প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
বারাণসীতে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও উৎসর্গ-কে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ
प्रविष्टि तिथि:
18 DEC 2023 5:30PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৩
নমঃ পাবর্তী পতায়ে, হর হর মহাদেব !
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী যোগী আদিত্যনাথ, উপমুখ্যমন্ত্রী শ্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য, গুজরাট বিধানসভার অধ্যক্ষ ও বনস ডেয়ারির চেয়ারম্যান শ্রী শঙ্কর ভাই চৌধুরী, রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বিধায়কগণ, অন্য অভ্যাগতবৃন্দ এবং বারাণসীর আমার পরিবারের সদস্যরা !
বাবা শিবের এই পবিত্র ভূমিতে কাশীর সমস্ত মানুষকে আমি অভিনন্দন জানাই।
কাশীর মানুষের ভালোবাসায় শীতের মরশুমেও এখানকার পরিবেশ উষ্ণ হয়ে উঠেছে। তবে কাশীর জনসাধারণের বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ রয়েছে। বলবো অভিযোগের কথা? এ বছর দেব দিওয়ালিতে আমি এখানে উপস্থিত ছিলাম না এবং এবার দেব দিওয়ালিতে কাশীর জনসাধারণ একত্রে সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন।
সব কিছু সুচারুভাবে হওয়া সত্ত্বেও আমার অভিযোগের কারণ কী হতে পারে ভেবে নিশ্চয় আপনারা অবাক হচ্ছেন। আমি ২ বছর আগে দেব দিওয়ালিতে এখানে এসেছিলাম। সে বছরও আপনারা রেকর্ড ভেঙেছিলেন। কিন্তু এবার আমার অভিযোগের কারণ হল, আমি আপনাদের কঠোর পরিশ্রমকে এবছর প্রত্যক্ষ করতে পারিনি। দেব দেওয়ালির অপূর্ব উদযাপন দেখতে এবার অনেকে ভিড় করেছিলেন। বিদেশ থেকেও অনেকে এসেছিলেন। দিল্লিতে আমাকে তাঁরা সেই অপূর্ব দৃশ্যের কথা জানিয়েছেন। তাঁরা জি২০-তে আমন্ত্রিত অতিথিই হোন, অথবা বারাণসীতে অন্য কোনও অতিথি এলেও বারাণসীর প্রশংসা যখন তাঁরা করেন, আমি গর্ববোধ করি। কাশীর মানুষের কাজের প্রশংসা শুনলে পৃথিবীতে আমি নিজেকে সব থেকে সুখী মানুষ মনে করি। মহাদেবের কাশীর সেবায় আমার কাজে আমি আনন্দ পাই এবং এই কাজ যেন আরও করে যেতে পারি।
আমার পরিবারের সদস্যরা,
কাশীর উন্নতিতে উত্তরপ্রদেশের উন্নতি। উত্তরপ্রদেশের উন্নতির অর্থ দেশের উন্নতি। এই অনুরূপ মনোভাব নিয়েই ২০,০০০ কোটি টাকার নানা প্রকল্পের উদ্বোধন হল। বারাণসীর গ্রামগুলিতে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ করা হবে। বিএইচইউ ট্রমা সেন্টারের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট, সড়ক, বিদ্যুৎ, গঙ্গাঘাট, রেলওয়ে বিমান বন্দর, সৌরশক্তি এবং পেট্রোলিয়াম এখানকার উন্নতিকে আরও তরাণ্বিত করবে। গত সন্ধ্যায় কাশী-কন্যাকুমারী তামিল সঙ্গমম ট্রেনের যাত্রা সূচনার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আজ বারাণসী থেকে দিল্লি আরও একটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রার সূচনা হল। মাও-ডোগরিঘাট ট্রেনও আজ চালু হবে। এই যাবতীয় উন্নয়নমূলক প্রকল্প উপলক্ষ্যে আপনাদেরকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
আমার পরিবারের সদস্যরা,
আজ কাশী সহ সমগ্র ভারত উন্নত ভারত গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিকশিত ভারত সঙ্কল্পযাত্রা হাজার হাজার গ্রাম এবং শহর পরিক্রমা করেছে। কাশীতে এই যাত্রায় যোগ দেওয়ার সুযোগ আমার হয়েছে। এই যাত্রা যানকে দেশবাসী মোদীর গ্যারান্টি যানের আখ্যা দিয়েছে। মোদীর গ্যারান্টির সঙ্গে নিশ্চয় আপনারা পরিচিত। কেন্দ্রীয় সরকারের যাবতীয় প্রকল্পের সুযোগ থেকে জনকল্যাণ এবং দরিদ্রদের উন্নয়ন বাদ না পড়ে তা সুনিশ্চিত করার চেষ্টা করছি আমরা। মোদীর কথা, সরকার গরিবের কাছে যাবে। কাশীতেও হাজার হাজার সুবিধাপ্রাপক সরকারি প্রকল্পের সুযোগ পেয়েছেন, অতীতে যা থেতে তাঁরা বঞ্চিত ছিলেন। আয়ুষ্মান কার্ড, নিখরচায় রেশন কার্ড, পাকা বাড়ি, পাইপ বাহিত পরিশ্রুত পানীয় জল, বিনা পয়সায় গ্যাস সংযোগ এ রকম আরও অনেক কিছু। সবথেকে বড় কথা, এই অভিযান থেকে জনসাধারণ আস্থা অর্জন করেছে। নানা প্রকল্পের যাঁরা সুযোগ পেয়েছেন, তাঁদের জীবনধারণে যেমন উন্নতিসাধন হবে, আর প্রকল্পসমূহের সুযোগ যাঁরা পাননি, তাঁরাও তা পাবেন বলে নিশ্চিত হয়েছেন। এই আস্থায় ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার পথ তৈরি করে দেবে।
জনসাধারণের পাশাপাশি, আমিও উপকৃত। দু দিন ধরে এই সংকল্পযাত্রায় যোগ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগ হওয়ার সুযোগ আমরা হয়েছে। গতকাল স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আমি মিলিত হয়েছি। তারা কেউ সুন্দর কবিতা পাঠ করছিল, কেউ বা বিজ্ঞানের অসাধারণ ব্যাখ্যা করছিল। ছন্দা দেবী অসাধারণ ভাষণ দিলেন। তিনি আমাদের লাখপতি দিদি। আমি তাঁর প্রসংসা করেছি।
আমাদের মা, বোন, কন্যা সন্তান ও শিশুরা সম্ভাবনায় ভরপুর। ক্রীড়ায় তারা যেমন পারদর্শী, জ্ঞানেও সমৃদ্ধ। সংকল্পযাত্রা ব্যক্তিগতভাবে আমাকে এসব প্রত্যক্ষ করার সুযোগ করে দিয়েছে।
আমার পরিবারের সদস্যরা,
কাশীতে বসবাস সাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করে তোলার সঙ্গে সঙ্গে এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। গ্রাম ও শহরাঞ্চলজুড়ে দারুন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। আজ যেসব উদ্বোধন ও প্রকল্পের শিলান্যাস করা হল, কাশীর উন্নয়নকে তা আরও জোরালো করবে। শিবপুর-পুলওয়ারিয়া-লাহাতারা সড়ক এবং রেলসেতু সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় করবে। এছাড়াও শহরের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে বাবাতপুর বিমান বন্দরে যাওয়াও সহজ হয়ে যাবে।
আমার পরিবারের সদস্যরা,
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সৌন্দর্যায়ন কী পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে, কাশী তার প্রমাণ। তীর্থকেন্দ্র এবং আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে দিনে দিনে এর গুরুত্ব বাড়ছে, পর্যটনের প্রসার ঘটছে, হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে। কাশী-বিশ্বনাথ ধামকে সাজিয়ে তোলার পর এ পর্যন্ত ১৩ কোটি মানুষ বাবা বিশ্বনাথকে দর্শন করেছেন। বারাণসীতে পর্যটনের দ্রুত প্রসার ঘটছে। লালকেল্লার প্রাকার থেকে আমি দেশবাসীকে বলেছিলাম, প্রথমে আমরা কম করে দেশের ১৫-টি শহর সফর করবো, পরে অন্যকোথাও যাবো। আমি খুশি, আগে যাঁরা সিঙ্গাপুর, দুবাই যেতেন, তাঁরাও এখন তাঁদের সন্তানদের নিজের দেশ ঘুরে দেখার কথা বলছেন। বিদেশে তাঁরা যে টাকা খরচ করতেন, নিজের দেশে এখন তা খরচ করছেন।
ভাই ও বোনেরা,
পর্যটনের প্রসার হলে সকলেরই উন্নতি। পর্যটকরা বারাণসীতে এলে হোটেল ব্যবসায়ীদের উপার্জন বাড়ে, ট্যুর ট্যাক্সি চালকদের বাড়তি উপার্জন হয়, মাঝি থেকে অটো রিক্সা চালক সকলেই উপকৃত হন।
বন্ধুগণ,
কাশীর জনসাধারণের উপার্জন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এখানে পর্যটকদের আমরা আরও নানা সুবিধা দিচ্ছি। অভিন্ন পর্যটক পাস ব্যবস্থা- কাশী দর্শন স্মার্ট সিটি মিশনের অধীন বারাণসীতে আজ চালু করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন জায়গা সফরে পর্যটকদের আলাদা আলাদা টিকিট কাটতে হবে না। একটি টিকিট কেটেই তাঁরা তা করতে পারবেন। বারাণসীর পর্যটক ওয়েবসাইট, কাশী পর্যটকদের জ্ঞাতব্য নানা তথ্য দিতে চালু করা হয়েছে। এখানকার গুরুত্ব এবং প্রসিদ্ধ নানা জায়গার বিস্তারিত বিবরণ তাতে তুলে ধরা হয়েছে।
বন্ধুগণ,
গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটের সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। বাসস্টপ, বিমান বন্দর, রেলস্টেশন সবকিছুকে আধুনিক সুবিধামণ্ডিত করে তোলা হয়েছে। বারাণসীতে আসা মানুষদের সাচ্ছন্দ্য আরও বাড়বে।
আমার পরিবারের সদস্যরা,
কাশী-সহ দেশের জন্য রেল সংযোগের আজ এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। রেল গাড়ির গতি বাড়ানোর অভিযান চলছে। পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের জন্য ইস্টার্ন এবং ওয়েস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের কাজ এগিয়ে চলেছে। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন এবং নিউ ভাউপুর জংশনের মধ্যে সেকশনের আজ উদ্বোধন হল। এতে পূর্বাঞ্চল ভারত থেকে উত্তরপ্রদেশে কয়লা এবং অন্য কাঁচা পণ্য নিয়ে আসা সহজ হবে। কাশীর শিল্পসংস্থাগুলির উৎপাদিত সামগ্রীর সরবরাহ পাশাপাশি এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত দ্রব্য পূর্ব ভারত এবং বিদেশে পৌঁছনো সম্ভব হবে।
বন্ধুগণ,
বেনারস রেল ইঞ্জিন ফ্যাক্টরিতে তৈরি ১০,০০০-তম ইঞ্জিনটি চালু হল। ভারতে তৈরি বিশ্বের জন্য এই সংকল্প উত্তর প্রদেশের নানা প্রান্তে শিল্পোন্নয়নের প্রসার ঘটাচ্ছে। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে উত্তর প্রদেশ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। চিত্রকূটে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সৌর বিদ্যুৎ পার্ক রাজ্যে প্রভূত বিদ্যুৎ শক্তির যোগান দেবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, পেট্রোলকে ঘিরে পূর্ব উত্তরপ্রদেশে একটি শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ হচ্ছে। দেউরিয়া এবং মির্জাপুরেও এইসব সুবিধা পেট্রোল, ডিজেল, জৈব-সিএনজি এবং ইথানলের প্রক্রিয়াকরণে সুবিধা করে দেবে।
আমার পরিবারের সদস্যরা,
উন্নত ভারতের জন্য দেশে নারী শক্তি, যুব শক্তি, কৃষক এবং প্রতিটি দরিদ্র মানুষের উন্নয়ন গড়ে তোলা দরকার। এই চারটি ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করা গেলে দেশ শক্তিশালী হবে। একথা মাথায় রেখেই কৃষক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পিএম কিষাণ সম্মাননিধিতে এ পর্যন্ত প্রত্যেক কৃষকের ব্যাঙ্ক আমানতে ৩০,০০০ টাকা জমা পড়েছে। ছোট কৃষক যাদের কিষাণ ক্রেডিট কার্ড ছিল না, তাঁদের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। জৈব চাষের পাশাপাশি, আমাদের সরকার কৃষক স্বার্থে আধুনিক পরিকাঠামোর বিকাশ ঘটাচ্ছে। চলতি বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রায় ড্রোন দেখে কৃষকরা অবাক হচ্ছেন। আগামী দিনে এই ড্রোনই আমাদের কৃষির ভবিষ্যৎ। সরকার নমো ড্রোন দিদির সূচনা করেছে। কাশীর বোন ও কন্যারাও অচিরেই এই ড্রোন ক্ষেত্রের সুবিধা নিতে পারবেন।
বন্ধুগণ,
আপনাদের প্রয়াসের ফলেই আধুনিক বনস দুগ্ধ প্রকল্প অথবা বারাণসীতে আমূলের নির্মাণ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এক দেড় মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে শঙ্করভাই আমাকে জানিয়েছেন। বারাণসীতে বনস দুগ্ধ প্রকল্পে ৫০০ কোটি টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। এই প্রকল্প লক্ষ্ণৌ এবং কানপুরেও চলছে। উত্তরপ্রদেশের ৪০০০-এরও বেশি গ্রামে কৃষকরা বনস দুগ্ধ প্রকল্পে ১০০০ কোটি টাকারও বেশি আয় করেছে। লভ্যাংশ হিসেবে আজ উত্তরপ্রদেশের দুগ্ধ চাষিদের ব্যাঙ্ক আমানতে বনস দুগ্ধ প্রকল্প ১০০ কোটি টাকারও বেশি জমা করেছে।
আমার পরিবারের সদস্যরা,
কাশীতে উন্নয়নের যে অমৃত, তা সমগ্র অঞ্চলের উন্নয়নকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। দশকের পর দশক ধরে পূর্বাঞ্চলের এই এলাকা অবহেলিত ছিল। তবে মহাদেবের আশীর্বাদে এখন মোদী আপনাদের পরিষেবার কাজে যুক্ত। এখন থেকে কয়েক মাসের মধ্যেই দেশজুড়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মোদী দেশবাসীকে আশ্বাস দিয়েছে, তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
দেশবাসীকে আজ এই নিশ্চয়তা দেওয়ার পিছনে রয়েছেন আপনারা। সবসময় আমার পাশে থেকে আমার সংকল্পে দৃঢ়তা দিয়েছেন।
আসুন আরও একবার হাত তুলে বলুন- নমঃ পাবর্তী পতয়ে, হর হর মহাদেব !
আমার আন্তরিক অভিনন্দন !
প্রধানমন্ত্রীর মূল ভাষণ হিন্দিতে।
******
SSS/AB/NS….
(रिलीज़ आईडी: 2179828)
आगंतुक पटल : 33
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें:
Kannada
,
English
,
Urdu
,
हिन्दी
,
Marathi
,
Manipuri
,
Assamese
,
Punjabi
,
Gujarati
,
Odia
,
Tamil
,
Telugu
,
Malayalam