি করে তুলেছে। ২০২৬ সালের সর্বভারতীয় বিন্যাসে অঞ্চলভিত্তিক সমস্যাগুলি উঠে এসেছে এবং শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের ব্যাপক আস্থা প্রতিফলিত হয়েছে।
ইতিবাচক মানসিকতা
পরীক্ষা পে চর্চা পরীক্ষাভীতি ও মানসিক চাপ নিয়ে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে। মানোদর্পণ উদ্যোগের পরিপূরক হিসেবে এটি সাহায্য চাওয়ার বিষয়ে সামাজিক সংকোচ কমায় এবং সময় ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার গুরুত্ব সফলভাবে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরে।
‘এক্সাম ওয়ারিয়র’ দর্শন
‘Exam Warriors’ বই থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে PPC আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার মানসিকতা গড়ে তুলেছে। “চিন্তিত হয়ো না, যুদ্ধে এগিয়ে যাও”, এই বার্তা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিতে উৎসাহিত করেছে এবং ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
উপসংহার
পরীক্ষা পে চর্চা আজ আর শুধু পরীক্ষার আগের একটি অনুষ্ঠান নয়; এটি প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বকীয়তা উদযাপনকারী একটি জাতীয় আন্দোলন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও শ্রেণীকক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি জাগাতে সফল হয়েছে। বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর পথে এগোতে গিয়ে PPC নিশ্চিত করছে যে, ভারতের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হবে আত্মবিশ্বাসী, চাপমুক্ত ও আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় সক্ষম।
তথ্যসূত্র
Press Information Bureau
DD News
PM India (Official PMO Website)
Indian Missions
Ministry of Education
Click here to see pdf
*****
SSS/PK/6.2.26
(রিলিজ আইডি: 2224802)
ভিজিটরের কাউন্টার : 6