প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

ভূজ, গুজরাটে উন্নয়নমূলক প্রকল্পসমূহ উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

Posted On: 26 MAY 2025 9:52PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২৬শে মে, ২০২৫

 

ভারত মাতা কি – জয়!
ভারত মাতা কি – জয়!

আমাদের তেরঙা কখনোই নীচে নামানো উচিত নয়।

ভারত মাতা কি – জয়!
ভারত মাতা কি – জয়!

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্রভাই পটেলজি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আমার সহকর্মী মাননীয় মনোহরলালজি, মন্ত্রীসভায় উপস্থিত অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, সাংসদবৃন্দ, বিধায়কবৃন্দ, সম্মানিত অতিথিবৃন্দ এবং আমার প্রিয় কচ্ছবাসী ভাই ও বোনেরা,

আজ আমি এসেছি কচ্ছের মাটিতে – শারদভূমি ও বীর কচ্ছিদের ভূমিতে। আমি সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই কচ্ছের মহান বিপ্লবী সন্তান শ্যামজি কৃষ্ণ বর্মাকে। আর আমার সমস্ত কচ্ছি ভাই–বোনদের জানাই আন্তরিক অভিবাদন – “রাম রাম”।

বন্ধুগণ,

কচ্ছের এই পবিত্র মাটিতে মা আশাপুরার আশীর্বাদে সকল কামনা পূর্ণ হয়। মা আশাপুরা সর্বদাই এই ভূখণ্ডকে কৃপায় ভরিয়ে রেখেছেন। আজ আমি ভক্তিভরে তাঁকে প্রণাম জানাই এবং আপনাদের সকলকে শুভেচ্ছা জানাই।

আমার সঙ্গে কচ্ছের সম্পর্ক বহু পুরোনো। রাজনীতির সঙ্গেও যখন কোনো যোগ ছিল না, তখনও নিয়মিত কচ্ছের মাটিতে আসতাম। প্রতিটি কোণে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি, মানুষের আত্মবিশ্বাস ও প্রতিকূলতার মাঝেও দৃঢ় সংকল্প আমার জীবনকে পথ দেখিয়েছে। নর্মদার জল যখন প্রথম কচ্ছে পৌঁছল – তখন যেন কচ্ছের ঘরে দীপাবলি নেমেছিল। সেই মুহূর্ত আজও আমার চোখে ভাসে।

বন্ধুগণ,

কচ্ছের চাষিরা সবসময়ই দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। জল না থাকলেও সম্ভাবনার ঘাটতি ছিল না। হাজার হাজার বছর আগে ধোলাভিরার মতো উন্নত নগরী যে ভূমিতে গড়ে উঠেছিল – সেই ভূমিতে শক্তি আছে, সামর্থ্য আছে।

ভূমিকম্পের পর যখন সবাই ভেবেছিল কচ্ছ শেষ – আমি তখনও ভরসা রেখেছিলাম এই মাটির খমিরে। বলেছিলাম – শিশুকে যেমন ‘ক’–তে কচ্ছ, ‘খ’–তে খমির শেখানো হয়, ঠিক তেমনই কচ্ছের মাটিই আমাদের লড়াই শিখিয়েছে। আজ কচ্ছ বাণিজ্য, শিল্প ও পর্যটনের এক প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এই উন্নয়নের যাত্রায় আজ ৫০,০০০ কোটি টাকার প্রকল্পের সূচনা বা উদ্বোধন হচ্ছে।

বন্ধুগণ,

এই প্রকল্পগুলি কেবল কচ্ছ নয়, সমগ্র ভারতের নীল অর্থনীতি ও সবুজ শক্তির ভবিষ্যৎ গড়বে। কচ্ছ আজ বিশ্বের বৃহত্তম গ্রীন এনার্জি হাব হয়ে উঠছে। এখানে গড়ে উঠছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। সবই “Made in India” প্রযুক্তিতে। খাভদা কমপ্লেক্স কচ্ছকে আন্তর্জাতিক এনার্জি মানচিত্রে পরিচিত করেছে।

আমাদের লক্ষ্য – বিদ্যুৎ বিল শূন্য করা। তাই “পিএম সূর্যঘর মুক্ত বিদ্যুৎ যোজনা” চালু করা হয়েছে। লাখো পরিবার ইতিমধ্যেই এর সুফল পাচ্ছেন।

ভাই ও বোনেরা,

কচ্ছ আমাদের ঐতিহ্যও সংরক্ষণ করছে, আর উন্নয়নের অনুপ্রেরণাও জোগাচ্ছে। ভুজে টেক্সটাইল, ফুড প্রসেসিং, সিরামিক, লবণ শিল্প – সবই আজ বিশ্ববাজারে জায়গা করে নিয়েছে। ভুজোড়ি, আজরখ প্রিন্ট, কচ্ছ এমব্রয়ডারি – সবই জিআই ট্যাগ পেয়েছে। এটি কেবল গর্বই নয়, স্থানীয় শিল্পী–কারিগরদের জন্য এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি।

আমাদের কচ্ছি কৃষকরা আজ আম, খেজুর, ড্রাগন ফ্রুট, জিরা, ডালিম – সবই বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিচ্ছেন। একসময় যে কচ্ছ থেকে মানুষকে কাজের জন্য বাইরে যেতে হত, আজ সেই কচ্ছেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বন্ধুগণ,

পর্যটনও কচ্ছকে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত দিয়েছে। রণ উৎসব আজ আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। ভুজে স্মৃতি ভান জাদুঘর ইউনেস্কো–র স্বীকৃতি পেয়েছে। ধর্দো গ্রাম বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পর্যটন গ্রামগুলির মধ্যে স্থান পেয়েছে। মাণ্ডভীর সমুদ্রসৈকতও পর্যটকদের নতুন টানে ভরিয়ে তুলছে।

পর্যটন, শিল্প, কৃষি, সব দিক দিয়েই কচ্ছ ভারতের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে।

বন্ধুগণ,

আজ ২৬ মে – ২০১৪ সালের এই দিনে আমি প্রথমবার দেশের প্রধান সেবক হিসাবে শপথ নিয়েছিলাম। তখন ভারত ছিল বিশ্বের একাদশতম অর্থনীতি। আজ ১১ বছর পর আমরা চতুর্থ স্থানে পৌঁছেছি। এটি আপনাদের আশীর্বাদেই সম্ভব হয়েছে।

আমাদের লড়াই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। অপারেশন সিন্দূর আমাদের নীতি স্পষ্ট করেছে – ভারতের রক্ত ঝরালে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দেখিয়েছে – কীভাবে নির্ভুল আঘাত করে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ধ্বংস করা যায়। পাকিস্তানও অবশেষে সাদা পতাকা তুলতে বাধ্য হয়েছে।

ভাই ও বোনেরা,

কচ্ছের মাটিতে দাঁড়িয়ে আমি পাকিস্তানের জনগণকেও বলতে চাই – আপনারা প্রশ্ন করুন, সন্ত্রাস কি আপনাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ গড়ছে? নাকি ধ্বংস করছে? পাকিস্তানের যুবকদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে – শান্তি ও সম্মানের জীবন বেছে নেবেন, নাকি অন্ধকারের পথে চলবেন। ভারত উন্নয়নের পথ বেছে নিয়েছে। কচ্ছের প্রাণশক্তিই আজ সমগ্র ভারতকে উন্নত জাতি হওয়ার প্রেরণা দিচ্ছে।

কয়েকদিন পরই কচ্ছের নববর্ষ আশাড়ি বিজ আসছে। আজই আমি আপনাদের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানাই। আপনাদের ভালোবাসা, আশীর্বাদ ও উচ্ছ্বাসকে আমি শত প্রণাম জানাই।

এখন আসুন, গর্বভরে তেরঙা উঁচু করি এবং একসাথে বলি –

ভারত মাতা কি – জয়!
ভারত মাতা কি – জয়!
ভারত মাতা কি – জয়!
ভারত মাতা কি – জয়!

বন্দে মাতরম্! বন্দে মাতরম্! 
বন্দে মাতরম্! বন্দে মাতরম্!
বন্দে মাতরম্! বন্দে মাতরম্!

অনেক ধন্যবাদ। 

 

SC/TM


(Release ID: 2159887) Visitor Counter : 2