রাষ্ট্রপতিরসচিবালয়
সংসদে রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণ
प्रविष्टि तिथि:
28 JAN 2026 12:57PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
মাননীয় সদস্যগণ,
সংসদে সদস্যদের এই মিলিত সভায় ভাষণ দেওয়া আমার কাছে অত্যন্ত আনন্দের। বিগত বছরটি ভারতের দ্রুত উন্নয়ন এবং এর সমৃদ্ধ ঐতিহ্য উদযাপনের জন্য স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। বর্তমানে ভারত বন্দে মাতরম – এর ১৫০ বছর উদযাপন করছে। দেশের মানুষ ঋষি বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন।
মাননীয় সদস্যগণ,
এই পর্বে দেশবাসী গুরু তেগ বাহাদুর জি-র ৩৫০তম জন্ম জয়ন্তী উদযাপন করেছেন। ভগবান বিরসা মুন্ডার ১৫০তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দেশবাসী এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের অবদানকে স্মরণ করেছেন।
সর্দার প্যাটেলের ১৫০তম জন্মবার্ষিকীর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠান ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ – এর চেতনাকে শক্তিশালী করেছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
২০২৬ – এর শুরুতে দেশ এই শতকের দ্বিতীয় পর্বে প্রবেশ করেছে। বিগত ২৫ বছর অসংখ্য সাফল্য, গৌরবময় প্রাপ্তির জন্য স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। গত ১০-১১ বছর ধরে ভারত প্রতিটি ক্ষেত্রে তার ভিত্তিকে মজবুত করেছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারতের যাত্রাপথে এই পর্বটি এক শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
বাবাসাহেব আম্বেদকর সর্বদা সাম্য ও সামাজিক ন্যায়ের উপর জোর দিয়েছেন। আমাদের সংবিধানও একই চেতনার বার্তা দেয়। সামাজিক ন্যায়ের অর্থ হ’ল – কোনোরকম বৈষম্য ছাড়াই প্রতিটি নাগরিকের সম্পূর্ণ অধিকার সুনিশ্চিত করা। আমার সরকার সামাজিক ন্যায়ের প্রতি পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ। এর ফলশ্রুতি হিসেবে, গত এক দশকে ২৫ কোটি নাগরিক দারিদ্রকে জয় করেছেন। গত এক দশকে ৪ কোটি পাকা বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। গত বছর গরীবদের হাতে ৩২ লক্ষ নতুন বাড়ি তুলে দেওয়া হয়েছে। জল জীবন মিশনে গত পাঁচ বছরে ১২.৫ কোটি নতুন বাড়িতে নলবাহিত জল সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। উজ্জ্বলা যোজনায় এ পর্যন্ত ১০ কোটিরও বেশি বাড়িতে এলপিজি সংযোগ দেওয়া হয়েছে। গত এক বছরে আমার সরকার প্রত্যক্ষ সুবিধা হস্তান্তরের মাধ্যমে ৬.৭৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি প্রদান করেছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
দলিত, অনগ্রসর শ্রেণী, প্রান্তিক এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করে চলেছে আমার সরকার। ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ দেশের সমস্ত নাগরিকের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। ২০১৪’র শুরুতে মাত্র ২৫ কোটি নাগরিককে সামাজিক রক্ষাকবচের আওতায় আনা হয়েছিল। আর আমার সরকারের ধারাবাহিক প্রয়াসের ফলে আজ প্রায় ৯৫ কোটি ভারতীয়কে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত যোজনায় গত বছর পর্যন্ত ১১ কোটিরও বেশি গরীব মানুষ নিখরচায় চিকিৎসার সুবিধা পেয়েছেন। এর মধ্যে গত বছর পেয়েছেন ২.৫ কোটি গরীব রোগী। গত দেড় বছরে প্রায় ১ কোটি প্রবীণ নাগরিককে বয়ঃবন্দনা কার্ড প্রদান করা হয়েছে। প্রায় ৮ লক্ষ প্রবীণ নাগরিক হাসপাতালগুলিতে বিনা খরচে চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছেন। ১ লক্ষ ৮০ হাজার আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের মাধ্যমে গোটা দেশের মানুষ তাঁদের বাড়ির কাছে চিকিৎসার সুবিধা পাচ্ছেন। সিকল সেল অ্যানিমিয়া নির্মূলীকরণ মিশনের আওতায় ৬.৫ কোটির বেশি নাগরিকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। আমার সরকার প্রতিটি নাগরিককে বিমার আওতায় আনতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এইসব প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ২৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রদান করা হয়েছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে দেশের তরুণ, কৃষক, কর্মচারী এবং শিল্পোদ্যোগীদের ধারাবাহিক প্রয়াস দেখে আমি সন্তোষ বোধ করছি। গত এক বছরে ভারত ৩৫০ মিলিয়ন টনেরও বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদনের রেকর্ড গড়েছে। ১৫০ মিলিয়ন টন চাল উৎপাদনের মাধ্যমে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম চাল উৎপাদক দেশ হয়ে উঠেছে। মৎস্য উৎপাদনে আমরা বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম। দুগ্ধ উৎপাদনেও আমরা অত্যন্ত সফল দেশ হয়ে উঠেছি। এই পর্বে দেশের উৎপাদন ক্ষেত্রে রেকর্ড অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। মোবাইল উৎপাদনে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হয়ে উঠেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম পাঁচ মাসে ভারতের স্মার্টফোন রপ্তানি ১ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই বছর ভারত ১৫০টিরও বেশি দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি রপ্তানী শুরু করেছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারি মুক্ত একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমার সরকার অত্যন্ত সফল। দেশের প্রতিটি করদাতার অর্থ উন্নয়ন ও কল্যাণের কাজে ব্যয় করা হচ্ছে। আধুনিক পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে ভারতে নজিরবিহীন বিনিয়োগ করা হয়েছে। গত এক বছরে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার নতুন গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় প্রত্যেকটি গ্রামের মানুষকে সড়কপথে যুক্ত করা হয়েছে। ভারতীয় রেল ১০০ শতাংশ বৈদ্যুতিকীকরণের পথে এগোচ্ছে।
মিজোরামের আইজল ও নতুন দিল্লির মধ্যে রেলপথে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে উঠেছে। জম্মু ও কাশ্মীরের চেনাব নদীর উপর বিশ্বের উচ্চতম রেলসেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভারত পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে। আজ জম্মু ও কাশ্মীর থেকে কেরল পর্যন্ত ১৫০টিরও বেশি বন্দে ভারত ট্রেন চালু করা হয়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগে বন্দে ভারত – এর এক নতুন প্রজন্মের ট্রেন যুক্ত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের মধ্যে বন্দে ভারত – এর স্লিপার কোচ চালু ভারতীয় রেলের অগ্রগতিতে এক নতুন সাফল্য যুক্ত করেছে। ২০২৫ সালে মেট্রোরেল ১ হাজার কিলোমিটারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। মেট্রোরেল নেটওয়ার্কে ভারত এখন বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম।
মাননীয় সদস্যগণ,
মহাকাশ পর্যটনও এখন ভারতের নাগালের মধ্যে। তরুণ মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাড়ি এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করেছে। দেশ এখন গগনযান মিশনের লক্ষ্যে কাজ করছে। দশকের পর দশক ধরে পড়ে থাকা প্রকল্পগুলিতে গতি আনতে আমার সরকার ‘প্রগতি’ নামে এক নতুন উদ্যোগ চালু করেছে। বিগত বছরগুলিতে প্রগতির মাধ্যমে ৮৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
বিগত ১১ বছরে দেশের আর্থিক ভিত্তি উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। আন্তর্জাতিক নানা সঙ্কট সত্ত্বেও ভারত বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বিকাশশীল দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও ভারত রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। আমার সরকারের নীতির ফলে নাগরিকদের আয় বেড়েছে, সঞ্চয় বেড়েছে এবং তাঁদের ক্রয় ক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আমি সমস্ত নাগরিকদের অভিনন্দন জানাই। এরফলে, উৎপাদন এবং পরিষেবা ক্ষেত্রে গতি আসবে। সেইসঙ্গে, ভারতের তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মাননীয় সদস্যগণ,
আমার সরকার ‘রিফর্মস এক্সপ্রেস’ – এর পথ ধরে এগোচ্ছে। পুরনো আইন-কানুন ও ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। জিএসটি-র ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কার করা হয়েছে। এই সংস্কারের ফলে নাগরিকদের ১ লক্ষ কোটি টাকার সঞ্চয় সুনিশ্চিত হয়েছে। ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে কর ছাড় দিয়ে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এইসব সংস্কারের ফলে গরীব এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর পরিবারগুলি উপকৃত হচ্ছেন। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় শ্রম আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ডজন ডজন আইনের অবলুপ্তি ঘটিয়ে মাত্র ৪টি বিধির মাধ্যমে কর্মী বাহিনীর স্বার্থকে সুরক্ষিত করা হয়েছে। নতুনা আইনের ফলে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি, ভাতা এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক সুবিধা পাচ্ছেন।
মাননীয় সদস্যগণ,
ডিজিটাল অর্থনীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে লগ্নি ক্রমশ বাড়ছে। অর্থনীতির এই নতুন রূপে প্রচুর বিদ্যুতের প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পরমাণু শক্তির বড় ভূমিকা রয়েছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াটের পরমাণু শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে শান্তি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। পরমাণু শক্তি ছাড়াও পিএম সূর্যঘর মুফত বিজলী যোজনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষও বিদ্যুৎ উৎপাদন করছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষ বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এভাবে চললে এই দশকের শেষে ভারত ৫০০ গিগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জন করবে।
মাননীয় সদস্যগণ,
পূর্ব ভারতের দ্রুত উন্নয়নে পূর্বোদয়ের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার সামুদ্রিক অঞ্চলে উন্নয়নের নতুন নতুন দিক আত্মপ্রকাশ করছে। এখন উন্নয়নের মূল ধারার সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করা হচ্ছে। আসামে খুব শীঘ্রই সেমিকন্ডাক্টর চিপ তৈরি করা হবে।
মাননীয় সদস্যগণ,
গত ১১ বছরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ হাজার ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি জাতীয় সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার আওতায় প্রায় ৫০ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ পথ তৈরি করা হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রেলের উন্নয়নে ৮০ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশ, ত্রিপুরা এবং মিজোরামের রাজধানীকে এখন ব্রডগেজ রেল লাইনের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
আমার সরকার পিছিয়ে পড়া মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই লক্ষ্যে চালু করা জন মন প্রকল্পের মাধ্যমে ২০ হাজারেরও বেশি গ্রামে সবচেয়ে বঞ্চিত আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে। এই প্রকল্পে এইসব গ্রামে গরীবদের জন্য প্রায় ২.৫ লক্ষ বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। ধরতী আবা জনজাতীয় গ্রাম উৎকর্ষ অভিযান আদিবাসী এলাকাগুলিতে উন্নয়নে নজিরবিহীন গতি এনেছে।
গত ১১ বছরে তপশিলি জাতির লক্ষ লক্ষ পড়ুয়াকে মেট্রিক পরবর্তী বৃত্তি হিসেবে ৪২ হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ৫ কোটিরও বেশি পড়ুয়া উপকৃত হয়েছে। আদিবাসী এলাকাগুলিতে সরকার ৪০০-রও বেশি একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
আমার সরকার কৃষকদের সমৃদ্ধ করার উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই কারণে, পিএম কিষাণ সম্মান নিধির মতো প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ খাদ্যশস্য উৎপাদনের পাশাপাশি, গবাদি পশুপালন, মৎস্য এবং মৌমাছি পালনে কৃষকদের যুক্ত করা হচ্ছে, যা আর্থিক অগ্রগতিতে নতুন পথ খুলে দিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দেশের মৎস্য উৎপাদন বেড়ে প্রায় ২০০ লক্ষ টনে পৌঁছেছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
কৃষি ক্ষেত্রকে আধুনিক করার লক্ষ্যে এবং উন্নত লজিস্টিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমার সরকার কৃষি পরিকাঠামো তহবিল গঠন করেছে। আমি খুশি যে, এ পর্যন্ত এই উদ্যোগে ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বেসরকারি লগ্নি হয়েছে। এরফলে, লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থান এবং বিকাশের লক্ষ্যে বিকশিত ভারত জি রাম জি নামে এক নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনে গ্রামগুলিতে ১২৫ দিনের কাজ সুনিশ্চিত করা হয়েছে। আমার সরকার কৃষি ও গবাদি পশুর মতো ক্ষেত্রে সমবায় আন্দোলনকে আরও জোরদার করছে। ১০ হাজার এফপিও-র মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রকে সশক্ত করা হচ্ছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
আমার সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, সব নাগরিককে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন সম্ভব। তাই, দেশ মহিলা পরিচালিত উন্নয়নের মন্ত্রকে সামনে রেখে এগোচ্ছে। মহিলাদের জন্য বিশেষ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা থেকে জল জীবন মিশন, সবক্ষেত্রে মহিলা সুবিধা-প্রাপকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিতে ১০ কোটি মহিলাকে যুক্ত করা হয়েছে। দেশে এখন ‘লাখপতি দিদি’র সংখ্যা ২ কোটিরও বেশি। শুধুমাত্র গত ১ বছরে ৬০ লক্ষেরও বেশি মহিলা ‘লাখপতি দিদি’ হয়েছেন। আমাদের লক্ষ্য হ’ল – এই সংখ্যাকে ৩ কোটিতে নিয়ে যাওয়া। নমো ড্রোন দিদি মহিলাদের ক্ষমতায়নের প্রতীক হয়ে উঠেছে। মহিলাদের আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি, পুষ্টি, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
অপারেশন সিঁদুর – এর মাধ্যমে গোটা বিশ্ব ভারতের শৌর্য ও ক্ষমতা প্রত্যক্ষ করেছে। এর মাধ্যমে জঙ্গিদের ঘাঁটিগুলি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে মিশন সুদর্শন চক্রের কাজ এগোচ্ছে। আমার সরকার মাওবাদী উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নিয়েছে। বছরের পর বছর ধরে দেশের ১২৬টি জেলায় মাওবাদীদের দৌরাত্ম্য ছিল। এখন সেই সংখ্যা মাত্র ৮-এ নেমে এসেছে। এরফলে, লক্ষ লক্ষ নাগরিকের জীবনে শান্তি ফিরে এসেছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, স্বনির্ভরতা ছাড়া স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে আমার সরকার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে। আজ ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ পণ্য গোটা বিশ্বের বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। পিএলআই প্রকল্পের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে। বিগত ১১ বছরে বৈদ্যুতিন পণ্য উৎপাদন ৬ গুণ বেড়ে ১১ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ২০২৫ সালে প্রতিরক্ষা উৎপাদন ১.৫ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। প্রতিরক্ষা রপ্তানি ২৩ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
গত ১১ বছরে ভারতে প্রায় ৭৫০ বিলিয়ন ডলার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে। ২০২৫ সালে আরও ৪টি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ইউনিটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে এ ধরনের ১০টি কারখানা চালু হতে চলেছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
দশকের পর দশক ধরে গাফিলতির কারণে ভারতের ৯৫ শতাংশ রপ্তানি বিদেশি জাহাজের মাধ্যমে করা হ’ত। এরফলে, বছরে ৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হ’ত। এখন আমার সরকার জাহাজ ক্ষেত্রে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার ঐতিহাসিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
গত ১১ বছরে শুধুমাত্র ইলেক্ট্রনিক উৎপাদন ক্ষেত্রে ২৫ লক্ষেরও বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বিগত বছরগুলিতে আধুনিক পরিকাঠামো উন্নয়নে আমার সরকার ৫০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করেছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
মুদ্রা যোজনার মতো প্রকল্প শিল্পোদ্যোগীদের মধ্যে চেতনা এনেছে। এই প্রকল্পে ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগীদের জন্য ৩৮ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পে দেশের ২০ লক্ষেরও বেশি কারিগরকে প্রশিক্ষণ ও ব্যাঙ্কিং সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। পিএম স্বনিধি প্রকল্পে ৭২ লক্ষ পথ বিক্রেতাকে ১৬ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
স্টার্টআপ ইন্ডিয়া কর্মসূচির ১০ বছর পূর্ণ করেছে। এক দশক আগে দেশে স্টার্টআপ - এর সংখ্যা ৫০০-রও কম ছিল। এখন সেই সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষে পৌঁছেছে। এর মধ্যে গত এক বছরে প্রায় ৫০ হাজার নতুন স্টার্টআপ নথিভুক্ত হয়েছে। এই স্টার্টআপ-গুলিতে ২০ লক্ষেরও বেশি তরুণ কাজ করছেন।
মাননীয় সদস্যগণ,
প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনায় ৩.৫ কোটিরও বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হচ্ছে। গত এক বছরে ১ লক্ষেরও বেশি মোবাইল টাওয়ারের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ৪জি এবং ৫জি নেটওয়ার্ক পৌঁছে গিয়েছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
প্রযুক্তি আজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই জাতীয় শিক্ষা নীতি চালু করা হয়েছে। ১ হাজার আইটিআই-কে ভবিষ্যতের উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে। ৬০ হাজারেরও বেশি তরুণকে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
আপনারা জানেন যে, বিশ্ব এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক সমীকরণের পরিবর্তন ঘটছে। চলতে থাকা সংঘর্ষের ফলে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই ভারত দ্রুত উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে। ভারত এখন গোটা বিশ্বে গ্লোবাল সাউথ – এর কন্ঠস্বর পৌঁছে দিচ্ছে। এই বছর ভারত ব্রিকস – এর সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করছে। সেইসঙ্গে, ভারত গ্লোবাল এআই ইমপ্যাক্ট সামিট – এরও আয়োজন করতে চলেছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
এই বছর সৌরাষ্ট্রে সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণের কাজের সমাপ্তির ৭৫তম বর্ষ উদযাপন করছে। আমাদের দেশ প্রাচীন শিক্ষার কেন্দ্র ছিল। হাজার হাজার বছর ধরে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই জ্ঞানকে সংরক্ষিত করা হয়েছে। জ্ঞান ভারতম মিশনের মাধ্যমে প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলির ডিজিটাল রূপ দেওয়া হচ্ছে। আমার সরকার দেশের সমৃদ্ধ আদিবাসী ঐতিহ্য রক্ষায় আদিবাসী সংগ্রহালয়ও গড়ে তুলছে।
মাননীয় সদস্যগণ,
মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকতেই পারে। গণতন্ত্রে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, কিছু কিছু বিষয় রয়েছে, যেখানে সমস্ত মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রাখতে হয়। বিকশিত ভারত, দেশের সুরক্ষা, আত্মনির্ভরতা, স্বদেশী প্রচার, জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্যে প্রয়াস, স্বচ্ছতা এবং এ ধরনের অন্য সমস্ত ক্ষেত্রে সাংসদদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সংক্ষেপে এটাই আমাদের সংবিধানের মূল বার্তা। আজ আমি আপনাদের সকলের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যে, জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত ক্ষেত্রে প্রতিটি সাংসদ একজোট হন এবং ভারতের অগ্রগতিতে এক নতুন শক্তির সঞ্চার করুন।
মাননীয় সদস্যগণ,
বিকশিত ভারতের লক্ষ্য, কোনও একটি সরকার বা একটি প্রজন্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি হ’ল – একটি ধারাবাহিক যাত্রা। এই যাত্রায় আমাদের প্রয়াস, শৃঙ্খলা এবং ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, সংসদ, সরকার এবং নাগরিকরা মিলিতভাবে বিকশিত ভারতের অঙ্গীকারকে পূরণ করবেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সমস্ত নাগরিক জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের কল্যাণে তাঁদের দায়দায়িত্ব পালন করবেন। এই বিশ্বাস নিয়ে আমি সমস্ত সাংসদদের শুভেচ্ছা জানাই।
ধন্যবাদ!
জয় হিন্দ!
জয় ভারত!
SC/MP/SB
(रिलीज़ आईडी: 2219770)
आगंतुक पटल : 7