নয়াদিল্লি, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
শুধুমাত্র উৎপাদন-কেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে এসে
ভারতের মৎস্য ক্ষেত্র জাতীয় অর্থনীতির একটি গতিশীল, প্রযুক্তি-চালিত এবং মূল্য-সংযোজন ভিত্তিক স্তম্ভে রূপান্তরিত হচ্ছে। খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ জীবিকার সহায়তা এবং রপ্তানি আয়ে অবদান রাখার ক্ষেত্রে এই ক্ষেত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মূল্য সংযোজন, কোল্ড-চেইন উন্নয়ন, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, ভ্রাম্যমাণ মৎস্য বিপণন এবং স্টার্টআপ-চালিত উদ্ভাবনের মাধ্যমে মৎস্য ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ, উৎপাদনশীলতা, গুণমান নিশ্চয়তাকরণ এবং ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, ব্লকচেইন, ড্রোন প্রযুক্তি, স্মার্ট কোল্ড-চেইন সিস্টেম এবং নির্ভুল মৎস্য চাষ পদ্ধতি গ্রহণ করছে।
ভারতের মৎস্য ক্ষেত্রকে কেবল প্রাথমিক উৎপাদন থেকে একটি বৈচিত্র্যময় ও বাজার-মুখী শিল্পে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ‘মূল্য সংযোজন’ একটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠেছে। মাছ ও মৎস্যজাত পণ্যের প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেটজাত ও ব্র্যান্ডিং করার মাধ্যমে সেগুলিকে খাওয়ার উপযোগী করে তুলে বাজারে আনা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে উৎপাদকরা যেমন ভালো দাম পাচ্ছেন, তেমনি দেশি ও বিদেশি বাজারে ক্রেতাদের পরিবর্তনশীল চাহিদাও পূরণ করতে পারছেন। সবচেয়ে বড় কথা, মূল্য সংযোজন ফসল-পরবর্তী অপচয় কমাতে, পণ্যের স্থায়িত্বকাল বাড়াতে এবং পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল জুড়ে গুণমানের মানদণ্ড উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির নতুন সুযোগও সৃষ্টি করছে, বিশেষ করে জেলে, মৎস্য চাষি, মহিলা গোষ্ঠী, তরুণ প্রজন্ম, সমবায় সমিতি এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, বিপণন ও খুচরো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছোট উদ্যোগগুলির জন্য। এভাবে মূল্য সংযোজন বাজারের সঙ্গে সংযোগকে শক্তিশালী করে, আয় বৃদ্ধি করে এবং নিরাপদ, সুবিধাজনক ও উচ্চমানের সামুদ্রিক খাবারের ক্রমবর্ধমান বাজারে মৎস্য ক্ষেত্রকে আরও কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার উপযোগী করে তোলে।
মূল্য সংযোজনের দিকে এই রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে ভারত সরকার বিভিন্ন সরকারি বিনিয়োগ এবং সুনির্দিষ্ট নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার লক্ষ্য হল, উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজার পর্যন্ত পুরো ক্ষেত্রটিকে শক্তিশালী করা। ২০১৫ সাল থেকে ভারত সরকার মৎস্য ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। 'ব্লু রেভোলিউশন স্কিম', 'ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড', 'প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা', 'প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সমৃদ্ধি সহ যোজনা' এবং 'কিষাণ ক্রেডিট কার্ড'-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও কর্মসূচির মাধ্যমে ৩৯,২৭২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলির লক্ষ্য হল, পরিকাঠামোর প্রসার ঘটানো, উৎপাদন ও ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং দেশের ৭৪.৬৬ লক্ষ মৎস্যজীবী ও মৎস্য চাষির জন্য কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করা।
এর পাশাপাশি পরিবহন ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। ৩,৩৯৩.৮৫ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে ৪৬,৫০০টি সুবিধা বা পরিকাঠামো যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মৎস্য পরিবহন ব্যবস্থা, খুচরো ও পাইকারি মাছের বাজার, কিয়স্ক, ফিড মিল, আইস প্ল্যান্ট, কোল্ড স্টোরেজ এবং মূল্য সংযোজনকারী উদ্যোগের ইউনিট। এছাড়া, পাঁচটি আধুনিক ও স্মার্ট মৎস্য বাজার গড়ে তোলার কাজ চলছে, যেখানে উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তি এবং লজিস্টিক সাপ্লাই চেইন যুক্ত করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এর ফলে ১৫,৯০০টি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
*****
PS/AL