অর্থমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

কৃত্রিম মেধার ওপর অহেতুক নির্ভরতা যাতে না সৃষ্টি হয় তার জন্য ভারতের বিকেন্দ্রিভূত প্রয়োগ ভিত্তিক এক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন : আর্থিক সমীক্ষা

प्रविष्टि तिथि: 29 JAN 2026 2:06PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

 

কেন্দ্রীয় অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী শ্রীমতী নির্মলা সীতারমণ আজ সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের আর্থিক সমীক্ষা পেশ করেছেন। এই সমীক্ষায় কৃত্রিম মেধাকে আর্থিক কৌশল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে কৃত্রিম মেধা যেভাবে নির্ণায়ক হয়ে উঠছে, সেই আবহে ভারতের জন্য একটি কৌশল নির্ধারণ করার কথা এই সমীক্ষায় বলা হয়েছে। 

সমীক্ষায় ভারতে কৃত্রিম মেধার বিষয়ে একটি পৃথক অধ্যায় রয়েছে। এখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্দিষ্টভাবে নানা উদ্যোগ গ্রহণের কথা যেমন বলা হয়েছে, পাশাপাশি উদ্ভাবনের বিষয়টিও স্থান পেয়েছে। ভারতকে মানব সম্পদের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা ছাড়াও তথ্যের বৈচিত্র্য ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

ভারতে কৃত্রিম মেধার চাহিদা ক্রমবর্ধমান। স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষি, শহরাঞ্চলে ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং জনপ্রশাসনে কৃত্রিম মেধার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা এই সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে। গণনা, আর্থিক ক্ষেত্র, তথ্য ব্যবস্থাপনা সহ নানা বিষয়ে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম মেধার ব্যবহার করা হয়। এই প্রেক্ষিতে একটি বিকেন্দ্রীভূত ও প্রয়োগ নির্ভর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছোট ছোট কাজের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃত্রিম মেধাকে প্রয়োগ করতে হবে যাতে ভারতের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এটিকে যথাযথভাবে যুক্ত করা যায়। এই সমীক্ষায় একটি অবাধ ও পারস্পরিক সম্পর্ক যুক্ত কৃত্রিম মেধা ব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে। 

কৃত্রিম মেধার এই যুগে পাঠক্রম এবং প্রশিক্ষণেও এটিকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও তথ্যের নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে এর যথাযথ প্রয়োগের প্রয়োজন। এর ফলে আর্থিক দিক থেকে সুবিধাজনক হবে এরকম একটি ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে। এই সমীক্ষায় বলা হয়েছে ভারতের কৃত্রিম মেধা সংক্রান্ত কৌশল গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে, যাতে সমন্বয় গড়ে তোলা, দক্ষতাকে বজায় রাখা এবং বিভিন্ন নীতি অনুসরণ করার মতো বিষয়গুলিতে নানা প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নিতে সহায়তা করা যায়। 

কৃত্রিম মেধার এক ব্যবস্থাপনা পৃথিবীর নানা দেশে তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে দক্ষতার বিষয়টিকে যেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, এর ওপর নির্ভরতা এবং কৃত্রিম মেধার মাধ্যমে প্রশাসনিক কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সমতা বজায় রাখাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় কৃত্রিম মেধা মিশনের মাধ্যমে ভারতের বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ যথাযথভাবে করা হবে। কৃত্রিম মেধার মাধ্যমে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ভারতে এর সাহায্যে খুব সহজেই কম পয়সায় ব্রেস্ট ক্যান্সার সম্পর্কে ধারণা করা যায়। আজ দেশের ১২টি রাজ্যে ১ কোটি ১৮ লক্ষ কৃষক এই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজারে সহজেই তাদের পণ্য সরবরাহ করতে পারেন। 

এই সমীক্ষায় ভারতের নিজস্ব কৃত্রিম ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উন্নত গণনার ক্ষেত্রে সরবরাহ শৃঙ্খলে কৃত্রিম মেধা প্রয়োগে দেশীয় পদ্ধতিতে এর উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে উৎসাহদান করা হচ্ছে। দেশ জুড়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম মেধা- অপারেটিং সিস্টেম গড়ে তোলার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। 

প্রশাসনিক কাজে কৃত্রিম মেধার ব্যবহার- এআই ইকোনমিক কাউন্সিল গঠন করে ভারতে শিক্ষা ক্ষেত্রে এবং দক্ষতা বিকাশে এই প্রযুক্তি প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে মানব সম্পদকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আবার মানব সম্পদের সঙ্গে প্রযুক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন বিবর্তন ঘটানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কৃত্রিম মেধায় মানব সম্পদকে কাজে লাগানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এদেশের জনবিন্যাসকে কাজে লাগিয়ে দক্ষ কর্মীগোষ্ঠী গড়ে তুলতে ‘আর্ন অ্যান্ড লার্ন ইনিশিয়েটিভ’ নেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষা নীতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে এই উদ্যোগ। সমীক্ষায় বৈদ্যুতিন ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের নীতি নির্দেশিকা অনুসারে একটি ‘এআই সেফটি ইন্সটিটিউট’ গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি নিরাপদ মানব মুখী কৃত্রিম মেধা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সমীক্ষায় ভারতের কৃত্রিম মেধা প্রয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন তৈরির ক্ষেত্রে উদ্ভাবনা, মানব সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং ফিজিক্যাল ও ডিজিটাল পরিকাঠামোকে একসঙ্গে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই প্রসঙ্গটিও উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে উন্নয়নের ক্ষেত্রে যথাযথ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী এক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা যাবে। 

 

SC/CB/NS…. 


(रिलीज़ आईडी: 2220373) आगंतुक पटल : 5
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी