ক্রেতা, খাদ্যএবংগণবন্টনমন্ত্রক
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পেঁয়াজের জোগান সুনিশ্চিত করতে প্রথমবার আগরতলায় যাচ্ছে ‘কান্দা এক্সপ্রেস’
প্রকাশিত:
16 OCT 2026 1:23PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
উৎসবের মরশুমে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত জোগান ও সুলভ মূল্য নিশ্চিত করতে মজুত পেঁয়াজের বণ্টন আরও সম্প্রসারিত করছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই উদ্যোগের অঙ্গ হিসেবে মূল্য স্থিতিশীলকরণ তহবিলের (পিএসএফ) আওতায় প্রথমবার ‘কান্দা এক্সপ্রেস’-এর মাধ্যমে ত্রিপুরার আগরতলায় পাঠানো হচ্ছে প্রায় ৪৪০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এর মধ্যে চালানটি আগরতলায় পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অসমে ‘কান্দা এক্সপ্রেস’-এর মাধ্যমে মজুত পেঁয়াজ সরবরাহের পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বণ্টন ব্যবস্থার আরও সম্প্রসারণ ঘটছে এই উদ্যোগের মাধ্যমে। এর ফলে আঞ্চলিক বাজারগুলিতে পেঁয়াজের জোগান বাড়বে। পাশাপাশি, বিভিন্ন খুচরো বাজারে পেঁয়াজের প্রাপ্যতা উন্নত হবে এবং সুলভ মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়তা মিলবে।
ত্রিপুরার সাত জেলায় পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ -
এই উদ্যোগের আওতায় ত্রিপুরার আটটি জেলার মধ্যে সাতটি জেলায় পেঁয়াজ সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জেলাগুলি হল—ধলাই, দক্ষিণ ত্রিপুরা, খোয়াই, ঊনকোটি, পশ্চিম ত্রিপুরা, গোমতী এবং সিপাহিজলা।
এখনও পর্যন্ত ‘কান্দা এক্সপ্রেস’-এর মাধ্যমে দুটি রেলগাড়িতে যথাক্রমে ৮৪০ ও ৪৫২ মেট্রিক টন পেঁয়াজ পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া, ৪৪টি ট্রাকের মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়েছে মোট ১,৫১৩.৪৬ মেট্রিক টন পেঁয়াজ।
অসম, ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ডের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই পেঁয়াজ সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কামরূপ, গুয়াহাটি, গোমতী, ডিমাপুর, সিপাহিজলা, কোহিমা, নিয়ুল্যান্ড এবং চুমৌকেদিমা।
রেল ও সড়কপথে বণ্টন ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলিতে মজুত পেঁয়াজ পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হবে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক বাজারে সরবরাহের ঘাটতি মোকাবিলা এবং পেঁয়াজের প্রাপ্যতা বজায় রাখার উদ্যোগ জোরদার হবে।
খরিফ মরশুমের নতুন পেঁয়াজের জোগানে কমছে পাইকারি দাম -
খরিফ মরশুমের নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করায় দেশের প্রধান বাজারগুলিতে সরবরাহ বেড়েছে। এর ফলে সর্বভারতীয় গড় পাইকারি দাম সেপ্টেম্বরে কুইন্টাল প্রতি প্রায় ৩,৬০০ টাকা থেকে কমে অক্টোবরে প্রায় ৩,৩০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এর পাশাপাশি, মজুত পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার ফলে সরবরাহ বজায় রাখা এবং খুচরো দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মিলছে। বাজারের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তর এই পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।
২১১টি শহরে পেঁয়াজের খুচরো দাম কমেছে, সংকুচিত হয়েছে আঞ্চলিক মূল্যপার্থক্য -
গত দুই সপ্তাহে দেশের ২১১টি শহরে পেঁয়াজের খুচরো দাম কেজি প্রতি ১ টাকা থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত কমেছে। অন্ধ্রপ্রদেশ, অসম, চণ্ডীগড়, ছত্তিশগড়, দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ, গোয়া, হিমাচল প্রদেশ, কর্ণাটক, কেরল, মহারাষ্ট্র, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, ওড়িশা, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে।
আসামের প্রায় ১২টি বাজারেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে পেঁয়াজের খুচরো দাম কেজি প্রতি ১ টাকা থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
গত দুই বছরে অসমের গড় খুচরো পেঁয়াজের দাম ও সর্বভারতীয় গড় দামের মধ্যে ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দু’বছর আগে অসমে পেঁয়াজের গড় খুচরো দাম ছিল কেজি প্রতি ৬১.৯৬ টাকা। সেই সময় সর্বভারতীয় গড় দাম ছিল ৫৪.১৩ টাকা। ফলে দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান ছিল কেজি প্রতি ৭.৮৩ টাকা।
বর্তমানে আসামে পেঁয়াজের গড় খুচরো দাম কেজি প্রতি ৫৪.৩০ টাকা। অন্যদিকে, সর্বভারতীয় গড় দাম ৫৩.০৭ টাকা। ফলে মূল্যপার্থক্য কমে দাঁড়িয়েছে কেজি প্রতি মাত্র ১.২৩ টাকা। এই পরিসংখ্যান অসমের বাজারে পেঁয়াজের খুচরো দাম জাতীয় গড়ের কাছাকাছি আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী মজুত পেঁয়াজ বাজারে ছাড়া হবে -
কেন্দ্রীয় সরকার সারা দেশে পেঁয়াজের দাম, নতুন ফসলের আগমন এবং সরবরাহ পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছে। মূল্য স্থিতিশীলকরণ তহবিলের আওতায় মজুত পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, দামের প্রবণতা এবং চাহিদার ভিত্তিতে।
বাজারে পর্যাপ্ত জোগান বজায় রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত কার্যপরিকল্পনা অনুসরণ করে আরও পেঁয়াজ বাজারে ছাড়া হবে। এর লক্ষ্য পেঁয়াজের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং দামের অস্বাভাবিক ওঠা-নামা নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে পেঁয়াজ পৌঁছে দেওয়া।
SC/PM/SB
(রিলিজ আইডি: 2324296)
ভিজিটরের কাউন্টার : 4