প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
বিকশিত ভারত যুব নেতৃত্ব সংলাপ ২০২৬-এর সমাপ্তি অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
प्रविष्टि तिथि:
12 JAN 2026 10:03PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আমার সহকর্মীবৃন্দ, সাংসদগণ, বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স চ্যালেঞ্জ জয়ীরা, অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা এবং দেশ-বিদেশ থেকে আসা আমার তরুণ বন্ধুরা, প্রত্যেকে এখানে এক নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন। আপনারা দু’দিন ধরে এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাই আপনারা নিশ্চয়ই ক্লান্ত। যাই হোক, ২০১৪’তে আমি যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিই, তখন আপনাদের অনেকেই কৈশোরের গণ্ডি পেরোননি। আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার শপথ নিয়েছিলাম, তখন আপনাদের অনেকেই জন্মগ্রহণ করেননি। মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী, যাই হই না কেন, আমি সর্বদা তরুণ প্রজন্মের উপর প্রভূত আস্থা রেখে এসেছি। আপনাদের সক্ষমতা এবং প্রতিভা থেকে আমি সর্বদা শক্তি সঞ্চয় করি।
বন্ধুগণ,
২০৪৭ সালে ভারত যখন স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ করবে, সেই মাইলফলকের অর্জনের প্রতি যাত্রা দেশের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছরগুলি আপনাদের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হতে চলেছে। আপনাদের সক্ষমতার উপর ভর করে ভারত সাফল্যের এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।
বন্ধুগণ,
আজ স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন। তাঁর ভাবনাচিন্তা আজও প্রতিটি তরুণকে প্রেরণা জুগিয়ে চলেছে। প্রতি বছর ১২ জানুয়ারি দিনটিকে আমরা জাতীয় যুব দিবস হিসেবে উদযাপন করি। তাঁর প্রেরণাকে সামনে রেখে এই দিনটিকে বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ-এর জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এটি হ’ল, এমন একটি মঞ্চ, যেখানে দেশের উন্নয়নে তরুণরা সরাসরি অংশ নিতে পারেন। ৫০ লক্ষেরও বেশি তরুণ নাম নথিভুক্ত করেছেন, ৩০ লক্ষেরও বেশি তরুণ বিকশিত ভারত চ্যালেঞ্জে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন এবং ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে পারস্পরিক মতবিনিময় করেছেন। যখন লক্ষ লক্ষ মস্তিষ্ক সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করে, তখন ভাবনাচিন্তার ক্ষেত্রে তার চেয়ে বড় কী হতে পারে? আজ গণতন্ত্রে মহিলা পরিচালিত উন্নয়ন এবং তরুণদের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বন্ধুগণ,
আপনারা স্টার্টআপ সম্পর্কে বলেছেন, ২০১৪’র আগে পর্যন্ত দেশে নথিভুক্ত স্টার্টআপ-এর সংখ্যা ৫০০-র চেয়ে কম ছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত সরকারি নিয়ন্ত্রণ জারি ছিল। তরুণদের উপর আমার আস্থা রয়েছে। সেই কারণে, আমরা অন্য পথ বেছে নিই। তরুণদের সামনে রেখে আমার একের পর এক সংস্কার চালাতে থাকি। ভারতে স্টার্টআপ বিপ্লব প্রকৃত অর্থে গতি পেয়েছে। ব্যবসার সরলীকরণ, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, ফান্ড অফ ফান্ডস্, শুল্ক এবং আইনি অনুশাসনের সরলীকরণ – এই ধরনের আরও বহু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বন্ধুগণ,
আমরা মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগের পথ খুলে দিয়েছি। এর ফলে, আজ ভারতে মহাকাশ ক্ষেত্রে ৩০০-রও বেশি স্টার্টআপ কাজ করছে। ড্রোন-সংক্রান্ত ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আজ বহু তরুণ নানা সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। ভারতে তৈরি ড্রোন শত্রু দেশকে পরাস্ত করছে এবং কৃষি ক্ষেত্রে আমাদের নমো ড্রোন দিদিরা ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন।
বন্ধুগণ,
আজ ১ হাজারেরও বেশি প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ দেশে কাজ করছে। আমাদের তরুণ উদ্যোগীরা ড্রোন তৈরি করছেন। কেউ কেউ ড্রোন-প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে তুলছেন। কেউ এআই-ভিত্তিক ক্যামেরা তৈরি করছেন। আবার, কেউ কেউ রোবোটিক্স ক্ষেত্রে কাজ করছেন।
বন্ধুগণ,
ডিজিটাল ইন্ডিয়া ভারতে এক নতুন সৃজনশীল কমিউনিটি গড়ে তুলেছে। মিডিয়া, সিনেমা, গেমিং, মিউজিক, ডিজিটাল কনটেন্ট প্রভৃতি ক্ষেত্রে ভারত প্রধান আন্তর্জাতিক হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিগত দশকে আমরা একগুচ্ছ পরিবর্তন ও সংস্কার করেছি, যার ফল আজ পাওয়া যাচ্ছে। তরুণ এবং শিল্পোদ্যোগীদের জন্য জিএসটি প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করা হয়েছে। ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে আজ কোনও কর দিতে হয় না। এর ফলে, মানুষের সঞ্চয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে।
বন্ধুগণ,
এআই, ডেটা সেন্টার থেকে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, প্রতিটি আধুনিক পরিমণ্ডলের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিদ্যুতের প্রয়োজন। সেই কারণে ভারত শক্তির উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। এই লক্ষ্যে পরমাণু শক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে শান্তি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এর ফলে, পরমাণু শক্তির ক্ষেত্রে লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বন্ধুগণ,
আত্মবিশ্বাস ছাড়া কোনও দেশই স্বনির্ভর বা উন্নত হতে পারে না। ব্রিটিশরা ভারতে হীনমন্যতার জন্ম দিয়েছিল, যার ফলে, আমাদের মধ্যে দাসত্বের মানসিকতা গড়ে উঠেছিল। এই মানসিকতা থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য তরুণদের অবশ্যই দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করতে হবে। স্বামী বিবেকানন্দ গোটা বিশ্ব পরিভ্রমণ করেছিলেন। তিনি ভারতের সভ্যতা সম্পর্কে ছড়িয়ে থাকা ভুল ধারণাগুলিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। সেই একই চেতনা নিয়ে আমাদের যুব শক্তিকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
আমি আপনাদের সকলকে আবার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। এই ধরনের মতবিনিময় কর্মসূচি রাজ্যস্তরেও আয়োজন করতে হবে, যেখানে রাজ্যগুলির উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে। তারপর, আমাদের জেলাস্তরের মতবিনিময় কর্মসূচির দিকে এগোতে হবে। এইভাবে আমরা থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’কে থিঙ্ক ওয়েভ-এ পরিণত করতে পারি।
আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।
SC/MP/SB
(रिलीज़ आईडी: 2214174)
आगंतुक पटल : 6