নয়াদিল্লি, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
উপ-রাষ্ট্রপতি শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণন আজ তামিলনাড়ুর দিন্দিগুলে অবস্থিত ‘গান্ধীগ্রাম রুরাল ইনস্টিটিউট’-এর সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন ও ৩৯তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগদেন। তিনি মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে স্বর্ণপদক তুলে দেন এবং স্নাতক উত্তীর্ণ সমস্ত শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান।
অনুষ্ঠানে উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন যে, ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য শুধুমাত্র সামগ্রিক গ্রামোন্নয়নের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। তিনি বলেন, ভারতের প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে দেশের গ্রামগুলির মধ্যেই; তাই জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত গ্রামীণ উন্নয়ন।
তিনি বলেন যে, প্রতিটি গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করাই একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। বরং গ্রামের নাগরিকদের জন্য উন্নত পরিকাঠামো, প্রয়োজনীয় সরকারি পরিষেবা, জীবিকার সুযোগ এবং শহরাঞ্চলের সমান মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা প্রদান করাই মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।
মহাত্মা গান্ধীর উত্তরাধিকারের কথা স্মরণ করে উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, গান্ধীগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে গান্ধী দর্শনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সত্য ও অহিংসার চিরন্তন শক্তির ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, মহাত্মা গান্ধী এই নীতিগুলির মাধ্যমেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শক্তির মোকাবিলা করেছিলেন এবং ভারতকে স্বাধীনতার পথে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, গান্ধীর আদর্শ আজও সমাজ ও জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়ে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গত বারো বছরে ভারতের উন্নয়নের যাত্রার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উপ-রাষ্ট্রপতি গ্রামীণ আবাসন, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, স্যানিটেশন, কৃষি এবং ডিজিটাল সংযোগের ক্ষেত্রে অর্জিত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে এসেছেন। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও কল্যাণমুখী উদ্যোগ লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, গ্রামগুলিকে উন্নত সড়ক ও পরিবহন পরিকাঠামোর মাধ্যমে শহর ও নগরের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে, যাতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বাজার এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছতে পারে।
তিনি পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এর প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন।
জনসমাগমস্থলে পরিচ্ছন্নতার উন্নতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পরিচ্ছন্নতা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং এটি প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব।
কৃষকদের কল্যাণ যে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তা উল্লেখ করে তিনি কৃষি সম্প্রদায়ের সহায়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি ‘পিএম-কিষাণ’ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন, যার আওতায় যোগ্য কৃষক পরিবারগুলি বছরে ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা তিনটি কিস্তিতে সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেয়ে থাকেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের কেবল চাকরিপ্রার্থী না হয়ে বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হয়ে ওঠার পরামর্শ দেন। মহাত্মা গান্ধীর ‘স্বদেশী’ দর্শনের সমসাময়িক প্রাসঙ্গিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশীয় উৎপাদন, নিজস্ব প্রযুক্তি, স্থানীয় শিল্প এবং তরুণ ভারতীয়দের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করাই হল ‘স্বদেশী’-র আধুনিক রূপ।
উপ-রাষ্ট্রপতি স্নাতক শিক্ষার্থীদের তাঁদের শিক্ষা ও দক্ষতাকে কেবল ব্যক্তিগত উন্নতির জন্যই নয়, বরং সমাজের কল্যাণেও কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তিনি তাঁদের জীবনের মূল পথ নির্দেশক হিসেবে গান্ধীর আদর্শ, যেমন - সরলতা, আত্মনির্ভরশীলতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সেবাপরায়ণতাকে গ্রহণ করার পরামর্শ দেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান এবং তাঁদের বন্ধু, পরিবার ও সমাজের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার দূত হয়ে ওঠার পরামর্শ দেন।
‘গান্ধীগ্রাম রুরাল ইনস্টিটিউট’ একটি ‘ডিমড-টু-বি’ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পঞ্চাশ বছর সম্পন্ন করায় উপ-রাষ্ট্রপতি তাদের অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে সুস্থায়ী গ্রামীণ উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতি এবং উদ্ভাবনী গবেষণার একটি শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্র হিসেবে আরও বিকশিত হবে। এই উপলক্ষ্যে, উপ-রাষ্ট্রপতি তিন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল শ্রী রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর, আচার্য ডঃ কে. এম. আন্নামালাই, উপাচার্য ডঃ এন. পঞ্চনাথাম, রেজিস্ট্রার ডঃ কে. মারিমুথু, গবেষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
*****
PS/AL