অর্থমন্ত্রক

বাড়ির দোরগোড়ায় ব্যাঙ্কিং পরিষেবার সূচনা এবং ইএএসই ২.০ সূচক সংক্রান্ত ফলাফল প্রকাশ করলেন অর্থমন্ত্রী

Posted On: 09 SEP 2020 7:13PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

 

 


কেন্দ্রীয় অর্থ তথা কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী শ্রীমতী নির্মলা সীতারমন আজ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির পক্ষ থেকে গ্রাহকদের বাড়ির দোরগোড়ায় ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার এক উদ্যোগের সূচনা করেছেন। ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য কাজকর্মের দিক থেকে সেরা ব্যাঙ্কগুলিকে ইএএসই সূচক অনুযায়ী এক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে শ্রীমতী সীতারমন যোগ দেন।


এই উপলক্ষে আর্থিক পরিষেবা দপ্তরের সচিব শ্রী দেবাশিস পান্ডা এবং ভারতীয় ব্যাঙ্কিং অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শ্রী রজনীশ কুমার ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে অংশ নেন।


ব্যাঙ্কগুলির ইএএসই সংস্কারের অঙ্গ হিসাবে গ্রাহকদের বাড়ির দোরগোড়ায় বিভিন্ন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে গ্রাহকরা ব্যাঙ্কের কল সেন্টার, ওয়েবপোর্টাল অথবা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিজের সুবিধা মতো সময়ে যে কোনও পরিষেবা গ্রহণ করতে পারবেন।


দেশের ১০০টি কেন্দ্রে সুনির্দিষ্ট পরিষেবা দাতাদের পক্ষ থেকে গ্রাহকের বাড়ির দোরগোড়ায় বিভিন্ন পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যাঙ্কিং এজেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে।


বর্তমানে কেবল আর্থিক পরিষেবা বহির্ভূত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রাহকের বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা রয়েছে। এই পরিষেবাগুলির মধ্যে রয়েছে – চেক বা ডিমান্ড ড্রাফট্ বা পে অর্ডার সংগ্রহ, নতুন চেকবুকের রিক্যুইজেশন স্লিপ সংগ্রহ, ১৫-জি/১৫-এইচ ফর্ম সংগ্রহ, আয়কর/জিএসটি চালান সংগ্রহ, টিডিএস পরিষেবা বা ফর্ম-১৬ সার্টিফিকেট পৌঁছে দেওয়া, পূর্বেই মাশুল মেটানো, ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রের পরিষেবা বা গিফট্ কার্ড পৌঁছে দেওয়া প্রভৃতি রয়েছে। চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকেই আর্থিক পরিষেবাগুলিও গ্রাহকের বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।


রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের গ্রাহকরা ন্যূনতম খরচে এই পরিষেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এই পরিষেবা চালু হলে ব্যাঙ্কের সবধরনের গ্রাহক, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক ও দিব্যাঙ্গজনরা বিশেষ লাভবান হবেন।

ইএএসই ২.০ সূচক অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির কাজকর্ম

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির এক অভিন্ন সংস্কারমূলক এজেন্ডা হিসাবে ইএএসই অনুযায়ী সূচক প্রবর্তন করা হয়। এই সূচকের উদ্দেশ্যই হ’ল – প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ব্যাঙ্কগুলিকে আরও আধুনিক করে তোলা, যাতে তারা কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে গ্রাহক স্বার্থে আরও বেশি পরিষেবা পৌঁছে দিতে পারে। ২০১৮’র জানুয়ারিতে ব্যাঙ্কগুলির কাজকর্মের নিরিখে ইএএসই সূচক প্রবর্তন করা হয়। এর পরবর্তী উদ্যোগ হিসাবে ইএএসই ২.০ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হ’ল – ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় সংস্কারের অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।


রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি ইএএসই ২.০ সংস্কারমূলক কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে ৪টি ত্রৈমাসিকের কাজকর্মের ভিত্তিতে লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির সংস্কারমূলক সূচকে ২০১৯ সালের মার্চ মাস থেকে ২০২০’র মার্চ পর্যন্ত ৩৭ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। এই সূচক অনুযায়ী ব্যাঙ্কগুলি তাদের সংস্কারমূলক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার মাপকাঠিতে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে ৪৯.২ পয়েন্ট থেকে ৬৭.৪ পয়েন্ট পর্যন্ত নম্বর পেয়েছে।


কাজকর্মের নিরিখে সূচকে অগ্রণী ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে রয়েছে – ব্যাঙ্ক অফ বরোদা, ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্ক এবং পূর্বতন ওরিয়েন্টাল ব্যাঙ্ক অফ কমার্স। ইএএসই ২.০ সূচকের ভিত্তিতে লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি ঘটেছে ব্যাঙ্ক অফ মহারাষ্ট্র, সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এবং পূর্বতন কর্পোরেশন ব্যাঙ্কের কাজকর্মে। রাষ্ট্রায়ত্ত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এবং কানাডা ব্যাঙ্ক অসামান্য কাজকর্মের নিরিখে স্বীকৃতি পেয়েছে।

২০১৮’র মার্চ থেকে ২০২০’র মার্চ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার

• রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অধিকাংশ গ্রাহকই এখন এনইএফটি, আরটিজিএস, আন্তঃব্যাঙ্ক ট্রান্সফার, অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট, মোবাইল/ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং – এর মাধ্যমে চেকবুক আবেদনের মতো ৩৫টিরও বেশি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। গত ২৪ মাসে এই পরিষেবাগুলিতে প্রায় দ্বিগুণ অগ্রগতি হয়েছে।

• বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি সংক্রিয় গ্রাহক মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং – এর মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন ১৪০ শতাংশ বেড়েছে। ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

• ব্যাঙ্কগুলির কল সেন্টার থেকে বাংলা সহ ১৩টি আঞ্চলিক ভাষায় পরিষেবা দেওয়া হয়।

• অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গড় সময়সীমা প্রায় ৯ দিন থেকে কমে ৫ দিন হয়েছে।

• ব্যাঙ্ক মিত্রদের মাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা, নগদ জমা, টাকা তোলা এবং ফান্ড ট্রান্সফারের মতো সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।

• রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি প্রায় ২৩ কোটি সেভিংস অ্যাকাউন্টের গ্রাহককে রুপে ক্রেডিট কার্ড দিয়েছে।

• খুচরো ঋণের ক্ষেত্রে সময়সীমা পূর্বের ৩০ দিন থেকে কমে বর্তমানে প্রায় ১০ দিন হয়েছে।

• রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির অনুৎপাদক সম্পদের পরিমাণ ২০১৮’র মার্চ মাস শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১২ মাসে ছিল ৩.৩ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকা। অনুৎপাদক সম্পদের এই পরিমাণ ২০২০’র ফেব্রুয়ারি মাস শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১১ মাসে কমে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

• এক স্বতন্ত্র আয়কর ব্যবস্থার মাধ্যমে ৮৮ শতাংশ ক্ষেত্রে বিবাদের এককালীন নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে।


কোভিড-১৯ এর সময় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি দেশের সেবায় এগিয়ে এসেছে

কোভিড-১৯ সঙ্কটের সময় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি দেশের সেবায় বড় ভূমিকা নিয়েছে। ৮০ হাজারেরও বেশি ব্যাঙ্ক শাখা কোভিড-১৯ এর সময় স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রেখেছে। এমনকি, ব্যাঙ্কগুলিতে কোভিডের সময় স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ব্যবহার ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আধার উপযোগী মাশুল প্রদান ব্যবস্থা ৩ গুণ বেড়েছে। ৭৫ হাজারেরও বেশি ব্যাঙ্ক মিত্র গ্রাহকের দোরগোড়ায় ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দিয়েছেন। ইএএসই সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণের ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির আর্থিক স্বাস্থ্য সুদৃঢ় হয়েছে। এর ফলে, অনুৎপাদক সম্পদের বোঝা কমিয়ে ব্যাঙ্কগুলি লাভজনক অবস্থায় ফিরে এসেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির অনুৎপাদক সম্পদের পরিমাণ ২০১৮’র মার্চে ৮ লক্ষ ৯৬ হাজার কোটি টাকা থেকে কমে ২০২০’র মার্চে ৬ লক্ষ ৭৮ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। একইভাবে, ব্যাঙ্কগুলিতে আর্থিক প্রতারণা অর্থবর্ষ ২০১০ থেকে অর্থবর্ষ ২০১৪ পর্যন্ত সময়ে ০.৬৫ শতাংশ থেকে কমে অর্থবর্ষ ২০১৯-২০’তে ০.০৬ শতাংশ হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে রেকর্ড ২ লক্ষ ২৭ হাজার কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করা গেছে। ব্যাঙ্কগুলির অ্যাসেট কোয়ালিটি বা সম্পদের গুণমান লক্ষ্যণীয়ভাবে উন্নতি ঘটেছে। মোট অনুৎপাদক সম্পদের হার ২০১৮’র মার্চের ৭.৯৭ শতাংশ থেকে কমে ২০২০’র মার্চে ৩.৭৫ শতাংশ হয়েছে। এমনকি, পিসিএ ব্যবস্থার আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সংখ্যা কমে ৩ হয়েছে। সেই সঙ্গে, ৮ বছরে ব্যাঙ্কিং পরিষেবার বিস্তার হার রেকর্ড ৮০.৯ শতাংশে পৌঁছেছে।
 

 

CG/BD/SB



(Release ID: 1652936) Visitor Counter : 45