ভোক্তা বিষয়ক,খাদ্য ও গণবন্টন মন্ত্রক
উত্তর-পূর্বে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়াতে প্রথমবার আগরতলায় পৌঁছুচ্ছে ‘কান্দা এক্সপ্রেস’
প্রায় ৪৪০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ নিয়ে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে আগরতলায় পৌঁছানোর কথা 'কান্দা এক্সপ্রেস' এর
পোস্ট করার দিনক্ষণ:
16 OCT 2026 1:23PM by PIB Agartala
নয়াদিল্লি, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬: উৎসবের মরশুমে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ানো এবং সাশ্রয়ী মূল্যে পেঁয়াজের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। মূল্য স্থিতিশীলতা তহবিল (প্রাইস স্টেবিলাইজেশন ফান্ড—পিএসএফ)-এর অধীনে সংরক্ষিত পেঁয়াজ বিভিন্ন বাজারে সরবরাহের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো ত্রিপুরার আগরতলায় ‘কান্দা এক্সপ্রেস’-এর মাধ্যমে পেঁয়াজ পাঠানো হয়েছে। প্রায় ৪৪০ মেট্রিক টন পেঁয়াজের এই চালান আগামী ১৮ অক্টোবরের মধ্যে আগরতলায় পৌঁছনোর কথা।
আসামে ‘কান্দা এক্সপ্রেস’-এর মাধ্যমে পেঁয়াজ সরবরাহের সাফল্যের পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই পরিষেবা আরও সম্প্রসারিত করা হল। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ানো, প্রত্যন্ত এলাকায় পেঁয়াজের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের কাছে সময়মতো সাশ্রয়ী মূল্যে পেঁয়াজ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের অঙ্গীকার আরও জোরদার হয়েছে।
ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্তে পেঁয়াজ সরবরাহ বাড়াবে ‘কান্দা এক্সপ্রেস’
এই উদ্যোগের ফলে ত্রিপুরার আটটি জেলার মধ্যে সাতটি জেলায় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পেঁয়াজ সরবরাহের পরিধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। জেলাগুলি হল—ধলাই, দক্ষিণ ত্রিপুরা, খোয়াই, ঊনকোটি, পশ্চিম ত্রিপুরা, গোমতী এবং সিপাহিজলা।
এখন পর্যন্ত দুটি ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ রেলের রেকের মাধ্যমে যথাক্রমে ৮৪০ মেট্রিক টন এবং ৪৫২ মেট্রিক টন পেঁয়াজ সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ৪৪টি ট্রাকের মাধ্যমে মোট ১,৫১৩.৪৬ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছে আসাম, ত্রিপুরা এবং নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই পেঁয়াজ সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কামরূপ, গুয়াহাটি, গোমতী, ডিমাপুর, সিপাহিজলা, কোহিমা, নিয়ুল্যান্ড এবং চুমৌকেদিমা।
রেল ও সড়কপথে পেঁয়াজ সরবরাহের এই সম্প্রসারণের মূল লক্ষ্য হল বাফার স্টকের আওতা বাড়ানো এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলিতে পেঁয়াজের জোগান আরও জোরদার করা।
নতুন খারিফ পেঁয়াজের জোগান বাড়ায় পাইকারি বাজারে দাম কমেছে
নতুন খারিফ মরশুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করায় দেশের প্রধান পাইকারি বাজারগুলিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে। সর্বভারতীয় গড় পাইকারি বাজারদর সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ প্রায় ৩,৬০০ টাকা প্রতি কুইন্টাল থেকে কমে অক্টোবরে প্রায় ৩,৩০০ টাকা প্রতি কুইন্টালে নেমে এসেছে।
বাফার স্টক থেকে পরিকল্পিতভাবে পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়ছে, পেঁয়াজের প্রাপ্যতা উন্নত হচ্ছে এবং খুচরো বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা মিলছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতির ভিত্তিতে উপভোক্তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে পেঁয়াজ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তর।
২১১টি শহরে খুচরো পেঁয়াজের দাম কমেছে, বিভিন্ন অঞ্চলের দামের ব্যবধানও কমছে
গত দুই সপ্তাহে দেশের ২১১টি শহরে খুচরো পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১ টাকা থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত কমেছে। অন্ধ্রপ্রদেশ, আসাম, চণ্ডীগড়, ছত্তিশগড়, দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ, গোয়া, হিমাচল প্রদেশ, কর্ণাটক, কেরল, মহারাষ্ট্র, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, ওড়িশা, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রধান বাজারগুলিতে এই মূল্যহ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।
আসামেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে খুচরো পেঁয়াজের দাম কমেছে। রাজ্যের প্রায় ১২টি বাজারকেন্দ্রে কেজি প্রতি ১ টাকা থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত দাম হ্রাসের খবর পাওয়া গেছে। গত দুই বছরে আসামের গড় খুচরো পেঁয়াজের দাম এবং সর্বভারতীয় গড় দামের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দু’বছর আগে আসামে পেঁয়াজের গড় খুচরো দাম ছিল কেজিপ্রতি ৬১ টাকা ৯৬ পয়সা। সেই সময় সর্বভারতীয় গড় দাম ছিল কেজি প্রতি ৫৪ টাকা ১৩ পয়সা। অর্থাৎ, দুই দামের মধ্যে ব্যবধান ছিল কেজি প্রতি ৭ টাকা ৮৩ পয়সা। বর্তমানে আসামে পেঁয়াজের গড় খুচরো দাম কেজিপ্রতি ৫৪ টাকা ৩০ পয়সা। অন্যদিকে, সর্বভারতীয় গড় খুচরো দাম কেজি প্রতি ৫৩ টাকা ৭ পয়সা। ফলে দুই দামের ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে কেজিপ্রতি মাত্র ১ টাকা ২৩ পয়সায়।
এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, আসামে পেঁয়াজের খুচরো দাম এখন জাতীয় গড় দামের অনেক কাছাকাছি এসেছে। এর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে পেঁয়াজের দামের বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী বাফার স্টক থেকে পেঁয়াজ সরবরাহ অব্যাহত থাকবে
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেঁয়াজের দাম, বাজারে নতুন পেঁয়াজের আগমন এবং সরবরাহ পরিস্থিতির উপর সরকার নিয়মিত নজর রাখছে। মূল্য স্থিতিশীলতা তহবিলের অধীনে সংরক্ষিত পেঁয়াজ কতটা বাজারে ছাড়া হবে, তা নির্ধারণ করা হচ্ছে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, দামের প্রবণতা এবং সরবরাহের প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে। বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজের জোগান বজায় রাখা এবং দামের অস্বাভাবিক ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনুমোদিত কার্যপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রয়োজন হলে বাফার স্টক থেকে আরও পেঁয়াজ বাজারে সরবরাহ করা হবে।
*****
PS/PKS/KMD
(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2324313)
ভিজিটরদের কাউন্টার : 5