কৃষিমন্ত্রক

২০২০ সালের খরিফ শস্য নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে জাতীয় সম্মেলন করলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী

Posted On: 16 APR 2020 3:26PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ১৬ এপ্রিল, ২০২০

 

 


কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র সিং তোমর বলেছেন, খারিফ মরশুমের লক্ষ্য পূরণে এবং কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার জন্য সমস্ত রাজ্যকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। ২০২০ র খারিফ শস্যের ওপর একটি জাতীয় সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে বক্তব্য রাখার সময় মন্ত্রী, রাজ্যগুলিকে আশ্বস্ত করে বলেন, তারা লকডাউনের ফলে যে সমস্ত বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন কেন্দ্র, সেগুলি দূর করবে।


জাতীয় খরিফ সম্মেলনে লকডাউনের মধ্যে খরিফ শস্য চাষের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। শ্রী তোমর বলেন, করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় কৃষি ক্ষেত্রকে লড়াকু মনোভাব নিয়ে চলতে হবে। এই সঙ্কটের সময় দরিদ্র এবং কৃষকরা যেন সমস্যায় না পড়েন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী তা নিশ্চিত করেছেন বলে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন। শ্রী তোমর পিএম ফসল বীমা যোজনা এবং সয়েল হেলথ কার্ড প্রকল্পের বিষয় প্রতিটি কৃষককে জানানোর জন্য রাজ্যগুলিকে অনুরোধ জানিয়েছেন। 


মন্ত্রী, রাজ্যগুলিকে আরো জানান, অল ইন্ডিয়া এগ্রি ট্রান্সপোর্ট কল সেন্টার, লকডাউনের সময় কৃষিক্ষেত্র যাতে কোনোভাবে প্রভাবিত না হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। রাজ্যগুলিকে ই-ন্যামের সুবিধে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে শ্রী তোমর বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, শারীরিক দূরত্ব এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা মেনে কয়েকটি ক্ষেত্রকে কিছু ছাড় দিয়েছে, ২০২০ – ২১ অর্থবর্ষে খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ২৯ কোটি ৮০ লক্ষ টন। ২০১৯ – ২০ অর্থবর্ষে যেখানে ২৯ কোটি ১১ লক্ষ টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল, সেখানে ২৯ কোটি ২০ লক্ষ টন খাদ্যশস্য উত্পাদিত হয়েছে। 


কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী, শ্রী পরষোত্তম রূপালা অংশগ্রহণকারীদের পিএম ফসল বীমা যোজনার সুবিধের কথা কৃষকদের মধ্যে প্রচারের জন্য অনুরোধ করেন। মন্ত্রী, এই প্রসঙ্গে জানান, আমাদের দেশের অনেক রাজ্যে, কৃষি এবং উদ্যান পালন অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সারা বিশ্বে উৎপাদিত ফসলের ১৩ শতাংশ ভারতে উৎপাদিত হয়, সব্জি উৎপাদনেও চিনের পরেই ভারতের স্থান। 


আরেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী শ্রী কৈলাশ চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান যুগে বৃষ্টিপাতের ধরণ বদলে যাচ্ছে। কিন্তু তার মধ্যেও কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। 


কৃষি ও কৃষক কল্যাণ সচিব শ্রী সঞ্জয় আগরওয়াল বলেন, যদিও আমাদের দেশে বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদিত হচ্ছে, কিন্তু গ্রামাঞ্চলে খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তার জন্য কৃষি ও উদ্যান পালনের উৎপাদনের হার বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চাই যোজনার আওতায় সেচের জল ও সারের আরো ভালো ব্যবহারের ওপর জোর দেন। পিএম আশা যোজনার আওতায় কৃষকরা যেন তৈল বীজ, ডাল এবং শস্যের নূন্যতম সহায়কমূল্য পান, যার পরিমাণ কৃষিকাজে ব্যয়ের দ্বিগুণ হতে হবে, সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। বর্তমান কোভিড – ১৯ মহামারীর প্রেক্ষিতে কৃষিপণ্যে সরাসরি বাজারজাত করার ওপর তিনি জোর দেন। 


কৃষি কমিশনার ড. এস কে মালহোত্রা বলেন, গত দুই দশকে কৃষি জমির পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে ২৭ লক্ষ ৪০ হাজার হেক্টর। কিন্তু এই একই সময় চাষ করা জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, ১ কোটি ৪০ লক্ষ হেক্টর।


রবি শস্যের প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, লকডাউন পরিস্থিতিতে কৃষকদের যেন বাইরে বেরোতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে গ্রাম এবং ব্লক লেভেলে রাজ্যগুলি শস্য সংগ্রহ করবে এবং সরাসরি কৃষকদের থেকে ফসল কিনে নেবে। 


সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও দেশের বেশিরভাগ কৃষিজমি মৌসুমী বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে কৃষিকাজে প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চাই যোজনার মাধ্যমে সেচের জল এবং জল বাঁচানোর প্রযুক্তি ব্যবহার করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 


এই বৈঠকে কৃষি মন্ত্রকের পদস্থ আধিকারিকরা ছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যের সরকারী আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। 

 

 


CG/CB



(Release ID: 1615092) Visitor Counter : 276