প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর

প্রধানমন্ত্রী ২০২০র আন্তর্জাতিক ভারতী উৎসবে ভাষণ দিয়েছেন

সরকারের নারীর ক্ষমতায়নের নীতি সুব্রমান্য ভারতীর স্বপ্ন পূরণের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য : প্রধানমন্ত্রী

কিভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকা যায় এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ সহ সকলকে ক্ষমতায়িত করতে অঙ্গীকার বদ্ধ হওয়া যায়, ভারতীয়ার আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়েছেন : প্রধানমন্ত্রী

Posted On: 11 DEC 2020 5:42PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ১১ই ডিসেম্বর, ২০২০

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী, আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০২০র আন্তর্জাতিক ভারতী উৎসবে বক্তব্য রেখেছেন এবং ভারতীয়ারকে তাঁর জন্মদিনের শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। মহাকবি সুব্রমান্য ভারতীর ১৩৮তম জন্মদিনে বনবিল সংস্কৃতিক কেন্দ্র এই উৎসবের আয়োজন করেছে। এবছরের ভারতী পুরস্কার প্রাপক বিশিষ্ট পন্ডিত শ্রী সীনি বিশ্বনাথনকে প্রধানমন্ত্রী অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই অনুষ্ঠানে তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সুব্রমান্য ভারতীকে কিভাবে বিশেষিত করা যায় সেটি একটি কঠিন প্রশ্ন ভারতীয়ারকে একটি মাত্র পেশা বা একটি বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত করা যায় না। তিনি ছিলেন কবি, লেখক, সম্পাদক, সাংবাদিক, সমাজ সংস্কারক, স্বাধীনতা সংগ্রামী, মানবতাবাদী এবং আরো অনেক কিছু।

শ্রী মোদী বলেছেন, যে কেউ তাঁর কাজ, তাঁর কবিতা, তাঁর দর্শন এবং তাঁর জীবন নিয়ে বিষ্মিত হবেন। বারাণসীর সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগ ছিল, ৩৯ বছরের এই সংক্ষিপ্ত জীবনে তিনি অনেক কিছু লিখেছেন,  কাজ করেছেন এবং সব ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা দেখিয়েছেন। তাঁর রচনা আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পথ দেখাবে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের যুব সম্প্রদায় আজ সুব্রমান্য ভারতীর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারেন। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল তাঁর সাহস। ভয় কি জিনিস সুব্রমান্য ভারতী তা জানতেন না। শ্রী মোদী ভারতীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, “আমি ভয় করি না। আমার ভয় নেই। যদি সারা বিশ্ব আমার বিরুদ্ধে যায়, তাহলে আমি ভয় পাই না।“ তিনি বলেছেন যে, ভারতের যুব সম্প্রদায়ের মধ্যেতিনি  এই ভাবনা দেখতে পান। তাঁরা যখন উদ্ভাবন এবং উৎকর্ষতার শীর্ষে থাকেন, তখন  এই উৎসাহ তাদের মধ্যে দেখা যায়। ভারতের নতুন উদ্যোগগুলি নির্ভীক যুব সম্প্রদায় এগিয়ে নিয়ে চলেছে। যাঁরা মানব জাতিকে নতুন কিছু দেওয়ার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। এই ধরণের “আমি পারবই” মানসিকতায়  আমাদের দেশ এবং আমাদের গ্রহে নতুন নতুন জিনিস হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রাচীনের সঙ্গে আধুনিকতার এক স্বাস্থ্যকর মেলবন্ধন ভারতীয়ার বিশ্বাস করতেন। তিনি আমাদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর প্রজ্ঞা দেখিয়েছেন। তাঁর একটি চোখ ছিল তামিল ভাষা আর অন্য চোখ মাতৃভূমি ভারত। প্রাচীন ভারতের মহান দিকগুলি, বেদ ও উপনিষদের মহত্ব,  সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং আমাদের গৌরবোজ্জ্বল অতীত নিয়ে তিনি গান গেয়েছেন। কিন্তু একই সময়ে তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেছেন, নিছক অতীতকে আঁকড়ে থাকলে চলবে না, সকলের জানার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, জিজ্ঞাসার ইচ্ছে জাগাতে হবে এবং বিকাশের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।  

শ্রী মোদী আরো বলেছেন, মহাকবি ভারতীয়ার বিকাশের সংজ্ঞার মূল চরিত্রই হলেন মহিলারা। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হল, স্বাধীন ও ক্ষমতাশালী মহিলা। মহাকবি ভারতীয়ার লিখেছিলেন, যে নারী তাঁর মাথা উঁচু করে হাঁটবেন, মানুষের চোখে চোখ রেখে কথা বলবেন। নারীদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য সরকার কাজ করছে। সরকারের প্রতিটি স্তরে নারীর মর্যাদা রক্ষা গুরুত্ব পায়। বর্তমানে মুদ্রা যোজনার মতো প্রকল্পে ১৫ কোটির বেশি মহিলা সাহায্য পাচ্ছেন। আজ ভারতের সশস্ত্র বাহিনীতে মহিলারা পার্মানেন্ট কমিশনিংএ যুক্ত হয়েছেন। দেশ যে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে, তাঁরা সেই আস্থা যোগাচ্ছেন। আজ দরিদ্রতম মহিলা যিনি নিরাপদ শৌচালয়ের সমস্যায় ভুগতেন, ১০ কোটির বেশি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শৌচালয়ের সুবিধে তারা পাচ্ছেন। তারা আর কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন না। এই যুগ হল নতুন ভারতের নারী শক্তির। তারা সমস্ত বাধা অতিক্রম করে প্রভাব বিস্তার করছেন। সুব্রমান্য ভারতীর প্রতি এটিই নতুন ভারতের শ্রদ্ধার্ঘ্য।  

প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন যে, মহাকবি ভারতীয়ার উপলদ্ধি করেছিলেন যে, কোনো সমাজ যদি বিভক্ত থাকে, তাহলে সেই সমাজ সাফল্য পায় না। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক শূন্যতার বিষয়েও লিখেছিলেন, যে কারণে সামাজিক অসাম্যের সমাধান হয় না এবং সামাজিক সমস্যা দূর হয় না। তিনি বলেছিলেন, এখন আমরা একটি নিয়ম তৈরি করবো, আর সেটি কার্যকরও করবো। যদি কোনো মানুষ অনাহারের সম্মুখীন হন, তাহলে সারা জগতের ধ্বংসের বেদনায় অনুভব করা উচিত। তাঁর শিক্ষা আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে চলার পথ দেখায় এবং প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে উৎসাহ দেয়, বিশেষত দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষদের।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের যুব সম্প্রদায়ের ভারতীর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। আমাদের দেশের সকলের তাঁর কাজের বিষয়ে জানা উচিত, যার মধ্য দিয়ে তাঁরা অনুপ্রাণিত হবেন। ভারতীয়ার বার্তা প্রচারে বনবিল সংস্কৃতিক কেন্দ্র সুন্দর কাজ করার জন্য তিনি তাঁদের প্রশংসা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই উৎসব ফলপ্রসূ হবে। যার মধ্য দিয়ে ভারতের নতুন এক ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হতে সুবিধে হবে।

***

 

CG/CB/SFS



(Release ID: 1680125) Visitor Counter : 8