প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
দিল্লিতে বার্ষিক এনসিসি পিএম র্যালিতে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
প্রকাশিত:
28 JAN 2026 6:05PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ দিল্লির কারিয়াপ্পা প্যারেড গ্রাউন্ডে বার্ষিক এনসিসি পিএম র্যালিতে ভাষণ দেন। এনসিসি দিবস উপলক্ষ্যে উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এনসিসি এনএসএস ক্যাডেট, ট্যাবলো শিল্পী এবং রাষ্ট্রীয় রঙ্গশালার ব্যক্তিবর্গ, দেশের নানা প্রান্ত থেকে যোগ দেওয়া তরুণ-তরুণীদের প্রয়াসকে এই সমন্বিত সমাবেশে প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আজ সকালে মহারাষ্ট্রে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার সহ আরও বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। অজিত পাওয়ার মহারাষ্ট্র তথা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে, গ্রামাঞ্চলের মানুষদের জীবনযাপনের উন্নতিসাধনে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত অজিত পাওয়ারের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে এই সমাবেশে যোগ দেওয়া ক্যাডেটদেরকেও তিনি শুভেচ্ছা জানান এবং এ বছরের সমাবেশে মেয়েদের বিপুল অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এনসিসি ক্যাডেটদের সংখ্যা ১৪ লক্ষ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০ লক্ষতে দাঁড়িয়েছে। সীমান্ত ও উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে তাঁদের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এনসিসি’কে তিনি এমন এক আন্দোলন বলে আখ্যা দেন, যাতে যুবসম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা, নিয়মানুবর্তিতা, সংবেদনশীলতা এবং রাষ্ট্রের প্রতি উৎসর্গীকৃত মনোভাব প্রত্যক্ষ করা যায়।
বন্দে মাতরম – এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন দেশজুড়ে বিপুল উৎসাহের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। পরমবীর সাগর যাত্রা আরেকটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ২১টি দ্বীপকে কয়েক বছর আগে পরমবীর চক্র জয়ীদের নামে নামাঙ্কিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, লাক্ষাদ্বীপে দ্বীপ উৎসব উদযাপনের মধ্য দিয়ে ক্যাডেটরা সাগর সংস্কৃতি এবং প্রকৃতির একযোগে উদযাপন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্মৃতিসৌধ থেকে সড়ক পর্যন্ত সমর শিক্ষার্থী বাহিনী সাইকেল র্যালির মধ্য দিয়ে বাজিরাও পেশাওয়া, লচিত বরফুকান এবং ভগবান বীরসা মুন্ডার মতো বীরদের সাহসিকতা এবং শৌর্যকে তুলে ধরেছেন। আজ অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত ক্যাডেটদেরকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় যুবসম্প্রদায়ের সামনে সর্বাধিক সুযোগ তৈরি করাই বর্তমান সময়ের লক্ষ্য। ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের যুবসম্প্রদায় এতে নানাভাবে উপকৃত হবেন। এই চুক্তির আগে ওমান, নিউজিল্যান্ড, ব্রিটেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, অস্ট্রেলিয়া ও মরিশাসের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, যা যুবসম্প্রদায়ের সামনে নানাবিধ সুযোগের সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমগ্র বিশ্ব এখন ভারতের প্রতি গভীর আস্থা দেখাচ্ছে। এর কারণ, যুবসম্প্রদায়ের দক্ষতা এবং তাঁদের মূল্যবোধ। গণতন্ত্র, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সারা বিশ্ব এক পরিবার – এই মূল্যবোধ যুবসম্প্রদায় বহন করছে। এই মানসিকতার ফলে যে দেশেই তাঁরা যান, সেখানকার মানুষের সঙ্গে তাঁরা একাত্ম হতে পারেন এবং সেই দেশগুলির উন্নয়নযজ্ঞে সামিল হন। ভারতীয় সংস্কৃতি ও মনোভাবে এই মূল্যবোধ বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে বলে তিনি জানান।
শ্রী মোদী বলেন, বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তাঁর কথায় ভারতীয় যুবসম্প্রদায়ের অসাধারণ পেশাদারিত্ব এবং তাঁদের পরিশ্রমী মানসিকতার তাঁরা ভুয়সী প্রশংসা করেছেন। উপসাগরীয় দেশগুলির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লক্ষ লক্ষ ভারতীয় সেখানে বছরের পর বছর কাজ করছেন। নানা দেশে ভারতীয় ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ররা অসাধারণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো গড়ে তুলছেন। ভারতীয় শিক্ষক যাঁরা বিদেশে গিয়েছেন, তাঁরা বিশ্বব্যাপী নবমূল্যবোধের সঞ্চার ঘটিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী তাঁদের অবদানের পাশাপাশি, দেশেও তাঁদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। ভারতীয় যুবসম্প্রদায় বিশ্বব্যাপী তথ্য প্রযুক্তির মেরুদন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের উদ্ভাবনী চিন্তা, স্টার্টআপ, মহাকাশ, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং সর্বক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাচ্ছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে সব চুক্তির সেরা আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে ভারতের যুবসম্প্রদায় আকাঙ্ক্ষা নানাভাবে চরিতার্থ হবে। বিশ্বব্যাপী তা এক পরিবর্তনের সূচক হয়ে দেখা দেবে। ভারতের স্টার্টআপ উদ্ভাবনী পরিমণ্ডল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশ উপকৃত হবে। সেইসঙ্গে, চলচ্চিত্র, গেমিং, ফ্যাশন, ডিজিটাল কনটেন্ট, সঙ্গীত ও নকশায় ভারতের সৃষ্টিশীল অর্থনীতির প্রসার ঘটবে। গবেষণা, শিক্ষা, তথ্য প্রযুক্তি এবং পেশাদারী পরিষেবা ক্ষেত্রে তা নানাবিধ সম্ভাবনার সুযোগ গড়ে তুলবে। আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া, মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’ – এই সংকল্পকে তা শক্তিশালী করবে। ভারতের রপ্তানীর প্রায় ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই শূন্য রপ্তানী শুল্ক বা অনেক কম হবে। এরফলে, ভারতের বস্ত্র, চর্ম, রত্নালঙ্কার, পাদুকা, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং এমএসএমই ক্ষেত্র নানাভবে উপকৃত হবে। সেইসঙ্গে, তন্তুবায়, কারিগর, ছোট উদ্যোগপতিরা ২৭টি ইউরোপীয় দেশের বাজারে সুযোগ পাবেন।
এই চুক্তির ফলে ভারতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রনিক্স, রাসায়নিক, ওষুধ, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং মৎস্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ প্রসারিত হবে। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভারতীয় যুবসম্প্রদায়কে ইউরোপের কর্মক্ষেত্রে সরাসরি সংযুক্ত করবে। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং, পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তি, নকশা, লজিস্টিকস্ এবং উন্নত নির্মাণ ক্ষেত্রে নানা সম্ভাবনার সুযোগ তাদের সামনে প্রসারিত হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রিফর্ম এক্সপ্রেস – এর মাধ্যমে সরকার বৈশ্বিক সম্ভবনার সুযোগকে প্রসারিত করছে। যুবসম্প্রদায়ের চলার পথে সমস্ত বাধাকে দূর করা হচ্ছে। দেশের মধ্যে নানা সম্ভাবনার সুযোগও প্রসারিত হচ্ছে।
অপারেশন সিঁদুর – এর উপর আকর্ষণীয় ট্যাবলোর প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় সুরক্ষা ক্ষেত্রে নানা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এনসিসি ক্যাডেটদের ভূমিকার তিনি প্রশংসা করেন। সশস্ত্র বাহিনীকেও তারা রক্তদান শিবিরের আয়োজন, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান – এইসবের মধ্য দিয়ে নানাভাবে সাহায্য করছে। প্যারেড গ্রাউন্ডের মধ্যেই এনসিসি-র প্রশিক্ষণ সীমিত নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র প্রথম’ – এই ভাবধারা তাঁদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছে।
অপারেশন সিঁদুর – এর উপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, এতে সশস্ত্র বাহিনীর শৌর্য ও বিক্রম প্রতিফলিত হয়েছে। দেশজ অস্ত্রের যে কতটা অগ্রগতি ঘটেছে, তারও প্রতিফলন হয়েছে। এখন আর কেবল কামান আর গোলায় যুদ্ধ হয় না, কোড এবং ক্লাউডে হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার অর্থ জাতীয় সুরক্ষার সঙ্গে সমঝোতা করা – একথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবদের মধ্যে উদ্ভাবনী মানসিকতার সঞ্চার ঘটাতে হবে। এমন মানসিকতা, যা জাতীয় সুরক্ষার পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে দেশাত্মবোধেরও সঞ্চার ঘটায়। ভারতে তৈরি ড্রোন এবং কৃত্রিম মেধা, প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন ও সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যুবসম্প্রদায়কে এর সর্বাত্মক সুযোগ নিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী।
২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় ভোটার দিবসের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এই উপলক্ষ্যে তিনি দেশবাসীকে চিঠি লিখেছিলেন। জাতীয় ভোটার দিবস সংবিধান প্রদত্ত দায়বদ্ধতার উদযাপন বলে তিনি জানান। ভারতে বিশ্বের সর্ববৃহৎ তরুণ ভোটার রয়েছেন। প্রথমবার ভোটারদের সম্মান জানাতে প্রতি বছর ২৫ জানুয়ারি জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত ভারত কেবলমাত্র আর্থিক সমৃদ্ধিতে নয়, দেশের নাগরিকদের আচরণের উপরও তা নির্ভরশীল। এমন আচরণ, যা তাঁদের মধ্যে কর্তব্যবোধকে শিক্ষা দেয়। স্বচ্ছ ভারত অভিযানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক নাগরিককে প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক ঘন্টা স্বচ্ছতা অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
‘এক পেঢ় মা কে নাম’ – এই অভিযানের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এনসিসি এই অভিযানের মাধ্যমে প্রায় ৮ লক্ষ বৃক্ষ রোপণ করেছে। ফিট ইন্ডিয়া অভিযানকে এনসিসি ক্যাডেটরা যে এগিয়ে নিয়ে চলেছে, তার প্রশংসা করে বলেন, এতে তাঁরা ক্রীড়া ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাচ্ছে।
যুবদের মধ্যে শারীরিক স্থূলতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতে তিন জনের মধ্যে একজন এই স্থূলতার শিকার। মধুমেহ, রক্তচাপ এবং অন্যান্য রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায় এই মেদ বৃদ্ধির ফলে। এ ব্যাপারে তিনি সকলকে সতর্ক হতে বলেন এবং খাবারে কম তেল খাবার পরামর্শ দেন।
এনসিসি কুচকাওয়াজের শিক্ষাই শুধু দেয় না, নাগরিকদের মধ্যে দায়বদ্ধতাকেও জাগ্রত করে। আরও উন্নত নাগরিক হয়ে উঠতে এনসিসি ক্যাডেটদের মধ্যে দক্ষতা ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের অভিজ্ঞতা তাঁদের ব্যক্তিত্বের বিকাশে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি জানান। উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁদের জীবনের সর্বাঙ্গীন কল্যাণের কথা বলে উন্নত ভারত গড়ে তোলার পথে তাঁদের সক্রিয় যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শ্রী রাজনাথ সিং, ডঃ মনসুখ মান্ডব্য, শ্রী সঞ্জয় শেঠ প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
SC/AB/SB
(রিলিজ আইডি: 2220152)
ভিজিটরের কাউন্টার : 34
এই রিলিজটি পড়তে পারেন:
English
,
Urdu
,
Marathi
,
हिन्दी
,
Assamese
,
Manipuri
,
Punjabi
,
Gujarati
,
Odia
,
Tamil
,
Telugu
,
Kannada
,
Malayalam