নারীওশিশুবিকাশমন্ত্রক
নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রক কোভিড-১৯ মহামারীর ফলে যেসব শিশুর জীবনে প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাদের যত্ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট ২০১৫ অনুসারে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে
প্রকাশিত:
03 JUN 2021 6:19PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লী, ৩ জুন, ২০২১
নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রক কোভিড-১৯ মহামারীর ফলে যেসব শিশুর জীবনে প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাদের যত্ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট ২০১৫ অনুসারে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে। মন্ত্রকের সচিব শ্রী রামমোহন মিশ্র রাজ্যগুলির মুখ্যসচিব ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রশাসকদের এই মর্মে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এই চিঠিতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও কর্মসূচির মাধ্যমে এইসব শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রক বলেছে, মহামারীর সময় শিশুদের স্বার্থ যাতে রক্ষিত হয় তার জন্য যথাযথ পরিকল্পনার প্রয়োজন। এর মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত চাহিদা পূরণ হবে। সব সরকারি দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে যেসব শিশুরা সমস্যার সম্মুখীন তাদের প্রত্যেকের সুরক্ষার দিকটি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে সমস্যার মধ্যে থাকা কোনো শিশুই সুরক্ষা ব্যবস্থার বাইরে না চলে যায়।
রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১. শিশুদের শনাক্ত করে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ
ক) আউটরিচ কর্মসূচি, সমীক্ষা ইত্যাদির মাধ্যমে সমস্যায় থাকা শিশুটিকে চিহ্নিত করতে হবে।
খ) প্রতিটি শিশুর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে একটি তথ্য ভান্ডার গড়ে তুলতে হবে যেখানে তাদের নির্দিষ্ট চাহিদাগুলির কথা বলা থাকবে। কর্তৃপক্ষের কাছে শিশুদের তথ্য ২০১৫ সালের জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট অনুসারে গোপনীয়তা বজায় রেখে সুরক্ষিত রাখতে হবে যাতে তাদের পরিচিতি বাইরে প্রকাশ না পায়।
গ) কেন্দ্রের ট্র্যাক চাইল্ড পোর্টালে প্রতিটি শিশুর বিষয়ে যাবতীয় তথ্য আপলোড করতে হবে।
২) নজরদারি ও সুরক্ষা
ক) হাসপাতালের রিসেপশন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় শিশু সুরক্ষা কমিটি এবং চাইল্ড লাইন নম্বর 1098-এর বিষয়ে যথাযথভাবে প্রচার চালাতে হবে।
খ) পুলিশকে পরিস্থিতির দিকে কঠোরভাবে নজর রাখতে হবে। শিশু শ্রম, বাল্য বিবাহ, অবৈধভাবে দত্তক নেওয়া এবং শিশু পাচারের মতো অপরাধ আটকাতে হবে।
গ) যেসব শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে থাকবে তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং নিয়মিত তাদের খেয়াল রাখতে হবে।
ঘ) শিশুদের বাবা-মায়ের কোনো ঋণ বকেয়া থাকলে অথবা অন্য কোন দায়বদ্ধতা থাকলে তার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।
৩) আপৎকালীন পরিস্থিতিতে যত্ন নেওয়া ও পুর্নবাসন
ক) হাসপাতালে রোগীদের ভর্তি করার সময় বিশ্বাসযোগ্য লোকেদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে যাতে কোনো বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে শিশুটির যত্ন নিতে ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।
খ) শিশুদের তৎক্ষণাৎ সাময়িকভাবে চাইল্ড কেয়ার ব্যবস্থাপনায় পুর্নবাসন দিতে হবে। শিশু সুরক্ষা পরিষেবা প্রকল্পের সাহায্যে এই কাজটি সম্পন্ন করা প্রয়োজন ।
গ) প্রতিটি জেলায় শিশুদের এবং নবজাতকদের যত্ন নেওয়ার যথাযথ ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৪) শিশু সুরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা
ক) সরকার বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিশু সুরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে (চাইল্ড কেয়ার ইন্সটিটিশন-সিসিআই) জেলাশাসকের সহায়তায় শিশুদের যত্নের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে। যার মূল লক্ষ্য থাকবে যেসব শিশুরা ওইসব প্রতিষ্ঠানে রয়েছে তাদের যথাযথ দেখভাল করা।
খ) শিশুদের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সুস্থ পরিবেশ, বেঁচে থাকার সব উপাদানগুলি যেমন ভালো খাবার ও সুরক্ষা౼ সমস্ত সিসিআইকে নিশ্চিত করতে হবে।
গ) কোনো শিশু যদি কোভিড সংক্রমিত হয় তাহলে তার জন্য সিসিআই-তে যথাযথ আইসোলেশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
ঘ) শিশুদের জন্য মনস্তত্ববিদ বা পরামর্শদাতার ব্যবস্থা করতে হবে যাঁরা সিসিআই-তে নির্দিষ্ট সময় অন্তর যাবেন এবং শিশুদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
ঙ) যেসব শিশু সমস্যার মধ্যে থাকবে তাদের জন্য মনস্তাত্বিক সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। একাজে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে হেল্পলাইন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
৫) জেলা প্রশাসন ও জেলাশাসকের অভিভাবক হিসেবে ভূমিকা
ক) কোভিডের কারণে যেসব শিশুর জীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে জেলা শাসককে সেইসব শিশুদের অভিভাবক হতে হবে।
খ) এইসব শিশুরা যাতে তাদের পছন্দ অনুযায়ী ২০১৫ সালের জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট অনুযায়ী যথাযথভাবে পুর্নবাসন পায় তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জেলাশাসককে নিতে হবে। শিশুটির নিকটবর্তী আত্মীয় বা বর্ধিত পরিবারে তার পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি শিশু কল্যাণ কমিটি বিবেচনা করে যে শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনী সমস্যা নেই তাহলে সেক্ষেত্রে সেন্ট্রাল অ্যাডাপশন রিসোর্স অথরিটি বা ‘কারা’র কেয়ারিং পোর্টালের মাধ্যমে দত্তকের ব্যবস্থা করতে হবে। এ কাজে সরকার অনুমোদিত সিসিআইগুলিতেও ওই শিশুদের রাখার ব্যবস্থা করা যাবে।
গ) জেলাস্তরে আন্তঃদপ্তর পর্যায়ে কর্মীগোষ্ঠী গঠন করতে হবে। এই গোষ্ঠী মহামারীতে প্রভাবিত শিশুদের সব সমস্যাগুলি পূরণ হচ্ছে কি না সেটি নিশ্চিত করবে।
ঘ) সুশীল সামাজিক সংগঠনগুলি কোনো জেলায় কোনো শিশুকে সমস্যার মধ্যে দেখলে শিশু কল্যাণ কমিটি বা জেলাস্তরে শিশু রক্ষা ইউনিটকে বিষয়টি তৎক্ষনাৎ যাতে জানায় সে বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছে।
ঙ) জেলাশাসককে শিশুটির পারিবারিক সম্পত্তি বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির অধিকার যাতে বজায় থাকে সেটি দেখতে হবে। ওই সম্পত্তি যাতে কোনোভাবে বিক্রি না হয় বা দখল না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। একাজে নিবন্ধীকরণ ও রাজস্ব বিভাগের নজরদারি থাকা প্রয়োজন।
৬) সিসিআই-এর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা
ক) সিসিআই সেইসব শিশুদের থাকার ব্যবস্থা করবে যাদের বাবা-মা কোভিড সংক্রমিত। এইসব শিশুদের কোনো বর্ধিত পরিবার না থাকলে তখন সিসিআই-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শিশুর দ্রুত পুর্নবাসন নিশ্চিত করার জন্য জেলাস্তরে আধিকারিকদের একটি দল নিয়মিত সিসিআইগুলিতে নজরদারি চালাবেন।
৭) পুলিশ
ক) জেলা পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে এবং শিশু পাচার, অবৈধভাবে শিশুকে দত্তক নেওয়া, বাল্য বিবাহ, শিশু শ্রম বা অন্য কোনো রকমের অপরাধমূলক কাজ যাতে না হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
খ) সোস্যাল মিডিয়ায় শিশুদেরকে দত্তক নেওয়ার কোনো উদ্যোগ নজরে আসলে যদি দেখা যায় কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি অপরাধী তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিসিআই, জেলাগুলির ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল যেখানে শিশুদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় সেইসব অঞ্চলে পুলিশ এবং রাত্রিবেলা টহল দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
৮) পঞ্চায়েত, পুরসভা
ক) পঞ্চায়েত স্তরে শিশু সুরক্ষা কমিটিগুলি যেসব শিশু সমস্যার সম্মুখীন তাদের চিহ্নিত করবে এবং জেলা প্রশাসন ও জেলা শিশু সুরক্ষা ইউনিটকে বিষয়টি জানাবে। জেলা শাসকরা পুরসভা ও পঞ্চায়েতকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবেন এবং এই ধরণের শিশুদের জন্য কি কি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে জানাবেন।
৯) শিক্ষা
ক) সরকারি স্কুল বা আবাসিক স্কুলের মাধ্যমে অনাথ শিশুরা যাতে বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
খ) শিক্ষার অধিকার আইনের ১২(১)(সি)-এর নিয়ম অনুসারে শিশুদের নির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ী তাকে নিকটবর্তী বেসরকারি স্কুলেও ভর্তি করা যেতে পারে।
গ) কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি বিভিন্ন বৃ্ত্তির সুযোগ যাতে অনাথ শিশুরা পায় সে বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে।
ঘ) কারিগরি শিক্ষা যেখানে প্রয়োজন সেখান প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনার মাধ্যমে সেটির ব্যবস্থা করতে হবে।
১০) স্বাস্থ্য পরিষেবা
কেন্দ্রের পিএম জন আরোগ্য যোজনার আওতায় যোগ্য শিশুদের স্বাস্থ্য বীমার ব্যবস্থা করতে হবে।
CG/CB/NS
(রিলিজ আইডি: 1724235)
ভিজিটরের কাউন্টার : 848