প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরে ৮৩০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং সূচনা করেন

प्रविष्टि तिथि: 18 JAN 2026 3:53PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

 

আজ পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ৮৩০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং সূচনা করেছেন। এই উপলক্ষে সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে শ্রী মোদী বলেন যে, গতকাল তিনি মালদায় ছিলেন এবং আজ হুগলির মানুষের মাঝে উপস্থিত থাকার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, একটি উন্নত ভারতের জন্য পূর্ব ভারতের উন্নয়ন অপরিহার্য এবং এই লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার অবিরাম কাজ করে চলেছে। তিনি বলেন, গতকাল ও আজকের কর্মসূচিগুলো এই সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এই সময়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত শত শত কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করার সুযোগ পেয়েছেন।
শ্রী মোদী বলেন, গতকাল দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে চালু করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, বাংলা প্রায় আধ ডজন নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনও পেয়েছে। তিনি বলেন, আজ আরও তিনটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ট্রেনগুলোর মধ্যে একটি তাঁর সংসদীয় কেন্দ্র বারাণসী এবং বাংলার মধ্যে সংযোগ আরও জোরদার করবে। তিনি আরও বলেন যে, দিল্লি এবং তামিলনাড়ুর জন্যেও অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, গত ২৪ ঘণ্টা পশ্চিমবঙ্গের রেল সংযোগের জন্য ছিল এক অভূতপূর্ব সময়।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, জলপথের ক্ষেত্রে বাংলার অপার সম্ভাবনা রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়েও কাজ করছে। তিনি বলেন, বন্দর-ভিত্তিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নির্মাণে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে বন্দর এবং নদীপথ সম্পর্কিত প্রকল্পগুলোরও উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এগুলো পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারতের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এগুলোই সেই স্তম্ভ যার উপর ভিত্তি করে পশ্চিমবঙ্গকে উৎপাদন, বাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহনের একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পগুলোর জন্য সবাইকে অভিনন্দন জানান।
শ্রী মোদী বলেন, বন্দর এবং সংশ্লিষ্ট ইকোসিস্টেমের উপর যত বেশি জোর দেওয়া হবে, তত বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হবে। তিনি বলেন, গত ১১ বছরে কেন্দ্রীয় সরকার শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে। তিনি আরও বলেন, সাগরমালা প্রকল্পের অধীনে এই বন্দরের সংযোগ উন্নত করার জন্য সড়কও নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রচেষ্টার ফল এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, গত বছর কলকাতা বন্দর পণ্য পরিবহনে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী মন্তব্য করেছেন যে বলাগড়ে নির্মিতব্য সম্প্রসারিত পোর্ট গেট ব্যবস্থাটি হুগলি এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচন করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এটি কলকাতা শহরের যানজট এবং লজিস্টিকসের চাপ কমাবে। তিনি বলেন, গঙ্গার উপর নির্মিত জলপথের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন আরও বৃদ্ধি পাবে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে এই সম্পূর্ণ পরিকাঠামোটি হুগলিকে একটি ওয়্যারহাউজিং বা উন্নত গুদামজাতকরণ এবং ট্রেডিং বা বিকিকিনির হাবে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করবে, যার ফলে শত শত কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ আসবে, হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, ছোট ব্যবসায়ী ও পরিবহনকারীরা উপকৃত হবেন এবং কৃষক ও উৎপাদকদের জন্য নতুন বাজার তৈরি হবে।
শ্রী মোদী বলেন যে ভারত আজ মাল্টি-মোডাল সংযোগ এবং সবুজ গতিশীলতার উপর জোর দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে নির্বিঘ্ন পরিবহনের জন্য বন্দর, নদীপথ, মহাসড়ক এবং বিমানবন্দরগুলোকে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন যে এটি লজিস্টিকস খরচ এবং পরিবহনের সময় উভয়ই কমিয়ে আনছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন যে পরিবহনের মাধ্যমগুলো যাতে পরিবেশবান্ধব হয়, সেদিকেও প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, হাইব্রিড ইলেকট্রিক বোটগুলো নদী পরিবহন এবং সবুজ গতিশীলতাকে শক্তিশালী করবে, হুগলিতে ভ্রমণ সহজ করবে, দূষণ কমাবে এবং নদীভিত্তিক পর্যটনকে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্য করেন যে মৎস্য ও সামুদ্রিক খাদ্য উৎপাদন এবং রপ্তানিতে ভারত দ্রুত এগিয়ে চলেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ দেশকে নেতৃত্ব দেবে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার নদীপথের বিষয়ে বাংলার পরিকল্পনায় বিশেষভাবে সহায়তা করছে এবং এর ফলে কৃষক ও জেলেরা ইতিমধ্যেই উপকৃত হচ্ছেন। শ্রী মোদী মন্তব্য করেন যে কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক শুরু করা এই সমস্ত প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের যাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে। তিনি এই প্রকল্পগুলোর জন্য সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল শ্রী সি ভি আনন্দ বোস, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, শ্রী শান্তনু ঠাকুর, শ্রী সুকান্ত মজুমদার এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রেক্ষাপট

প্রধানমন্ত্রী হুগলির সিঙ্গুরে ৮৩০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং সূচনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলাগড়ে একটি অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহন (IWT)টার্মিনাল এবং একটি রোড ওভার ব্রিজ সহ বর্ধিত পোর্ট গেট সিস্টেমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।
প্রায় ৯০০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত বলাগড়কে একটি আধুনিক পণ্য পরিবহন টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যার পরিকল্পিত ধারণক্ষমতা বছরে প্রায় ২.৭ মিলিয়ন টন (এমটিপিএ)। এই প্রকল্পে দুটি ডেডিকেটেড পণ্য পরিবহন জেটি নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার একটি কন্টেইনারজাত পণ্যের জন্য এবং অন্যটি শুষ্ক বাল্ক পণ্যের জন্য।
বলাগড় প্রকল্পের লক্ষ্য হলো যানজটপূর্ণ শহুরে করিডোর থেকে ভারী পণ্য পরিবহনকে সরিয়ে এনে পণ্য পরিবহনের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা। এটি সড়ক নিরাপত্তা বাড়াবে, কলকাতা শহরে যানবাহনের যানজট ও দূষণ কমাবে এবং বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অবদান রাখবে। উন্নত মাল্টিমোডাল সংযোগ এবং লজিস্টিকস দক্ষতা আঞ্চলিক শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কৃষি উৎপাদকদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে বাজারে প্রবেশের সুযোগ করে দেবে। আশা করা হচ্ছে যে এই প্রকল্পটি উল্লেখযোগ্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, যা লজিস্টিকস, টার্মিনাল পরিচালনা, পরিবহন পরিষেবা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপের মাধ্যমে স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করে তাদের উপকৃত করবে।
প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় একটি অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক ক্যাটামারানও চালু করেছেন। এটি কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড কর্তৃক অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহনের জন্য দেশীয়ভাবে নির্মিত ৬টি ইলেকট্রিক ক্যাটামারানের মধ্যে একটি। ৫০-যাত্রী ধারণক্ষমতার এই হাইব্রিড ইলেকট্রিক অ্যালুমিনিয়াম ক্যাটামারানটি উন্নত বৈদ্যুতিক প্রপালশন সিস্টেম এবং লিথিয়াম-টাইটানেট ব্যাটারি প্রযুক্তিতে সজ্জিত, যা সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক জিরো-এমিশন মোডে এবং বর্ধিত দূরত্বের জন্য হাইব্রিড মোডেও চলতে সক্ষম। এই জলযানটি হুগলি নদী বরাবর শহুরে নদীপথে চলাচল, পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন এবং শেষ প্রান্তের যাত্রী সংযোগে সহায়তা করবে।
প্রধানমন্ত্রী জয়রামবাটি–বরগোপীনাথপুর–ময়নাপুর নতুন রেললাইনেরও উদ্বোধন করেছেন। এই লাইনটি তারকেশ্বর–বিষ্ণুপুর নতুন রেললাইন প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন রেললাইনের পাশাপাশি, ময়নাপুর এবং জয়রামবাটির মধ্যে বরগোপীনাথপুরে বিরতিসহ একটি নতুন ট্রেন পরিষেবারও সূচনা করা হবে। এটি বাঁকুড়া জেলার বাসিন্দাদের সরাসরি রেল সংযোগ প্রদান করবে, যা দৈনিক যাত্রী, ছাত্রছাত্রী এবং তীর্থযাত্রীদের জন্য ভ্রমণকে আরও সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক করে তুলবে। প্রধানমন্ত্রী তিনটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা শুরুও করিয়েছেন: কলকাতা (হাওড়া)- আনন্দ বিহার টার্মিনাল অমৃত ভারত এক্সপ্রেস; কলকাতা (শিয়ালদহ)- বেনারস অমৃত ভারত এক্সপ্রেস; কলকাতা (সাঁতরাগাছি)- তাম্বারাম অমৃত ভারত এক্সপ্রেস।

 

SC/SB/AS


(रिलीज़ आईडी: 2215897) आगंतुक पटल : 6
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: Malayalam , English , Urdu , Marathi , हिन्दी , Manipuri , Assamese , Gujarati , Tamil , Telugu , Kannada