প্রকাশিত:
09 SEP 2020 1:57PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লী, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ণ মন্ত্রী শ্রী থেওরচাঁদ গেহলত সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ণ দপ্তরের ২০২০-২১ অর্থবর্ষের সমস্ত প্রকল্পের ৩৩টি কার্যকরী পরিকল্পনা সম্বলিত একটি বই প্রকাশ করেছেন। এই প্রথমবার সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ণ দপ্তর প্রতিটি প্রকল্পের জন্য একটি বিস্তৃত বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০২০-২১ অর্থবর্ষের জন্য এই বার্ষিক পরিকল্পনায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, অংশগ্রহণকারী রাজ্য সরকার এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সুস্পষ্ট চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এই বইয়ে সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ণ দপ্তরের সমস্ত প্রকল্পের ৩৩টি বার্ষিক কার্যকরী পরিকল্পনা সংকলিত হয়েছে। একইসঙ্গে তপশীলি জাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণী এবং প্রবীণ নাগরিক, মাদক দ্রব্যে নির্যাতনে শিকার, রূপান্তরকামী, ভবঘুরেদের জন্য অর্থনৈতিক শিক্ষামূলক উন্নয়ন ও সামাজিক ক্ষমতায়নের বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছে।
এই বইয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত শ্রী গেহলত জানান ভারত সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে বিশেষ নজর দিয়েছে। বার্ষিক এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দরিদ্র ও প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষদের শিক্ষামূলক, অর্থনৈতিক, সামাজিক বিকাশ ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই লক্ষ্যপূরণের ২০২০-২১ অর্থবর্ষে এ ধরণের বার্ষিক কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে বিভিন্ন প্রকল্পে ৮৬০২.৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। চলতি অর্থবর্ষে তা বাড়িয়ে ৯৯৩৩.৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪.৯১ কোটি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন ভারত গঠনের লক্ষ্যপূরণের ক্ষেত্রে সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন দপ্তরের এটি এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক সৃষ্টি করেছে ।
সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন দপ্তরের আওতাধীন প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম হল তপশীলি জাতি(এসসি) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণী(ওবিসি)র- জন্য বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ এবং তপশীলি জাতির মধ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য জাতীয় বৃত্তি প্রদান। এই প্রকল্পের সুবিধার্থে আরো বেশি সংখ্যক এসসি ও ওবিসি শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করতে পরিবারিক বার্ষিক আয়ের সীমা ৬ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর অধীনে যোগ্য এসসি, ওবিসি শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দমতো প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ গ্রহণে সুযোগ নিতে পারবেন। প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক আসন সংখ্যা ১৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার ২০০ করা হয়েছে। আইআইটি, এনআইটি এবং এনআইআরএস-এর মতো প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতে এসসি এবং ওবিসি শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারেন তারজন্য সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। নামী বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসসি ছাত্রছাত্রীরা যাতে ভর্তি হতে পারেন তারজন্য জাতীয় বৃত্তি প্রকল্পে সংশোধন আনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আদর্শ গ্রাম যোজনার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে দেশের ৩ হাজার ৫৮৪টির বেশি এসসি প্রধানত গ্রামগুলিকে। এই যোজনার আওতায় ১৩ হাজার ১৯৯টি গ্রামে সুসংহত উন্নয়নের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
মাদক দ্রব্যের চাহিদা কমানোর ওপর জাতীয় কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ২৭২টি জেলায় নেশামুক্ত ভারত অভিযানের সূচনা করা হয়েছে।চলতি বছরের ১৫ই আগস্ট থেকে আগামী বছরের ৩১শে মার্চ পর্যন্ত এই অভিযান কর্মসূচি চলবে।
ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের জন্য সুসংহত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ভিক্ষাবৃত্তির পেশায় নিযুক্ত মানুষদের পুনর্বাসনের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে মন্ত্রক। এই প্রকল্প দিল্লী, মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাই, হায়দ্রাবাদ, বেঙ্গালুরু, লক্ষ্মৌ, পাটনা, নাগপুর এবং ইন্দোর- এই ১০টি শহরে চালু করা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ১০টি শহরে এই প্রকল্প চলবে।
প্রবীণ নাগরিকদের জন্য জাতীয় কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মন্ত্রক। এ বছরের মধ্যে প্রত্যেকটি জেলায় অন্তত একজন করে প্রবীণ নাগরিকদের গৃহ নির্মাণ সুনিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য জাতীয় কার্যকরী পরিকল্পনায় বেশকিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রবীন নাগরিকদের জন্য জাতীয় হেল্পলাইন নম্বর চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে প্রবীনদের অভাব-অভিযোগ শুনে তা সমাধান করতে বলা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে এই জাতীয় হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় সাফাই কর্মচারী আর্থিক সহায়তা এবং উন্নয়ন নিগম (এনএসকেএফডিসি)কর্মসূচি গ্রহণ করেছে মন্ত্রক। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাফাই কর্মচারীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং উন্নয়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা উদ্যোমী যোজনার আওতায় সাফাই কর্মচারীদের জন্য অত্যাধুনিক সরঞ্জাম কেনা হয়েছে।
সিভিল রাইট অ্যাক্ট ১৯৫৫ এবং প্রিভেনশন অফ অ্যাট্রোসিটিস অ্যাক্ট ১৯৮৯ আরো কার্যকরী ভাবে বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তপশীলি জাতি ও উপজাতি সদস্যদের ওপর অত্যাচার , হেনস্থা বন্ধ এবং সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে এই আইন দুটি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়াস চালানো হচ্ছে। এরজন্য একটি জাতীয় হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।
তপশীলি জাতি ছাত্রছাত্রীদের জন্য মাধ্যমিক উত্তীর্ণ বৃত্তি চালু করা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের আওতায় অতিরিক্ত ১০ লক্ষ শিক্ষার্থীকে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতাধীন সমস্ত সুবিধাভোগীর একটি কেন্দ্রীয় তথ্য ভান্ডার তৈরি করা হবে।
অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের জন্য মাধ্যমিক উত্তীর্ণ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তহবিলের বরাদ্দকৃত অর্থ সুষ্ঠুভাবে খরচের জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলিকে কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। আগামীদিনে এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৫ লক্ষ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রক ‘বিশ্বাস’ নামে আরও একটি যোজনা চালু করেছে। তপশীলি জাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর স্বনির্ভর গোষ্ঠী অথবা ব্যক্তিগত সদস্য যাদের বার্ষিক পারিবারিক আয় ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত তাদেরকে আর্থিক সুবিধা প্রদানের জন্যই এই যোজনা চালু করা হয়েছে। মহামারী সময়কালে এই ধরণের প্রকল্প তপশীলি জাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষদের বিশেষভাবে সহায়তা করছে।
CG/SS/NS