মৎস্য ও পশু পালন এবং দুগ্ধশিল্প মন্ত্রক
প্রকাশিত:
03 NOV 2026 6:14PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
ভারতের কেন্দ্রীয় মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ মন্ত্রী শ্রী রাজীব রঞ্জন সিং (যিনি লালন সিং নামেও পরিচিত) ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে সিকিমের গ্যাংটকে ‘সিকিম মিল্ক ইউনিয়ন’ (এসএমইউ) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল, দুগ্ধ ক্ষেত্রের পরিকাঠামো শক্তিশালী করা, সমবায় নেটওয়ার্কের বিস্তার ঘটানো এবং দুগ্ধ ক্ষেত্রে পণ্যের মূল্য সংযোজনকে উৎসাহিত করা।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ‘ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ফর ডেইরি ডেভেলপমেন্ট’ (এনপিডিডি)-এর আওতায় সিকিম মিল্ক ইউনিয়নের অণুজীববিজ্ঞান গবেষণাগার (মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরি)-এর উদ্বোধন করেন। এই গবেষণাগারটি অণুজীব সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গুণমান মূল্যায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে, যা দুগ্ধ ক্ষেত্রে গুণমান নিশ্চিতকরণ এবং খাদ্য নিরাপত্তার মানোন্নয়নে সহায়তা করবে। এছাড়া, তিনি সিকিম মিল্ক ইউনিয়নের বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য ও অন্যান্য উদ্যোগ নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনী স্টলগুলি ঘুরে দেখেন।
অনুষ্ঠানটি শুরু হয় সিকিম মিল্ক ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে। এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের সংবর্ধনা জানানো হয়।
এক দশকে সিকিমে দুধ উৎপাদন ৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি
অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময়, মাননীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দুগ্ধ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনের জন্য সিকিম সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অভিনন্দন জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, দৈনিক দুধ উৎপাদন ১.৩৭ লক্ষ লিটার থেকে বেড়ে ২.৪৫ লক্ষ লিটারে দাঁড়িয়েছে, যা ৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। একই সময়ে দুগ্ধ সমবায় সমিতির সংখ্যা ৩৮৯টি (২০১৪-১৫ সাল) থেকে বেড়ে ৭৩৩টিতে (২০২৫-২৬ সাল) উন্নীত হয়েছে, যা ৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি। এছাড়া, ভোক্তাদের কাছে দৈনিক দুধ সরবরাহের পরিমাণও দ্বিগুণ হয়ে ২৮,০০০ লিটার থেকে বেড়ে ৫৬,০০০ লিটারে পৌঁছেছে।
দুগ্ধ ক্ষেত্রের উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি এনডিডিবি-কে তাদের কার্যক্রম জোরদার করার এবং অতিরিক্ত লোক নিয়োগের আহ্বান জানান, যাতে সিকিম দুধ উৎপাদন ও সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারে। তিনি দুধের গুণমান নিশ্চিত করা, ভেজাল প্রতিরোধ করা এবং কৃষকদের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দুগ্ধ সমবায় সমিতিগুলির ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন।
নিজের বক্তব্যের শেষে তিনি সিকিমের দুগ্ধ ও কৃষি উন্নয়নের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতি উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে শক্তিশালী করা এবং ‘আত্মনির্ভর উত্তর-পূর্বাঞ্চল’ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
SC/MP/SB